22/07/2026
প্রতি বছর ২২ জুলাই ভারতে জাতীয় পতাকা দিবস বা পতাকা গ্রহণ দিবস (National Flag Adoption Day) হিসেবে পালিত হয়。১৯৪৭ সালের এই দিনেই ভারতের গণপরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে 'তেরঙ্গা' পতাকাকে স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকা হিসেবে গ্রহণ করে।
ভারতের জাতীয় পতাকা হল কেন্দ্রস্থলে ২৪টি দণ্ডযুক্ত ঘন নীল রঙের অশোকচক্র সংবলিত গেরুয়া, সাদা ও সবুজ এই তিন রঙের একটি আনুভূমিক আয়তাকার । ভারতের জাতীয় পতাকায় গেরুয়া রংটি বীরত্ব, ত্যাগ, সাহসিকতা এবং শক্তির প্রতীক, সাদা রংটি শান্তি, সত্য, পবিত্রতা এবং সততার প্রতীক, সবুজ রংটি সমৃদ্ধি, উর্বরতা, জীবন এবং বিশ্বাসের প্রতীক এবং সবশেষে অশোকচক্রটি গতিশীলতা,প্রগতি,ধর্ম ও ন্যায় প্রতীক। ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই আয়োজিত গণপরিষদের একটি অধিবেশনে পতাকার বর্তমান নকশাটি গৃহীত হয় এবং সেই বছর ১৫ অগস্ট এটি ভারত অধিরাজ্যের সরকারি পতাকার স্বীকৃতি লাভ করে। এরপরে এটি ভারতীয় প্রজাতন্ত্রেও জাতীয় পতাকার স্বীকৃতি বজায় রাখে। ভারতে এটিকে "তিরঙ্গা" নামে অভিহিত করা হয়। পতাকাটির নকশা প্রস্তুত করা হয়েছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া কৃত "স্বরাজ" পতাকার আদলে।[N ১]
ভারতের আইন অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা খাদি কাপড়ে তৈরি করতে হয়। এটি এক বিশেষ ধরনের হস্তচালিত তাঁত অথবা রেশমি কাপড় যেটির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে মহাত্মা গান্ধী বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। ভারতীয় মানক ব্যুরো কর্তৃক জাতীয় পতাকা উৎপাদনের পদ্ধতি ও নির্দিষ্ট শর্তাবলি নির্ধারিত হয়। উৎপাদনের অধিকার খাদি উন্নয়ন ও গ্রামীণ শিল্প কমিশনের হাতে ন্যস্ত। এই কমিশনই বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠী উৎপাদনের স্বত্ব প্রদান করে থাকে। ২০০৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, কর্ণাটক খাদি গ্রামোদ্যোগ সংযুক্ত সংঘ ভারতের একমাত্র জাতীয় পতাকা উৎপাদনকারী সংস্থা।
জাতীয় পতাকার ব্যবহার ভারতীয় পতাকাবিধি ও জাতীয় প্রতীক-সংক্রান্ত অন্যান্য আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। পুরনো বিধি অনুযায়ী স্বাধীনতা দিবস ও প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো জাতীয় দিবসগুলি ছাড়া অন্য দিনে সাধারণ নাগরিকেরা জাতীয় পতাকা ব্যবহার করতে পারতেন না। ২০০২ সালে ভারতীয় নাগরিক নবীন জিন্দলের আপিলের ভিত্তিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ভারত সরকারকে সাধারণ নাগরিকদের জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার জন্য পতাকাবিধি সংশোধনের নির্দেশ দেয়। এরপরই ভারতের কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট পতাকাবিধি সংস্কার করে কয়েকটি সীমিত ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের জাতীয় পতাকার ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করে। ২০০৫ সালে পতাকাবিধি পুনরায় সংশোধন করে কয়েকটি বিশেষ ধরনের বস্ত্র ব্যবহারের অতিরিক্ত ব্যবস্থা করা হয়। পতাকা উড্ডীয়নের প্রোটোকল ও অন্যান্য জাতীয় ও অ-জাতীয় পতাকাগুলির সঙ্গে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিধিও পতাকাবিধিতে উল্লিখিত হয়েছে।