02/04/2024
২০১৪ সাল; মানে আজ থেকে দশ বছর আগে আমাদের টীম থান্ডারবোল্টসের পথচলার শুরুটা কিভাবে হয়েছিলো সেটা একটু শেয়ার করি সবার সাথে!
আমাদের টীম থান্ডারবোল্টসের ফাউন্ডিং মেম্বার কিংবা খুঁটি যেটাই বলি না কেনো, সবারই খেলাধুলার প্রতি, সাংগঠনিক ক্রিয়া কর্মকান্ডের প্রতি বরাবরই একটা ঝোঁক ছিলো। সেই ঝোঁকের মাথায়ই একদিন হুট করে মুন্সিগন্জের অন্যতম সেরা ক্রিকেট টূর্নামেন্ট এমপিএলে দল রেখে দেয় তারা। তখনকার সময় বিবেচনায় কাজটা মোটেও সহজ ছিলো না। সদ্য এইচএসসি পাস করা কয়েকজন কৈশোর, যারা তখনো ভার্সিটি জীবনে পা ফেলেনি; শূন্য পকেটে বেশীরভাগ সময় ঘুরে বেড়ায়। এই তারাই কিভাবে কিভাবে যেনো মিলিয়ে প্রায় দশ থেকে এগারো হাজার টাকা জোগাড় করে ফেলে দল চালানোর জন্য। যে সময়ের কথা বলছি তখন প্রায় তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো টাকায় এক কেজি গরুর মাংশ পাওয়া যেতো! সেসময় টূর্নামেন্টের এন্ট্রি ফি, কমিটিকে খেলোয়ারদের অতিরিক্ত মূল্যের উপর ভ্যাট পরিশোধ(!), খেলাধুলার সামগ্রী কেনা, খেলোয়ারদের যাতায়াত ভাড়া দেয়া , টুকটাক হাত খরচের টাকা দেয়া আর প্রতি খেলা শেষে সব খেলোয়ারদের জন্য খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা_এসব কিছুর খরচগুলো তারা বন্ধুরা মিলে ব্যবস্থা করে ফেলেছিলো কিভাবে যেনো! কেউ টিউশনির টাকা দিয়ে, কেউ বাসার বাজারের পয়সা মেরে, কেউবা নিজের জমানো সন্চয় থেকে, এভাবেই জোগাড় হয়েছিলো টীম থান্ডারবোল্টসের প্রথম টূর্নামেন্টের খরচগুলো। এরসাথে ছিলো অন্যান্য বন্ধুদের মাঠ ও মাঠের বাইরের সাপোর্ট। ক্রিকেট না খেলা বন্ধুটিও দলের জন্য ফিল্ডিংয়ে নেমে যাওয়া, স্বগৌরবে দলকে সাপোর্ট করা, তপ্ত গরমে খেলোয়ারদের কষ্টের কথা চিন্তা করে বাসা থেকে ৫-৭ লিটার ঠান্ডা পানির বোতল বহন করে নিয়ে আসা, প্রতিটা ক্রিকেট কিংবা ফুটবল ম্যাচের দিন সবার আগে মাঠে উপস্থিত হয়ে দলকে চাঙ্গা করে রাখার দায়িত্ব নেয়া; টীমের প্রতি একেকজনের এরকম দায়বদ্ধতা কিংবা ভালোবাসার জোরেই আজকে দশ বছর পরও আমরা টীকে আছি আজ পর্যন্ত আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছি এখনো!
মাঝে করোনাকালীন সময়ের তিনটা বছর (২০২০-২০২২) বাদ দিলে বাকি প্রায় সবগুলো বছরেই আমাদের দল এলাকাভিত্তিক কিংবা এলাকার বাইরের প্রায় সব রকম ছোটো-বড় টূর্নামেন্টেই অংশগ্রহন করে আসার চেষ্টা করছে, ইনশাল্লাহ আগামীতেও এই ধারা অব্যহত থাকবে!
এটা একটি এপ্রিসিয়েশন পোস্ট! টীম থান্ডারবোল্টসের দশ বছরের এই পথচলা বলি কিংবা টিকে থাকাই বলি, এর পেছনে যাদের সময়, শ্রম আর অর্থনৈতিক অবদান রয়েছে তারা জানুক তাদেরকে তাদের দলটাও সমানভাবে ভালোবাসে!
রিফাত, বাপ্পি, ওমর, শুভ, বাঈজিদ, রানা, শিমুল দিজ গাইজ ডিজার্ভ এ বিগ ক্ল্যাপ 👏। টীম থান্ডারবোল্টসের প্রানভোমরা বলি কিংবা খুঁটি, যা আছে এরাই আছে এবং ইনশাল্লাহ এরাই থাকবে! এবং এরসাথে গত দশ বছর ধরে যারা আমাদের মাঠ ও মাঠের বাইরে থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সাপোর্ট দিয়ে আসছেন তাদের প্রতি রইলো চিরকৃতজ্ঞতা ও অভিবাদন।
একটা প্রবাদ আছে, ‘দু:সময়ে টিকে থাকাটা অনেকক্ষেত্রে জয়ের সমান!’ আমাদের টীম থান্ডারবোল্টস গত দশটা বছর ধরে এভাবেই টিকে আছে আর ইনশাল্লাহ আগামীতেও থাকবে।
সুদিন আসবেই!