14/03/2023
বাংলাদেশ সেদিন জিতল কোথায়?
এমন নয় যে, পাওয়ারপ্লেতে ৫০-এর বেশি সংগ্রহ বাংলাদেশ এর আগে তোলেনি। এমনকি ‘বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে স্কোর’-এর তালিকায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তোলা ৫৪ রানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না শীর্ষ ১৫-তেও। বাংলাদেশ ম্যাচটা কোথায় জিতল বললে আমার উত্তর তাই হবে, মূলতঃ মাঝের ওভারগুলোতে, আরও নির্দিষ্ট করে ৭-১০ নম্বর ওভারে।
পাওয়ারপ্লে শেষ, পাঁচজন ফিল্ডার ছড়িয়ে পড়েছেন সীমানাদড়ি ঘেঁষে – ইনিংসের সপ্তম ওভারটা দেখে খেলার ট্রেন্ড মানে প্রায় পুরো দুনিয়াই। সাত নম্বর ওভারটাকে তাই তুলনা করা যেতে পারে ফুটবলের আক্রমণ থেকে রক্ষণ বা রক্ষণ থেকে আক্রমণে বদলানোর মুহূর্তের সঙ্গে, ইংরেজিতে যাকে বলা হচ্ছে ‘ট্রাঞ্জিশনাল ফেজ’। বাংলাদেশ এই সমস্যায় ফেঁসে যেত আরও বেশি। পাওয়ারপ্লের দুরন্ত সূচনা হুমড়ি খেয়ে পড়ত ফিল্ডিং বাধ্যবাধকতা উঠে যাওয়ার পরে। ম্যাচটা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত ইনিংসের এ পর্যায়েই।
পরশুদিনও ম্যাচের সপ্তম ওভারেই খেই হারাল একটা দল, তবে দলটার নাম বাংলাদেশ নয়। মার্ক উডের টানা চার বল সীমানাছাড়া করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। স্মার্ট স্ট্যাটস অনুযায়ী, ম্যাচের ভাগ্যে সবচেয়ে বড় রদবদলটা ওই ওভারেই হয়েছিল। ছয় বলের মধ্যে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা বেড়েছিল ১৪.৫২ শতাংশ।
পরের তিন ওভারে তৌহিদ হৃদয় আর শান্ত মিলে তুলেছেন আরও ২৭ রান। সব মিলিয়ে, ৭-১০ নম্বর ওভারে বিনা উইকেটে বাংলাদেশ তুলেছে ৪৪ রান। এই ওভারগুলোতে বাংলাদেশের ইতিহাসেই এর চেয়ে বেশি রান তোলার তোলার উদাহরণ পাওয়া যাচ্ছে আর দু’টি।
কেউ কেউ প্রশ্ন করেছেন, বাংলাদেশ একটা মাত্র ম্যাচ জিতেছে, এ নিয়ে এত উল্লাস করার কী আছে? ভাই, এই জয়ের তাৎপর্যটা আসলে শুধুই একটা ম্যাচ জয় ছাপিয়ে অনেক বড়। এই জয়টা আমাদের উদযাপন করতে হবে, কারণ, বাংলাদেশ সেদিন যেভাবে খেলল, সেভাবে বড় দলগুলোই খেলে।
টি-টোয়েন্টিটাও আসলে এভাবেই খেলে।
(বাংলাদেশের সেদিনের ম্যাচ জয় নিয়ে বিস্তারিত লিখেছি রোর বাংলায়। লিংক কমেন্টে।)