14/08/2026
1757 সাল তখন, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ তখন পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থে। লর্ড রবার্ট ক্লাইভের প্রলোভনের জালে জড়িয়ে পড়েছে তখন মিরাজাফর। তখনকার বাংলার নবাব সিরাজ উদ দৌলা তখন হয়ে পড়েছেন প্রায় একা, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁর আপনজনরাই তাঁর পিঠে তলোয়ার মারার জন্য ষড়যন্ত্র করে ফেলেছে,মিলিয়েছে ব্রিটিশদের সঙ্গে হাত। সেদিন তিনি দেখেছিলেন,ভারতবর্ষের সূর্য কে অস্ত যেতে এক গভীর কালো রাতের অন্ধকারের মধ্যে। সেই রাত বিরাজমান ছিল ভারতবর্ষের আকাশে ১৯০ বছর,পরাধীনতার রাত।
এরপর ভারত মাতা কে ছিন্ন ভিন্ন করে,শোষণ করেছিল সেই ব্রিটিশদের দল, "সোনার পাখি" নামে খ্যাত ভারতবর্ষ কে নিয়ে গেছিল দারিদ্রতার শীর্ষে, দংশন করেছিল ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের মতো দুর্ভিক্ষ।
অনেক দিনের জমে থাকা ক্ষোভ পরিণত হল স্বশস্ত্র আন্দোলনে, 1857 এর মহা বিদ্রোহ/সিপাহী বিদ্রোহ,শহীদ হলেন মঙ্গল পান্ডে, তাতিয়া টোপে ও রানি লক্ষী বইয়ের মতো বীর যোদ্ধারা। ব্রিটিশরা এই বিদ্রোহ দমন করলেও,ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথে অনেক অনুপ্রেরণার সঞ্চার করেছিল এই বিদ্রোহ।
এরপর ক্ষুদিরাম বসুর 1908 সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে দেশের জন্য দেওয়া বলিদান, বাঘা যতীনের 1915 এ ওড়িশার বালেশ্বরের বুড়িবালাম নদীর তীরে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বীভৎস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফলে শহীদ হওয়া।
ভগৎ সিং,রাজ গুরু ও সুখদেবের 1931 এ শহীদ হওয়া, চন্দ্র শেখর আজাদের ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এক ভয়ঙ্কর গোলাগুলির পর আত্মত্যাগ।
মাস্টার দা সূর্য সেন,কল্পনা দত্ত ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন।
গান্ধীজির চম্পারণ সত্যাগ্রহ থেকে শুরু করে ভারত ছাড়ো আন্দোলন এবং নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর আত্ম ত্যাগ।
ভারতবর্ষের এই স্বাধীনতা সংগ্রামের পেছনে রয়েছে বহু মানুষের আত্ম ত্যাগ,তাদের সবার কথা একসঙ্গে ছোট করে লেখা কখনোই সম্ভব নয় ,লিখতে হলে হয়তো একটা আলাদা বই হয়ে যাবে।
এই সমস্ত ঘটনা ও বহু মানুষের আত্ম বলিদানের মধ্যে দিয়ে 1947 সালের 15 ই আগস্ট ভারতবর্ষ লাভ করে স্বাধীনতা।
সকলকে জানাই শুভ ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস।
জয় হিন্দ,জয় ভারত।
🇮🇳বন্দে মাতরম🇮🇳