16/11/2023
#ক্যাপ্টেন_শর্মা(Captain~Sharma)..INDIA, India India..... India......, ভারতবাসীর আবেগ..😶😀
বিপক্ষের ৩৯৭ রান দেখেও কেন ৭৩ বলে ৬৯, মোটেই খারাপ রান নয়। বিরাটও তাই ১১৩ বলে ১১৭। হয়তো কেন ১১৩ বল টিকলে আরও বেশি করতে পারতো। ভারতের যেমন শ্রেয়স খেলছিল, ওদের তেমনি মিচেল। জুটিটা কিন্তু ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু ওদের একটা রোহিত শর্মা ছিলনা যে শুরুতেই বোলারদের কোমর ভেঙে দিতে পারতো।
৩৬ পেরিয়ে গেছে আগেই,ক্যাপ্টেন্সি পেয়েই একের পর এক হার। এশিয়া কাপ,টি-২০ বিশ্বকাপ,WTC ফাইনাল,বাংলাদেশ সিরিজে হার। সামনেই ওয়ানডে বিশ্বকাপ তাতেও রোটেশনের পর রোটেশন। ১ টা সিরিজ খেলে তো ২ টো সিরিজ বাদ। পেট মোটা,ভুঁড়িওয়ালা আনফিট ক্যাপ্টেন। ক্যাপ্টেন'স কোটায় খেলা ব্যাটসম্যান! গত ১ বছরে সবচেয়ে বেশি ট্রল হওয়া ক্যাপ্টেন ও ক্রিকেটারই রোহিত শর্মা।
এই দলে বিরাটকে চালিয়ে খেলতে বললে এখনকার বিরাট বেশি রান করতে পারবেনা,ভারতের সবাই আগে দেখে পরে চালায়...ব্যক্তিগতভাবে মাইলস্টোন হয়তো হবে কিন্তু দলগত সাফল্য আসবে কীভাবে? অতএব আক্রমণের দায়িত্বটা এই বয়সে নিজেকেই নিতে হবে। শুরুতেই আক্রমণ আর বিপক্ষের মনোবল ভেঙে দাও। রানরেট এমন বাড়াও যাতে পরের ব্যাটসম্যান রিলাক্স হয়ে খেলে আস্তে আস্তে বিপক্ষের টুঁটি চেপে ধরতে পারে।
আর সেটা করেই ১০ ইনিংসে ৫৫০ রান,স্ট্রাইকরেট ১২৪.১৫। ৪০০ এর উপর রান করা আর কারুর স্ট্রাইকরেট ১২০ এর উপর নয়।
সেওয়াগ,২০০৩ এ ১১ ইনিংসে ২৯৯ করেছিল,স্ট্রাইকরেট ৮৬.৬৬ যা শচীনের চেয়ে কম। ২০১১ তে ৮ ইনিংসে ৩৮০ করেছিল,স্ট্রাইকরেট ১২২.৫৮। সেওয়াগের মতো নয় রোহিত নিজের মতো খেলছে যেটা এই বয়সে এসে নিজের গিয়ার চেঞ্জ করে নিজে দায়িত্ব নিয়ে আর কোন ক্যাপ্টেন করেছে বা করতে পারবে কিনা জানিনা! এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২৮ টা ৬ হয়ে গেল,১ বছরে সবচেয়ে বেশি ৬ মারার রেকর্ডও করে ফেললো। নিজের রানের চেয়ে কাপ জয়ের বাসনা প্রাধান্য পেয়েছে এবং দলের প্রত্যেকের মধ্যে সেটা ঢোকাতে পেরেছে।
আর হ্যাঁ,ওয়ানডেতে ভারতের সর্বকালের সেরা একাদশে রোহিতই শচীনের সঙ্গে ওপেন করবে।
টসের সময় জিতুক বা হারুক আত্মবিশ্বাসটাই বহুকথা বলে দেয়। কুলদীপকে ফিরিয়ে আনা, শ্রেয়সকে ব্যাক করার সুফল পাচ্ছি। অহেতুক ব্যাটিং অর্ডার চেঞ্জেও যায়নি। এখন হাতে মাত্র ৫ বোলার তাতেও যেভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করছে সেটা সহজ কাজ নয়। বাইরে থেকে ক্যাপ্টেন্সিটা সহজ লাগছে রোহিত শর্মার জন্যই। সেজন্য গত কয়েক মাস অনেক ঝড়ঝাপটা সহ্য করতে হয়েছে। আজ ড্রেসিংরুমের এই পরিবেশ, সেটার জন্য রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গেসঙ্গে রোহিত শর্মার কৃতিত্বও কম নয় কিন্তু!
গতকালের কেন-মিচেলের জুটিতে ভারতের বোলাররা যখন দিশেহারা তখনও রোহিত ডিফেন্সিভ হয়নি। একটা উইকেট চেয়েছিল শুধু। কেন আউট হতেই প্ল্যান বি অর্থাৎ রান আটকানোর প্ল্যানে যায়। ব্যাস...
আবার কুলদীপের আগের ওভারে সিরাজ মার খাচ্ছিল, কুলদীপের ওভারে ওরা আটকে যেতেই পরের ওভারে শেষ করানোর তাগিদে আর সিরাজকে আনেনি,আরও চাপ বাড়াতে বুমরাকে আনলো। আবার পাওয়ারপ্লেতে আগেই শামিকে আনলো!
এই বিশ্বকাপে কুলদীপ,শামি,রাহুলের নবজন্ম যেমন দেখলাম ঠিক তেমনি ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মারও। আর হ্যাঁ,বিশ্বকাপে এরকম ক্যাপ্টেন্সি দেখাটাও সৌভাগ্যের। আমি যতদিন খেলা দেখেছি বিশ্বকাপে একরকম পারফর্মিং ক্যাপ্টেন দেখিনি।
আপনি মানুন বা না মানুন, বিশ্বকাপ জেতার পরও হয়তো ক্যাপ্টেন রোহিতকে পাত্তা দেবেন না কিন্ত এরকম ক্লিনিক্যাল ক্যাপ্টেন্সি আপনি খুব কমই দেখেছেন।
আর মাত্র ১টা ম্যাচ, সেটা না জেতাতে পারলে সব আয়োজন ব্যর্থ হয়ে যাবে,কিন্তু বিশ্বাস করুন একটুও শঙ্কা নেই। আবার উৎসবের অপেক্ষায় থাকলাম। মাঝে মাত্র কয়েকটা ঘন্টা।
©অজিত সাহা