25/08/2026
"তুমি কি নিজেকে ব্যার্থ ভাবো?
আমাদের স্বপ্নে বারবার এই লালহলুদ জার্সিতে তোমাকেই চাই"
ইস্টবেঙ্গল টিমটায় এমন অনেক প্রতিভা আছে যাদের নিয়ে বারবার কথা হয়েছে মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়াতে যেমন এডমুন্ড, আনোয়ার, হার্দিক, রশিদ, সন্দীপ, গিল আরো অনেকে, কিন্তু বাঙাল রিফিউজিদের একজন নীরব সৈনিক আছে তাকে কি কেউ লক্ষ্য করেছেন বা করেন ম্যাচ চলাকালীন? ফাইনালে ডার্বি মানেই একটি আলাদা এড্রেনালিন রাস, সামনে নামি দামি অহংকারে পরিপূর্ণ মোহনবাগান, তার মধ্যেই ৯ মিনিটের মাথায় রশিদের সুন্দর ডিফেন্স চেরা থ্রু থেকে বিপিনের প্রথম গোল, কিন্তু কেউ লক্ষ্য করলো কি রশিদের বলটি পাওয়ার আগে বাঁদিকের সাইডলাইনে বলটি স্নাচ করেন কে? উত্তরটা হলো জিকসন সিং, তারপর সে রশিদকে পাসটি দেয় যাইহোক না লক্ষ্য করলেও ক্ষতি কি।
প্রথম গোলের পর উল্লাস শেষ করে ইস্টবেঙ্গল গ্যালারি ঠিক করে সিটে বসার আগেই প্রতিপক্ষ ডি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে এডমুন্ডের জোরালো মাটি ঘেঁষা শট যা বিশালকে পরাস্ত করে দ্বিতীয় পোস্টের কোনায় ঢুকে যায়, লালহলুদ গ্যালারি উত্তাল কিন্তু কেউ লক্ষ্য করলো কি মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের একটি পাস ইন্টারসেপ্ট করে সেটি ধরে এডমুন্ডকে পাসটি কে বাড়ালো? সেই জিকসন সিং, লাইমলাইটের বাইরে থাকতে চান যিনি।
প্রথমার্ধে সমীর জেলকভিচ, লিস্টন কোলাসোরা আটকে গেছেন, বিরতিতে ইস্টবেঙ্গল ৪-১ গোলে এগিয়ে, প্রতিপক্ষ কোচ তার সব অস্ত্রকে মাঠে নামাতে বাধ্য হলেন, মাঠে নামলেন গতবারের লালহলুদের প্রাণভোমরা মিগুয়েল। যারা মিগুয়েলকে ভালো করে চেনেন তারা জানেন ফাঁকা জায়গায় বল ধরে কোমরের দুলুনিতে ২-৩ জনকে ফেলে দিয়ে ডিফেন্স চেরা থ্রু তিনি অনায়াসে বাড়াতে পারেন, তাকে যেকোনো মূল্যে আটকাতে হবে কমপক্ষে ৬০ মিনিট অব্দি। কিন্তু কি অবাক বিষয় যে মিগুয়েলকে নিয়ে মোহনবাগান ফ্যানবেসের এত নাচানাচি সেই মিগুয়েল গোটা দ্বিতীয়ার্ধে বারবার আটকে যাচ্ছেন ইস্টবেঙ্গলের ডি বক্সের ঠিক বাইরে কিংবা একদম মাঝমাঠেই। বারবার ফেলে দেওয়া হচ্ছে তাকে ট্যাক্টিক্যাল ফাউলের আছিলায়, তার বল ধরার আগেই দু-তিনবার পাসটি ইন্টারসেপ্ট করে নিয়েছে ইস্টবেঙ্গল মাঝমাঠের একজন, ছায়ার মতন লেগে আছেন তার সাথে। লক্ষ্য করেছেন তিনি কে? তিনি জিকসন সিং। ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সে আনোয়ার ও লালের আগে এক পাহাড় দাঁড়িয়ে ছিলো, যাকে টলাতে পারেনি তারকাখচিত মোহনবাগান দল।
আপুইয়া যখন গঙ্গাপারের ক্লাবে সই করে বললো ইস্টবেঙ্গল আমায় ফোন করতো আমি ফোন ধরতাম না, রাগে জ্বালায় গা দিয়ে আগুন বেরোতো ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের। আপুইয়ার পরিবর্তে ৪ কোটি টাকার বিনিময়ে কেরালা থেকে সই করানো হলো ভারতের সুপারস্টার, অনুর্ধ ১৭ বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে একমাত্র গোল করা জিকসন সিংকে। প্রথম বছর এসে জিকসনের জায়গা হলো রিসার্ভ বেঞ্চ, সমর্থকেরা বারবার বললেন জিকসন থাকতে রোজ সৌভিক কেনো, তাহলে কি ফর্মের ধারে কাছে নেই জিকসন? আমরা কি আবার ঠকলাম?
না এবার আমরা ঠকিনি, গতবছর থেকে লালহলুদের নীরব সৈনিক জিকসন সিং, সিবিলের অনুপস্থিতিতে গোটা মরসুম ডিফেন্স সামলানোর পর আইএসএলের ডার্বিতে তিনি যখন মাঝমাঠে ফিরলেন তখন জিকসন যেনো সেই কেরালার মিডহাফে খেলা জিকসন, যেমন স্ন্যাচিং তেমন বল ডিস্ট্রিবিউশন। আইএসএল ডার্বিতে তার বাড়ানো বলটি যদি বিপিন জালে জড়াতে পারতেন তাহলে সেদিনই লীগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেতো ইস্টবেঙ্গল, কিন্তু না ভগবান হয়তো আর একটু প্রতীক্ষা করিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের সাথে সাথে জিকসন সিংকেও। এই বছর হাবাসের হাতে পরে জিকসন মাঝমাঠেই খেলে চলেছেন এখনো অব্দি তার জীবনের সেরা খেলা, এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ালিফায়ার্স হোক কিংবা ডুরান্ড এর নকআউট জিকসন যেনো এই লালহলুদ টিমের রদ্রি, যিনি ক্যামেরা আর বুমের থেকে শত মাইল দূরে থেকে নিজের কাজটি মন দিয়ে করে যাচ্ছেন এবং কোথাও গিয়ে আপুইয়াকে বলছেন "মাঠের বাইরের অপমানের জবাব মাঠের ভিতরে দিতে হয়, এভাবেই মোহনবাগানকে পুঁতে দিতে হয়"
আরো এগিয়ে চলো জিকসন, তোমার এখনো অনেক ইতিহাস লেখা বাকি। তুমিই এবছর ইস্টবেঙ্গলের মাইকেল জ্যাকসন "জিকসন সিং" ❤️
জয় ইস্টবেঙ্গল ❤️💛