08/01/2026
🚨 শীতের চাদরে রিতু-আলপিদের ফুটবল ম্যাজিক!
ঘন কুয়াশা-কনকনে ঠান্ডা, তীব্র শীতে নাজেহাল অবস্থা জনজীবনে। ফলে, শীতের ছুটির অধিকাংশ সময়টাই কেটে যাচ্ছে, কম্বলের নিচে বসে নেটফ্লিক্স,আমাজন প্রাইম আর ইউরোপের ফুটবল দেখে।
তবে ডিজিটাল স্কিনে তাকিয়ে থাকতে আর কত সময় ভালো লাগে! হঠাৎ করেই ইচ্ছে হলো মাঠে বসে ফুটবল দেখার। কিন্তু বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে চলচ্ছে লীগ বিরতি, জাতীয় দলের ম্যাচও নেই মার্চের আগে। তবে, মাঠে চলছে নারী ফুটবল লীগ। ভাবলাম আপাতত মেয়েদের ফুটবল দেখেই মাঠে বসে খেলা দেখার ইচ্ছে পূরণ করি। বাফুফের পেজ থেকে বুধবারের সূচি বের করে দেখলাম একদিনেই আছে ৫ ম্যাচ। চিন্তা করলাম দিনের
শেষ দুটি ম্যাচ দেখবো।
বিকেলে এক বন্ধুকে নিয়ে হাজির হলাম কমলাপুরে। তবে স্টেডিয়ামের সামনে গিয়ে হতাশই হতে হলো। মাঠের বাইরে নারী লীগের নাম মাত্র ২-৪ টা পোস্টার টাঙিয়েছে বাফুফে। নেই কোনো আইকন ফুটবলারদের নিয়ে তৈরী করা ব্যানার। তবে প্রচার প্রচারণার জন্য রিতু পর্না, মনিকা চাকমা, আফেইদা খন্দকারদের ফেইস ভ্যালু ব্যবহার করা যেতো। তবে বাফুফে হয়তো এই বিষয়ে চিন্তাও করেনি অথবা করলেও পরিশ্রমের ভয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।
মাঠে প্রবেশের জন্য একটি গেইট খোলা রেখেছে বাফুফে, নেই কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা- বিনা টিকেটই প্রবেশ করা যায় ভিতরে। মাঠে প্রবেশ করে দেখলাম বড়জোর ১০০-১৫০ দর্শক ঢাকা রেঞ্জার্স বনাম সিরাজ সংঘের ম্যাচ দেখছে। যেহেতু ঢাকা বিভাগের দল ম্যাচ খেলছে, তাই কমলাপুরের মাঠে দর্শক গ্যালারি পরিপূর্ণ করা যেত বাফুফে প্রচারের কাজটা ঠিকঠাকভাবে করতে পারলে।
মাঠে বসে বাদাম- ঝালমুড়ি খেতে খেতে খেলা দেখাটা অবশ্য খারাপ লাগলোনা। কেউ কেউ আবার ঠান্ডার রেশ কাটাতে রং চা কিনো খেলো।
বিকেলের ম্যাচে ঢাকা রেঞ্জার্স জিতলো ৭৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে পাওয়া একমাত্র গোলে। পরবর্তী ম্যাচ শুরু হতে বাকি আরো ৩০ মিনিট, ভাবলাম বাইরে থেকে ঘুরে আসি যেহেতু মাঠে প্রবেশ করতে কোনো টিকিট এর ঝামেলা নেই।
রাতের ম্যাচে মুখোমুখি শক্তিশালী রাজশাহী ও বিকেএসপি। রাজশাহীতে তারকার ছড়াছড়ি - রিতু, রুপনা, আফেইদা,রিপা, শিউলি আজিমদের দেখতে ভিড় কিছুটা বাড়তে শুরু করলো। বিকেলের ম্যাচ দর্শক ১৫০ এর কাছাকাছি হলেও রাতের ম্যাচে সংখ্যাটা ২৫০-৩০০ ছাড়ালো।রাতের বেলা, ঘন কুয়াশাই মাঠের একপাশের খেলা বোঝা মুশকিল হয়ে পড়ে।কুয়াশার জন্য গোলরক্ষক রুপনা চাকমাকে এক পর্যায়ে আর খুজেই পাওয়া যাচ্ছিল না।তবে ঘন কুয়াশা- ঠান্ডা বাতাসের মাঝেও প্রিয় তারকাদের খেলা দেখতে বসে রইলো সমর্থকরা।
কিন্তু ফ্লাডলাইটের আলো নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেল সবার মাঝে। কমলাপুরের ৪ টা ফ্লাডলাইট টাওয়ারের তিনটিরই অধিকাংশ বাতি নষ্ট।তাই ম্যাচ হলো নিবু নিবু আলোতে।
আবার জায়ান্ট স্কিনটাও অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে ম্যাচ টাইমার নেই। একজন দর্শক এসে আমাকে ম্যাচ টাইম জিজ্ঞাসা করলে, তাকে টাইম জানাতে ইউটিউব লাইভ থেকে সময় দেখতে হলো।
অন্যদিকে রাজশাহীর ম্যাচের প্রমার্ধ ছিল মেড়মেড়ে। বিকেএসপি অফসাইড ট্রপে পড়ায় মাঠ থেকে এক দর্শক চিৎকার করে উঠলো মেয়েদের ফুটবল আবার কীসের অফসাইড!
মাঠের খেলা না জমলেও গ্যালারির একপাশ জমিয়ে তুললেন এক চাচা। শুরু করলেন ঢাকার ফুটবলের সেই সূদিনের গল্প। যেখানে গুলিস্তান মাঠে ফুটবল মানেই ছিল দর্শক ভর্তি গ্যালারি আর পাগলাটে পরিবেশ। তার গল্প শুনে ভালো লাগলো আবার মনের কোণে আক্ষেপ ও জমলো- কেনো আজ ঘরোয়া ফুটবলে দর্শক নেই!
সেকেন্ড হাফের খেলা রাজশাহী জমিয়ে তুললো। একে একে আসলো ৩ গোল। আগেই ১ গোল করা আলপি পূরণ করলো হ্যাট্রিক। ম্যাচের পর বললেন :
আমি যেহেতু বয়সভিত্তিকে খেলি এবং এবার এক দলে শিউলি আপু, ঋতু আপুদের (ঋতুপর্ণা চাকমা) সঙ্গে খেলছি, আশা ছিল ওনাদের সামনে ভাল কিছু করব। সেই আশা এবারই প্রথম পূর্ণ হলো ক্লাব ফুটবলে। অনেক ভাল লাগছে তাঁদের সঙ্গে খেলতে পেরে এবং গোল করতে পেরে।'
বাফুফে অবব্যবস্থাপনা আর অবহেলার মাঝেই লীগ চালাচ্ছে, তবুও মাঠে অন্তত মেয়েদের ফুটবল হচ্ছে এটা ভেবে মনের মাঝে কিছুটা প্রশান্তি নিয়ে বাসায় ফিরলাম।