15/08/2026
পনেরোই আগস্ট, ভারতীয় আত্মার চিরন্তন গর্বের দিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে আকাশে উঠেছিল তেরঙ্গা, পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিঁড়ে দেশ পেয়েছিল মুক্তির নিশ্বাস। কিন্তু ইতিহাসের বুকে লুকিয়ে আছে এক আশ্চর্য সুন্দর সমাপতন। স্বাধীনতার ঠিক ৫৮ বছর আগেই, ১৮৮৯ সালের এই একই দিনে জন্ম নিয়েছিল আমাদের প্রাণের মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব।
ভাবুন তো! যে তারিখ একদিন জাতির মুক্তির প্রতীক হবে, সেই দিনেই জন্ম নেয় এক দল, যা মাঠে শাসকের অহঙ্কার ভেঙে মানুষের মনে জাগিয়েছে জয়ের বিশ্বাস। ময়দানের প্রাচীন প্রবাদ “মোহনবাগান জিতলে ভারত জেতে”। ১৯১১ সালের আইএফএ শিল্ড ফাইনাল তার জ্বলন্ত প্রমাণ। নগ্নপদে এগারো সবুজ-মেরুন যোদ্ধা ইংরেজদের ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে দেখিয়েছিল, সাহস থাকলে অসম্ভব কিছু নয়। সেই জয় ছিল স্বাধীনতার স্বপ্নেরই এক অগ্রদূত।
তাই ১৫ই আগস্ট এক অনন্য দিন। যেদিন দুটি আলাদা ইতিহাস যেন একই স্রোতে মিলিত হয়েছে। একদিকে ভারতের স্বাধীনতার অমর গৌরব, অন্যদিকে মোহনবাগানের জন্মের অবিনাশী অহঙ্কার। তেরঙ্গা আর সবুজ-মেরুন, পতাকা দুটি রঙে ভিন্ন হলেও হৃদয়ের স্পন্দনে অভিন্ন। পতাকা দুটি আজও পাশাপাশি উড়ে আমাদের শেখায়, জয় আসে শুধু সাহস, ঐক্য আর আত্মমর্যাদা থেকে।
আসুন, এই মহিমান্বিত দিনে আমরা মাথা নত করি সেই শহিদদের প্রতি, যারা প্রাণ দিয়ে স্বাধীনতার আলো এনেছেন; কৃতজ্ঞ হই সেই ফুটবল সৈনিকদের প্রতি, যারা মাঠে দাঁড়িয়ে আমাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছেন। এই দিন শুধু উদযাপনের নয়, কৃতজ্ঞতা ও গর্বেরও। তাই আজ হৃদয় ভরে উচ্চারণ করি — শুভ স্বাধীনতা দিবস ও শুভ মোহনবাগান প্রতিষ্ঠা দিবস।
জয় হিন্দ!🇮🇳 জয় মোহনবাগান!💚♥️
#আমরাসবুজমেরুন