19/07/2025
#চটি #অন্ধকরেছাইয়া
📖 গল্পের নাম: অন্ধকারের ছায়া
✴️ অন্ধকারের ছায়া – পর্ব ১: নিখোঁজের নীরবতা
সন্ধ্যা নামছে কালীমাটি শহরের গায়ে। পাহাড়গুলো ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে, যেন প্রকৃতিই কিছু লুকিয়ে রাখতে চায়। শহরটা ছোট, নিরিবিলি—কিন্তু কিছুদিন হলো এখানে অজানা আতঙ্ক ভর করছে।
কলেজের বাংলার শিক্ষক অরুন্ধতী ঘোষ শহরের মধ্যিখানে পুরনো এক দোতলা বাড়িতে থাকেন। তার ছোট বোন তিথি কয়েকদিন আগে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেছে। থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। তিথি খুবই চুপচাপ মেয়েটি, লেখাপড়ায় ভালো, কারো সাথে বিরোধও ছিল না।
তিথির ঘর এখন তালাবদ্ধ। তবু প্রতিদিন সকালে ঘরের দরজার নিচ দিয়ে একটা চিরকুট পড়ে থাকে—তাতে শুধু লেখা থাকে একটি লাইন,
"ছায়া জানে, তিথি কোথায়।"
অরিত্র চৌধুরী একসময় কলকাতার বিখ্যাত প্রাইভেট গোয়েন্দা ছিলেন। বহু রহস্য সমাধান করেছেন, কিন্তু ব্যক্তিগত এক ঘটনার পর সব ছেড়ে দিয়ে চলে যান। এখন কালীমাটিতে এসেছেন অবসর কাটাতে।
একদিন বইয়ের দোকানে অরুন্ধতীর সাথে পরিচয় হয়। কথায় কথায় তিথির ঘটনার কথা উঠে আসে। অরিত্র চুপ করে শোনেন। কিছু বলে না, কিন্তু চোখে এক পুরোনো আগুন জ্বলে ওঠে।
রাতে তিনি নিজের ডায়েরিতে লেখেন,
"রহস্য ডাকছে... আবার শুরু করতে হবে।"
পুলিশ অফিসার সায়ন্তন দত্ত নতুন পোস্টিং পেয়েছে কালীমাটিতে। সে আধুনিক, যুক্তিবাদী। কিন্তু তিথির ঘটনায় কোনো কুলকিনারা করতে পারছে না। চিরকুটগুলো কোথা থেকে আসে? কে ফেলে যায়? কোথাও কোনো ক্যামেরায় কিছু ধরা পড়ে না।
এক রাতে থানা থেকে ফেরার সময় সে দেখে, অরুন্ধতীর বাড়ির সামনে একটা সাদা ছায়া দাঁড়িয়ে আছে। চোখের পলকে তা অদৃশ্য হয়ে যায়।
"হ্যালুসিনেশন?" — ভাবতে ভাবতে সে বাড়ি ফিরে যায়, কিন্তু রাতে তার ঘরের জানালার কাঁচে লেখা দেখা যায়—
"তুমি তাকিয়েছিলে। এখন সাবধান হও।"
পরদিন সকালে অরুন্ধতী একটি পুরনো বইয়ের মধ্যে একটি চিঠি খুঁজে পায়। চিঠিটি তিথির লেখা মনে হয় না।
তাতে লেখা:
> "আমি চাইনি যেতে। কিন্তু ছায়া আমার নাম জানে, আমার অতীত জানে। যদি আমি না ফিরি, অরিত্রবাবুকে খুঁজো। তিনি একমাত্র বুঝবেন।"
অরুন্ধতী আর অপেক্ষা করে না। সে সোজা যায় অরিত্রর কাছে।
"আমি জানি আপনি সব ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু এবার যদি না আসেন, আমার বোন বাঁচবে না।"
অরিত্র এবার চুপ করে থাকে না। চশমা খুলে সোজা তাকিয়ে বলেন—
"ছায়া যদি আমাকে চেনে, তবে আমি তাকেও চিনি। খেলা শুরু হোক।"
দ্বিতীয় পর্ব কমেন্টে।