10/04/2018
যাদের আন্দোলনকে অস্ত্রকরে রাজাকারদের শাস্তি দিলেন আজ তাদেরকেই রাজাকারের বাচ্চা বলছেন?
ধীক্কার আজ আপনাদের কে।
আপনারা বলছেন আমাদের ছাত্রদের নাকি লজ্জা থাকা উচিত?
আরে লজ্জাতো আপনাদের থাকা উচিত।
আপনারা আজ রাজপথে নায্য অধিকারে নামা ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লেলিয়ে দিলেন।
তাহলে আপনারা কি ১৯৫২ এর একুশে ফেব্রুয়ারীর পুনরাবৃত্তি করলেন না।
আজ তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান সরকার আর আপনাদের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? আপনারা দুই সরকারইতো একই আচরণ প্রদর্শন করলেন।
কোটা পদ্ধতি একটি পিছিয়ে থাকা জনসমষ্টিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু আজ তো আমাদের দেশের মুক্তযোদ্ধারা পিছিয়ে নেই। তাদেরকে তো সরকার থেকে সাহায্য করা হচ্ছে। তাদের সন্তানদের সরকার সুবিধা দিচ্ছে কই তাতে তো আমরা আপত্তি করি নি। তাহলে তাদের নাতি-নাতিনের জন্য কোটা কেন দরকার?
এত কিছু পাওয়ার পরও যদি তাদের কোটা লাগে তাহলে আমরাতো কিছুই পেলাম না। আর আপনারা এমন লোকদের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দিচ্ছেন যাদের মধ্যে অর্ধেকেই মুক্তিযোদ্ধা না।
আজ হাজারও মুক্তিযোদ্ধা আছে যারা আমাদের সরকারের ভাতা পায়না, আজ অনেক মুক্তিযোদ্ধা হকারি করে, দিন মজুরের কাজ করে, অনেকে আবার পেটের দায়ে ভিক্ষাও করে। ভাতা পায় ছাত্রলীগ বা আওয়ামীলীগ কর্মীদের পরিবার। তারাই নাকি মুক্তিযোদ্ধা ছিল। আর তাদের সন্তানদের নাকি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দিতে হবে এবং তাদের নাতি-নাতিনিদের নাকি দিতে হবে। এও যে মুক্তিযোদ্ধা ভক্তি দেখাচ্ছেন কই তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকুও সমানভাবে সব মুক্তিযোদ্ধার কাছে পৌছায় দিতে পারলেন না। এখানেও রাজনীতি টানলেন।
যে দেশের মোট জনসংখ্যা ১% আদিবাসী, সে দেশে আদিবাসী কোঠা নাকি ৩-৫%।
আপনারা বলেন নারী পুরুষ সমান অধিকার, তাহলে মেয়েদের ৫% কোটা কেন?
আর যারা নিরুপায় প্রতিবন্ধী তাদেরকে কিনা দেওয়া হচ্ছে ১%.
তারপরতো জেলা কোটা, পোশ্য কোটা ইত্যাদি আছেই।
ভাই তাহলে আমারা কোথায় যাবো। আপনারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে নিয়োগ দিচ্ছেন এই কোটার উপর ভিত্তি করে, যেখানে কিনা মেধার উপর নিয়োগ দেওয়ার কথা?
যার ফলাফল দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। আপনি যেই মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানকে চাকুরী দিচ্ছেন তারাই আজ চাকুরী করতে এসে দুর্নীতি করছে, যা আমাদের দেশকে চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করছে।
আপনারা ৫ টা জেলার ঐতিহ্যবাহী নাম পরিবর্তন করতে সময় নেন ১ দিন, ১ দিনে সংবিধানকে পরিবর্তন করেন, ভীন দেশ থেকে ভেশে আশা রহিঙ্গাদেরকে কোন ভবিষ্যৎ এর কথা না ভেবেই তৎক্ষনাক আশ্রয় দেন। তাহলে আমরা ছাত্ররা যারা আজ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখি, তাদের ভবিষ্যৎ ও এই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ণয়ের সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে ১ মাস। হাসাইলেন এমন কথা বলে...
মজা করার জায়গা পান না। ছাত্রলীগ, পুলিশকে লেলিয়ে দেন ন্যায়ের পথে আন্দোলনকারী ছাত্রদের পিছনে।
যে সংবাদকর্মীরা আমাদের দেশে একটা মশাকে মারলে সেটাকে লাইভ কাভারেজ কর, তিলকে তালে পরিনত করে তারাও আজ পিছিয়ে আছেন। আমাদের আপত্তী নেই আপনাদের না আসলেও চলবে।
আজকের সাংবাদিক, ছাত্রলীগকর্মী, পুলিশ ও অনান্য পেশাজীবীরা যারা আজ আমাদেরকে সাপোর্ট করছেন না, তারা একটা জিনিস ভুলে যাইয়েন না আজ কিন্তু আপনি আমাদেরকে না আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎকে সার্পোট করেছেন না। আজ যদি আমরা সফল না হই তাহলে একদিন আপনাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও এই রাজপথে আসতে হবে, আর তখন কি পারবেন আমদের মত তাদের সাথে হওয়া অন্যায়গুলো মেনে নিতে?
আসুন সবাই সঙ্ঘবদ্ধ হই।
সবাই মিলে রুখে দাড়াই এই প্রথার বিরুদ্ধে।
আর একসাথে সবাই আওয়াজ তুলি
"বঙ্গবন্ধুর বাংলায়,
বৈষ্যমের ঠাই নাই"
#কোটার_সংস্কার_চাই
ভালো লাগলে শেয়ার করুন।