26/03/2025
আজ কিছু কমন এবং সর্বাধিক বিক্রিত সাপ্লিমেন্টের ব্যাপারে বিস্তারিত লিখবো। এগুলার কাজ কি, কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তার ব্যাপারে ক্লিয়ার কাট ধারনা দিবো আজ আপনাদের
১. হয়ে প্রোটিন
-------------------------------------------------
হয়ে প্রোটিন তৈরি হয় দুধের পাতলা সর থেকে। এটা কোন ম্যাজিক পাউডার না, কাজেই খাওয়ার সাথে সাথেই যে আপনার ঝাকানাকা বডি হয়ে যাবে এমন কিছু না। তবে আমরা জানি "প্রোটিন" বা আমিষ আমাদের শরীরে পেশী / মাসল তৈরি করে। কাজেই খুব ভালো এবং সহজে পরিপাকযোগ্য হওয়ার কারনে 'হয়ে প্রোটিন' একটি ভালো প্রোটিনের অপশন। অরগানিক খাবার (মাছ মাংস ডিম) এগুলা তৈরি / রান্না করার ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্যে হয়ে প্রোটিনের জুড়ি নেই; পানিতে মিশান এবং গিলে ফেলেন
খাওয়ার নিয়মঃ চাহিদা ভেদে ১ থেকে ৩ বারও খাওয়া যাবে প্রতিদিন। যাদের বাজেট কম তারা শুধু এক্সারসাইজের পর এক স্কুপ খাবেন (দুধ বা পানিতে মিশিয়ে)। যাদের বাজেট ভালো তারা ব্রেকফাস্টে একবার, জিমের পর একবার। যাদের বাজেট ফাটাফাটি তারা ব্রেকফাস্ট, জিমের পর এবং ঘুমানোর আগে একবার।
২. মাস গেইনার
-------------------------------------------------
মাস গেইনার শুধুমাত্র চিকনদের প্রডাক্ট। নারী পুরুষ উভয়ের জন্যেই কার্যকর। মেয়েদের জন্যে একটু বেশীই কার্যকর! এটি প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাটের একটি ভালো মিশ্রণ, ৩টি জিনিসই শরীর বড় করতে কার্যকর
মাস গেইনার ব্যবহার করবেন যারা আন্ডার ওয়েইট, শরীর একেবারেই চিকন, তারা। এটা খেলে শরীরের ফ্যাটও আসবে, কাজেই আপনার পেটও বড় হবে। আপনি যদি পেট ছোট রাখতে চান তাহলে রেগুলার এক্সারসাইজ চালিয়ে যাবেন। চিকন মানুষদের পেট নিয়ে চিন্তা করলে হবেনা। আগে শরীর বড় করতে হবে, ওজন বাড়াতে হবে, তারপর পেট কমানোর চিন্তা আসবে।
মাস গেইনার কমপক্ষে ২ বার ব্যবহার করতেই হবে, দরকার হলে ৩ বার, কিন্তু কখনোই ১ বার না। ১ বারে কোন উপকার হবেনা। খাওয়ার ভালো সময় হলো দিনের এমন একটা টাইমে খাওয়া যখন খাওয়া দাওয়ায় একটা লম্বা গ্যাপ আপনার যাচ্ছে, যেমন ধরলাম আপনি লাঞ্চ করেছেন দুপুর ২টায়, এবং তার পরের মিলটা নিলেন সন্ধ্যা ৭টায়। তাহলে ১ স্কুপ মাস গেইনার আপনি খাবেন এই ৫ ঘন্টার মাঝামাঝি টাইমে। এবং আরেক স্কুপ খাবেন ঘুমানর সময়
৩. ক্রিয়েটিন
-------------------------------------------------
ক্রিয়েটিন সবচেয়ে সস্তা সাপ্লিমেন্ট (অন্যগুলার সাথে তুলনা করলে)। ক্রিয়েটিন মাসল গেইনে সাহায্য করে, তবে ডাইরেক্টলি না! প্রোটিন ডাইরেক্ট মাসল তৈরি করে, কিন্তু ক্রিয়েটিন করে অন্যভাবে, যেমন
- আপনার শক্তির লেভেল অনেক বাড়িয়ে দেয়। শক্তি বাড়লে আপনি ভারী ওয়েইট তুলতে পারবেন, ভারী ওয়েইট তুললে মাসল গেইনের হার বেড়ে যাবে (ব্রেইনের কাছে সিগনাল পৌঁছাবে)
- আপনার শরীরের টিস্যুগুলোতে পানি ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়। কাজেই টিস্যুর আকৃতি বাড়ে, শরীরের সাইজ বাড়ে
- IGF-1 হরমোন উৎপাদন বাড়ায়, যে হরমোন আমাদের মাসল বাড়াতে সাহায্য করে
ক্রিয়েটিনের সেইফ লেভেল হলো দৈনিক ৫ গ্রাম। আপনার শরীর নিজে নিজে প্রতিদিন ১ গ্রাম ক্রিয়েটিন তৈরি করে, কাজেই আপনি আরো ৪ গ্রাম নিতে পারবেন। আমি বলবো ৩ গ্রাম নেন, সেইফ লেভেলেরো নিচে থাকুন।
ক্রিয়েটিন কোন প্রি বা পোস্ট ওয়ার্কআউট সাপ্লিমেন্ট না। এটা দৈনিক সেইম টাইমে (প্রতি ২৪ ঘন্টায়) ৩ গ্রাম নিলেই হবে। ব্রেকফাস্টের সাথেই নিয়ে নিবেন
আশা করি আপনাদের অনেক কিছু জানাতে পেরেছি। আমার কোন তথ্যে ভুল থাকলে বা অন্য কিছু এড করার থাকলে কমেন্টে জানাবেন। আর এই ৩টি ব্র্যান্ড নিতে চাইলে আমাকে ইনবক্স করতে পারবেন। ধন্যবাদ!
- Shudipto Shaheen Choudhury