16/07/2026
কাতালুনিয়ার স্থানীয় সংবাদপত্র ডিয়ারিও স্পোর্ট (Diario Sport) এবং ইউনিসেফ (UNICEF) যৌথভাবে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডার তৈরির জন্য বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রতি বছর এই ফটোশুটের আয়োজন করত。 ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ল্যামিন ইয়ামালের পরিবার যে এলাকায় থাকত, সেখানে ইউনিসেফ একটি লটারি বা র্যাফেল ড্র-এর আয়োজন করে。 ইয়ামালের বাবা-মা নিতান্তই ভাগ্যের জোরে সেই লটারিতে বিজয়ী হন এবং ক্যাম্প ন্যুতে এসে বার্সেলোনা ফুটবলারের সাথে ছবি তোলার সুযোগ পান।
ফটোশুটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট (Joan Monfort) জানান যে, মেসি ও ইয়ামালের জোড়টি সম্পূর্ণ দৈবচয়ন বা লটারির মাধ্যমে ঠিক হয়েছিল। তখনকার ২০ বছর বয়সী উদীয়মান তারকা লিওনেল মেসি স্বভাবগতভাবে অত্যন্ত লাজুক ও অন্তর্মুখী ছিলেন। ড্রেসিংরুমে এসে যখন তিনি দেখেন একটি প্লাস্টিকের টবে পানি ভরা এবং সেখানে ৫-৬ মাসের একটি শিশু রাখা, তখন তিনি বেশ ঘাবড়ে যান। মনফোর্টের মতে, শুরুতে মেসি বুঝতেই পারছিলেন না শিশুটিকে কীভাবে কোলে নেবেন বা কীভাবে তার সাথে মেলামেশা করবেন。 পরবর্তীতে ইয়ামালের মা শিলা ইবানা (Sheila Ebana) মেসিকে সাহায্য করেন, যার ফলে ছবিটি নিখুঁতভাবে তোলা সম্ভব হয়।
ক্যালেন্ডার প্রকাশের পর ছবিটি দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল। ইয়ামালের পরিবার সচেতনভাবেই ছবিটিকে ব্যক্তিগত রেখেছিল, যেন ইয়ামালকে ছোটবেলা থেকেই মেসির সাথে তুলনায় পড়ার বাড়তি মানসিক চাপ নিতে না হয়। ২০২৪ সালের ইউরো কাপে যখন ১৬ বছর বয়সী ইয়ামাল একের পর এক রেকর্ড ভেঙে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেন, তখন তার বাবা মুনির নাসরাউই (Mounir Nasraoui) ইনস্টাগ্রামে ছবিটি শেয়ার করে ক্যাপশন দেন: "দুই কিংবদন্তির পথচলার শুরু"। মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়।