18/10/2025
প্রশ্নোত্তরে মেদিনীপুর
(চাকরির পরীক্ষার ইন্টারভিউ-এর জন্য সংকলিত)
-সুমন বিশ্বাস, মহকুমা শাসক, ঘাটাল
প্রশ্নঃ মেদিনীপুরের নামকরণের ইতিহাস কি?
মেদিনীপুর নামটি কীভাবে এলো তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বিবরণ রয়েছে। একটি বিবরণ দাবি করে যে মেদিনীপুর স্থানীয় দেবতা “মেদিনীমাতা” (আক্ষরিক অর্থে “বিশ্বের মা”, একটি শক্তি অবতার) এর নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছিল।
ঐতিহাসিক শ্রী হরি সাধন দাস তাঁর ‘মেদিনীপুর ও স্বাধীনতা’ গ্রন্থে যা লিখেছেন সে কথা মানলে বলতে হয় ১২৩৮ খ্রিস্টাব্দে গন্ডিচাদেশের (বর্তমান ওড়িশা) সামন্তরাজা প্রাণকরের পুত্র মেদিনীকর এই শহর প্রতিষ্ঠা করেন।সাল ১২০০ থেকে ১৪৩১ মেদিনীপুর কর বংশের রাজত্বকাল।
কারো মতে সুদূর মদিনা থেকে মাদানীশাহ নামে এক পীর এই অঞ্চলে এসেছিলেন।’মাদানীশাহ’ ক্রমে মেদিনীপুর হয়েছে।
অনন্ত বর্মন চোঙ্গল রাজার রাজ্য ‘মিথুনপুর’ থেকেও মেদিনীপুর নাম এসে থাকতে পারে।দ্বাদশ শতাব্দীতে মেদিনীপুরের নাম ছিল মিথনপুর।ঐতিহাসিকদের মতে আইন – ই- আকবরী তে ‘মেদিনীপুর’ নগরী হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।
‘মেদিনী মল্ল রায়’ নামে উড়িষ্যার এক শক্তিশালী রাজা ১৫২৪ সালে এই অঞ্চলটি জয় করে মেদিনীপুর নামকরণ করেছিলেন।
প্রশ্নঃ মেদিনীপুর ভেঙে কি কি জেলা হয়েছে?
২০০২ সালের ১লা জানুয়ারী বৃহত্তর অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর নামক দুটি জেলা তৈরি হল। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতে চারটি মহকুমা ছিল- খড়গপুর, মেদিনীপুর সদর, ঝাড়গ্রাম এবং ঘাটাল। (তবে বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩ টি মহকুমা) আর পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতে চারটি মহকুমা আছে – কাঁথি, হলদিয়া, তমলুক ও এগরা। এগরা মহকুমাও ২০২২ সালে তৈরি হয়। কাঁথি মহকুমাকে ভেঙে এগরা মহকুমার জন্ম হয়।
২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা বিভাজিত হয়ে ঝাড়গ্রাম জেলা গঠিত হলে ঝাড়গ্রাম মহকুমাটি উক্ত জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়।
প্রশ্নঃ মেদিনীপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস সম্বন্ধে বলুন।
ঐতিহাসিক মতে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন এলাকায় রাজা শশাঙ্কের রাজত্বের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ঐ সময়কালে তাম্রলিপ্ত সাম্রাজ্যের অংশ ছিল এই জেলার অনেকাংশ। ১০২১-১০২৩ খ্রিষ্টাব্দে রাজা রাজেন্দ্র ঢোলের আক্রমনের পর তাম্রলিপ্ত সাম্রাজ্যের পতন হয়। এরপর ১১৩৫ খ্রিষ্টাব্দে রাজা অনন্ত বর্মণ মেদিনীপুরের (তৎকালীন মিধুনপুর) দখল নেন। খ্রিষ্টীয় ১৩০০-১৫০০ শতাব্দীতে সারা বাংলায় মুসলিম সাম্রাজ্যের বিস্তার হলেও বিষ্ণুপুরের হিন্দু রাজা এবং জমিনদারেরা মেদিনীপুরের সুবিশাল অংশে হিন্দু সাম্রাজ্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৫০০ শতাব্দীর শুরুতে মেদিনীপুর মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে চলে আসে। ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে জব চার্নক মেদিনীপুরের হিজলিতে আসেন। ১৭০০ শতাব্দীর মধ্যান্তরে মারাঠারা একাধিক বার মেদিনীপুরে আক্রমন ও লুঠতরাজ করে। ১৭৫২ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিম মেদিনীপুরের একাংশ মারাঠা সাম্রাজের অধীনে চলে যায়। এরপর ব্রিটিশ আমলে মেদিনীপুর একাধিক কৃষক বিদ্রোহ ও স্বাধীনতা সংগ্রামী আন্দোলনের সাক্ষী থেকেছে।
প্রশ্নঃ মেদিনীপুরের আবহাওয়া ও জলবায়ু কেমন?
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার আয়তন ৯২৯৫.২৮ বর্গ কিমি।এই জেলার আবহাওয়া চরমভাবাপন্ন। সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ৪৫ ডিগ্রি ও ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গড় বৃষ্টিপাতের পরিমান ১৫১৪ মিমি।
প্রশ্নঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার আয়তন কত?
৯৩৪৫ বর্গকিমি
প্রশ্নঃ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার আয়তন কত?
৪৭৩৬ বর্গ কিমি
প্রশ্নঃ ঝাড়গ্রাম জেলার আয়তন কত?
৩০২৪.৩৮ বর্গ কিমি
প্রশ্নঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জনসংখ্যা কত?
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ৫৯,৪৩,৩০০ জন, লিঙ্গ অনুপাত - ৯৬০/১০০০
প্রশ্নঃ ঝাড়গ্রাম জেলার জনসংখ্যা কত?
১১ লক্ষ ৩৭ হাজার ১৬৩ জন
প্রশ্নঃ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জনসংখ্যা কত?
৫১ লক্ষ
প্রশ্নঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সীমানা উল্লেখ কর
উত্তরে বাঁকুড়া, দক্ষিণে ওড়িশা, পূর্বে পূর্ব মেদিনীপুর ও বিহার,
প্রশ্নঃ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সীমানা উল্লেখ কর
এই জেলার উত্তরে পশ্চিম মেদিনীপুর ও হাওড়া জেলা; পূর্বে হুগলি নদী ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ওড়িশা রাজ্য।
প্রশ্নঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সাক্ষরতার হার কত?
৭৯.০৪ %
প্রশ্নঃ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সাক্ষরতার হার কত?
৮৭.৬৬%
প্রশ্নঃ ঝাড়গ্রাম জেলার সাক্ষরতা কত?
৭০.৯২ %
প্রশ্নঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সদর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
কাঁসাই
প্রশ্নঃ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সদর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
তমলুক শহরটি রূপনারায়ণ নদীর তীরে অবস্থিত, কোলাঘাটও রূপনারায়ণের তীরে অবস্থিত।
প্রশ্নঃ ঝাড়গ্রাম কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
সুবর্ণরেখা নদীর তীরে অবস্থিত।
প্রশ্নঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গ্রাম পঞ্চায়েত কতগুলি?
২৯০টি
প্রশ্নঃ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় কটি গ্রাম পঞ্চায়েত আছে?
২২৩ টি
প্রশ্নঃ ঝাড়গ্রাম জেলায় কতগুলি গ্রাম পঞ্চায়েত আছে?
৭৯ টি গ্রাম পঞ্চায়েত আছে, ২৯৯৫ টি গ্রাম আছে।
প্রশ্নঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পঞ্চায়েত সমিতি কতগুলি
২১টি, বিডিও অফিসও আছে ২১ টি
প্রশ্নঃ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় কটি ব্লক ও পঞ্চায়েত সমিতি আছে?
২৫ টি ব্লক ও পঞ্চায়েত সমিতি আছে।
প্রশ্নঃ ঝাড়গ্রাম জেলায় কতগুলি ব্লক আছে?
৮ টি ব্লক ও পঞ্চায়েত সমিতি আছে।
প্রশ্নঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জেলা পরিষদ এর নির্বাচিত সদস্যের সংখ্যা কত?
৬০ জন।
প্রশ্নঃ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যা কত?
নির্বাচিত সদস্য ৭০ জন
প্রশ্নঃ ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের আসন সংখ্যা কত?
১৯ টি
প্রশ্নঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিধান সভার আসন সংখ্যা কত
১৫ টি।
প্রশ্নঃ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিধানসভার আসন সংখ্যা কত?
১৬ টি
প্রশ্নঃ ঝাড়গ্রাম জেলাতে কতগুলি বিধানসভা আছে?
চারটি আসন আছে।
প্রশ্নঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার লোকসভার আসন সংখ্যা কত?
৩ টি মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম,ও ঘাটাল (আসন বিন্যাসে তিনটি জেলা জুড়ে আছে)
ঘাটাল লোকসভা – সবং, পিংলা, ডেবরা, ঘাটাল, দাসপুর, কেশপুর এবং পাশকুড়া পশ্চিম বিধানসভা এলাকা নিয়ে গঠিত।
মেদিনীপুর লোকসভা – এগরা, দাঁতন, কেশিয়ারী, খরগপুর সদর, খরগপুর, নারায়ণগড়, মেদিনীপুর
ঝাড়গ্রাম লোকসভা – গোপীবল্লভপুর, ঝাড়গ্রাম, নয়াগ্রাম, বিনপুর, গড়বেতা, শালবনী, বান্দোয়ান
প্রশ্নঃ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার লোকসভা কটি?
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ২ টি লোকসভা আসন রয়েছে। তমলুক এবং কাঁথি
তমলুক লোকসভা গঠিত হয়েছে – তমলুক, পাশকুড়া পূর্ব, ময়না, নন্দকুমার, মহিষাদল, হলদিয়া ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা নিয়ে।
কাঁথি লোকসভা গঠিত হয়েছে – চন্ডীপুর, পটাশপুর, কাঁথি উত্তর, ভগবানপুর, খেজুরী, কাঁথি দক্ষিণ, রামনগর এই বিধানসভা নিয়ে।
প্রশ্নঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মহাকুমা ও পুরসভা কয়টি?
তিনটি , খড়গপুর, মেদিনীপুর সদর, এবং ঘাটাল। ৭ টি পুরসভা, মেদিনীপুর, খড়গপুর, ঘাটাল, ক্ষীরপাই, খড়ার, রামজীবনপুর ও চন্দ্রকোনা।
প্রশ্নঃ পূর্ব মেদিনীপুরের কটি মহকুমা ও পুরসভা?
চারটি মহকুমা, কাঁথি, এগরা, হলদিয়া ও তমলুক এবং পাঁচটি পুরসভা যথা কাঁথি, এগরা, তমলুক, হলদিয়া ও পাঁশকুড়া।
প্রশ্নঃ তমলুক পৌরসভা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
১৮৬৪ সালে
প্রশ্নঃ মেদিনীপুর পৌরসভা কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
১৮৬৫ সালে।
প্রশ্নঃ খড়গপুর পৌরসভা তৈরি হয় কত সালে?
১৯৫৪ সালে
প্রশ্নঃ এগরা পৌরসভা কবে তৈরি হয়?
১৯৯৩ সালে
প্রশ্নঃ হলদিয়া পৌরসভা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
১৯৯৭ সালে
প্রশ্নঃ পাশকুড়া পৌরসভা কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
২০০২ সালে।
প্রশ্নঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কতগুলি থানা আছে - ২৩ টি থানা(মহিলা থানা ও সাইবার পিএস ধরে)
প্রশ্নঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রধান প্রধান ফসলের নাম কি?
ধান, পাট , মুহুয়া , শাল
প্রশ্নঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মাটি কি রকম
ল্যাটেরাইট
প্রশ্নঃ ঝাড়গ্রাম জেলার একটি পাহারের নাম
বেলপাহাড়ি
প্রশ্নঃ ঝাড়গ্রাম জেলার একটি খনিজ দ্রবের নাম কি
মাঙ্গানিজ , (বেলপাহাড়ি)
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া কীসের জন্য বিখ্যাত
পেট্রোলিয়াম শিল্পের জন্য
প্রশ্নঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় কি কি নদী আছে?
কাসাই,শিলাই , সুবর্ণরেখা , দ্বারকেশ্বর
ঝাড়গ্রাম জেলার জেলার দর্শনীয় স্থান কি কি?
ঝাড়গ্রাম,চিল্কিগড়,বেলপাহাড়ি, কনকদুর্গা মন্দির, গোপীবল্লভপুর ইকো পার্ক, ডিয়ার পার্ক ইত্যাদি
প্রশ্নঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দর্শনীয় স্থান কি কি?
গোপগড় হেরিটেজ পার্ক (মেদিনীপুর শহরের নিকটবর্তী),হাতিবাড়ি অরন্য ও পাখিরালয়,গুড়্গুড়িপাল হেরিটেজ পার্ক,গনগনি (গড়বেতা),রামেশ্বর মন্দির ও তপোবন (রোহিনীর নিকটবর্তী), মন্দিরময় পাথরা, নাড়াজোল রাজবাড়ি, বীরসিংহ গ্রামে বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান, দাঁতনের মোঘলমারি ইত্যাদি।
প্রশ্নঃ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দর্শনীয় স্থান কি কি?
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার আকর্ষণীয় সমুদ্র সৈকত থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলিতে পরিপূর্ণ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দীঘা সৈকত, তাজপুর সৈকত, শঙ্করপুর সৈকত, চন্দনেশ্বর মন্দির (উড়িষ্যা তে অবস্থিত), মহিষাদল রাজবাড়ি, গেওখালি, হিজলি শরিফ, ইত্যাদি।
প্রশ্নঃ পূর্ব মেদিনীপুরের একটি সতী পীঠের নাম কর।
দেবী বর্গভীমা মন্দিরটি ১১৫০ বৎসরের প্রাচীন কালি মন্দির এবং এটি ৫১ শক্তিপিঠের মধ্যে একটি। পুরাণের মতে, সতী / পার্বতীর বাম পায়ের গোরলি এখানে পড়ে ছিল।
প্রশ্নঃ ক্ষীরাই কোন জেলায় অবস্থিত?
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়।
প্রশ্নঃ গেওখালি কোন জেলায় অবস্থিত?
গেঁওখালি মহিষাদল থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, এটি তিনটি নদীর সংযোগ স্থল এবং পিকনিক স্পট, এটি পূর্ব মেদিনীপুউর জেলায় অব্বস্থিত।
প্রশ্নঃ মহিষাদল রাজবাড়ির ইতিহাস সম্বন্ধে কি জান?
মহিষাদল রাজবাড়ির ইতিহাস ষোড়শ শতাব্দীর, যখন বর্তমান স্থান "জিওখালী" "জীবনখালী" নামে পরিচিত ছিল। এই সময়েই সম্রাট আকবর ভারতে রাজত্ব করছিলেন এবং মহিষাদল রাজ বাড়ি জনার্দন উপাধ্যায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যিনি সম্রাটের সেনাবাহিনীর একজন উচ্চ পদস্থ কর্মী ছিলেন। রাজা জনার্ধন উপাধ্যায় থেকে শুরু করে রাজা দুর্যোধন উপাধ্যায়, রাজা রামশরণ উপাধ্যায়, রাজা রাজারাম উপাধ্যায়, রাজা সুখ লাল উপাধ্যায়, রাজা অনাদলাল উপাধ্যায়ের কাছে রাজত্ব হস্তান্তরিত হয়। এই পর্যায়েই রাজা অনাদলাল উপাধ্যায় মারা যান এবং তাঁর স্ত্রী রানী জানকী দেবী 1770-1804 সালে মহিষাদল এস্টেট শাসন করতে শুরু করেন। মদন গোপাল জিউ মন্দির হল মহিষাদলের প্রধান মন্দির ছাড়াও রাম জেউ মন্দির দধিবামন ইহুদি এবং নন্দীগ্রামের জানকীনাথ মন্দির রাণী জানকী নির্মিত কয়েকটি মন্দির। মদনগোপাল মন্দির ১৭৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৭৭৬ সালে বিখ্যাত রথযাত্রা শুরু হয় যা আজও মহিষাদল রাজবাড়িতে প্রাচীন দুর্গাপূজার পাশাপাশি বাংলার অন্যতম বিখ্যাত উৎসব।
এই দম্পতির একটি কন্যা সন্তান ছিল রানী মন্থরা দেবী, যার পরে বংশ তার পুত্র রাজা গুরু প্রসাদ গর্গের কাছে বর্তমান শঙ্কর প্রসাদ গর্গ এবং হর প্রসাদ গর্গের কাছে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে সূর্য্য প্রসাদ গর্গ এই পরিবারের যুবরাজ। সম্প্রতি দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান গ্রহণ নিয়ে রাজবাড়ির পুজো খবরে এসেছে। মহিষাদলের রথ বিখ্যাত।
প্রশ্নঃ পূর্ব মেদিনীপুরে আর কি কি রাজবাড়ি আছে?
ময়না/ময়নাগড় রাজবাড়ি, পূর্ব মেদিনীপুর, তমলুক রাজবাড়ি, পূর্ব মেদিনীপুর, পচেটগড় রাজবাড়ি, কাজলাগড় রাজবাড়ি ইত্যাদি। পচেটগড় এবং ময়নাগড়ে রাস উৎসব বিখ্যাত।
ময়নাগড়ের প্রতিষ্ঠা – গোবর্ধন সামন্তের সফল অভিযানের ফলে উৎকলের গজপতি রাজা তাকে ময়নাগড়ের সামন্ত রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং বাহুবলীন্দ্র উপাধী দান করেন।
কাজলাগড় রাজবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা – গোবর্ধন রানাঝম্প (গোবর্ধন চৌধুরী) , এই রাজ দরবারে ভূমি সংস্কার দপ্তরে চাকরি করতেন দ্বিজেন্দ্র লাল রায় (ডি এল রায়)।
তমলুক রাজবাড়ি - ৯০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে তমলুক পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাজা কালু ভূঁইয়া ছিলেন একজন দৃঢ় প্রশাসক।
প্রশ্নঃ ঝাড়গ্রামে কি কি রাজবাড়ি আছে?
চিল্কিগড় রাজবাড়ি, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি, লালগড় রাজবাড়ি।
রাজা সর্বেশ্বর সিং রাজপূত সামরিক বাহিনী ও অশ্বারোহী বাহিনীর সহায়তায় জঙ্গলখণ্ড আক্রমণ করেছিলেন ও মাল রাজাকে পরাস্ত করে মল্লদেব উপাধি ধারণ এবং ঝাড়গ্রাম নামে তার রাজধানী স্থাপন করেন
রামগড় ও লালগড় রাজবাড়ি - প্রতিষ্ঠাতা গুণচন্দ্র ও উদয়নচন্দ্র ভট্ট মধ্যপ্রদেশের এটাওয়া জেলা থেকে ভাগ্য সন্ধানে এসেছিলেন। তাঁদের হাত ধরেই রামগড় ও লালগড় রাজবংশের পত্তন হয়েছিল।
এটা মনে করা হয়, চিল্কিগড়ের রাজা ধলরাজকে পরাজিত করে সূর্য বংশী রাজা জগৎদেব নিজেকে রাজা ধবলদেব হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন । পরবর্তীতে চিল্কিগড়ের রাজ পরিবারকে ধবলদেব বলা হয় ।
প্রশ্নঃ পশ্চিম মেদিনীপুরে কি কি রাজবাড়ি আছে?
নাড়াজোল রাজ বাড়ি, জাড়া জমিদার বাড়ি, রামজীবনপুর রাজবাড়ি, নাড়াজোল রাজের গোপ প্যালেস (বর্তমানে গোপ কলেজ), মেদিনীপুর শহরের মল্লিক বাড়ি যেটি জন্মেঞ্জয় মল্লিক স্থাপন করেছিলেন।
নাড়াজোল রাজবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা উদয় নারায়ণ ঘোষ, রামজীবনপুর রাজবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা – সতীশ চন্দ্র সিংহ, জাড়া জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা – রাম গোপাল রায়।
প্রশ্নঃ মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রথম বিধায়িকা কে ছিলেন?
১৯৫৭ সালে মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন রানী অঞ্জলি খান। নাড়াজোল রাজ অমরেন্দ্রলাল খানের স্ত্রী। রানী হিসাবে তিনি তাঁর দুটি বাড়ি দুটি জলেজের জন্য দান করেন। গোপ প্যালেসটি দেন গোপ কলেজের জন্য আর নাড়াজোল রাজবাড়িটি দেন নাড়াজোল রাজ কলেজের জন্য।
প্রশ্নঃ নাড়াজোল রাজবাড়ির গোপ প্যালেসে কে কে অতিথি হিসাবে ছিলেন?
নেতাজী, মহত্মা গান্ধী এবং আরও অনেকে।
প্রশ্নঃ মেদিনীপুরের প্রথম কালেক্টার কে ছিলেন?
মিঃ পিয়ারস মেদিনীপুরের প্রথম কালেকটর নিযুক্ত হন ১৭৭৭ খ্রীঃ
প্রশ্নঃ মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল কত সালে স্থাপিত হয়?
১৮৩৪ খ্রীষ্টাব্দে মেদিনীপুর কলিজিয়েট স্কুল স্থাপিত হয়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।
প্রশ্নঃ মেদিনীপুর মহাবিদ্যালয় কত সালে স্থাপিত হয়?
মেদিনীপুর মহাবিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৮৮৩ সালে
প্রশ্নঃ কত সালে অরবিন্দ ঘোষ মেদিনীপুর আসেন। হেমচন্দ্র দাস কানুনগো, সত্যেন্দ্রনাথ বসু এবং ঞ্জানেন্দ্রনাথ বসু মেদিনীপুরে সশস্ত্র বিপ্লবী দল গড়ে তোলেন?
১৯০২ সালে।
প্রশ্নঃ ক্ষুদিরাম বসু কত সালে মারা যান?
১৯০৮ সালে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকী কিংসফোর্ডকে আক্রমণ করেন। দূর্ভাগ্যবসত মিঃ ও মিসেস কেনেডি মারা যান। ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি হয়, প্রফুল্ল চাকি আত্মহত্যা করেন। ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি হয় ১৯০৮ সালের ১১ই আগষ্ট।
প্রশ্নঃ ক্ষুদিরাম বসুর জন্ম কবে হয়?
১৮৮৯ সালের ৩রা ডিসেম্বর কেশপুরের মোহবনী গ্রামে মতান্তরে হবিবপুরে তাঁর জন্ম। পিতা ত্রৈলক্যনাথ বসু মা লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী, দিদি অপরূপা (ক্ষুদ দিয়ে কিনেছিলেন বলে নাম ক্ষুদিরাম)
প্রশ্নঃ গান্ধীজী কত সালে প্রথম মেদিনীপুরে আসেন?
প্রিন্স ওয়েলস এর ভারত আগমনে মেদিনীপুরে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পরে। গান্ধিজি মেদিনীপুর আসেন ১৯২০ সালে।
প্রশ্নঃ নেতাজী কবে প্রথম মেদিনীপুরে আসেন?
বীরেন্দ্রনাথ শাসমল এর নেতৃত্বে চৌকিদারি শুল্ক প্রথা অবলুপ্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। নেতাজী মেদিনীপুরে আসেন ১৯২৯ সালে। ১৯৩১ সালে হিজলি হত্যাকান্ডের পর আসেন, উনি ১৯৩৮ সালে আবার আসেন ঘাটালে।
প্রশ্নঃ পিছাবনি নাম কেন?
পূর্ব মেদিনীপুরে লবন আইন আন্দোলনকে ঘিরে এই অঞ্চলের মানুষরা অত্যাচারী পেডির লাল চোখকে পাত্তা না দিয়ে পিছিয়ে যায়নি আন্দোলন থেকে, তাই এই স্থানের নাম পিছাবনি।
প্রশ্নঃ জেলা শাসক পেডিকে কবে হত্যা করা হয়?
জ্যোতিজীবন ঘোষ ও বিমল দাশগুপ্ত জেলা কালেকটর মিঃ জেমস পেডিকে হত্যা করেন ১৯৩১ সালে।
প্রশ্নঃ জেলা শাসক ডগলাসকে হত্যা করা হয় কবে?
১৯৩২ সালে প্রদ্যুত ভট্টাচার্য্য এবং প্রভাংশু শেখর পাল জেলা বোর্ডের মিটিং হলে (বর্তমান জেলা পরিষদের মিটিং হলে) প্রবেশ করে মিটিং চলা কালীন ডগলাসকে গুলি করে খুন করেন।
প্রশ্নঃ জেলা শাসক বার্জকে কে কবে হত্যা করে?
১৯৩৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর শ্বেতাঙ্গ ম্যাজিস্ট্রেট বার্জ সাহেব মেদিনীপুর কলেজ মাঠে মোহামেডান স্পোর্টিং-এর বিরুদ্ধে মেদিনীপুর ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলতে নামেন। খেলা প্রাকটিসের ছল করে বল নিয়ে মাঠে নামেন অনাথবন্ধু পাঁজা ও মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত। মাঠেই দুই বন্ধু বার্জ সাহেবকে আক্রমণ করলে তিনি মারা যান।
প্রশ্নঃ এপ্রিল আতঙ্ক কি?
পেডি ও ডগলাস এই ফুই জেলা শাসককে এপ্রিল মাসে খুন করা হয় যথাক্রমে ৭ই এপ্রিল, ১৯৩১ ও ৩০ শে এপ্রিল ১৯৩২, এই জন্য বৃটিশরা ভয় পেয়েছিলো। বার্জও গোটা এপ্রিল মাস বাড়ি থেকে বেরোননি।
প্রশ্নঃ বিমল দাসগুপ্ত পালিয়ে যান, তাঁকে পুলিশ খুঁজছিল, তখন কানাইলাল ভট্টাচার্য্য বিমল দাসগুপ্ত ছদ্মনাম নিয়ে কাকে খুন করে শহীদ হন?
বিচারক গার্লিককে যিনি দীনেশ গুপ্ত ও রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের মৃত্যদন্ড দিয়েছিলেন। সেই গার্লিককে এজলাসেই গুলি দিয়ে ঝাঁজরা করে নিজে পটাশিয়াম সায়নায়েড খেয়ে শহীদ হন। তাঁর পকেট থেকে বিমল দাসগুপ্ত পরিচয়ের কাগজ পাওয়া গেছিল।
প্রশ্নঃ ক্ষুদিরামকে কে সত্যেন বসুর সাথে পরিচয় করান?
দাসপুরের বিপ্লবী পুর্ণচন্দ্র সেন, যিনি কোলকাতা প্রে কলাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং আলিপুর বোমা মামলার আসামী ছিলেন।
প্রশ্নঃ ক্ষুদিরাম যে বোমা মেরেছিলেন সেই বোমা কার তৈরী?
অভিরাম যার ছদ্মনাম সেই মেদিনীপুরের অস্ত্রগুরু হেমচন্দ্র রায় কানুনগোর
প্রশ্নঃ বিদ্যাসাগর বিশ্ব বিদ্যালয় কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯৮১ সালে
প্রশ্নঃ মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
২০০৪ সালে
প্রশ্নঃ মেদিনিীপুর থেকে প্রকাশিত স্থানীয় খবরের কাগজ কি কি?
বিপ্লবী সব্যসাচী, মেদিনীপুর টাইমস, ছাপা খবর এবং দৈনিক উপত্যকা
প্রশ্নঃ মেদিনীপুরে ইল ইন্ডিয়া রেডিও এর একটি সম্প্রচার কেন্দ্র আছে তার নাম কি?
আকাশবাণী মেদিনীপুর।
প্রশ্নঃ ঋষি রাজনারায়ণ গ্রন্থাগার কোথায় অবস্থিত?
মেদিনীপুর শহরে
প্রশ্নঃ বর্তমান প্রজন্মের এক বিখ্যাত অভিনেতার জন্মস্থান মেদিনীপুর শহর, তিনি কে?
অনির্বাণ ভট্টাচার্য্য
প্রশ্নঃ অভিনেতা ও সাংসদ দেব বা দীপক অধিকারীর জন্মস্থান কোথায়?
মেদিনীপুরের কেশপুর
প্রশ্নঃ ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রের বর্তমান সাংসদ কে?
কালিপদ সরেন, এই লোকসভা কেন্দ্রটি ১৯৬২ সালে সৃষ্টি হয়।
প্রশ্নঃ ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের প্রথম সাংসদ এবং বর্তমান সাংসদ কে?
প্রথম সাংসদ নিকুঞ্জ বিহারী চৌধুরী প্রথম সাংসদ। বর্তমান সাংসদ দেব বা দীপক অধিকারী। এর আগে এখানে গুরুদাস দাশগুপ্ত সাংসদ ছিলেন।
প্রশ্নঃ তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের প্রথম সাংসদ ও বর্তমান সাংসদ কে?
প্রথম সাংসদ দিলেন সতীশ চন্দ্র সামন্ত এর পর সুশীল কুমার ধারা, লক্ষ্মন শেঠ, শুভেন্দু অধিকারী, দিব্যেন্দু অধিকারী এবং বর্তমানে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (প্রাক্তন বিচারপতি)
প্রশ্নঃ কাঁথি লোকসভার প্রথম ও বর্তমান সাংসদ কে?
বসন্ত কুমার দাস প্রথম এবং সৌমেন্দু অধিকারী বর্তমান সাংসদ
প্রশ্নঃ মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রথম ও বর্তমান সাংসদ কে?
প্রথম – ভরত লাল টুডু এবং বর্তমান – অভিনেত্রী জুন মালিয়া
প্রশ্নঃ বাঁদরভুলা সংগ্রহশালা কোন জেলায় আছে?
ঝাড়গ্রাম জেলায়
প্রশ্নঃ তপোবন নামক পর্যটন স্থল কোন জেলায় আছে?
ঝাড়গ্রাম জেলায়
প্রশ্নঃ কনকদূর্গা মন্দির কোথায়?
ঝাড়গ্রামে
প্রশ্নঃ কোদপাল ইকোট্যুরিজম পার্ক কোন জেলায় আছে?
ঝাড়গ্রাম জেলায়
প্রশ্নঃ হিজলী জেল কোথায় অবস্থিত?
এখন যেখানে খরগপুর আই আই টি, সেখানে আগে ছিল হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্প। এখন্ন একটি মিউজিয়াম স্থাপিত হয়েছে। এখানে ১৯৩১ সালে সন্তোষ কুমার মিত্র ও তারকেশ্বর সেনগুপ্ত নামে দুই স্বাধীনতা সংগ্রামী এই ক্যাম্পেই পুলিশের গুলিতে নিহত হন। সুভাষচন্দ্র বসু তাদের মৃতদেহ সংগ্রহ করতে এখানে আসেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘প্রশ্ন’ কবিতাটি রচনা করেন। এই সন্তোষ মিত্রের নামেই কোলকাতার বিখ্যাত পুজো সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার।
প্রশ্নঃ নেহরু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংগ্রহশালা কোথায় আছে?
খরগপুরে যেখানে হিজলি জেল ছিল সেখানে
প্রশ্নঃ দীনেশ গুপ্তের রিভালবার বই থেকে এই জেলার স্বাধীনতা আন্দোলনের বর্ণনা পাওয়া যায়, বইটি কার লেখা?
মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের প্রাক্তনী সান্মাত্রানন্দের।
প্রশ্নঃ মেদিনীপুরে বেঙ্গল ভলেন্টিয়ার্স এর দায়িত্ব কার উপর বর্তায়?
দীনেশ গুপ্ত, যার দলের সদস্যারা পর পর তিনজন জেলা শাসককে হত্যা করে। ১৯৩০ সালের ৮ ই ডিসেম্বর দীনেশ গুপ্ত বিনয় ও বাদল কে নিয়ে অলিন্দ যুদ্ধ করেন। বিচারে তাঁর ফাঁসি হয়।
প্রশ্নঃ মাতঙ্গিনী হাজরা কবে শহীদ হন?
১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ২৯ সেপ্টেম্বর তদানীন্তন মেদিনীপুর জেলার বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানার সামনে ব্রিটিশ ভারতীয় পুলিশের গুলিতে তিনি শহিদ হয়েছিলেন। তিনি 'গান্ধীবুড়ি' নামে পরিচিত ছিলেন।
প্রশ্নঃ মাতঙ্গিনী হাজরার জন্ম কোন গ্রামে?
তমলুকের আলিনান গ্রামে
প্রশ্নঃ দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের জন্ম কোথায়?
চন্ডীভেটি গ্রামে। তিনি চট্টগ্রাম মামলার আইনজীবী ছিলেন, মেদিনীপুর জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। কোনো দিন মাথা নোয়াননি, শোনা যায় তাঁর মৃত্যুর পর দাঁড় করিয়ে দাহ করা হয়েছিল।
প্রশ্নঃ ক্ষুদিরাম ইকো পার্ক কোথায় অবস্থিত?
মেদিনীপুর শহরের কেন্দ্রেই অবস্থিত
প্রশ্নঃ আশাপূর্ণা দেবী রেল স্টেশন কোথায় অবস্থিত?
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মন্দারমণির কাছে চাউলখোলায় তমলুক দীঘা রেল লাইনে অবস্থিত
প্রশ্নঃ তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার নিয়ে কি জানেন?
১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠিত হয়। ব্রিটিশ শাসনকালে এটি ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সমান্তরাল জাতীয় সরকার। সর্বাধিনায়ক হন বিপ্লবী সতীশচন্দ্র সামন্ত। অজয় মুখার্জী ছিলেন এর অর্থ সচিব, সুশীল ধারা ছিলেন সরাষ্ট্র ও সমর সচিব।
প্রশ্নঃ অজয় মুখোপ্যাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের কত তম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন?
চতুর্থ মুখ্যমন্ত্রী, তিনি যুক্তফ্রন্টের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
প্রশ্নঃ আভা মাইতি কে ছিলেন?
আভা মাইতি ছিলেন একজন স্বাধীনতা স্নগ্রামী নারী, তিনি সারা জীবন অবিবাহিত ছিলেন, তাঁকে মেদিনীপুরের অগ্নিকন্যা বলা হয়। তাঁর শিক্ষক পিতা ও পশ্চিমবঙ্গের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী নিকুঞ্জ বিহারী মাইতি এবং মাতা অহল্যা দেবী দুজনেই ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সারাজীবন অবিবাহিতা ছিলেন।
প্রশ্নঃ আভা খাটুয়া কে?
পশ্চিম মেদিনীপুরের শটপুট খেলোয়ার, তাঁর জন্ম খুড়শি তে। ২০২৩ এশিয়াডে রূপো জয়ী।
প্রশ্নঃ ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত কে ছিলেন?
ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত (১৮ই মার্চ, ১৯১৯- ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০০১) সিপিআইয়ের একজন রাজনীতিবিদ যিনি ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ভারতের সবচেয়ে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা সাংসদ, যিনি মোট ১১ বার লোকসভা নির্বাচনে জিতেছেন।
প্রশ্নঃ অনিল ঘড়াই কে ছিলেন?
কথাশিল্পী অনিল ঘড়াই (১ নভেম্বর, ১৯৫৭—২৩ নভেম্বর, ২০১৪) ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের একজন বাঙ্গালী সাহিত্যিক। বাংলা সাহিত্যে তার অবস্থান অনন্য। দলিত ও প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে সাহিত্যচর্চার সুবাদে তাকে অন্ত্যজ জীবনের রূপকার বলা হয়ে থাকে। তাঁর জন্ম পূর্ব মেদিনীপুরের রুক্মীনীপুর গ্রামে।
প্রশ্নঃ ঐতিহাসিক অমলেশ ত্রিপাঠীর জন্ম কোথায়?
অমলেশ ত্রিপাঠী (১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯২১ - ১৮ জুন ১৯৯৮) একজন ভারতীয় বাঙালি ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপক। আধুনিক ভারতের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক ইতিহাস রচনায় ছিলেন পথিকৃৎ। তিনি ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে “ইতিহাস ও ঐতিহাসিক” গ্রন্থটির জন্য আনন্দ-সুরেশ স্মৃতি পুরস্কার লাভ করেন। হলদিয়ার দেভোগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
প্রশ্নঃ প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার অশোক দিন্দার জন্ম কোথায়?
পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নাতে। তিনি ময়নার বিধায়কও ছিলেন।
প্রশ্নঃ ঈশানচন্দ্র বসু কে ছিলেন?
মেদিনীপুর বিদ্যালয়ে রাজনারায়ণ বসুর প্রিয় ছাত্র ছিলেন তিনি। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার বিশিষ্ট লেখক ও বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের প্রথম সহ-সম্পাদক ছিলেন।
প্রশ্নঃ বিপ্লবী আশুতোষ কুইলা কে ছিলেন?
আশুতোষ কুইলা (১৯২৪ - ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব। তিনি বিদ্যুৎবাহিনী বিপ্লবী দলের সভ্য ছিলেন। ভারত ছাড় আন্দোলনকালে মহিষাদলে পুলিস স্টেশন আক্রমণের সময় পুলিসের গুলিতে শহীদ হন।
প্রশ্নঃ প্রাক্তন মন্ত্রী কিরণময় নন্দের বাড়ি কোথায়?
পূর্ব মেদিনীপুরের মুগবেড়িয়ায়
প্রশ্নঃ পশ্চিমবঙ্গের প্রথম শিক্ষা মন্ত্রী এবং ঘাটালের দ্বিতীয় সাংসদ একজনই ছিলেন যার জন্ম পূর্ব মেদিনীপুরের কলাগেছিয়ায়। তাঁর নাম