02/09/2026
১৯৯০ সালের ১৪ আগস্ট। ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ড। ইংল্যান্ডের মেঘলা আকাশ আর চতুর্থ ইনিংসে ৪০৮ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের স্কোরবোর্ড তখন ধুঁকছে—মাত্র ১২৭ রানে ৫ উইকেট নেই, হার কেবল সময়ের অপেক্ষা! সেই চরম বিপর্যয়ের মুখে উইকেটে দাঁড়িয়েছিলেন এক ১৭ বছরের কোঁকড়া চুলের কিশোর। গায়ে ঢিলেঢালা সাদা টেস্ট জার্সি আর কাঁধের চেয়েও ভারী একটা ব্যাট। তখন কে জানত, ক্রিকেটের বাইবেলে এক নতুন ঈশ্বর তাঁর প্রথম অলৌকিক অধ্যায় লিখতে শুরু করেছেন!
অ্যাঙ্গাস ফ্রেজার, ক্রিস লুইস, এডি হেমিংস আর জন এম্বুরির মতো বিশ্বমানের ইংলিশ বোলিং আক্রমণের সামনে সেদিন যে ইনিংসটি তিনি খেলেছিলেন, তা শুধু ব্যাটিং ছিল না—ছিল এক কিশোরের বুক চিতিয়ে লড়াই করার অদম্য সাহস। উইকেটের অপর প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকলেও তাঁর চোখে ছিল অদ্ভুত এক শান্ত সংকল্প।
এরপর মনোজ প্রভাকরের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে গড়ে তোলেন অবিচ্ছিন্ন ১৬০ রানের এক মহাকাব্যিক প্রতিরোধ। ইংলিশ পেসারদের একের পর এক বাউন্সার, সুইং আর স্লেজিংয়ের জবাব দিতে থাকলেন নিখুঁত ব্যাকফুট পাঞ্চ আর দৃষ্টিনন্দন কাভার ড্রাইভে।
২২৪ মিনিট ক্রিজে লড়াই করে, ১৮৯ বল খেলে যখন তিনি কভার পয়েন্টের দিকে বল পাঠিয়ে ১০০তম রানটি সম্পূর্ণ করলেন, ক্রিকেটবিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে প্রত্যক্ষ করল মাত্র ১৭ বছর ১১২ দিন বয়সে টেস্ট ইতিহাসের তৃতীয় কনিষ্ঠতম ব্যাটারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি! হেলমেট খুলে সেই কিশোর যখন ব্যাটের হাতল উঁচিয়ে ধরলেন, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ইংলিশ দর্শকরাও দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভিবাদন জানিয়েছিলেন সেই জাদুকরী মুহূর্তকে।
ম্যাচটি ভারত ড্র করে নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল, আর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের সেই সেঞ্চুরির ওপর ভর করেই বিশ্ব ক্রিকেটে শুরু হয়েছিল 'শচীন রমেশ টেন্ডুলকার' নামক এক অমর মহাকাব্যের যাত্রা—যার শেষ হয়েছিল ১০০টি আন্তর্জাতিক শতকের অবিশ্বাস্য শিখরে!
✍️: Soumya Kanti Bag