08/07/2024
ফুটবল! অনেক আবেগের একটা জায়গা।
১৯৯৮ র বিশ্বকাপ।সেজো চাচা বিশাল একটা আর্জেন্টিনার পতাকার লাগালো আমাদের বাড়ির সবচেয়ে উঁচু গাছটায়।সেটা মোটামুটি ৩ কিলো দূর থেকে দেখা যেতো।চাচার মুখেই ম্যারাডোনা, আয়ালা,বাতিস্তুতা এনাদের নাম শুনতাম।সেই একটা দল। ম্যারাডোনা নাকি ফুটবল জাদুকর।বাচ্চা মানুষ।কিছু বুঝতাম না।যতটুকু মনে পড়ে ঐ বিশ্বকাপে জিদান হেডে গোল দিছলো।ন্যাড়া মাথার জিদান কেই মনে আছে।২০০২ এর বিশ্বকাপ তো ব্রাজিল পেলো।যারা ঐ সময় ব্রাজিল সাপোর্টারস আমাদের বয়সী,তারা তো আকাশের চাঁদ পেলো।ক্লাশ ফাইভে পড়ি তখন মনে হয়।ঐ বিশ্বকাপ অতটা মনে দাগ কাটে নি।
২০০৬ এর বিশ্বকাপ।একটু বড় হলাম।চোখের সামনে ব্রাজিল সাপোর্টারস দের টাটকা একটা বিশ্বকাপ + সবমিলিয়ে ৫ বিশ্বকাপ। আর আমরা যারা উঠতি বয়সী কিন্তু আর্জেন্টাইন সাপোর্টারস, আমাদের সামনে চাচাদের মুখে শোনা জাদুকর ম্যারাডোনার গল্প আর পিচ্চি লম্বা চুলের মেসি নামের একটা ছেলে, তাও মেসির খেলা তখনও শুরু হয় নি।অভিষেক হবে।পত্রিকায় জানতে পারলাম। ব্রাজিল সাপোর্টারস রা মাছি মাছি বলতো শুধু 😢
খেলা শুরু হলো। ডাগআউটে লম্বা চুলের পিচ্চি মেসি। আর মাঠে রিকোয়লমি,তেভেজ,মারচেরানো।যে ম্যাচে বিদায় নিলো আর্জেন্টিনা, সেই ম্যাচে বদলি নেমেছিলো মেসি । সেই একঝলক দৌড় মেসির। আজও চোখে ভাসে।ট্রাইবেকার এ বিদায় আর্জেন্টিনার।২০০৬ এর সেই মেসি। আমাদের আর্জেন্টাইনদের স্বপ্নসারথির পথ চলা শুরু।
২০০৭,২০০৮,২০০৯ মেসি ময় দুনিয়া।গ্রামে ছিলাম।খেলা দেখা হয় নি।পত্রিকায় খুঁজে খুঁজে জাদুকর এর খোঁজ নিতাম।
২০১০ কলেজে ভর্তি।মেসে উঠলাম। পত্রিকা খুলেই মেসির জয় জয়কার।২০১০ বিশ্বকাপ। আবারও আশা ভঙ্গ আর্জেন্টাইনদের।২০১১। ভার্সিটি গেলাম।২০১১,২০১২,২০১৩,২০১৪ ভার্সিটি, টিভিরুম,আমার ডিগ্রি আর মেসিময় ফুটবল।কি দুর্দান্ত সময়গুলো। বিশ্বকাপ আসলেই ব্রাজিলীয় সাপোর্টারস দের সেই খোঁচা।আর কবে কাপ পাবি তোরা?! 🙂
২০১৪ তে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ চলেও এসেছিলো।আবার সেই আশাহত,হৃদয় ভেঙে ছারখার।শেষ মুহূর্তের গোলে মেসি, আর্জেন্টিনার শিরোপা জেতা হলো না,আমাদের আর বিশ্বকাপ দেখা হয় না।
কি এক ভালোবাসা, কি এক নিখাদ ভালোবাসা, কি অপরূপ ভালোবাসা, যেটাতে এখনও কোন বিনিময় হয় নি,কাপ জেতা হয় নি,কিন্তু সেই ভালোবাসা কমে নি এতটুকুও।
বিশ্বাস করেন, ২০১৪ তে ফাইনাল হেরে গিয়েও আমার কাছে মনে হয়েছিলো ২০০৬ এর পিচ্চি মেসির সব পাওয়া হয়ে গিয়েছে। আমি তৃপ্ত ছিলাম। আর্জেন্টিনার ফাইনাল দেখেছি, মেসির ফাইনাল দেখেছি।আর কিছু না হলেও আর্জেন্টিনা হৃদয়ে আজন্ম ভালোবাসা পেয়ে যাবে।
২০১৮ তে তো সবাই আর্জেন্টিনা,মেসির শেষ দেখে ফেললো। আমাদের নাকি কাপ দেখা হবে না।আশা হারাই নি।ভালোবাসা কমে নি।মেসি পরিপূর্ণ হচ্ছে দিন দিন। আমার কাছে মেসি অলরেডি গোট।
২০২২ বিশ্বকাপ।মেসি ফিরে এলো পুরনো রুপে।সবাই সাক্ষী।
এবার আর হতাশার গল্প নয়।আশাহত যোদ্ধার গল্প নয়।এবার আর্জেন্টাইন ভক্তদের হৃদয় পোড়া ছাই থেকে ফিনিক্স পাখি হয়ে ফিরে এলো লিওনেল মেসি। অধরা বিশ্বকাপ লুটিয়ে পড়লো মেসির পায়ে ♥।
বিশ্বকাপ না দেখেও একটা দল, একটা মানুষকে এই যে ভালোবাসা, এটা না একদিনের না। শত শত রাত্রি জেগে এই মানুষটাতে ভরসা এসেছে। দমে যায় নি এই মানুষটি,দমে যাই নি আমরা।
এই যে ২০২৪। কোপা আমেরিকা চলছে।বিশ্বাস করেন,মেসি খেলবে কি খেলবে না,এতটুকুন আক্ষেপ নাই,প্রত্যাশা নাই।মেসি যে পেনাল্টি মিস করলো,এতটুকু খারাপ লাগে নি, বিশ্বাস করেন।কারণ, মনে হয়েছে,মেসি মিস করেছে, মার্টিনেজ রা সবাই মিলে এটা পুষিয়ে দিবে। এই বিশ্বাস ছিলো,আছে,থাকবে।
লিওনেল মেসি, আমার শৈশব এর শেষে যার শুরু, আমার জীবনের পূর্ণতায় মেসিও আজ পরিপূর্ণ।
শুধু আমি না, কোটি কোটি আর্জেন্টাইনদের সবার ই এই একই গল্প।
মেসি ২০২৪ এ ও মাঠে খেলছে,হেলে দুলে হাঁটছে। সতীর্থটা পিঠ চাপড়ে দিচ্ছে, এটা দেখার চেয়ে সুখকর আর কি হতে পারে,আপনিই বলেন?
siam
Follow Mr Anonymous