06/05/2026
ষাটের দশক পর্যন্ত আমাদের সিলেটের খেলাধুলার প্রাণকেন্দ্র ছিল আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ। এরপর ১৯৬৫ সালে তৈরি হলো সিলেট জেলা স্টেডিয়াম—যা একসময় ছিল সিলেট সরকারি পাইলট স্কুলের খেলার মাঠ। সেই ১৯৬৫ সাল থেকে এই মাঠে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ভলিবল, বাস্কেটবল লীগের মতো সব খেলা নিয়মিত হয়ে আসছিল। নব্বইয়ের দশকে যুক্ত হলো ক্রিকেট ইনডোর ফ্যাসিলিটি, আর জিমনেশিয়াম তো ছিল আগে থেকেই। সব মিলিয়ে খেলার চমৎকার একটা ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ ছিল এখানে।
এই মাঠের ঘাসে মিশে আছে কত স্মৃতি, কত ইতিহাস! এখানে সিলেটের স্থানীয় কিংবদন্তিদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ফুটবল খেলে গেছেন কায়সার হামিদ, রেহান বা সাব্বিরদের মতো দেশসেরা ফুটবলাররা। ক্রিকেটে স্থানীয় তারকাদের সঙ্গে ব্যাট-বলের লড়াইয়ে নেমেছেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা, সামারাসেকারা, ফার্নান্ডো, অশোকার মতো আন্তর্জাতিক লিজেন্ডরা; খেলেছেন আতহার আলী, লিপু, সুজন, সাকিব ও আশরাফুলরা। হকিতে মাঠ মাতিয়েছেন জুম্মন লুসাই, মিজান কিংবা ডনডন লুসাইদের মতো তারকারা।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই মাঠ বিভিন্ন সময়ে আবাহনীসহ ঢাকার প্রিমিয়ার লীগের বিভিন্ন ক্লাবকে বরাদ্দ দেওয়া শুরু হয়। আর সেখান থেকেই শুরু হলো আমাদের সিলেটের স্থানীয় খেলার ছন্দপতন! যে মাঠে খেলে আমরা খেলোয়াড় হয়েছি, বড় হয়েছি, সেই নিজেদের মাঠেই ঢুকতে আমাদের স্থানীয় খেলোয়াড়দের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। নিজের চেনা মাঠে ঢুকতে না পারার যে কী নিদারুণ কষ্ট, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
আমরা অবশ্যই চাই সিলেটে আন্তর্জাতিক ফুটবল আরও জোরেশোরে আসুক, আমরা এতে আনন্দিত ও গর্বিত। কিন্তু তাই বলে আমাদের ঐতিহ্যবাহী জেলা স্টেডিয়াম দীর্ঘ ২২ বছরের জন্য ফুটবলের কাছে বরাদ্দ হয়ে যাবে? তাহলে আমাদের স্থানীয় খেলাধুলা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
স্থানীয় খেলাধুলার জন্য কোনো বিকল্প মাঠের ব্যবস্থা না করে এভাবে ঢালাওভাবে স্টেডিয়াম বরাদ্দ দেওয়া একটি চরম হঠকারী সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (NSC) চাইলেই তো সব আধুনিক সুবিধাসহ নতুন স্টেডিয়াম তৈরি করতে পারে। তা না করে এভাবে ঐতিহ্যবাহী জেলা স্টেডিয়ামকে এককভাবে আটকে রাখা সিলেটের সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনকে ধ্বংস করার এক পরিকল্পিত নীলনকশা ছাড়া আর কী হতে পারে? সিলেটের ক্রীড়াসংশ্লিষ্টরা ইতিপূর্বে এ নিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয় এর কাছে আবেদন দিয়েছেন, কিন্তু মনে হচ্ছেনা তাতে কোনো কাজ হয়েছে।
আমরা যারা ক্লাব চালাই, পকেট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে খেলোয়াড় তৈরি করি এবং যে খেলোয়াড়রা বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে এই মাঠে নিয়মিত খেলে—আমাদের কি কোনো মূল্য নেই? এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যেন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হলো যে, সিলেটের স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও খেলোয়াড়দের কোনো কদর নেই। এই অন্যায্য সিদ্ধান্তে সিলেটের ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মানুষ আজ গভীরভাবে ব্যথিত, ক্ষুব্ধ ও হতাশ।
আমাদের স্পষ্ট দাবি: যদি মাঠ নিতেই হয়, তবে আমাদের ফুটবল, ক্রিকেট, হকি সব খেলার জন্য আলাদা আলাদা মাঠের ব্যবস্থা করে দিন। নতুবা পরিষ্কার করে বলে দিন যে সিলেটে স্থানীয় খেলাধুলার কোনো প্রয়োজন নেই!
সিলেটের ক্রীড়া ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে অবিলম্বে এই হঠকারী সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক। আমরা আমাদের চেনা মাঠ, আমাদের খেলার পরিবেশ ফেরত চাই।
#সিলেট_জেলা_স্টেডিয়াম #ক্রীড়াঙ্গন_বাঁচাও #সিলেট_ক্রীড়া_ঐতিহ্য
Cricket Talks - ক্রিকেটের কথা Sylhet Division Cricket Team
© Ali Wasiquzzaman Chowdhury sir