01/01/2024
২০২৩ সালে বাংলাদেশ খেলেছিল ৪টি টেস্ট, এই বছর খেলবে ১৪টি টেস্ট। গত বছর এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের কারণে ওয়ানডে ম্যাচের সংখ্যা ছিল ৩২টি, এই বছর ওয়ানডে মাত্র ৯টি। আবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বছর, তাই সাদা বলে এই সংস্করণের ম্যাচই বেশি। গত বছর ১৪টি টি-টোয়েন্টি খেলা বাংলাদেশ ২০২৪ সালে কমপক্ষে ২১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে , টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে সুপার এইটে উঠলে সংখ্যাটা আরও বাড়বে।
ওয়ানডে সুপার লিগ না থাকায় দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজের গুরুত্ব কমেছে, সেই সঙ্গে কমেছে আয়োজনও। পাকিস্তান এই বছরে মাত্র ৩টা ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে, ভাবা যায়! ২০২৩ বিশ্বকাপেই ৯টা ওয়ানডে খেলা বাংলাদেশ পুরো বছরে খেলবে ৯টা ওয়ানডে। সংখ্যাই বলে দিচ্ছে, মধ্যপন্থী ওয়ানডে আকর্ষণ হারাচ্ছে। বাংলাদেশ দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারের দাবী অনুযায়ী যে সংস্করণে তারা ভাল দল, সেই সংস্করণটাই বিলুপ্তির পথে।
২০২৩ সালের সঙ্গে সঙ্গে ফুরিয়েছে জাতীয় নির্বাচক কমিটির মেয়াদ এবং বিসিবির সঙ্গে ক্রিকেটারদের বার্ষিক কেন্দ্রীয় চুক্তির মেয়াদও। নতুন বছরে ১৪টা টেস্ট এবং অন্তত ২১টি টি-টোয়েন্টি, কেন্দ্রীয় চুক্তির জন্য খেলোয়াড় নির্বাচনে এই সংখ্যাগুলো মাথায় রাখতেই হবে ক্রিকেট পরিচালনা কমিটি ও নতুন দায়িত্ব পাওয়া নির্বাচকদের। দৌড়ে যেমন ম্যারাথন আর স্প্রিন্টের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট্য ও দক্ষতা দরকার, ক্রিকেটও এখন অনেকটা একই রকম হয়ে গেছে। বছরের শুরুতেই বিপিএল, এখান থেকেই টি-টোয়েন্টির জন্য বিশেষায়িত খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করার প্রয়াস যেমন দরকার তেমনি শুধুই ঘরোয়া ক্রিকেটারদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ এর মত একটা টুর্নামেন্ট খুব প্রয়োজন। তা না হলে বিপিএলের বিদেশী নির্ভরতা থেকে বের হয়ে আসা যাবে না।
এক বছরে ১৪টা টেস্ট, তার মানে হচ্ছে ফিটনেসে জোর দিতে হবে অনেক বেশি। সেরা ক্রিকেটাররা যদি এই ১৪টা টেস্টের ১০টাও খেলেন, তার মানে ৫০ দিন মাঠে নিজের সেরাটা দেবার প্রতিজ্ঞা। ৪ টেস্ট থেকে ১৪ টেস্ট, এই লাফটা অনেক বড় এবং এই দূরত্বটা অতিক্রম করার জন্য শরীর এবং মনের জোরের সর্বোচ্চটা প্রয়োজন। দেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণীর আসর জাতীয় ক্রিকেট লিগে মোট ম্যাচই হয় ৬টা, সঙ্গে বিসিএলের ৩ ম্যাচ যোগ করলেও হয় ৯টা। সেখানে ১ বছরে ১৪ টেস্ট বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কড়া পরীক্ষাই নেবে।
ইংল্যান্ড বা ভারতের মত না হলেও, খুব সম্ভবত এই বছর থেকেই টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দুটো সম্পূর্ণ আলাদা দল দেখা যাবে। এতদিন মুখে কর্তারা বলে আসলেও এই বছর খেলার সূচী এবং বৈশ্বিক আসরগুলোই তাদের বাধ্য করবে লাল এবং সাদা বলের দল একেবারেই আলাদা করে ফেলতে।
২০২৪ সালে বাংলাদেশ পূরণ করবে টেস্ট মর্যাদাপ্রাপ্তির দুই যুগ। টেস্টে এখনো সাবালক হয়ে ওঠেনি বাংলাদেশ, ঘরের মাঠে অনুপযোগী উইকেটে খেলে ম্যাচজেতার চোরাগুপ্তা পথে যে সাফল্য আসে না বরং চোখে চোখ রেখে লড়াই করেও যে জেতা যায় সেই প্রমাণ বিদায়ী বছরে দেখা গেছে।
২০২৪ তাই হোক টেস্ট ক্রিকেটকে গুরুত্ব দেয়ার বছর, টেস্ট ক্রিকেটকে মর্যাদা দেবার বছর। সেই সঙ্গে বাণিজ্যিক টি-টোয়েন্টির জন্য খুঁজে নেয়া হোক এই সংস্করণের জন্য উপযুক্ত ক্রিকেটারদের। বিদায়ী বছরের সঙ্গে সঙ্গে বিতর্ক আর নাটুকেপনাও বিদায় নিক দেশের ক্রিকেট থেকে। নতুন বছরে এইটুকুই প্রত্যাশা.