06/01/2019
আবারও পেছাচ্ছে প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল!
এর আগে দু’দফা পিছিয়ে পেশাদার লীগ ফুটবল শুরু হওয়ার কথা ১৮ই জানুয়ারির। গোপন খবর হলো জানুয়ারিতেও মাঠে গড়াচ্ছে না পেশাদার লীগ ফুটবলের ১১তম আসর। গত বৃহস্পতিবার ভেন্যু অপ্রস্তুতের কথা জানিয়ে লীগ পেছানোর দাবি করে কয়েকটি ক্লাব। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে) এতে সম্মতি জানিয়ে বলেছে ক্লাবগুলোর সঙ্গে সভা করে সবাই রাজি থাকলে লীগ পেছাতে তাদের আপত্তি নেই। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পেশাদার লীগ কমিটির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম মুর্শেদী এমপি।
ক্লাবগুলোর কাছে সব সময়েই নতজানু বাফুফে। কাজী সালাউদ্দিনের প্যানেল তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এলেও সেই গতানুগতিক পথেই চলছে। বর্ষপঞ্জি দিয়ে তার অর্ধেকও মানতে পারছে না। যার সর্বশেষ আঁচড় পড়তে যাচ্ছে প্রিমিয়ার ফুটবল লীগেও।
গেল বছরের নভেম্বরে লীগ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের জন্য তা পিছিয়ে ১৮ই জানুয়ারি করা হয়। এরই ফাঁকে মাঠে গড়ানো হয় স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। কিন্তু জানা গেছে, ক্লাবগুলোর ‘অসন্তোষের’ কারণে ফের পেছানো হতে পারে প্রিমিয়ার লীগ। বিপিএল-এ এর আগে সর্বোচ্চ পাঁচটি ভেন্যুতে খেলা হলেও এবারই সর্বাধিক আটটি ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রিমিয়ার লীগের ১৩ ক্লাব এই ভেন্যুগুলোকে ভাগ করে নিয়েছে। আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ ও সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব ময়মনসিংহ স্টেডিয়ামকে এবং ঢাকা আবাহনী লিমিটেড, মোহামেডান স্পোর্টিং ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামকে নিজেদের হোম ভেন্যু হিসেবে নিয়েছে। এছাড়া কমলাপুরস্থ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামকে রহমতগঞ্জ ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন, গোপালগঞ্জের শেখ মণি স্টেডিয়ামকে শেখ রাসেল ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র, নীলফামারী স্টেডিয়ামকে বসুন্ধরা কিংস, নোয়াখালী স্টেডিয়ামকে নোফেল স্পোর্টিং ক্লাব, চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামকে চট্টগ্রাম আবাহনী এবং রাজশাহী স্টেডিয়ামকে টিম বিজেএমসি নিজেদের হোম ভেন্যু নির্ধারণ করেছে। আর বিকল্প ভেন্যু হিসেবে রাখা হয়েছে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামকে। জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনসহ বেশকিছু কারণে ব্যবহূত হওয়ায় ঢাকার বাইরের ভেন্যুগুলো ম্যাচ খেলার উপযোগিতা হারিয়েছে। কিন্তু বিষয়টিকে আমলে না নিয়ে জানুয়ারির ১৮ তারিখকে ঠিক রেখে লীগের খসড়া ফিকশ্চার ক্লাবগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাফুফে। ভেন্যু সংস্কার না করে ক্লাবগুলোর সঙ্গে বৈঠক না করে ফিকশ্চারের খসড়া তৈরি করা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন ক্লাব কর্মকর্তা। নোফেল স্পোর্টিং ক্লাবের ম্যানেজার সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহিন বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে সভা ছাড়া কেন ফিকশ্চার দেয়া হয়েছে, তা মোটেই ঠিক হয়নি বাফুফের। এটাতো আর পাইওনিয়ার লীগ নয় যে, যা খুশি তাই করবে। ঢাকার বাইরের বেশকিছু মাঠ এখনো খেলার উপযোগী হয়নি। বাফুফে মাঠ ঠিক করতে পারেনি। আজ থেকে নাকি তারা কাজ শুরু করবে। আমার জানা মতে, মাঠ প্রস্তুত করতে ১৫/২০ দিন সময় লাগবে। তাই ১৮ জানুয়ারি নয়, আমাদের দাবি ছিল ১লা ফেব্রুয়ারি লীগের খেলা শুরু করা হোক। বিষয়টি উল্লেখ করে বাফুফের কাছে চিঠি দিয়েছি আমরা।’ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘গত ২৩শে ডিসেম্বর আমি গোপালগঞ্জে গিয়েছিলাম। শেখ মণি স্টেডিয়াম এখনো প্রিমিয়ার লীগের জন্য উপযোগী নয়। তাছাড়া আমাদের ক্লাবগুলোর অংশগ্রহণমানি কত হবে, তাও জানানো হয়নি।’ ক্লাবগুলোর এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘আসলে কেবল ঢাকায় নয়, বাইরেও খেলা হবে। আর ঢাকার বাইরের কিছু মাঠ বিভিন্ন কাজে ব্যবহূত হয়েছে। তাই লীগের জন্য প্রস্তুত নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে যদি ক্লাবগুলো দাবি যৌক্তিক হয়, তাহলে লীগ পেছাতেও পারে। তবে সব ঠিক করা হবে ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করার পর।’