31/08/2026
একটা সময় ছিল যখন আমরা জাভাগাল শ্রীনাথ কে পিঞ্চ হিটার হিসেবে নামাতাম । টাইটান কাপে একটা হাফ সেঞ্চুরিও ছিল । তবে শ্রীনাথ কে বুঝতে হলে ১৯৯৬ ও ১৯৯৭ সালের বোলিং দেখতে হবে । হি ওয়াজ ফাস্ট !! এক্সপ্রেস ফাস্ট । ১৯৯৮ এর অস্ট্রেলিয়া সিরিজে শ্রীনাথ এর বোলিং স্পিড উঠেছিল ১৪৯ কিমিতে । শোল্ডার সার্জারির পর স্পিড কমে গেলেও শ্রীনাথ এর স্কিল সেট এ ঘাটতি আসেনি । দুর্দান্ত ইনসুইং , একটা ব্যাক হ্যান্ড স্লোয়ার ডেলিভারি শ্রীনাথ এর অস্ত্র ছিল । ৯৯ এর বর্ডার গাভাস্কার ট্রফিতে শ্রীনাথ এর বাউন্সার পন্টিং এর মুখে লেগেছিল । ২০০১ এর ইংল্যান্ডের ওডিআই সিরিজের পর শ্রীনাথ অবসরের কথা ভাবছিলেন । অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির অনুরোধে আবার ফিরে আসেন , তারপর ২০০৩ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন লো ।
একজন কমপ্লিট ফাস্ট বোলার হওয়ার সমস্ত গুণাবলী মজুত ছিল শ্রীনাথের মধ্যে । শ্রীনাথের প্রতি আমার একটাই অনুযোগ , ফাস্ট বোলারদের যে আক্রমণাত্মক অ্যাটিটিউড টা দরকার হয় সেটার খামতি ছিল । যারা ৯০ এর দশকে খেলা দেখেছে তারা জানে অন্যদিকে ওয়াসিম ওয়াকার শোয়েব , ডোনাল্ড , ম্যাকগ্রা , অ্যামব্রোজ রা যেরকম অ্যাপিল করতো , যেরকম অ্যাগ্রেসিভ শরীরী ভাষা দেখা তো , শ্লেজিং করতো অন্যদিকে শ্রীনাথ ছিল অতি ভদ্র , মার্জিত । উল্টে অনেকসময় দেখা গেছে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা শ্রীনাথ কে চার্জ করছে । পন্টিংকে দেওয়া বাউন্সারের ক্লিপটা দেখলেই বোঝা যায় । মাইসরে এ বেড়ে ওঠা শ্রীনাথ ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন ইন্সট্রুমেন্টেশনে । খেলা ছাড়ার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তাকে এখন দেখা যায় ম্যাচ রেফারির ভূমিকায় । দুই দিন আগে তাকে দেখা গেছে বেঙ্গালুরু মেট্রোতে একটা ট্রলি নিয়ে যাতায়াত করতে । প্রচারের আলো থেকে অনেক দূরে ।
আজ জাভাগাল শ্রীনাথের এর ৫৭ তম জন্মদিন । শুভ জন্মদিন মহীশূর এক্সপ্রেস ।