30/06/2024
“চোকার্স”
আশরাফ রেজা
বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রায় প্রতিবারই দুর্দান্ত দল নিয়ে অসাধারণ ক্রিকেট উপহার দিয়ে সেমি-ফাইনাল গিয়ে হতাশ করেছে তারা। ১৯৯২, ১৯৯৯, ২০০৭, ২০১৫, ২০২৩-বিশ্বকাপ মঞ্চে দক্ষিণ আফ্রিকার গল্পগুলো ছিল স্রেফ হৃদয়ভাঙার এবং কষ্টেরও বটে।
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর ১৯৯২ সালে বৃষ্টি আইনের অদ্ভুত নিয়মে ফাইনালে যেতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেমিতে হারেনি তারা, ম্যাচটা নাটকীয়ভাবে হয়েছিল টাই। তবে সুপার সিক্সে জেতার সুবাদে এগিয়ে থাকায় ফাইনালে উঠে যায় অজিরা। ২০০৩ সালে নিজেদের দেশের বিশ্বকাপেও বৃষ্টি তাদের নকআউট পর্বে যেতে দেইনি, তবে সেবার হিসাব নিকাশ নিজেরাই ভুল করে বসে শন পোলকের দল। ২০০৭ বিশ্বকাপের সেমিতে দুর্ধর্ষ অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হতে হয়েছিল। ২০১৫ বিশ্বকাপের সেমিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে উইন উইন সিচুয়েশনে বাঘে-সিংহে লড়াই করে হেরে যাবার আক্ষেপ। ২০২৩ বিশ্বকাপেও দুর্ধর্ষ অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হতে হয়েছিল।
এবার ২০২৪ এর কথা বলছি,
এতগুলো হতাশার গল্প যাদের পেছনে তাদের ফাইনালে ম্যাচেও ভয় তাড়া করাই স্বাভাবিক। আর সেই ভয়টায় সত্যি হল। আরও একবার “চোকার্স” তকমাটা দক্ষিণ আফ্রিকার নামের সাথে যুক্ত হল। এই বিশ্বকাপের উইকেট নিয়ে প্রচুর সমালোচনা থাকলেও ফাইনাল ম্যাচের উইকেটটি ছিল একটি আদর্শ টি-টোয়েন্টি উইকেট। দুদলের জন্যই ছিল সমান সুযোগ, যে কারণে ম্যাচটিও হয়ে উঠেছিল উপভোগ্য। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আবারও একটা অপ্রত্যাশিত হার দিয়ে শেষ হল তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা।
১৯৯০ সাল থেকে ক্রিকেট খেলি এবং দেখি। একজন ক্রিকেট খেলোয়ার হতে পারিনি কিন্তু ক্রিকেট খেলাটা মোটামুটি বুঝি এবং একজন নিয়মিত দর্শকও বটে। বাংলাদেশ দলের পরেই ওদের দলে একজন সাপোর্টার আমি। এর আগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে হারার পর সিমপ্যাথি দেখানোর মত অনেক লজিকাল কারণ খুঁজে পাচ্ছিলাম। কিন্তু গতকালকের ম্যাচে ওদের প্রতি সিমপ্যাথি দেখানোর একটাও লজিকাল কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছি না, ওরা যদি ভারতের সাথে পাত্তা না পেয়েও হেরে যেত তাহলেও সিমপ্যাথি দেখানোর সুযোগ থাকত। ভারতের কেন পৃথিবীর বাইরের যে কোন এলিয়েন এসে বল করলেও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৩০ বলে ৩০ রান ২৪ বলে ২৬ রান ১৮ বলে ২২ রান করতে পারবে না আধুনিক ক্রিকেটে এটাও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে?
পিচের অবস্থা খারাপ থাকলেও মানতে পারতাম আফ্রিকা ট্রফি জেতেনি এটা নিয়ে আক্ষেপ নেই। শুধু ভাবছি, কি একটা অদ্ভুত ম্যাচের সাক্ষী হলাম, নিজের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না যে সাউথ আফ্রিকা ম্যাচটা হেরেছে, তবুও বিশ্বাস করতে হবে এটাই সবচেয়ে পরিতাপের বিষয়। যতদিন ক্রিকেট খেলা দেখব ওদের ক্ষতটা আমাকেও বয়ে বেরাতে হবে আরেকটি স্বপ্নের ফাইনাল জয়ের অপেক্ষায়।
ভারত যোগ্য দল হিসেবেই বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এতটা চাপের মুখেও নিজেদের লড়াকু মনোভাব ও আত্ববিশ্বাস ধরে রেখে তাদের মানসিক শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। ভারতকে অভিনন্দন।