30/08/2026
ধূপগুড়ি ফুটবল ক্লাব ও United Sports Club এর যৌথ উদ্যোগে পথ চলা শুরু করেছে আমাদের ফুটবল একাডেমি।
Academy র জন্মলগ্ন থেকেই আমাদের হেড কোচের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন দিব্যেন্দু রায় স্যার।
মুখচোরা এই মানুষটা সবার আড়ালে থেকে ঠিক নিজের কাজটা করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। আজ তার সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরলাম। সবার কাছে পুরোটা পড়ার অনুরোধ রইল।
ফুটবল কোচ দিব্যেন্দু রায় - বাংলার যুব ফুটবলের এক নিবেদিত কারিগর
কলকাতা ফুটবলের আঁতুড়ঘর থেকে উঠে আসা এক নিষ্ঠাবান এবং দূরদর্শী কোচ হলেন দিব্যেন্দু রায়। গত ৫ বছর ধরে তিনি নিরলসভাবে যুক্ত আছেন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ইউনাইটেড স্পোর্টস-এর যুব উন্নয়ন প্রকল্পের (Youth Development System) সঙ্গে। সেই সঙ্গে রয়েছে ইউরোপীয় কোচেদের সাথে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা। তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিভা তুলে এনে তাদের পেশাদার ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
কোচিং অভিজ্ঞতা:
দিব্যেন্দু রায় তাঁর দীর্ঘ কোচিং জীবনে বাংলার এবং সর্বভারতীয় স্তরের প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ যুব টুর্নামেন্টে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
১) আইএফএ নার্সারি লিগ: বাংলার ভবিষ্যৎ ফুটবলার তৈরির প্রথম ধাপ।
২) সিএফএল (কলকাতা ফুটবল লিগ) - বিভিন্ন ডিভিশন: যেখানে তিনি সিনিয়র এবং জুনিয়র ফুটবলের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করেছেন।
৩) আইএফএ স্টেট ইয়ুথ লিগ: রাজ্য স্তরের যুব প্রতিভাদের মঞ্চ।
৪) এআইএফএফ এলিট ইয়ুথ লিগ (অনূর্ধ্ব-১৩ এবং অনূর্ধ্ব-১৭): দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের যুব লিগ।
৫) রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট লিগ: ভারতের যুব ফুটবলের সবচেয়ে পেশাদার এবং প্রতিযোগিতামূলক লিগ।
ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য:
দিব্যেন্দু রায়ের কোচিং ক্যারিয়ার শুধু অংশগ্রহণেই সীমাবদ্ধ নয়, সাফল্যেও উজ্জ্বল।
১. শ্যামবাজার ইউনাইটেডকে ঐতিহাসিক উত্থান: হেড কোচ হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য হল ইউনাইটেড স্পোর্টস-এর সিস্টার ক্লাব শ্যামবাজার ইউনাইটেডকে দ্রুত পরপর দুইবার প্রমোশন করানো। তাঁর সুদক্ষ পরিচালনায় দলটি ৪র্থ ডিভিশন থেকে সরাসরি ২য় ডিভিশনে উন্নীত হয়। এটি তাঁর কৌশলগত দক্ষতা এবং নেতৃত্বের প্রমাণ।
২. জাতীয় মঞ্চে বাংলার জয়: অ্যাসিস্ট্যান্ট কোচ হিসেবে ২০২৩ সালে তিনি ইউনাইটেড স্পোর্টস অনূর্ধ্ব-১৭ দলকে এআইএফএফ এলিট ইয়ুথ লিগের ফাইনাল রাউন্ডে নিয়ে যান। পূর্বাঞ্চলের গ্রুপ লিগে তাঁর দল ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান এবং মহামেডান স্পোর্টিং-এর মতো শক্তিশালী দলগুলোকে একাধিকবার পরাজিত করে যোগ্যতা অর্জন করে। ফাইনাল রাউন্ডে তাঁর কোচিং-এ দলটি কেরালা ব্লাস্টার্সের মতো আইএসএল-এর যুব দলকেও পরাজিত করে, যা ছিল এক বিশাল কৃতিত্ব।
কোচ দিব্যেন্দু রায়ের বিশেষ গুণাবলী:
১. যুব উন্নয়নে বিশেষজ্ঞ: তিনি শুধু খেলোয়াড় তৈরি করেন না, ভবিষ্যৎ তৈরি করেন। বাচ্চাদের মনস্তত্ত্ব বোঝা এবং তাদের ভিতর থেকে সেরাটা বের করে আনাই তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ।
২. অসাধারণ কৌশলগত জ্ঞান (Tactical Knowledge): আধুনিক ফুটবলের চাহিদা অনুযায়ী তিনি খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দেন। তাঁর দল সবসময় সুশৃঙ্খল এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে।
৩. লড়াকু মানসিকতা: বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে তাঁর দলের বারবার জয় প্রমাণ করে তিনি খেলোয়াড়দের মধ্যে হার না মানা মানসিকতা ঢুকিয়ে দিতে পারেন।
৪. নিষ্ঠা ও পরিশ্রম: গত ৫ বছর ধরে একটি সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত থাকা তাঁর ধৈর্য, আনুগত্য এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার পরিচয় দেয়।
৫. একজন আদর্শ মেন্টর: মাঠের ভিতরে তিনি একজন কঠোর কোচ, কিন্তু মাঠের বাইরে তিনি প্রতিটি খেলোয়াড়ের অভিভাবক।
দিব্যেন্দু রায় নিঃসন্দেহে বাংলার যুব ফুটবলের এক উজ্জ্বল সম্পদ। তাঁর হাত ধরেই আগামী দিনে বাংলার ফুটবল থেকে আরও অনেক জাতীয় স্তরের ফুটবলার উঠে আসবে, এটাই আমাদের বিশ্বাস।