15/02/2026
আজ হয়তো ফ্রেন্ডস ক্লাব দঃকাশীকে হারিয়েছে এটা ভালো কথা , ছটোদল, ফাইনালে উঠেছে দারুণ। জালঘোরার মাঠে
সেমিফাইনাল খেলার মধ্যে ফ্রেন্ডস ক্লাবের উল্লাসের বাইরে ও উল্লেখ্যযোগ্য ছিল বাবলুদার (আসিফ উদ্দিন) নিবেদিতপ্রাণ- চতুর্থ ওভারে ৫টি ওভার বাউন্ডারি, এই বয়সে;ভাবা যায় ।
ব্যক্তিগতভাবে বাবলুদা খুব ইন্সপায়ারিং লাগে অনেকের। ক্লান্তি , অবসন্নতা নামক শব্দগুলো তাঁর অভিধানেই নেই বোধহয়। দঃকাশীর হয়ে নিবেদিতপ্রাণ। বছরের পর বছর একই উৎসাহে করে যান। ওয়ার্কলোড লোকের ঠাট্টা , বিশ্রাম ইত্যাদির তোয়াক্কা করেন না বড় একটা। পাখির চোখের মতো শুধু ক্রিকেটটাই দেখেন। এই যেমন বাইরে থেকে এসেছেন , নেমে পড়েছেন নেটে , বাচ্চাদের নিয়ে ক্রিকেটে।
বাবলুদা, তোমার কিসের এত জেদ ? গুরুজন বলেন, 'এত জেদ ভালো নয়। মেনে নেওয়া শিখতে হয়।' মেনে তো নাও না তোমার বয়স হয়েছে, উলটে এত জেদ ! কেন ? -দুঃখে বলছি । কিছু ম্যাচ বাইরে ছিলে বলে তোমাকে কতই ঠাট্টা করছিল সকলেই। নামলেন - মান রাখলো না দলের কেউ; দলের সেরা বলার শেষ দুই ওভারে ৬৬+ দিচ্ছে।
প্রথম কবে ব্যাটের হাতলে নিজের দুটো হাত মুঠো করে ধরেছিলে খেয়াল আছে ? কত বছর হলো বলো তো ? গুনেছ তোমার জয়ের সংখ্যাটা ? নাকি সেটাও খেয়াল রাখোনি ! জানো তোমার কেরিয়ারে স্ট্রাইক রেট কত ? জানো কতগুলো ছয়, কতগুলো চার তোমার ব্যাট থেকে এনেছ ? মনে আছে প্রথম বাঁকিপুরের খেলা, তোমাকে দলে নিতে চায়নি,তার পর ২০০১ চ্যাম্পিয়ন,সেই সময়ের পর কেমন অনুভূতি ছিল ?
ধৈর্য, পরিশ্রম, অধ্যাবসায় দিয়ে নিজেকে নিংড়ে নিয়ে দাঁড়িয়েছো। কেন, কেন বাবলুদা ? তোমার কিসের এত দায় ? কে তোমাকে এই দায় নিতে বলেছে ?
রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, "একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুঁদিগড়।" পড়েছ তুমি বাবলুদা ? পড়ে নিও পারলে।
কুম্ভ কে ছিল জানো ? সামান্য একজন ভৃত্য, যে কিনা মাটির তৈরি খেলনার দুর্গ রক্ষা করতে গিয়ে নিজেকেই উৎসর্গ করে দিয়েছিল। বাবলুদা, তুমিই কি সেই কুম্ভ !
হিরা-পান্না-আরিফদাদের সাজানো Sporting Union দলে জায়গা তোমার হয়নি লড়াই করে সম্মানের সংঙ্গে পারফরম্যান্সের দারা দলে নিজের জায়গা তৈরি করে দলকে বাঁচাতে নিজেকে দাঁড় করিয়ে দিলে ঢাল বানিয়ে ! অথচ এই দল, এই সব প্লেয়ার রা, এমনকি বর্তমান জুনিয়াররা যারা কিনা তোমার সামনে তৈরি , নখের যোগ্য ও নয় , সব্বাই তোমাকে দলে জায়গা দিতে নারাজ।
তুমি কি জানো না ? জানো, জানো। তাহলে জানার পরও কিসের এত জেদ ?
তুমি কি ভুলে গেলে সেই দিনগুলো, যখন তোমার ব্যাটে কিছু ম্যাচে রান নেই। অফস্ট্যাম্পের বাইরে বল খেলতে গিয়ে দুএকবার ক্যাচ উঠছে উইকেট কিপারের হাতে, ভুলে গেলে সেই দিনগুলো ? এত সহজে ভুলে গেলে তুমি ? পরপর ম্যাচে তোমার ব্যাটে রানের খরা, তুমি মাথা নিচু করে ফিরে যাচ্ছ মাঠের বাইরে। আর আমরা, এই বাইরে বসে থাকা, খনকার বাজারে চায়ের দোকানে, তাসের আড্ডায়, আজাদের ক্যারাম বোর্ডে নিজেদের সমস্ত ফ্রাস্ট্রেশন, নিজেদের সমস্ত অপারগতা, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে দিনের পর দিন বলে গেছি বাবলুদা অপয়া ! ভাবতে পারছ তুমি ! আমাদের বলতে লজ্জা হয়নি, আমাদের সেই বলার মধ্যে পাপবোধ নেই। আমরা অনায়াসে কাউকে, কোনো একজন মানুষকে অপয়া বলে দেগে দিতে পারি। এই আজ তুমি আসলে আর দল হারলো , অনেক বলছে বাবলুদা আসলো ম্যাচ হারলাম , সেরা বোলারদের ৬৬+ দেওয়াটা দোষ নয় ।
কিন্তু বাবলুদা, তুমি প্রমাণ করবে কার কাছে, কাদের সামনে ? আমাদের সামনে ? আমরা বিচার করবো তোমার যোগ্যতা ! হাসি পাচ্ছে না তোমার আসিফ উদ্দিন? আমরা যারা সাধ্যেই বলতে পারি যেকাউকে ।অপয়া বলে গায়ের ঝাল মেটানো, আমরা যারা রাস্তায় কালো বিড়াল ডিঙিয়ে গেলে বুদ্ধি আটকে যায়, পায়ে মরচে পড়ে, আমরা করবো তোমার যোগ্যতার বিচার !
আজপর্যন্ত দলের অপেনারের জায়গায় বিকল্প কাউকে ভেবে উঠতে পারিনি, আমরা তো জানিই না কাল যদি তুমি ছেড়ে দাও DKSU তোমার জায়গায় বসাবো কাকে ! আমাদের কাছে সেই তুমি কিনা যোগ্যতা প্রমাণ করতে এসেছ ! নাহ bablu da , এটা করো না।
আমরা অবাক হয়ে ভাবছিলাম চল্লিশঊর্দ্ধ বয়সে এত পায়ের গতি হাতের শক্তি তোমার কিভাবে সম্ভব ! তুমি নিশ্চয় অবাক হওনি। তুমি নিশ্চয় জানতে অসম্ভবেও সম্ভাবনা খোঁজে বাবলু ।তাই জালঘোরার মাঠে তুমি জানতে প্রচণ্ড চাপের মুখে স্টেপ আউট করে লং অনে ছয় চালাতে পারে বাবলু। তুমি নিশ্চয় জানতে আসমুদ্রহিমাচলের ব্যর্থতা, হতাশা আর প্রত্যাশার চাপ অনায়াসে দুটো কাঁধে নিয়ে মাঠে নামতে পারে বাবলু ।