18/07/2026
১৯৯০ বিশ্বকাপ ফাইনালের আর্জেন্টিনার সেই নীল জার্সিটাকে বলা হয় 'Trikot der Tränen',
যার অর্থ হলো 'কান্নার জার্সি'।
মাঠের ঠিক মাঝখানে
ম্যারাডোনা যখন গলায় রানার্স-আপ মেডেল ঝুলিয়ে
সেই নীল জার্সি গায়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেছিলেন,
আমারও সেদিন কান্নায় চোখ ভিজে উঠেছিলো।
কিন্তু ম্যারাডোনার সেই কান্না কি শুধুই হারের কান্না ছিল?
মোটেও নয়।
ওটা ছিল ফুটবল খেলার ইতিহাসের
সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি
আর, এক নোংরা প্রহসনের বিরুদ্ধে
এক ফুটবল কিংবদন্তির অসহায় আর্তনাদ!
যারা সেই বিশ্বকাপ দেখেছেন,
তারা খুব ভালো করেই জানেন
সেদিন আর্জেন্টিনাকে কীভাবে খাঁচায় বন্দি করা হয়েছিল, কীভাবে তাদের বিরুদ্ধে আঁটা হয়েছিল নীলনকশা।
আর এই গোটা মাস্টারপ্ল্যানের পেছনে ছিলেন তৎকালীন ফিফা সভাপতি,
ব্রাজিলের হোয়াও আভেলাঞ্জ!
নিজেদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা যেন
কাপটা জিতে
ব্রাজিলের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলতে না পারে;
সেটা নিশ্চিত করতে,
ক্ষমতার অপব্যবহারের এক নগ্ন উৎসব দেখেছিল
ফুটবল দুনিয়া।
গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে
পরিকল্পিতভাবে হলুদ কার্ড ধরানো হয়েছিল আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের হাতে।
আর ফাইনালের ঠিক আগে,
সাসপেন্ড হয়ে গিয়েছিলো
মূল একাদশের চার-চারজন তারকা!
বিশ্বকাপ ফাইনালে মূল দলের
চারজন রেগুলার প্লেয়ার ছাড়াই
মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছিলো আর্জেন্টিনা।
শুরু হলো ফাইনাল ম্যাচ।
শুরু হলো রেফারির তাণ্ডব।
পুরো ম্যাচে জার্মানরা ম্যারাডোনার ওপর
প্রায় ডজনখানেক ফাউল করেও
দিব্যি পার পেয়ে গেল।
অথচ
'প্রতিবাদ করার অপরাধে'
হলুদ কার্ড দেখলেন খোদ ম্যারাডোনা!
৬৫ মিনিটের মাথায়
লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠছাড়া করা হলো
আর্জেন্টিনার এক খেলোয়াড়কে।
ভাঙাচোরা দল নিয়ে তবুও বুক চিতিয়ে লড়ে যাচ্ছিল ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা।
এরপর ৮৫ মিনিটে মঞ্চস্থ হলো নাটকের চূড়ান্ত অঙ্ক।
পেনাল্টি বক্সে হাস্যকরভাবে ডাইভ দিলেন
এক জার্মান খেলোয়াড়,
আর রেফারি যেন
ঠিক সেই মুহূর্তটির জন্যই ওঁত পেতে ছিলেন!
সঙ্গে সঙ্গে জার্মানিকে 'উপহার' দেওয়া হলো পেনাল্টি।
আর সেই একটিমাত্র চুরি করা গোলেই
চুরমার হয়ে গেল আর্জেন্টিনার স্বপ্ন।
এরপর ৮৭ মিনিটের মাথায় আরো একজনকে লালকার্ড।
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের সংখ্যাটা যেন ব্রাজিলের (৩) সমান না হয়ে যায়,
সেজন্যই এভাবে টুঁটি টিপে হত্যা করা হয়েছিল
একটা গোটা জাতির আবেগকে।
এটা ছিল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত,
সবচেয়ে সাজানো এক ডাকাতি।
যার প্রতীক হয়ে আজও রয়ে গেছে
ম্যারাডোনার সেই অশ্রুভেজা নীল জার্সিটা।