17/03/2025
১৫ বছর বয়সে হামজা প্রেম করা শুরু করে। ১৭ বছর বয়সে মেয়েকে বিয়ের প্রোপোজ করে। কিন্তু মেয়ে ভিন্নধর্মী আর হামজা প্রাকটিসিং মুসলমান। হামজা তারা বাবাকে জানালো, বাবায় কইলো 'মেয়েকে নিয়ে আসো, আমি কথা বলি'।
বাবার সাথে মেয়ের কথা বলার পর, হামজার বাবা মেয়েকে কইলো, ধর্ম চেঞ্জ করতে হবে। মেয়ে প্রথমে ইতস্তত বোধ করলেও ভালোবাসার জন্যে চেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। তবে পরিবারকে কিছু না জানিয়ে। মেয়েরও বয়সও তখন ১৮ পার হয় নাই!
হামজার বাবা লেস্টারের সেন্ট্রাল মস্কে নিয়ে মেয়েকে ধর্মান্তরিত করে নগদে বিয়ে দিয়ে দেয়। হামজা তখনো এস্টাবলিশ কোনো ফুটবলার না। বয়স তার তখনো ১৮। এরপর টাকা কামাতে শুরু করে। সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসে। হামজার তিনটি সন্তান রয়েছে। বয়স তার ২৭। মেয়েও এখন প্রাকটিসিং মুসলমান। রোজা রাখে। নিজের সন্তানদের কোরআন শেখায় হামজা। নামাজও পড়ে। ছেলেমেয়েদেরও হামজা নিজের পরিবারের পরিচয়ে বড় করছে। সবার নামের সাথে 'দেওয়ান' আছে।
মেয়ের পরিবারও সময়ের সাথে সাথে বিষয় টা মেনে নেয়। হামজা এখন একটা সত্যিকারের সুখী লাইফ লিড করছে। এইটা লেখার কারণ হইলো, আপনারা উপরের গল্পটা আজ, কাল বা এই কয়েকদিন প্রচুর শুনবেন। বাংলাদেশের ভিউ ব্যবসায়ী মিডিয়ারা এটা রসিয়ে গলিয়ে প্রচার করবে।
কিন্তু তারা বলবে না, হামজা যেই লোক বিশ্বের শীর্ষ লীগের ক্লাবের প্লেয়ার। যে মাসে কোটি টাকার উপরে আয় করে। যার একটা সুখী ফ্যামিলি আছে। তিন তিনটা সন্তান আছে। বাবা-মা সবাই আছে। নতুন ক্লাবে নিয়মিত ফুটবল খেলতাসে। যারা আবার আছে টপ অফ দ্যা টেবিলে। যার জীবনে বাংলাদেশের মতো বিশ্ব ফুটবল র্যাংকিয়ের ১৮৫ নাম্বার দেশে খেলার কোনো প্রয়োজনীয়তাই নাই, তাও সে এসেছে! শুধু এদেশের মানুষের ভালোবাসার জন্যে।
সে বাংলাদেশের হয়ে খেললে খুব একটা টাকা পয়সা পাবে না। তার ক্যারিয়ারে নতুন কিছু এড হবে না। তাও সে এসেছে এদেশে। যে দেশে নিজের লাইফের নিরাপত্তাও কতটা আছে, আমরা এদেশের মানুষই ডাউট করি। তাও সে এসেছে। তার এই ত্যাগ এটা আমাদের হাইলাইট করতে হবে।
সে গতকাল ইংল্যান্ডের ৩° সেলসিয়াসে পুরো ৯০ মিনিট খেলে বাংলাদেশের পথে রওনা দিয়ে আজ সিলেটে অবস্থান করছে। সেখানে তাপমাত্রা ৩০° নিচে থাকবে না। তো আমরা হামজার কোন দিকটা নিয়ে আলোচনা করবো, এটা এখন আমাদের ডিসিশন। তার ত্যাগ, তার ভালোবাসা, তার সরলতা.. না তার ব্রিটিশ ওয়াইফ, বিয়ে, প্রেম ইত্যাদি নিয়ে।
সবকিছু এখন আমাদের উপরে...
©️ - Mohammad Nadim