08/03/2020
বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত তিনজন রোগী পাওয়া গেছে।
না, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কেউ ভয় পাবেন না। ভয় পাওয়া একেবারেই অমূলক এখানে। কারন করোনা আক্রান্তদের ৯৮%ই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বিভিন্ন দেশে। নিচে যেভাবে বলছি সেভাবে করবেন, তাতে ইনশাআল্লাহ সবাই সেফ থাকতে পারবেন:
১. রাস্তায় যদি একান্তই বের হওয়া লাগে, তাহলে হাতে লিকুইড সাবান রাখবেন৷ তাও না হলে নরমাল সাবানই একটা কৌটায় নিয়ে ঘুরবেন। রাস্তায় যেখানে পানি পাবেন সেখানেই হাত ধুয়ে নিবেন। ভাল হয় হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখলে। হাতে মাস্ক রাখবেন, ফার্মেসির দোকানে মাস্ক না পেলে নিজেরা পরিস্কার কাপড় দিয়ে বানিয়ে নেবেন।
২. এগুলো করবেন তখনই, যখন রাস্তায় বের হবেন। কিন্তু রাস্তায় বের হওয়াটা কি দরকার? কোনভাবেই দরকার নেই। ছেলেপেলের স্কুল থাকলে স্কুল অফ রাখুন। অফিস থাকলে অফিস বন্ধ রাখুন। কারন করোনা সংক্রামক রোগ, তাই সব ধরনের পাবলিক প্লেস এড়িয়ে চলতে হবে। আর খাবারদাবার উচ্চ তাপে দীর্ঘসময় ভাল করে রান্না করে খাবেন।
৩. আর করোনার লক্ষন সাধারন সর্দির মতই। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট- এসবই। বেশি খারাপ হলে (২% রোগীর ক্ষেত্রে) নিউমোনিয়া- এমনকি কিডনী ফেইলিউরও হতে পারে।
এসব লক্ষন ধরা পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চলুন। কারন করোনার লক্ষন প্রকাশ পেতে ২ থেকে ১৪ দিন লাগতে পারে। যেহেতু সংক্রামক রোগ, অতএব যত দ্রুত হাসপাতালে নেয়া যায় ততই ভাল।
৪. অনেকে ডাক্তার দেখানোর বদলে ফার্মেসী থেকে বিভিন্ন রকমের ওষুধ কিনে আনতে চাইতে পারেন। খবরদার, এ কাজ করবেন না। ফার্মেসীর লোকজন ওষুধ বিক্রি করেন মাত্র। তারা ডাক্তার নন। আপনি সোজা হাসপাতালে যাবেন। সেখানকার ডাক্তার নার্স সবাই প্রফেশনাল, এবং তারাও চান যাতে রোগ না ছড়ায়। কারন যত ছড়াবে, তত পেশেন্ট বাড়বে, তত তাদের ভোগান্তি। অতএব তারা নিজেরাই পেশেন্টদের সিরিয়াসভাবে ডিল করবেন।
৫. বয়স্ক লোকজনের দিকে বিশেষভাবে নজর রাখবেন। বিভিন্ন দেশে মৃত্যুহার তাদের মধ্যেই বেশি। তাদেরকে ঘরের বাইরে বের হতে দেয়াই যাবে না। কোনভাবেই না। বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও একই কথা।
৬. যদি মানুষের সন্তান হয়ে থাকেন, তবে করোনা মহামারীকে কেন্দ্র করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর চেষ্টাও করবেন না, সাবধান।
পরিশেষে আবারও বলি, করোনা একেবারেই নিরীহ একটি রোগ। ২০১৪তে আফ্রিকায় ছড়ানো ইবোলা মহামারী এর চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ ছিল, মৃত্যুহারও অনেক বেশি ছিল। সেই ইবোলা মহামারী যদি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়, তবে করোনা সে তুলনায় কিছুই না।
অতএব, অনর্থক ভয় পাবেন না।
শুধু আপনার একটু সচেতনতা, একটু সতর্কতাই যথেষ্ট এই বিশ্বব্যাপী বিপর্যয়কে মোকাবেলার জন্য।
পোস্টটার কার্টেসি চাইছি না। এটা কপি পেস্ট করে নিজের টাইমলাইনে দিন, ইনবক্সে ছড়িয়ে দিন, বিভিন্ন গ্রুপে গ্রুপে ছড়িয়ে দিন। পোস্টটা পড়ে পরিবারের সদস্যদের শোনান। যদি পোস্টার বানিয়ে দেয়ালে দেয়ালে সাঁটাতে হয়, তবে তাও করুন।
সবার জন্য শুভকামনা।