Farjana Akter jebu

  • Home
  • Farjana Akter jebu

Farjana Akter jebu ----- গল্প উপন্যাস মানি শুধু কল্পনা নয়,,,
গল্প মানি মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা,,
সুপ্ত অনুভূতি...😥😐

20/05/2026

#আঁখিরন্ধ্র_প্রেম #লেখিকা_ফারজানা_আক্তার_জেবু #উপন্যাস

"এই পর্বটা পড়তে সবাই একটু সাবধানে পড়বেন। এই পর্বে সম্পূর্ণ কাল্পনিক কিছু নৃশংস খুনের বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাই যারা পড়বেন ...
14/05/2026

"এই পর্বটা পড়তে সবাই একটু সাবধানে পড়বেন। এই পর্বে সম্পূর্ণ কাল্পনিক কিছু নৃশংস খুনের বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাই যারা পড়বেন একটু সাহস সংশয় করে পড়বেন।

#আঁখিরন্ধ্র_প্রেম
#লেখিকা_ফারজানা_আক্তার_জেবু
#সকলপর্ব
অনুমতি ছাড়া কপি বা পোস্ট করা সম্পূর্ণ নিষেধ। ❌

যাদের গল্পটা ভালো লাগবে তারা পারলে শেয়ার করে দিও। আর সম্পূর্ণ গল্পের লিংক এই পেইজে দেওয়া হবে। আশা করি সবাই পাশে থাকবেন।

------------------
#আঁখিরন্ধ্র_প্রেম
#লেখিকা_ফারজানা_আক্তার_জেবু
#পর্ব৪২

_ কেকের চাইতো তোমার এই ঠোঁটের
টেস্ট মারাত্মক পিঙ্কলিপস।
"আই লাইক ইউর লিপ্স'

আঁখি লজ্জায় মাথা আবার নুড়ে নেয়। শান্ত পকেট থেকে একটা লকেট বের করলো,
উদ্ভুত সুন্দর রক্তিম হৃদপিন্ড আকৃতির একটা লকেট। অক্সিডাইজেন রুপার চেইনে ঝুলানো ব্লাডহার্ট-টা দূর থেকে এক সুক্ষ হৃদয়ের মত অপুর্ব সুন্দর দেখাচ্চে।

শান্ত আঁখিকে এক হাতে পিচনে ঘুরিয়ে ঘাড় থেকে চুল গুলো একপাশে সরিয়ে দিল। শান্তর আঙ্গুলের ঠান্ডা স্পর্শে আঁখির শিড়দাঁড়া দিয়ে এক শীতল স্রোত বয়ে গেল। শান্ত খুব ধীরলয়ে আঁখির গলায় লকেটি পড়িয়ে দিল। সুক্ষ এই হৃদ আকৃতি পাথরটি আঁখি ফর্সা হলুদেটে শরীরের গলার ঠিক মাঝখানে এসে স্থীর হলো।
তারপর আঁখির কানে ফিসফিস করে বলে,
_ হার্ট টু হার্ট।
"তোমার হৃদয় এখন আমার কাছে বন্দী। কেউ চাইলেও তোমাকে আমার কাছ থেকে আলাদা করতে পারবে না, তুমিও না। বিকজ "তুমি শুধু আমার'। শুধুই আমার।

আঁখি ঘুরে শান্ত চোখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকায়। শান্তর গভীর ধূসর বাদামি চোখ জোড়ার দিকে। তার এই ছোট্ট জীবনে সব থেকে বড় ও দামি উপহার হচ্চে এই মানুষটা। আল্লাহ তাকে না চাইতো এমন একজন মানুষকে তার জীবনে পাঠিয়েছেন। যে মানুষটার কোনো তুলনা হয় না।

_আঁখি হঠ্যৎ পায়ের পাতায় ভর দিয়ে দুই হাতে শান্তর গলা জড়িয়ে ধরে। শান্তর চোখে চোখ রেখে বলে,
_ ঝড়ের মত হুট করে যেমন আমার জীবনে এসেছেন। ঠিক তেমনি হুট করে আমার শান্ত হৃদয়টাকে আপনার জন্য উতলা করে তুলেছেন। আপনার ওই চোখের দৃষ্টি এত গভীর ছিল যে আপনার চোখের ভাষা আঁখিরন্ধ্রের মত আমার অন্তরকে ছিদ্র করে তীব্র প্রেম জাগিয়ে তুলেছে । আমার মস্তিষ্কে আপনি এমন ভাবে গেঁথে গেছেন সেটা উপেক্ষা করা আমার সাধ্য নেই ।
জানি না কবে কখন আমার এই মন আপনার জন্য এতটা পাগল হয়ে গেছে। আপনি আমার অভ্যসে পরিণত হয়েছেন। আপনাকে এই চোখে না দেখতে পেলে আমার তৃষ্ণা মিটে না। আপনার গায়ের গন্ধ না পেলে আমার শান্তিতে ঘুম আছে না। বিশ্বাস করুন আপনাকে ছাড়া আমি আর কিচ্ছু ভাবতে চাই না। আমি শুধু আপনাকে চাই। জানি না কবে কখন....

বলে আঁখি থেমে যায়। শান্ত এতক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে আঁখির কথা শুনছিল। না আঁখিকে বাঁধা দিয়েছে আর না আঁখিকে নিজে জড়িয়ে ধরেছে। আঁখিকে থেমে যেতে দেখে শান্ত বলে,
_ কবে কখন কি হার্টবিট....?

আঁখি জ্বিব দিয়ে অধর জোড়া ভিজিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,
_আ,আমি, আ,আপনাক,ভা,ভালোবেসে ফেলেছ।

__আঁখির কথাটা বলতে দেরি হলো কিন্ত শান্ত তার কোমর শক্ত করে চেপে ধরে তার ঠোঁটর মাঝে ঠোঁট ডুবাতে দেরি হয়নি। আচমকা একমন আক্রমণে আঁখি বেশ ঘাবড়ে যায়। আচমকা ঠোঁট বন্দি হয়ে যাওয়াতে নিঃশ্বাস আটকে এলো। শান্ত এত জোরে চেপে ধরে চুমু দিচ্চে যে আঁখির চোখ উল্টে এলো। আঁখি দুই হাতে শান্তকে ঢেলে সরাতে চায় কিন্তু পারে না। শান্তু নিজের মত কে বেশ কিছুক্ষণ আঁখির ঠোঁটে নিজের রাজত্ব চালিয়ে যায়।

_ আবারও সেই পাগলামি। শান্ত এমন হুটহাট চুমু দেওয়া আঁখি বেশ বিরক্ত হয়। এই লোক হুটহাট কাছে আসা ছাড়া আর কিছু পারে না। হুট করে কাছে এসে এই ভাবে চুমু দিবে আর নয়তো কোলে তুলে নিবে। কি একটা অবস্থা। এই লোকে নিয়ে সারাজীবন কি ভাবে কাটাবে। অসভ্য লোক একটা। যখণ তখন গায়ে পড়ে।

শান্ত চুমু দিতে দিতে যখনই ঠোঁটে ননতা স্বাদ অনুভব করে তখনই আঁখির ঠোঁট ছেড়ে দেয়।
ব্যথায় আঁখির ঠোঁট টনটন করছে। অশ্রুশিক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে শান্তর দিকে। শান্তর ঠোঁটে প্রশান্তির হাসি। সে আজ বিষণ খুশি ফাইনালি তার সান-ফ্লাওয়ার তাকে ভালোবাসি বলেছে। শান্ত দুই হাতে আঁখি মুখ নিয়ে তার কপালে চুমু দিয়ে নেশাতুর কন্ঠে বলে,

_ ইউ আর মাই হার্ট,ইয়েস লিটেল কুইন, ইউ আর মাই হার্ট,মাই এডিকশন,মাই এভ্রিথিং।

_ "তুমি ছাড়া নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হয় আমার। তুমি ছাড়া এক সেকেন্ডও আমার কাছে মৃত্যুর যন্ত্রণার মত কষ্টে দায়ক মনে হয়"।
বলো সান-ফ্লাওয়ার কখনও ছেড়ে যাবে না আমাকে। আমার কাছে থাকবে। বলো।

_ শান্তর প্রতিটা কথা আঁখিকে থমকে দেয় স্তব্ধ করে দেয় আঁখি হৃদয়ের ধুকপুকানি। এই লোক তাকে ভালেবাসে তার পরেও একটা বার মুখে বলতে পারে না। আঁখির চোখ বেয়ে নোনাজল গড়িয়ে পড়ে। বুকের কোথাও একটা সুখ সুখ অনুভূতি হচ্চে।
শান্ত আরো একটা চুমু দেয় আঁখির ভেজা চোখের পাতায়। আঁখির চোখ থেকে সব পানি চুষে নিয়ে হিসহিসিয়ে বলে,

_ বলেছি না আমার সামনে কাঁদবি না। তোর এই হলুদিয়া চোখে এক ফোঁটা পানিও আমার সয্য হয় না,আমার বুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। মস্তিষ্কে রক্ত চলে আছে।
এ,এই চোখের দৃষ্টি কেবল আমার দিকে তাকিয়ে হাসবে। আমার দেওয়া সুখের যন্ত্রনায় কাঁদবে। প্রয়োজনে আমি আমার আদর দিয়ে সেই পানি মুছে দিব। তারপরেও তুই কাঁদবি না। বল কাঁদাবি না

শান্তর কথায় শাঁড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছে বলে,
_ ক,কাঁদবো না, আর কাঁদবো না।

শান্তর পাশের গিটার রাখা ছিল সে সেটা নিয়ে বাজাতে শুরু করে আর গলায় সুর তুলে,

_তোকে বলবো ভাবি কিছু অল্প কথা

_তুই স্বপ্নে ছিলি ছিলি গল্পকথায়.....

_আজ তোর নামে রাত নামে দিন কেটে জায়

_আমার মন তোর পাড়ায়.......

_এসেছে তোর আশকারায়,

শান্ত আঁখির চারিপাশে ঘুরে ঘুরে গান গায় আর আঁখি মুগ্ধ হয়ে শান্তর গান গাওয়া দেখছে। মানুষটার সত্যি তুলো না হয় না। এত সুন্দর গানের গলা। আমি যত বার শুনি ততবার প্রেমে পড়ি উনার গানের।

(বর্তমান)

_ হঠাৎ মাথায় পানি পড়ায় আঁখি ভাবনার জগৎ ছিড়ে বেরিয়ে আসে। আর সামনে তাকাতেই দেখে মেঘা পানির জগ হাতে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মেঘাকে এমন কান্ড দেখে আঁখি চোখ বড় বড় করে চেঁচিয়ে উঠলে,
_ মেঘাপু তুমি এটা তুমি কি করলে। আমাকে পুরো ভিজিয়ে দিলে।

মেঘা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে পানির জগটা শব্দ করে টেবিলে রেখে কপট রাগ দেখিয়ে বলে,
_ আমি তোকে দশ মিনিট দরে ডেকে জাচ্চি তুই কোন ইতিহাসে ডুবে ছিলি বলতো।

মেঘার কথা শুনে আঁখি গায়ের পানি জারতে জারতে বলে,
_ আরে না, আমি কেন ইতিহাস ডুবতে যাবো। নিজের ইতিহাস নিয়েই তীরে উঠতে পারছি না আবার অন্য ইতিহাসে ডুববো হে।

মেঘা আঁখির দিকে ব্রু কুঁচকে বলে,
_বা-বা তোর আবার কিসের ইতিহাস।

আঁখি কথা ঘুরিয়ে বলে,
_ আরে তেমন কিছু না এমনি বললাম। কি বলবে বল?

মেঘা আঁখির হাতে এতে একটা প্যাকেট দিয়ে বলে,
_ এই নে দর তোর হাবিজাবি জিনিস।

প্যাকেট-টা আঁখির চোখ খুশিতে ছিকছিক করে উঠে, উদ্বেগ্ন কন্ঠে বলে,
_ সব এনেছো তো,আপু কিছু মিস হয়নি তো।

মেঘা যেতে যেতে বলে,
_ হ্যাঁ হ্যাঁ সব আছে কিন্তু অল্প অল্প তুই দেখেনে। আমি ফ্রেশ হতে যাচ্চি।

এই বলে মেঘা বেরিয়ে যায় আর আঁখি প্যাকেটা খুলে তার সব জিনিস গুলোতে একবার চোখ বুলিয়ে নেয়। খুশিতে জ্বিবে পানি জল চলে আছে, আসলে আজকে আঁখি কলেজে যায়নি। তাই সকালে মেঘা ভার্সিটিতে যাওয়ার সময় একটা লিস্ট দিয়ে আহ্লাদি কন্ঠ বলে,
_ মেঘাপু আসার সময় আমার জন্য কিছু জিনিস আনবে।
মেঘা বোনের আহ্লাদী গলায় বলা কথাতেই হেসে বলে,
_ ওমা আনবো না কেন। কি আনতে হবে বল আপু কে।

আঁখি কাচুমাচু করে হাতের মুঠোয় থেকে লিস্ট-টা বের করে দেয়। লিস্টের লেখা দেখে মেঘার চোখ কপালে,
এই খানে চিপস,আচার,ওয়াটার জুস,চকলেট, মিলে অনেক গুলো আয়েটেম লিখা আছে । কিছুদিন আগে এই মেয়ের পেট ব্যাথায় কাতরাচ্চিল। নির্ঝর ভাইয়া পরিক্ষা-নিরিক্ষা করে জানিয়েছে, আজেবাজে খাওয়ার কারনে গ্যাস জমেছে পেটে। এখন থেকে ১ মাস ওকে বাইরের খাবার খেতে নিষেধ করেছে। কিন্তু ১৫ দিন না যেতে এই মেয়ে এতগুলো আয়েটেম ধরিয়ে দিয়েছে। মেঘা চোখ গরম করে বলে,
_ এই সব কি আঁখি, তোকে না ভাইয়া নিষেধ করেছে বাইরের খাবার খেতে। তাহলে এই সব কি?

আঁখি এবার কাঁদো কাঁদো ফেস করে বলে,
_ প্লিজ আপু আমি এক সাথে খাবো না, রেখে রেখে খাবো প্লিজ মেঘাপু তুমি নিয়ে এসো।
মেঘা আনতে পারবে না বলে, চলে যায়।
কিন্তু এখন ঠিকিই নিয়ে এসেছে। কিন্তু একটু কম কম করেছে যাই হোক এনেছে তো তাতেই খুশি। আঁখি জিনিস গুলো এক পাশে রেখে একটা চকলেটের প্যাকেট নিয়ে বাচ্চাদের মত সেটা খেতে সুরু করে।
আঁখি এত বড় হয়েছে অথচ এখনও বাচ্চাদের মত চকলেট খাওয়া ছাড়তে পারে না। সব সময় নির্ঝর আর মেঘা তার জন্য চকলেট নিয়ে আসছতো। আর ও তৃপ্তিসহ খেত। চকলেট খেতে খেতে আঁখি দিন দুনিয়ার সব কিছু ভুলে বেশ আয়েশি ভঙ্গিতে বসে বসে খাচ্ছে।

------------------

(সুইজারল্যান্ড)

জঙ্গলের মাঝ বরাবর একটা তিনতালার বিল্ডিং দাড়িয়ে আছে। বিল্ডিংটার রং যেমন বাইয়ে থেকে কালো কুচকুচে ঠিক তেমনই ভিতরেরে পরিবেশ অন্ধকার নিস্তব্ধে মোড়ানো। বাড়িটা প্রতিটা দেওয়াল সাউন্ড প্রুভ। তাই ভিতরে কি চলে সেটা বাইরে থেকে দেখার বা শুনার কোনে উপক্রম নেই। এই বাড়িটা বেজমেন্টে নামে পরিচিত।

_ একটা অন্ধকার রুমে হাত, পা,আর মুখ বেঁধে দুইজন লোক-কে পেলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ ১১ মাস এই অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়েছে তাদের। আলো বিহীন রুমে বন্দি থেকে তারা তাদের মৃত্যুর প্রহর গুনছে । কি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। কেমন পরিণতি হবে তাদের সেই নিয়ে অন্তর আত্না কাঁপছে প্রতিনিয়ত। তখনই অন্ধকার রুমের দরজা খুলে দুজনের অবয় ভিতরে আসে। একজন পায়ের উপর পা তুলে বসে চেয়ারে। আর অন্যজন সোজা হয়ে দাঁড়ায় চেয়ারের পাশে।

-হাত পা বাঁধা লোক গুলো তাকিয়ে থাকে সেই অবয়ের দিকে। হঠাৎ অন্ধকার রুমটাতে সাদা আলো জ্বলে উঠে। আর স্পষ্ট মুখোমুখি হয় চারটা চিনা-পরিচিত মুখের।
হাত পা বাঁধা অস্থায় পড়ে আছে আর্থার সেন ও তার ছেলে সায়ান সেন। আর তাদের বাপ ছেলের মুখেমুখি চেয়ারে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে। কামিনী শেখ তার পাশে আজম।

_ আর্থার সেন কামিনী শেখ কে দেখে বিস্মোয় চোখ বড় বড় হয়ে যায়। তিনি ভাবতেও পারেন নি তাদের এই ভাবে থানা থেকে তুলে আনার পিচনে কামিনী শেখের হাত রয়েছে। তিনি ভেবেছিলেন কামিনী শেখ মরে গেছে। তার লোকেরা মেরে দিয়েছে। অথচ এই মহিলা প্রথমে লোকাপে ভরলো তারপর কৌশলে আবার সেইখান থেকেই কিডনাপ করালো। এই মহিলা দেখছি সত্যি সত্যি মাস্টারমাইন্ড। তার মানি কি সে এই মহিলাকে চিনতে ভুল করেছে। সায়ন নিবু নিবু চোখে তাকায় তার বাবার দিকে। দীর্ঘ ১১ মাসের টর্চারে বাপ ছেলের শরীরে সব হাড়গোড় প্রায় ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম। শরীরের খত স্থান গুলোতে রক্ত শুকিয়ে জমাট বেঁধে গেছে। এই ১১ মাসে তিনদিন পরপর করে তাদের উপর আঘাত করা হতো,৩ মিনিট করে কারেন্টের শক্ট দেওয়া হতো। সারাদিনে দুইবার করে শুধু পানি খেতে দেওয়া হতো আর দুই দিন পরপর খাবার দেওয়া হতো। শুধু বেঁচে থাকার জন্য। আর্থার সেন কামিনী শেখ কে বহু কষ্টে বলে,
_ তার মানি আপনি আমাদের তুলে এনেছেন।

কামিনী শেখ ঠোঁটে এক পাশে পিচিল হাসলে, ভেংঙ্গ করে বলে,
_ আপনাকে দেখে আমার খুব আফসোস হচ্চে মি.সেন । আহারে এত পাওয়াফুল একজন মানুষের এই কি অবস্থা। বলো তো আজম।

আজাম নিঃশব্দে হাসে। তার এই মহিলাকে প্রথম প্রথম খুব ভয় করতো। কিন্তু এনার সাথে থাকতে থাকতে নিজের মনটাকে পাথর করতে হয়েছে। কারণ তার চোখে এই মহিলার মত এমন ঠান্ডা মাথার ডিঞ্জেরস আর ত্নীক্ষ বুদ্ধির মহিলা সে এই জীবনেও দেখেনি। প্রথম যেদিন এই মহিলাকে খুন করতে দেখেছে। সে তো ভয়ে কাঁপছিল। তাকে ভয় পেতে দেখে সেইদিন তার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে একটা কথা বলেছিল,
_কামিনী শেখের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার ফল এর চেয়ে ভয়ংকর হয় আজম। আশা করি বুজতে পারছো। তাই নিজেকে প্রস্তুত করো। কারণ আমার সঙ্গে থাকতে হলে তোমাকে পাথর দানব হতে হবে।

সেই দিন থেকে সে এই মহিলার সকল কাজকর্মে পাথর মানবের মত সাথে থেকেছে। কামিনী শেখ যে কতটা ভয়ংকর,আর তার খুন করার ধরণটাও যে কতটা নৃশংস সেটা একমাএ সেই জানে। হয় তো সেটা তার ছেলে আর স্বামীরও অজানা।

কামিনী শেখে একটু ঝুঁকে বলে,
_বলেছিলাম আমায় শেষ করতে গিয়ে নিজেই না উদাও হয়ে যান। বাট কে শুনে কার কথা। আপনাকে তো আপনার পাওয়ার দেখাতেই হবে তাই না।

তারপর আবার সোজা হয়ে বসলেন। এক হাত চেয়ারের হাতলে দিয়ে পা দুলাতে দুলাতে বলেন,
_ বুজলে আজম বাংলায় একটা প্রভাত আছে। 'অতি চালাকের গলায় দাঁড়ি'।
মি.আর্থার সেনেরও না এখন সেই অবস্থা। বেচারার নাদুস নুদুস মুখখানা কেমন শুকিয়ে গেছে। এনাকে মারতে তো একটু তৃপ্তিও পাবো না।

কামিনী শেখের কথায় আর্থিক সেন ভেজা ঢোক গিলে, তেজ দেখাতে গিয়েও দেখাতে পারলেন না। তার পরেও শক্ত কন্ঠে বলেন,
_ আমাদেরকে তুলে এনে এখন নাটক করা হচ্চে। আমি যদি একবার বেঁচে যাই না। আপনাকে শেষ করে তবেই শান্ত হবো।

আর্থার সেনের কথায় কামিনী শেখ হাসতে শুরু করেন, হাসতে হাসতে বলেন,
_ আরে বাহ্ আপনার এই শরীরেও এমন তেজ। আমি তো রীতিমতো ভয় পাচ্চি। দেখুন আমার হাত কাঁপছে।

_কামিনী শেখের অভিনয় দেখে আজম ঠোঁট চেপে হাসে। সে যানে তার ম্যাডামের এমন কথার রহশ্য। তাই সেও খুব উপভোগ করছে নাটকটা। দেখতে ভালোই লাগছে। মানতে হবে তার ম্যাডাম আসলেই জিনিয়াস।

কামিনী শেখ বসা থেকে উঠে আর্থার সেনের চারিপাশে ঘুরে ঘুরে শান্ত কন্ঠে বলেন,
_ আমি আপনাকে বলেছিলাম আমি যা বলি আমার ছেলে তা করে দেখায়। আমি আপনাকে সেইদিন কোটে বলেছিলাম আমাকে শেষ করতে আসলে আমার ছেলেকে টপকাতে হবে। কিন্তু আপনি কথাটা সেই ভাবে নিলেন না। বরং সেইদিনই মুর্খের মত বোকামিটা করে বসলেন। তাই আমার ছেলে আপনাকে এই খানে তুলে এনেছে। আদর্শ মায়ের আদর্শ ছেলে বলে কথা। মায়ের কথা কি পেলতে পারে বলুন। আমার ছেলে যেমন এই দেশে আপনার অস্তিত্ব নেই করে দিয়েছে একটু পর আমি এই পৃথিবী থেকেও আপনার অস্তিত্ব চিরকালের মত বিলিন করে দিব। মাঝ খানে এই মাস গুলুতে যা হয়েছে আপনাদের সাথে সেটা কেবল ট্রেইলার ছিল। মানুষের সাথে বেইমানি করার। আর এবার চূড়ান্ত কর্মফল পাবেন।

_ কামিনী শেখের কথায় আর্থার সেনের আর সায়ন সেনের চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। এই মহিলাকে উপর থেকে দেখতে যতটা না স্মার্ট আর ইনোসেন্ট মনে হয় তার থেকেও দ্বিগুণ ডেঞ্জারাস আর কিলার এই মহিলা। আর্থার সেন গোপন শুকনো ঢোক গিলে। তিনি বড় ভুল করে পেলেছেন এই সাইকো মহিলার সাথে টক্কট দিয়ে। তিনিও উপরে স্বাভাবিক থাকলেও এখন ভিতরে ভিতরে ভয়ে শরীর কাঁপছে। ব্যথাতুর শরীরে ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় বলে,
_ কি করবেন আপনি?

কামিনী শেখ পুনরায় আবার ঘুরে এসে তাদের সামনে দাঁড়ালেন। থুতনিতে হাত রেখে বলেন,
_ কি করবো দেখতে চান। অবশ্য আপনার দেখাটা এমনিতেও ফরজ হয়ে গেছে।

_ এই বলে আজমের দিকে হাত বাড়ায়। আজম ব্যাগ থেকে একটা প্লায়ার্স বের করে কামিনী শেখের হাতে দেয়। কামিনী শেখ প্লায়ার্সটা নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখিয়ে বলে,
_জানেন এটা কি? এটা কি কাজে লাগে?

আর্থার সেন ভয়ার্ত চোখ তাকায় প্লায়ার্সটার দিকে।
কামিনী শেখ আর্থার সেনের সামনে বসে নিরট কণ্ঠে বলে,
_চলুন আপনাকে এটার সঠিক ব্যবহারটা দেখিয়ে দি।

__তিনি আজমকে ইশারা করতে আজম এসে আর্থার সেনের হাতের বাঁধন খুলে দেয়। কামিনী শেখ এবার আর্থার সেনের হাতের একটা নখের উপর প্লায়ার্সটা রেখে আর্থার সেন কে বাম চোখ মেরে সরি বলে, প্লায়ার্সটা চাপ দিয়ে টান মেরে ডান হাতের আঙ্গুলের একটা নখ তুলে পেলেন । মুহুতে আর্থার সেনের বিকট চিকিৎসা ভেসে আসে। কাটা নখ থেকে গড়গড়িয়ে লাল রক্ত বেরিয়ে আসেছে।
আর্থার সেনর হৃদয় বিদারক চিকিৎসা বেজমেন্টের প্রতিটা দেওয়ালে দেওয়ালে প্রতিধ্বনি হচ্চে। কামিনী শেখ এক এক করে সব গুলো নখ তুলে পেলেন।

এরপর বসা থেকে উঠে দাঁড়াতে আজম একটা কাতান উনার হাতে দেয়। কামিনী শেখ কাতান নিয়ে এক কোপ দেয় আর্থার সেনের ডান পায়ে। মুহুর্তে শরীর থেকে ডান পা আলাদা হয়ে যায়। হঠাৎ করেই কামিনী শেখের মুখের রং বদলে ভয়ংকর এক মৃত্যু দেখায় মেতে উঠে। চোখের সামনে বাপের কাটা পা দেখে থরথর করে কাঁপতে শুরু করে সায়ন। যে কিনা শত শত মেয়ের রক্ত দিয়ে প্রতি দিন মেতে থাকতো আজ সে কিনা তার বাবার রক্ত দেখে শরীর কাঁপছে। বাপের করুন অবস্থা দেখে সায়ন ড্যাড, ড্যাড বলে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে।

কামিনী শেখ হাতের কাতান ঘুরাতে ঘুরাতে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
_ আমাকে মারা এত সহজ না, কৈ মাছের জান আমার। তোদের মত জানোয়ারকে দুনিয়া থপকে ঝাটাই না করে এত সহজে আমি মরছি না।
এই বলে আরো একটা কোপ দেয় আর্থার সেনের বাম পায়ে। সাথে সাথে বাম পা ও শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়।
কামিনী শেখ তার বাম হাতে আর্থার সেনপর মাথার চুল ধরে হিসহিসিয়ে বলে,
_ আমাকে মারা দুঃসাহস দেখিয়েছিস তুই। তোকে তো তোর দুঃসাহসের পুরস্কার দিতেই হবে।
এই বলে হাতের কাতান দিয়ে আর্থার সেনের গলায় টান মারে মুহুর্তে পিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে কামিনী শেখ শাড়িতে। এরপর এক এক করে শরীরটাকে ছয় টুকরো করে। আর্থার সেনকে। চোখের সামনে বাপের শরীরের টুকরো গুলো দেখে গড় গড় করে বমি করে দেয় সায়ন। পেটের ভিতর থেকে সব কিছু উগড়ে বেরিয়ে আসছে। ভয়ে শরীর থরথর করছে। মনে হচ্চে এই বুঝি দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে। এত নৃশংস খুব একটা মহিলা করতে পারে ভেবে সায়নের বুক কাঁপছে। বাবার লাশের দিকে তাকিয়ে। কাঁদতে শুরু করে সায়ন।
'কামিনী শেখ সায়ানের কাছে আসে তার বুকে লাত্থি দিয়ে ফ্লোরে পেলে দেয়। সায়নের বুকে পা দিয়ে চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলে,
_ দেখ তোর বাপের অবস্থা। তোর বাপ যেমন তার অন্যায়ের শাস্তি পেয়েছি। তুই ও পাবি। তোর ওই কালো হাতে যত মেয়কে নষ্ট করেছিস যত মেয়ের রক্ত নিয়ে খেলেছিস । আজ তার থেকেও দ্বিগুণ রক্ত আমি তোর শরীর থেকে বের করবো 'ব্লাডি'বিচ।

- এইবলে হাতে থাকা কাতান দিয়ে এক কোপে সায়ানের ধর থেকে মাথা আলাদা করে দেয়। পরপর কয়েকটা কোপে সায়নের শরীরে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। মুহূর্তে নিস্তব্ধ হয়ে যায় পুরো বেজমেন্টে। সেই নিস্তব্ধ ভেদ করে শুধু কামিনী শেখ জোরে জোরে শ্বাস পেলার শব্দ শুনা যাচ্চে। কামিনী শেখের সাদা শাড়ি লাল রক্তে রঞ্জিত হয়ে গেছে। রক্তে পুরো শরীর ছ্যেত ছ্যেতে হয়ে গেছে। তিনি হাতের কাতান ছুঁড়ে পেলে লাশ গুলোর দিকে তাকিয়ে থুতু পেলে গটগট পায়ে বেরিয়ে যান রুম থেকে। তার পিচন পিচন বেরিয়ে যায় আজমও। রাত তখন ১ টা বেজমেন্টে থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ সুদ্য করে নতুন রুপে নিজেকে তৈরি করে শেখ হাউজের উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়েন কামিনী শেখ। ছিন্নভিন্ন লাশ গুলোর ব্যবস্থা বেজমেন্টে থাকা গার্ডরাই করে পেলবে।

----------------------------

চলবে.......

 #প্রেমের_শিহরণ  #লেখিকা_ফারজানা_আক্তার_জেবু  #সকলপর্ব অনুমতি ছাড়া কপি বা পোস্ট করা সম্পূর্ণ নিষেধ। ❌যাদের গল্পটা ভালো ল...
11/05/2026

#প্রেমের_শিহরণ
#লেখিকা_ফারজানা_আক্তার_জেবু
#সকলপর্ব
অনুমতি ছাড়া কপি বা পোস্ট করা সম্পূর্ণ নিষেধ। ❌

যাদের গল্পটা ভালো লাগবে তারা পারলে শেয়ার করে দিও। আর সম্পূর্ণ গল্পের লিংক এই পেইজে দেওয়া হবে। আশা করি সবাই পাশে থাকবেন।

------------------
#প্রেম_শিহরণ
#লেখিকা_ফারজানা_আক্তার_জেবু
#পর্ব২৫
-- দুপুরের কড়া সূর্য মাথার উপরে। গরম ভালোই পড়ছে। বাইরে বের হলে বুঝা যায় সূর্যের উত্তাপ কতখানি। দুপুরের কড়া রোদ ও শহরের যানবহনের কোলাহল ঢেলে ফাহিমা ও মিথিলা চলে এসেছে শিকদার নিবাস।
রুসা আর রিপাত সোজা মার্কেটে গেছে সেখান থেকেই বাড়িতে আসবে। মিথিলা চার মাসের প্রেগন্যান্ট তাই সে আর যায়নি রাপসান চলে গেছে আজ ১৫ দিন,,।
-- আয়াত সেই সকালে রাগ করে তার রুমে চলে যায়। তার ফুপ্পির গলার আওয়াজ শুনতে পেয়ে নিচে নেমে আসে।
ফাহিমার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে গেলে ফাহিমা হাত ধরে পেলে। আয়াত মুখে সালাম দিয়ে,
_আসসালামু আলাইকুম, ফুপ্পি কেমন আছো।

ফাহিমা আয়াতের মাথায় হাত দিয়ে বলে,
ওয়ালাইকুম আসসালাম মা, আমি ভালো আছি তুই কেমন আছিস।

আমিও ভালো আছি ফুপ্পী।

ফাহিমা আয়াতকে বাড়িতে দেখে বলে,
_কিরে মা তুই যাসনি শপিং করতে।

আয়াত মুখ বোতা করে বলে,
_তোমার খবিশ ভাতিজা আমাকে যেতে দেয় নি ফুপ্পী।

আয়াতের কথায় ফাহিমা হেসে বলে,
_তাই রাগ করে আছিস বুঝি বোকা মেয়ে।

আয়াত আর কিছু বল্লো না মিথিলার দিকে এগিয়ে যায়, তাকে জড়িয়ে ধরে বলে
_আসসালামু আয়ালাইকুম ভাবি কেমন আছো।

মিথিলা: ওয়ালাইকুম আসসালাম ননদীনি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তুমি কেমন আছো নতুন বউ,,(থুতনিতে হাত রেখে)

আয়াত বেশ লজ্জা পেলো। । সবার সামনে নতুন বউ বলাতে। লজ্জা মিশ্রিত মুখে বলে,
_ ভাবি চলো আমার রুমে যাই। আয়াত মিথিলাকে নিয়ে তার রুমে চলে আসে।
আর ফাহিমা ভাইয়ের বউদের সাথে গল্প করতে বসে।

আয়াত কাচুকাচু করে বলে,
_ভাবি তোমার কি বাবু হবে ছেলে বাবু না মেয়ে বাবু।

মিথিলা মুচকে হেসে বলে,
_এখনো ডক্টর দেখইনি।

আয়াত ছোট করে উওর দেয়,
_ ওহ আচ্চা, এরপর আবার বলে উঠে,
ভাবি তুমি কি বাবু হলে বেশি খুশি হবে ছেলে বাবু না মেয়ে বাবু।

মিথিলা ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটিয়ে বলে,
_আল্লাহ খুশি হয়ে যা দিবে। তা তোমার কোনটা বেশি পছন্দ ননদীনি।

আয়াত খুশি হয়ে বলে,
_মেয়ে বাবু। আমার খুব ভালো লাগে।

আয়াতের কথায় হেসে উঠে মিথিলা। ঠোঁটে হাসি রেখে বলে,
_ তাহলে তো বেশি বেশি করে দোয়া করতে হয়,যাতে বিয়ের পর প্রথম তোমার মেয়ে বাবু হয়।

মিথিলার কথায় আয়াত লজ্জায় সিটে যায়। ঠোঁটে লাজুক হাসি টেনে বলে,
_তেমার মেয়ে বাবু হয়ে কিন্তু আমি নাম ড়াখব ভাবি।

মিথিলা হাসা থামিয়ে বলে,
-আচ্চা ঠিক আছে রেখো। তা আমার দেবর কে কি ভাবে দিওয়ানা বানালে শুনি। যে ডিরেক্ট বিয়ে করে নিজের কাছে রাখতে চাইছে।

লজ্জায় আয়াতের মুখ লাল হয়ে যায়। আজ কাল জয়ের কথা উঠলে বেশি লজ্জা লজ্জা লাগে। আয়াতকে লজ্জা পেতে দেখে মিথিলা শব্দ করে হেসে উঠে,,,
এই ভাবে বেশ কিছুক্ষণ তারা গল্প করতে থাকে।

ব্যস্ত দিনের কোলাহল আর দিনের আলো ছাপিয়ে ধরনীতে অন্ধকার নামলো। মাগরিবের আজান সেই কখন দিয়েছে। মুসলিরা নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে পারি পিরছে।
ইরানদের শপিং শেষ হতে হতে সন্ধ্যার পর হয়ে যায়। আয়াত, মিথিলা, ফাহিমা,সহ বাড়ির তিন কর্তি বসে গল্প করছিল আর চা খাচ্ছিল। এরি মাঝে যারা-রা হৈ হৈ করে বাড়িতে ডুকে, ইরান সবাইকে বাড়িতপ ড্রপ করে অফিসে চলে গেছে। সে আপাতত বাড়িতে আসে নি।

-- আরান দৌড়ে আসে আয়াতের কাছে। আয়াতও ভাইকে আসতে দেখে হাত বাড়িয়ে কোলে তুলে নেয় ভাইকে। আরান আদো আদো বলিতে বলে,
-আপু আপু জানো আজকে আমরা এত গুলো শপিং করছি। ভাইয়া আমাকে ৫ টা নতুন জামা কিনে দিয়েছে।

আয়াত ভাইয়ের গাল টেনে দিয়ে বলে,
_ তাই ভাইয়া নতুন জামা কিনে দিয়েছে, তাহলে আমি বরং বিয়ে দিয়ে একটা নতুন বউ এনে দেব কেমন।

আরান খিলখিল করে হেসে বলে,
_ আমি এখন বিয়ে করবো না তো।

আয়াত হেসে বলল,
_তাহলে কখন করবে।

আরান আয়াতের চুল নিয়ে খেলতে খেলতে বলে,
_ আগে জয় ভাইয়া বিয়ে করবে, পরে
ইরান ভাইয়া তার পর সবার শেষে আমি বিয়ে করবো।

আয়াত অভাক হয়ে বলে,
_ও বা-বা তাই নাকি খুব পেকে গেছিস দেখছি। দেখেছো তো তোমার ছেলে কি বলছে। আরানের কথা শুনে উপস্থিত সবাই হেসে উঠে।

যারা এগিয়ে এসে বলে উঠে,
_আপু জীবনেও আর একে নিয়ে শপিং করতে যাবো না। এই বাঁদর টা যা জালিয়েছে না আমাদের,বেচারা রিফাত ভাইয়ার অবস্থা পুরো খারাপ করে দিয়েছে।

রিফাত সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বলে,
_মেজো মামুনি এই শালা আমাকে আজ নাকানি চুবানি খাইয়েছে ছেড়েচে। একটুর জন্য গনদোলাই খাওয়ার হাত থেকে বেঁচেছি।

জাহানারা অবাক হয়ে বলে,
_বলিস কি করে,কি করেছে বজ্জাতটা।
রিফাত টেবিল থেকে এক গ্লাস পানি খেয়ে বলে,
_ জানো কি করেছে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে ও ডল ভেবে ছেলেটার মুল্যবাদ সম্পদ ধরে টান দেয়। ছেলেটা ব্যথা পেয়ে একটা থাক্কা দেয় একল। থাক্কা খেয়ে এই শালার মেজাজ গরম করে আবারও হাটু দিয়ে একটা গুতো বসিয়ে দেয় ছেলেটার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর আর গুতো খেয়ে ছেলেটা যা কান্না শুরু করেদিয়েছে। ওর বাবা-মা আর একটু জন্য হলে গনদোলাই খাওয়াতো পাবলিকের হাতে ভাগ্যিস বিষয়টা বড় হওয়ার আগে ওকে কোলে তুলে দৌঁড়ে মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসি। তা না হলে আজ ওতো উওম মাধ্যম খেত সাথে আমাকেও খাওয়াতো।

ছেলের কির্তিকলাব শুনে জাহানারা চোখ কপালে। মুখে হাত দিয়ে বলে,
_ ওমা আরান এই গুলা কি শুনছি আমি। আদর পেয়ে পেয়ে এত বাঁদর হয়েছে এই ছেলেটা অসভ্য ছেলে।
আরান কাচুমাচু হয়ে বসে আছে আয়াতের কোলে। যেন সে কিছুই জানে না। সবে মাএ পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হয়েছে।
সবাই যখন এটা ওটা নিয়ে কথা বলছে।
তখনি সবার কাথার মাজে জয় বাড়িতে ডুকে। মুখটা গম্ভীর হয়ে আছে। গায়ের শার্ট কুচকে আছে। মাথার চুলগুলো এলোমেলো। চোখ অসম্ভ রকমের লাল। জয়কে দেখে সবার কথা বন্ধ হয়ে যায়। ফাহিমা বসা থেকে উঠে জয়ের কাছে আসে। জয়কে এই সময় বাড়িতে দেখে একে অপরের মুখ দিকে তাকায়। কারণ জয় সব সময় ৮টার পরে বাড়িতে আসে।

ফাহিমা জয়ের মাথায় হাত রেখে বলে,
_ কি রে বাবা কি হয়েছে তোর। মুখটা এমন শুকনো লাগছে কেন। কিছু। কিছু খাস নি দুপুরে।

_রিফাত বসা থেকে উঠে গিয়ে জয়ের কাঁধে হাত রেখে মজা করে বলে,
_আরে আম্মু কি যে বলো ভাইয়া তো বিয়ের আনন্দে এমনি পেট ভরে আছে আর কিছু খাওয়া লাগে নাকি তাই না ভাইয়া।
রিফাতের কথায় জয় কোনো প্রতিত্তর করলো না। জয় ফাহিমার উদ্দ্যেশে বলে,
_খেয়েছি ফুপ্পি। ভালো আছো তোমরা।
হ্যাঁ... ভালো আছি ।

জয় তার ফুপ্পীর সাথে আরো টুকিটাকি কথা বলে তার মাকে বলে,
_আম্মু আমাকে একটু শহরের বাইরে যেতে হবে। হঠাৎ জয়ের মুখে এমন কথায় সবাই তাকায় জয়ের দিকে। আয়াতের বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠে। ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে জয়ের মুখো পানে। রেহেনাও এবার বসা থেকে উঠে ছেলের কাছে এসে বলে,
_সে কি!রে কেন যাবি! পরসু তোদের এনগেজমেন্ট। আর তুই আজকে বলছিস শহরের বাইরে যাবি। জয় দৃঢ় গলায় বলে,
_ হ্যাঁ আম্মু, আসলে হঠাৎ একটা আর্জেন্ট কাজ পড়ে গেছে, তাই যেতেই হবে।

জাহানারা অস্বস্ত্বি নিয়ে বলে,
_তাহলে এনগেজমেন্ট এর কি হবে।

জয় তার কাকিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,
_ তোমরা কেউ চিন্তা করো না আমি সময় মত চলে আসবো। বাবাকে এখন কিছু বলার দরকার নেই। আমি গাড়িতে উঠেই কল করে জানিয়ে দেব।
এতক্ষন পর জয়ের দৃষ্টি পড়লো সোফার উপর গুটিয়ে বসে থাকা আয়াতের উপর। জয়ের শীতল চাহনি দিয়ে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। নিশ্চয়ই তার যাওয়ার কথা শুনে মন খারাপ হয়ে গেছে কিন্তু....জয় স্বাভাবিক কন্ঠে বলে,
_আমার রুমে এক কাপ করে নিয়ে আয় আয়াত। এই বলে জয় আর এক মুহুর্তো দাঁড়ালো না ব্যস্ত পায়ে নিজের রুমে চলে যায়।
আয়েশা দ্রুত উঠে যায় জয়ের জন্য কপি করতে। কারণ জয় বেশির ভাগ আয়েশার হাতের কপি খেতে বেশি ভালোবাসে। আয়েশার বিয়ের পর থেকে জয় যতদিন বাড়িতে ছিল আয়েশাই তাকে কপি বানিয়ে দিত। আর জয় সেটা খুব তৃপ্তি সহকারেই খেতো।

-- জয় তার রুমে আসতেই সিয়ামের কল আসে সে ফোন হাতে নিয়ে ব্যালকুনিতে গিয়ে দাঁড়ায়ে কথা বলতে থাকে।
_সিয়াম সবকিছু রেডি কর যে করেই হক ওদের একটা গ্যাংকে আমাদের ধরতেই হবে।
আর খুঁজে বের করতে হবে সব কিছুর পিছনে কার মাথা আছে। উপর মহল থেকে ক্রমাগত প্রেশার দিচ্চে।

ফোনের উপাস থেকে সিয়াম বলে,
_ঠিক আছে জয় আমরা রেডি করছি,আচ্চা ইরান যাবে আমাদের আমাদের সাথে।

না,,

কেন,,,,

বায় এনি চান্স, আমার কিছু হয়ে গেলে ইরানকে এইদিকের সবটা হেন্ডেল করতে হবে।

"জয়ের কথা শুনে সিয়াম বলে উঠে,
_এই ভাবে বলিস না জয়। ইনশাআল্লাহ সব ঠিকঠাক হবে তুই দেখেনিস ।

জয় তাই যেন হয়....

এরি মাঝে আয়াত কপি নিয়ে জয়ের রুমে আসে। দরজা ঠেলে ভিতরে ডুকে জয়কে দেখতে পায় না। রুমি ডুকে জয়কে ডাকে,
_জয় ভাইয়া...

__আয়াতের গলা শুনে জয় কথার ইতি টেনে রুমে আসে। হাতের ফোনটা খাটে রেখে হাত বাড়িয়ে কপির মগটা নেয় আর তাতে চুমুক দেয় দৃষ্টি আয়াতের পানেই সীমাবদ্ধ। এমন ভাবে তার প্রয়সীকে দেখছে মনে হচ্চে কত যুগ পর প্রয়সীর দর্শন পেল। তাই চোখের তৃপ্তি নিয়ে দেখে যাচ্চে।

আয়াতের বুকের ভিতর টিপ টিপ করছে,জয় কেমন করে তাকিয়ে আছে তার দিকে। এমন লাগছে কেন লোকটাকে। কিছুকি হয়েছে। নাকি অপিসে কাজের চাপ বিদায় এমন লাগছে। আয়াতকে দেখতে দেখতে জয় কপি শেষ করে করলো। মগ টা সেন্টার টেবিলে রেখে দুই হাতে আয়াতকে তার আরো কাছে টেনে নেয়।
হঠ্যাৎ জয়ের স্পর্শে আয়াত কেঁপে উঠে। জয় দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। হঠ্যাৎ এমন কান্ডে আয়াত বিস্মোকিংকর্তব্যবিমৃঢ় হয়ে পড়ে। কি করবে কিছুই বুজতে পারেছে না। কেবল হতবম্ভের মত চেয়ে থাকে। জয়ের সংস্পর্শে এসে হাত পা কাঁপছে শুধু। আয়াত স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে জয়ের হৃদস্পন্দের তীব্র গতি। বেশ কিছুক্ষণ পর জয় আয়াতকে ছেড়ে দিয়ে শান্ত দৃষ্টি রাখে আয়াতের মুখ পানে এই ভাবে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে। দুই হাতে যত্ন করে হাতের তালুতে আগলে নেয় নরম তুলতুলে দুই গাল। তারপর শান্ত গলায় বলে,
_পৃথিবীটা বড় অদ্ভুত আয়াত। এই খানে কখন কি হয় সেটা আমাদের অজানা। কখনও কখনও আমাদের চিন্তার বাইরেও সৃষ্টিকর্তার কিছু পরিকল্পনা থাকে। তাই আমাদের হতাশ না হয়ে কেবল ভালো কিছুর জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
তুই চিন্তা করিস না। আমি কাজ শেষ করে তাড়াতাড়ি চলে আসবো।

_জয়ের কথার কোনো মানিই আয়াত বুজতে পারলো না শুধু ছলছল চোখে তাকিয়ে প্রশ্ন করে,
_কোথায় যাবেন আপনি আরে কেন যাবেন।

_জয় আয়াতের কপালের চুল গুলো কানের পিঠে গুজে দিয়ে বলে,
_একটা ইম্পর্ট্যান্ট কাজ পড়ে গেছে। তাই যেতে হবে। আমার জন্য দুইটা দিন অপেক্ষা কর ঠিক সময় মত চলে আসবো। আয়াত জয়ের চোখে চোখ রেখে বলে,,
-আমি আপনার জন্য দুদিন কেন সারাজীবন অপেক্ষা করতে রাজি, আপনি পিরে আশার প্রতিশ্রুতি দিন,আমি আপনি আশার প্রহর গুনবো।

আয়াতের কথায় জয় মৃদু হাসে। কোথাও একটা ব্যথা করছে তারপরেও নরম গলায় বলে,
_ তোর এই অপেক্ষা যদি সার্থক হয়,তবে সেটা হবে তোর জীবনের এক অসাধারণ অধ্যায়। শেষটা সুন্দর হবে, এই আশাটা কখনো হারাইতে দিস না। তারপর আবার তার বুকে জড়িয়ে ধরে প্রিয় মানুষটাকে। আয়াতও চুপটি করে জয়ে বুক মাথা রেখে দাঁড়িয়ে থাকে।

জয় মৃদু শ্বরে বলে,,
— "তুই আমার থেকে দূরে থাকতে পারিস, কিন্তু আমার হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দনে তোর অস্তিত্ব বিতচর করে"।

এতক্ষণ আয়াত কান্না আটকে রাখলেও আর পারলো না ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে। জয় আয়াতের মাথায় হাত ভুলাতে ভুলাতে বলে,
_ আরে পাগলি কাঁদছিস কেন। আমি ঠিক চলে আসব। তুই এই ভাবে কাঁদলে আমি যাবো কি ভাবে। তুই কষ্ট পেলে যে আমারও খুব কষ্ট হয়।তোর চোখের পানি আমার জন্য বিষ পান করার মত যন্ত্রণা দেয়।
আয়াত জয়কে শক্ত করে ধরে কাঁন্না ভেজা কন্ঠে বলে,
_আমি আপনাকে খুব মিস করবো খুব। আপনি চোখের সামনে না থাকলে আমার একটুও ভালো লাগে না।
_জয় মৃদু হেসে আয়াতকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে খুব যত্ন করে আয়াতের চোখে পানি মুছে দিয়ে বলে,
_তুই কি জেনে বুজে আমাকে বিষ পান করাতে চাস।
আয়াত দুপাশে মাথা দুলায়। অর্থ্যাৎ না সে চায় না জেনে বুজে তার প্রিয় মানুষটাকে বিষ পান করাতে। কান্না জড়িত কন্ঠে বলে,
- আমার চোখের পানি যদি আপনার কাছে বিষ পান করার মত হয়,তাহলে আপনিও জেনে রাখুন,আপনাকে একটা নজর দেখার তৃষ্ণা,আমার সারা দিনের ভালো থাকা চেস্টা।

"জয় কিছু সময় চেয়ে থাকে আয়াতের কান্না মিশ্রিত মুখের দিকে,তারপর থুতনিতে হাত রেখে মুচকি হেসে বলে,
_ মুখটাকে এমন বোতা করা রাখবি একটু তো হাস। মুখটাকে এমন ভাবে রেখেছিস দেখে মনে হচ্চে তোর জামাই মারা গেছে।
জয়ের কথা শুনে আয়াত চকমকে উঠে। দ্রুত জয়ের মুখ চেপে ধরে ভাঙ্গা কন্ঠে বলে,
_প্লিজ এই কথা বলবেন না আর কখনও আপনার মরে যাওয়ার কথা বলবেন না।

জয় আয়াতের কপালে একটা চুমু দিয়ে বলে,,,
_ আচ্চা বলবো না সরি।
আয়াতের বুক পেটে কান্না আসছে তারপর পরেও জয়ের কষ্ট হবে ভেবে ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকানোর চেষ্টা করে যাচ্চে । জয় আয়াতের কপালে একটা চুমু দিয়ে বলে,
_আরে পাগলী ওই খানে আমার শরীর যাচ্ছে। আমার। আমার মন তো পড়ে থাকবে এই শিকদার বাড়ির বড় রানীটার কাছে। যেখানে আমার ভালোবাসা বন্দি করেছি বহুদিন আগে। বন্দি হয়ে গেচি আমি তোর মায়ার খাঁচায়। পোষ মানা পাখির মত। তাই মালিকের টানে আমাকে তো আসতেই হবে। যেখানেই যাইনা কেন দিন শেষে এই নীড়ে তো আমাকে ফিরে আসতেই হবে।

আয়াত উওর দেয় না। ছলছলল চোখে শুধু তাকিয়ে থাকে। জয় ও কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। তারপর ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে আয়াতের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,
_ ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করবি,পড়াশোনা ঠিক মত করবি। নিজের যত্ন নিবি। বিশেষ করে তোর ওই চুলের, কারণ তোর ওই চুলের ঘ্রাণ আমার বিষণ প্রিয় আমায় মাতাল কর দেয়।
আমি যদি ফিরে এসে তোর শরীরের একটু পরিবর্তন দেখেছি তাহলে। তোর হাড্ডি থেকে সব মাংস আলাদ করে কুকুরকে খাওয়াবো। Mind ti,,,

জয় যে ঠান্ডা গলায় তাকে থ্রেট দিয়েছে। সেটা বুজতে পেরে আয়াত শুকনো ঢোক গিলে। জয় হাত থেকে ঘড়িটা খুলতে খুলতে বলে,
_বস এই খানে আমি ফ্রেস হয়ে আসি।
এই বলে টাওয়ালে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ায়। আয়াত হঠাৎ পিছন বলে উঠে,
_"আপনি সত্যি ফিরে আসবেন তো আমার কাছে।

"মুহুর্তেই জয়ের পা থেমে যায়। আয়াতের। আয়াতের এই কথা জয়ের বুকের ভিতর কেমন মোচড় দিয়ে উঠল। জয় কিছু মুহুর্তের জন্য থমকে যায়। তার গলা শুকিয়ে আসছে। জয়য় যেন কিছু টা সময়ের জন্য শ্বাস নিতেই ভুলে গেছে। পরক্ষনে আয়াতের দিকে ঘুরে বলে ওঠে,
---------ফিরবো--------
"আমার শ্যামবতীর ওই ঠোঁটে হাসির কারণ হয়ে ফিরে আসবো ইনশাআল্লাহ।
এই বলে জয় চোখ টিপে মুচকি হেসে ওয়াশরুমে চলে যায়।

----------- ১০ রাত------------

__পুরো শহরের শব্দ প্রায় নিস্তব্ধ হয়ে এসেছে। বাইরে চাঁদের আলোয় চারিপাশ স্নিগ্ধ লাগছে। পুরপুরে বাতাশও বইছে গাছপালার ডাল বেয়ে । কিন্তু শিকদার পরিবারে পরিবেশ থমথমে । দুই দিন পরে বাড়ির বড় ছেলের এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠান অথচ কারো মুখে এক চিমটিও হাঁসি রেখা নেই। কারো মুখে কোনো কথা নেই। সবাই কেমন নিস্তব্ধ পাথরের মত বসে আছে। বিষাদে চেয়ে আছে চারিপাশ।
জয় ৮ টার দিকে সবার থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে গেছে তার গন্তব্যে। যাওয়ার আগে সবাইকে বলে গেছে কেউ যেন তার জন্য চিন্তা না করে।

_আসহাদুল শিকদার কপালে হাত দিয়ে থম মেরে বসে আছেন। পাশে আকরাম শিকদার, আর ইমতিয়াজ শিকদার ও চিন্তিত হয়ে বসা। ইরান মাথা নিচু কে দাঁড়িয়ে আছে। সে। সে ও বুঝতে পরেনি। জয় এমন কিছু করবে। তাকে না যানি এই ভাবে চলে যাবে।
শুধু যাওয়ার আগে তাকে ছোট্ট একটা টেক্সট করে গেছে।

--- ভাই আমার যদি আমার কিছু হয়ে যায়,,
সবাইকে দেখে রাখিস।

--- টেক্সট টা পেয়ে ইরান স্তব্ধ হয়ে যায়। ভয় আর চিন্তা আরো দ্বিগুন ঘিরে ধরে। না যানি তার ভাই কোন বিপদে আছে কে যানে। কেন এই ভাবে পাগলামি করলো। কেন তাকে কিছু জানালো না। ফাহিমাহিমা শিকদার সেই কখন থেকে ভাইকে বুজাচ্ছেন।
আপনি কেন এত বেশি দুশ্চিন্ত করছেন ভাইজান। আপনার তো শরীর খারাপ করবে।

আসহাদুল বাঁজখাই কন্ঠে বলেন,
_ কি করবো বল, কাল বিদে পরসু দিন ওর এনগেজমেন্ট। আর ওকে আজকেই যেতেই হলো। কই অফিসের কোনো কাজে তো যায়নি।তাহলে কোথায় গেছে ও।

এই প্রথম আসহাদুল শিকদার ছেলের উপর রাগ হলো। জন্মের পর থেকে কখনও তিনি ছেলের গায়ে একটা ফুলের টোকা তো দূরের কথা একটা ধমক অব্দি দেয়নি।দেওয়ার প্রয়োজনই পরেনি।।কারণ জয় ছোট থেকে ভদ্র আর শান্তশৃষ্ট কিন্তু রাগ উঠলে আর সে নিজেকে শান্ত রাখতে পারে না।

ইমতিয়াজ গলা খাকড়ি দিয়ে বলে,
_আপনি এত উতলা হচ্ছেন কেন ভাইজান। জয় তো বলেছে ও সময় মত চলে আসবে।

আসহাদুল শিকদার আবার ও রাগ দেখিয়ে বলেন,
_ কি বলছিস তোরা। পরসু দিন যদি ও সময় মত না আসতে পারে। তাহলে কি হবে বুজতে পারছিস একবার,আমার এত বছরের তিলে তিলে গড়া মানসম্মান সব ধুলোয় মিশে যাবে!

ফাহিমা: ভাইজান আপনি কি আপনার ছেলেকে একটুও ভরসা করেন না।

আসহাদুল উওর দিচ্ছে না চুপ করে বসে আছে। আকরাম শিকদার ভাইয়ের কাছে গিয়ে বসে ভাইয়ের হাতটা শক্ত করে ধরে শুধায়,
— ভাইজান আমাদের জয় এমন কোনো কাজ করবে না যাতে আমদের মাথা হেট হয়। আপনি জয়ের উপর একটু ভরসা রাখুন। আমি আপনাকে বলছি, ছেলেটা যেখানেই যাক,যেখানেই থাকুক ঠিক সময় মত চলে আসবে। আপনি শুধু দোয়া করুন ছেলেটা যেন সুস্থ থাকে। ফাহিমা বলে উঠে,
_হ্যাঁ ভাইজান ছোট ভাইজান ঠিক বলেছে।

আসহাদুল শিকদার উঠে যেতে যেতে রাশভারী কন্ঠে বলেন,
_আসলেই ভালো, এই বলে নিজে রুমে চলে যান,,,
...........................

চলবে........

- অনুমতি ছাড়া কপি বা পোস্ট করা সম্পূর্ণ নিষেধ। ❌যাদের গল্পটা ভালো লাগবে তারা শেয়ার করে দিতে পারেন। আর এই গল্পের সম্পূর্ণ...
09/05/2026

- অনুমতি ছাড়া কপি বা পোস্ট করা সম্পূর্ণ নিষেধ। ❌

যাদের গল্পটা ভালো লাগবে তারা শেয়ার করে দিতে পারেন। আর এই গল্পের সম্পূর্ণ পর্ব এই পেইজে পেয়ে যাবেন।

____________________
#আঁখিরন্ধ্র_প্রেম
#লেখিকা_ফারজানা_আক্তার_জেবু
#পর্ব৪১

"সূর্যের হদুল রশ্নি পুরো পৃথিবীতে পড়ায় সোনালি সুতোর মতো চিকচিক করছে শহরের কোনায় কোনায়। সমস্ত ধরনীর সবুজ গাছ-পালা গুলো দক্ষিণা বাতাসে এদিক সেদিক দুলে চলেছে অবিরাম। মনের খুশিতে বিশাল নীল আকাশে ডানা মেলে পাখিরা নিজেদের মুক্ত জীবন উপভোগ করছে। যেন উপহাস করছে জমিনে থাকা মানুষ গুলো কে। যারা চাইলেও কখনও তাদের মত বিশাল আকাশে ডানা ঝাপটাতে পারবে না।

-খোলা জানালা দিয়ে আসা মিষ্টি বাতাসে জানালার সপেত রঙ্গা পর্দা গুলো ক্রমশ উড়ছে বেড়াচ্চে। জীবনের টানাপড়ন নিয়ে দড্ড ক্লান্ত হয়ে ধপধপে সাদা চাদরের বিছানার এক কোণে বেশ গভীর ভাবনায় মসগুল হয়ে বসে আছে এক রমনী। চোখের কোণে বিষাদের ছায়া। জীবন তাকে কি দিয়েচে সেই নিয়ে উপহাস। সব কিছু নিয়ে অল্প বসয়েই হাঁপিয়ে ওঠেছে সেই, তাই বিষন্ন মুখে খাটের হেডবোডের সাথে মাথা এলিয়ে শুয়ে আছে আঁখি।

_ দেখতে দেখতে দীর্ঘ এগারোটা মাস....কেটে গেছে। আঁখি এখন ১৭ বছরের এক তরুনি। এই ১৭ বছরে আঁখির জীবনে এমন কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে গেছে যেটা আঁখি কখনো কল্পনাও করেনি। কখনো দুঃখ আবার কখনও পরম সুখ।

_ এই তো ছয়মাস আগের কথা। দিন ছিল এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখ। রাতের খাবার খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে ছিল। আঁখিও নিজের রুমে ঘুমিয়ে ছিল কিন্তু ঘুমের ভিতর তার কেন জানি মনে হচ্চে তার শরীরে অনেক বেশি ঠান্ডা লাগছে। আবার কানে পানির কড়কস শব্দ ভেসে আসছে।
_ নিঝুম রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ আঁখির তন্দ্রাটা ছুটে গেল। গায়ে হিমেল বাতাসের একটা শিরশিরানি অনুভব করতেই ও অবচেতন মনে গায়ের ওপর কাঁথাটা টেনে নিতে চাইল। কিন্তু হাত বাড়িয়ে নরম বিছানা বা কাঁথার নয় বরং অন্য কিছু অনুভব করছে।

_ মস্তিষ্ক সজাগ হতেই তড়াক করে চোখ খুলে। চোখ খুলতেই সর্বপ্রথম চোখ পরে মাথার উপরে রুপোলী চাঁদটায়। চাঁদ দেখে কপাল কুঁচকে ঘুম-ঘুম চোখে উঠে বসতেই আঁখির বুকটা ধক করে উঠল। চারপাশটা কেমন যেন দুলে উঠছে! ও কি স্বপ্ন দেখছে? চোখ কচলে ভালো করে তাকাতেই ওর পিলে চমকে যাওয়ার অবস্থা। ও তো নিজের ঘরের খাটে নয়, বরং পানির উপর ভাসমান একটা শিপে ওপর বসে আছে! তার মানি এতক্ষণ যবত সে এই সমুদ্রর গর্জনই কানে আসচিল।
"আঁখি বিস্ময় চোখে চারপাশটা ভালো করে দেখছে ও কোনো সাধারণ শিপে নয়, বরং হাজারো ফুলের মাঝে বিশাল বড় এক মায়াবী শিপে বসে আছে। তাও মাঝ সমুদ্র। শিপে অসংখ্য মিনি লাইটের আলো ছাড়া, আশে পাশে অন্ধকার বিদে আর কিচ্ছু দেখতে পারছে না। মাঝ সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে শিপটি মৃদু দুলছে।

_ কুয়াশাভেজা রাতের ঠান্ডায় ও নিজের দুই হাত দিয়ে শরীরটা জড়িয়ে ধরল, তখনই ও খেয়াল করল ওর পায়ের কাছে বসার জায়গার পাশেই রাখা আছে একটি নরম লাল শাড়ি আর এক তোড়া লাল গোলাপ। সাথে একটা চিকুট।

_ বিস্ময়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে আঁখির মুখ দিয়ে কথা বের হচ্চে না। ঘুমের রাজ্যে হারানো মেয়েটি বুঝতে পারল, এটা কোনো দুঃস্বপ্ন নয়, বরং কেউ একজন তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় অতি সন্তর্পণে তুলে নিয়ে এসেছে এই রূপকথার মতো আয়োজনে। কিন্তু কে নিয়ে এসেছে তাকে। কেন নিয়ে এসেছে তাকে। আর এই জিনিস গুলোও বা কে দিয়েছে।
আঁখি উঠে গিয়ে জিনিস গুলো হাতে নিল। তাজা গোলাপের থেকে আসা মিষ্টি ঘ্রাণে চারিপাশ ম ম করছে। আঁখি চোখ বন্ধ করে গোলাপ গুলোর ঘ্রাণ নিল। তারপর চিরকুটা কাঁপা হাতে খুলে দেখে তাতে লেখা আছে,

_শাড়িটা পড়ে নিন ম্যাডাম আমি আসছি।
ভয় পাবেন না আমি কিন্ত আপনার খুব কাছাকাছি আছি। দ্রুত শাড়িটা পড়ে নিন।নয়তো আমি নিজে এসে কিন্তু পড়িয়ে দেব।

লিখা পড়ে আঁখির আর বুজতে বাকি নেই কাজটা কে করেছে। মানুষটা কখন কি করে কিছুই বুঝে উঠতে পারে না সে। কয়দিন পর পর কোথাও উদাও হয়ে যায় আবার হুট করে এসে এই ভাবে হুট হাট তুলে নিয়ে যায়। আর তুলে নিয়ে গিয়ে তাকে বিস্ময় করে দেয়। এমন সব কান্ড করে আঁখি না চাইতো দিন দিন লোকটার এই সবে উবস্ত হয়ে যাচ্চে।

- ঠোঁট লাজুক হাসি রেখে ফুল গুলোতে ঠোঁট ছুঁয়ে পাশে রাখলো তারপর আশেপাশে তাকায়ে শিপের উপর ছোট একটা রুম চোখে পড়লো। আঁখি শাড়িটা নিয়ে সেই রুমে গেল আর খুব সুন্দর করে শাড়িটা পড়ে নিল। শাড়ির সাথে রয়েছে লাল কাঁচের চুড়ি, কালো টিপ,লাল লিপস্টিক। আঁখি সব কিছু পড়ে বেরিয়ে এলো। এইদিক সেইদিক তাকায় কিন্তু কাউকেই দেখতে পেল না।

_হঠ্যৎ তার পিচনে আরো উপস্থিতি টের পেল। পিচনে ঘুরতেই গেলেই শাড়িতে পা বেঁধে পড়ে যাচ্চিল কিন্ত তার আগে কেউ তার কোমর জড়িয়ে ধরল। আঁখিও বন্ধ চোখে মানুষটার শার্টের কলার খাচছে ধরেছে। শরীর জুঁড়ে শীতল বাতাস বয়ে গেল দুজনের। আঁখি ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকায় মানুষটার দিকে। শান্ত কেমন ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আঁখির দিকে। এই ভাবে কিছুক্ষণ যাওয়ার পর আঁখি নিজে থেকে উঠে দাঁড়ায়। সামনে আশা চুল গুলো কানের পিঠে গুঁজে দিয়ে মাথা নিচু করে রাখে। তার বিষণ লজ্জা করছে। শান্তর চোখে চোখ রাখতে পারছে না।

_ অতলান্ত সমুদ্রের বুকে জেগে থাকা বিশাল শিপ যেন এক নির্জন দ্বীপ। হঠ্যাৎ আলো জ্বলে উঠলো পুরো শিপে। চারদিকে শুধু গাঢ় নীল জলরাশি, যার ওপর চাঁদের আলো রুপালি চাদরের মতো বিছিয়ে আছে। ঢেউয়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ এক অলৌকিক আবহ সংগীতের মতো বাজছে। পুরো পরিবেশটা যেন এক মায়াবী জাল। শিপটার রেলিং ধরে সারিবদ্ধভাবে সাজানো স্ফটিকের স্বচ্ছ ঝারবাতি, যার ভেতরে জোনাকির মতো টিমটিম করে জ্বলছে মৃদু হলদেটে আলো। সেই আলো আঁখির চোখেমুখে এক অপার্থিব আভা তৈরি করছে। সমুদ্রের স্নিগ্ধ বাতাসের সাথে পাল্লা দিয়ে উড়ছে হাজারও ফুলের তীব্র মিষ্টি সুবাস। খালিপায়ের নিচে বিছানো সাদা মখমলের কার্পেট, যার ওপর লাল গোলাপের পাঁপড়িগুলো যেন রক্তিম ভালোবাসার চিহ্ন হয়ে ভাসছে।

__তীব্র শীতে জমে যাওয়া আঁখি তার লাল শাড়ির আঁচলটা গায়ে জড়িয়ে বিস্ময়ভরা চোখে সব টা অবলোপন করলো। আকাশের চাঁদটাও যেন তার সৌন্দর্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে মেঘের আড়ালে মুখ লুকায়ে গেল ​"সমুদ্রের নীল আর আকাশের শূন্যতা যেখানে মিশে গেছে, সেখানে এক টুকরো জ্যান্ত কবিতা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আঁখি। সবটা তার ভ্রম আর স্বপ্ন লাগছে।
শান্তর চোখে রাতের গভীরতা। তার হৃদয়ে এক অজানা শিহরণের ঢেউ তুলে দিচ্চে।"

_ শান্ত আঁখির পা থেকে মাথা উব্দি দেখে নিল। তারপর হঠাৎ আঁখির কোমর ধরে টান মেরে তার বুকে এনে পেলল। আঁখির নিশ্বাসের গতি ভারী হয়ে গেছে। শান্ত ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আঁখির কাঁপা কাঁপা লাল ঠোঁটের দিকে। ডান হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে ছুঁয়ে দেয় আঁখির নরম উষ্ঠদয়। মেয়েটা কিঞ্চিৎ কেঁপে উঠে।

_ শান্তর শরীর থেকে আসা ডার্ক Encre Noire পারফিউমের তীব্র ঝাঁঝাঁলো ঘ্রাণ এসে আঁখির নাকে ধাক্কা লাগছে। এত কড়া ও ঝাঁঝালো পারফিউম কেউ ইউজ করে। কেমন মাতাল মাতাল ঘ্রাণ । আঁখি চোখ বন্ধ করে শান্তর শরীর ও পারফিউমের ঘ্রাণ টুকু টেনে নিল। কি মনে করে শান্তর বুকের কাছটায় আলতো করে নাক ঘোঁষল। প্রিয় না হয়েও প্রিয় হয়ে যাওয়া পুরুষটির শরীরের ঘ্রাণ তাকে সব কিছু ভুলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

_ শান্তর তার বুকে আঁখিকে নাক ঘোঁষতে দেখে নিঃশব্দে হাসে। তারপর আঁখি ঘাড়ে মুখ নিয়ে তার শরীরও মেয়েলী চেরিফ্লাজম পারফিউমের ঘ্রাণ আর তার শরীর থেকে ভেসে আসা স্নিগ্ধ ঘ্রাণ শান্তর মস্তিষ্কে এক ধরনের নেশার মতো কাজ করছে। আঁখির পারফিউমের ঘ্রাণ আঁখির শরীরে সাথে মিশে গেছে। তাই তো কেমন শরীরে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে গেচে মনে হচ্চে কোনো জীবন্ত চেরিফ্লাজমের গাছ শরীরে নিয়ে ঘুরছে। এই ঘ্রাণ যেন কোনো ঘ্রাণ নয়, বরং আঁখির নিজস্ব এক স্বত্ত্বা, যা কেবল তাকেই আকৃষ্ট করার জন্য তৈরি। শান্ত দীর্ঘ এক নিঃশ্বাস টেনে সবটুকু সুবাস নিজের ভেতরে গেঁথে নিলো। হাতের ঘড়ির দিকে এক পলক তাকিয়ে তারপর আঁখির কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে,
_ এটা কি পারফিউম ইউজ করো শরীর থেকে এত বিশ্রী গন্ধ আসছে।

হঠাৎ এমন কথা শুনে আঁখি চোখ খুলে যায়। মাথা তুলে তাকায় শান্তর নির্লিপ্ত মুখের দিকে। নাকের পাটা ফুলিয়ে কপট রাগ দেখিয়ে বলে,
_কি বললেন আপনি, আমার শরীর থেকে বিশ্রী গন্ধ আসছে । তাহলে আপনারটা কি হ্যাঁ।

শান্ত বেশ ভাব নিয়ে বলল,
_ আমার ডার্ক পারফউমের ঘ্রান শরীরের সাথে মিশে গিয়ে ডার্ক স্মেল ছড়ায়।

আঁখি মুখটাকে বমির আসার মতে করে বলে,
_ ডার্ক না ছাঁই ওয়াক থু্ঁ এটা ঘ্রাণ। আমার তো নাকে লাগতেই বমি আসছে।

আঁখির কথায় শান্ত হাসি চাপিয়ে বলে,।
_ তুমি জানো আমার এই ঘ্রানের জন্য কত মেয়ে আমার জন্য পাগল আমাকে কাছে পেতে চায়। আদর করতে চায়।

শান্তর মুখে হঠাৎ অন্য মেয়েদের কথা শুনে আঁখির কোথাও একটা জ্বলে উঠল কেন জানি সয্য হলো না তাই সে রাগ দেখিয়ে কিড়বিড় করে বলে,
​— আমার শরীরে বিশ্রী ঘ্রাণ আপনাকে শুকতে হবে না। আপনি বরং আমাকে বাড়ি দিয়ে আসুন। নয়তো আপনার শরীর থেকে আসা বিশ্রী গন্ধে আমি দম আটকে মরে যাব।

শান্ত হঠ্যাৎ আঁখির চিবুক ধরে হিসহিসিয়ে বলে,
_ দম আটকে মরে গেলেও এই বিশ্রী গন্ধ সারাজীবন তোমাকে সয্য করতে হবে "লিটেল কুইন"।

আঁখি শান্তর হাতটা জারা দিয়ে সরিয়ে বলে,
_ পারবো না সয্য করতে। এখন সরুন আমার সামনে থেকে। অসয্য লোক।

এই বলে আঁখি উল্টো ঘুরে দুই কদম সামনে যেতেই শান্ত এক জটকায় পিছন থেকে আঁখিকে জড়িয়ে ধরল। আকস্মিক এমন করায় আঁখি ভয়ে থরথর করে কেঁপে উঠল। আঁখি ছটপটিয়ে উঠে।
শান্তু আঁখির কাঁধ থেকে চুল সরিয়ে সেখানে চুমু দেয়। ব্যাস অপ হয়ে যায় আঁখির ছুটোছুটি। শান্তর ঠোঁটের শীতল স্পর্শে আঁখির সর্বাঙ্গ শিরশির করে উঠে। তার সাথে শরীর হীম করার জন্য সমুদ্রের ঠান্ডা বাতাস তো রয়েছেই।

শান্ত আঁখির কানের কাছে মুখ নিয়ে হাস্কি শ্বরে বলে,
_ তোমার শরীর থেকে আসা এই বিশ্রী ঘ্রাণটাও আমার বিষণ প্রিয়। সান-ফ্লাওয়ার।

শান্তর কথায় আঁখি নিশ্চুপ। শুধু ছলছল চোখে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে।

শান্ত আবার গলায় মাদকতা মিশিয়ে বলে,
_ তোমার শরীরের বিশ্রী ঘ্রাণটা যেমন আমার হৃদয় গেঁথে গেছে। ঠিক তেমনি আমার শরীরের ঘ্রাণ ও তোমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
" আই উইস এরপর এমন একদিন আসবে যেইদিন তোমার শরীরে প্রতিটা ভাঁজে ভাঁজে আমার রাজত্ব চলবে ম্যাডাম।

আর রইলো আমার শরীরে বিশ্রী গন্ধ। যেইদিন তুমি পুরো পুরি তোমার মাঝে আমাকে ডুবে যেতে দিবে। আই সোয়ার সেইদিন থেকে আমার দেওয়া সুখের জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে।


___আঁখি চমকে উঠে। আজ কাল শান্তর শরীরে ঘ্রাণ আঁখির বড্ড বেশি ভালো লাগে। তাকে বিষণ ভাবে টানে। শান্ত শরীরের প্রতি ভাঁজ আঁখিকে বিষণ ভাবে আকৃষ্ট করে। মন চায় সারাক্ষণ এই লোকের আশেপাশে থাকতে এই লোকের সান্নিধ্য পেতে। মন ভরে দেখতে আর দুই চোখের তৃষ্ণা মিটাতে।

__ কিন্ত না যতদিন না শান্ত নিজের মুখে বলবে সে আঁখিকে ভালোবাসে ততদিন সে শান্তর কাছে নিজেকে ধরা দিবে না।
শান্ত বলেছিল যতদিন না, সে চাইবে শান্ত তার কাছে আসুক ততদিন শান্ত তার থেকে দূরে থাকবে।
আমিও তাই করব শান্তর মুখ থেকে ভালোবাসি কথাটা বের করেই ছাড়বো। আর যদি বের করতে না পারি আমার নামও "মেহেনূর চৌধুরী আখিঁ" নয় । এটা আমার নিজেকে নিজে করা ওয়াদা।

___আঁখির ভাবনার মাঝেই শান্ত তার বাঁ হাত আঁখির সামনে আনলো। একটা তুরি বাজাতেই শিপের সব লাইট অপ হয়ে গেল। আঁখি অবাক হয়ে তাকায় শান্তর মুখের দিকে যদিও অন্ধকারে কিছু দেখা যাচ্চে না তবুও চাঁদের আলোয় শান্তর মুখের দিকে ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে।
___ তারপর হঠ্যৎ আঁখির চোখ চলে যায় আকাশের দিকে, গভীর রাতে সমুদ্রের উপর বিশাল আকাশের বুকে কত গুলো জ্বলন্ত ফানুস উড়তে শুরু করে। একটা নয়, দশটা নয়—অগণিত ফানুসের ভিড় বিশাল আকাশ জুড়ে। এরপর হঠাৎ অনেক গুলো তারা জ্বলে ওঠে। তারা দিয়ে ইংরেজিতে লেখা,

__HAPPY BIRTHDAY SUN-FLOWER__

লেখাটা দেখে বিস্ময় আঁখির দুই হাত আপনা আপনি মুখে চলে যায়। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে নক্ষত্রে ভরা লেখার দিকে। সে তো ভুলেই গেছে আজ তার জন্মদিন। আঁখি নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছে না তার জন্য কেউ এই ভাবে সারপ্রাইজ সাজাতে পারে। তার মানি শান্ত তাকে এই জন্য ঘুমন্ত অবস্থায় তুলে নিয়ে এসেছিল।
তখনি শান্ত আঁখির কানে ফিসফিস করে বলে,
_Happy Birthday My Pinklips_

আঁখি অন্ধকারে বিস্ময় চোখে তাকায় শান্তর দিকে। শান্তর চাওনি অতি শীতল। আঁখি কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,
_ আ,আপনি জ,জানতেন আজ আমার জ,জন্মদিন।

শান্ত কেবল মৃদুস্বরে বলে,
_ ইয়েস মাই ওয়াইফি_

তখনই দ্বিতীয় বারের মত শান্ত তুড়ি বাজায়। আর সঙ্গে সঙ্গে শিপের সকল বড় ছোট সোপ্ট লাইট গুলো জ্বলে ওঠে। আঁখি কথা বলার ভাষাটাও যেন এবার হারিয়ে গেছে। এত সুন্দর এত চমৎকার একটা স্নিগ্ধ রাত শান্ত তাকে উপহার দিল। সে তো বিশ্বাসী করতে পারছে না।
তারপর শান্ত আলতো করে আঁখিকে ছেড়ে দুই পা পিছনে এলো। আঁখির কেবল তাকিয়েই ছিল। শান্ত ঠোঁট এক রহশ্যময় হাসি দিয়ে দুই হাত মুখে নিয়ে একটা সিটি বাজালো।

সাথে সাথে পুরো শিপের মাঝে উপর থেকে হাজার হাজার গোলাপের পাপড়ি এসে বৃষ্টির মত তাদের উপর বর্ষণ হলো। সব গুলো হলুদ গোলাপের পাপড়ি। আঁখি দুই হাত মেলে অবাক হয়ে উপরে তাকায় তিনটে হেলিকপ্টার থেকে অঝরে কেউ ফুলের পাপড়ি ফেলছে। আঁখি এতটাই বিস্ময়েয়র মাঝে ছিল যে হেলিকপ্টারের শব্দটা তার কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি। এরি মাঝে শিপের ভিতর থেকে একটা ছেলে এসে বড় সাইজের একটা কেক রেখে যায়।

__শান্ত আঁখির হাত দরে এসে কেকের সামনে দাঁড় করায়। আঁখি এখনও ঘোর কেটে উঠতে পারছে না। সে কেবল বিস্ময় হতবিহ্বল হয়ে একটার পর একটা ঝটকা খেয়েই যাচ্চে।
আঁখিও কিছুক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে শান্তর মুখের দিকে। তার এখনও বিশ্বাস হচ্চে না এত কিছু। তার মনে হচ্চে সে ঘুমিয়ে আছে আর সকাল হওয়ার সাথে সাথে ঘুম ভেঙ্গে গেলে সব কিছু স্বপ্ন হয়ে যাবে। মিথ্যে হয়ে যাবে তাকে ঘিরে এত এত আয়োজন।

_ আঁখিকে এমন ভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে শান্ত আঁখির হাতে একটা মিনি চাকু দিয়ে চোখ দিয়ে ইশারা করে কেক কাটতে।

আঁখিও শান্তর কথা মত আলতো হাতে কেক কাটে। সেখান থেকে এক পিস কেক শান্তর মুখের সামনে ধরে। কিন্তু শান্ত সেটা মুখে নেয় না। শান্ত নিচ্চে না দেখে আঁখি কপাল কুঁচকে বলে,
_কি হলো কেক মুখে নিচ্চেন না কেন?

_ শান্ত কিছু বললো না। আঁখির হাত থেকে কেকটা নিয়ে আঁখিকে খাইয়ে দেয়। শান্তর এমন কাজে বেশ অবাক হয় সাথে মনটাও খারাপ হয়ে যায়। লোকটা তার হাত থেকে কেকটা খেলো না। খেলে কি এমন হতো। আঁখি আড়ালে মুখ বাঁকিয়ে অন্য দিকে তাকায়।
কিন্তু আঁখিকে এক ঝটকায় অবাক করে দিয়ে,
শান্ত আরেকটু কেক নিয়ে আঁখির ঠোঁটে রাখে আর আঁখির ঠোঁট সহ কেকটা চোখ বন্ধ করে তৃপ্তিসহ খেতে থাকে।

হুট করে এমন কিছুর জন্য আঁখি মোটেও প্রস্তুত ছিল না। আশ্চর্যের চরম পর্যায়ে গিয়ে আঁখির চোখ বড় বড় হয়ে যায়। আঁখির মনে হলো এক মুহূর্তের জন্য তার শরীরের রক্ত চলাচল থমকে গেল। শান্ত তপ্ত নিঃশ্বাস ওর নিশ্বাসের সাথে বাড়ি খাচ্ছে। আঁখির হৃদয়স্পন্দনের শব্দ নিজের কানেই ড্রাম পেটানোর মতো করে বাজছে।

_ শান্ত এমন হুট করে কাছে আশা আঁখি স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ওর চোখের বড় বড় পলক গুলো কাঁপছে, কিন্তু সেই গুলো নামানোর শক্তিটুকু যেন সে হারিয়ে ফেলেছে। শান্তর বন্ধ চোখের পাতায় এক উদ্ভুত প্রশান্তি আর তৃপ্তি স্পষ্ট।

আঁখির অবশ হয়ে আসা হাত দুটো শাড়ি শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। শান্তর এই স্পর্শটুকু নির্লিপ্ত ভাবে খুব স্বাধরে গ্রহণ করছে আঁখি। না দিচ্চে বাঁধা আর না কিছু বলতে পারছে। কেবলই নিস্তব্ধ জড় বস্তুর মত নিজের শাড়ি আঁকড়ে দাঁড়িয়ে আছে।
শান্তর প্রতিটি স্পর্শে এক নিবিড় তৃষ্ণা মিশে আছে, যা ধীরে ধীরে আরো গভীর হচ্চে। শক্ত হচ্চে আঁখির কোমরে রাখা শান্তর হাতের বাঁধন। শক্ত করে চেপে ধরায় আঁখি বিস্ময় আর আবেশে দিশেহারা হয়ে মৃদু গুঁগিয়ে উঠে। তৎক্ষনাৎ শান্ত আঁখিকে ছেড়ে দেয়। দীর্ঘ তিন মাসের তৃষ্ণা সে এক নিমিশে চুষে নিল।
আঁখির ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে আঁখির নিচু করে রাখা মুখের দিকে তাকায়। হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে নিজের ঠোঁট মুছে নেয়।

আঁখির শরীর কাঁপছে বুকের ভিতর তীব্র অস্তিরতা সামলাতে নিজের দৃষ্টিতে লুকিয়ে রেখেছে। শান্ত আঁখি থুতনিতে হাত দিয়ে মাথা তুলে বলে,
_ কেকের চাইতো তোমার এই ঠোঁটের টেস্ট মারাত্মক পিঙ্কলিপস। "আই লাইক ইউর লিপ্স'

--------------

চলবে.......

Address


Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Farjana Akter jebu posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

  • Want your business to be the top-listed Gym/sports Facility?

Share