21/06/2026
#ফারজানা_আক্তার_জেবু #গল্পের_শহর〴official #ভাইরালpageシ
----- গল্প উপন্যাস মানি শুধু কল্পনা নয়,,,
গল্প মানি মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা,,
সুপ্ত অনুভূতি...😥😐
#ফারজানা_আক্তার_জেবু #গল্পের_শহর〴official #ভাইরালpageシ
#আঁখিরন্ধ্র_প্রেম
#ফারজানা_আক্তার_জেবু
#পর্ব_৪৫
_ এইদিকে বাড়ির পূর্ব পাশে বাগানে ভোর থেকে এক্সেসাইজ করছে আরাফ। ফর্সা শরীরে একটা কালো সেন্টু গেঞ্জি ও একটা কালো ট্রাউজার। পায়ে সাদা সু,দুই কানে ব্লুটুথ। মুখের এক্সপ্রেশন একদম স্বাভাবিক। এক্সেসাইজ করার কারণে পুরো শরীর ঘামে বিজে একাকার। সিল্কি চুল গুলো ভিজে কাপলে লেপ্টে আছে। আরাফকে দেখতে যেমন পিট লম্বাতেও প্রায় ছয় ফুট। হালকা ছাপ দাড়িতে বেশ চমৎকার লাগে আরাফ কে। বলা বাহুল্য ছেলেটা আসলেই দেখতে বেশ সুদর্শন। যেমন কথায় তেমনই চালচলন এটিটিউড এটিটিউড ভাব।
"আরাফের বাবা মা নেই। সুইজারল্যান্ডে একটা ছোট এক্সিডেন্টে আরাফারের সাথে শান্তর দেখা হয়। সেই থেকে শান্তর ডান হাত হিশেবে আরাফ সকল বিপদেআপদে তার ডাল হয়ে থেকেছে। তার ত্নীক্ষ কাজ আর চতুর দৃষ্টির জন্য শান্ত তাকে অন্ধের মত বিশ্বাস করে। আরাফ একজন ব্ল্যাক হার্ট হ্যাকার। যে কিনা মাফিয়া জগতের সবচেয়ে পাওয়াফুল লোকদের টার্গেট করে তাদের বিষয়ে সকল গোপন তথ্য যোগাড় করে শান্তকে দেয় এবং শান্ত সেটাকে কাজে লাগিয়ে মিশন সাকসেস করে। শান্ত যেমন শত্রুদের যেকোনো পদক্ষেপ আগে থেকে বুঝতে পারে ঠিক তেমনই আরাফও তাদের নিঃশব্দ উপস্থিত টের পায়। দুজনেই এক কথায় ত্নীক্ষ বুদ্ধির অধিকারী বলা যায়।
মেঘা বেশ কিছুক্ষণ ধরে তার বেলকনিতে দাঁড়িয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে আরাফকে। মেঘা তার চোখ সরাতে পারছে না। লোকটার সাথে আগের থেকে বেশ সহজ হয়েছে। তবে লোকটা ইদানিং কেন জানি তার সাথে বেশি কথা বলতে চায় না। তাকে এবোট করে চলে। মেঘা কাল রাতেও খাওয়ার টেবিলে বেশ কয়েকবার তাকিয়ে ছিল অথচ লোকটা এমন একটা ভ্যান করলো মনে হচ্চে সে তাকে চিনেই না। মেঘা কেন জানি বিষয়টা মেনে নিতে পারছে না। কেন লোকটা এমন করছে তার সাথে। লোকটা কি কিছু বুঝে না। নাকি ইচ্চে করে তাকে ইগনোর করছে। জানতে হবে তাকে। মেঘা এবার নিচে নেমে এলো। আশেপাশে ভালো করে তাকিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে দ্রুত পায়ে বাগানের দিকে গেল।
আরাফ দুই হাতে ভর দিয়ে বুক ডাউন করছে।
আর ব্লুটুথের মাধ্যমে ফোনে কারো সাথে কথা বলছে।
মেঘা এসে পিচনে দাঁড়ায়। আরাফ কে কথা বলতে দেখে বুকে হাত ভাঁজ করে দাঁড়ায় উদ্দেশ্য আরাফের ফোনে কথা বলা শেষ হলে সে আরাফের সাথে কথা বলবে। তাই অপেক্ষা করতে থাকে। এরি মাঝে মেঘাকে বিস্ময় করে আরাফে কাউকে বলছে,
_ ওকে খুব দ্রুত দেখা হচ্চে তোমার সাথে। আমি এই দিনটার অপেক্ষাই করছিলাম দীর্ঘদিন ধরে।
মেঘা আরাফের কথা শুনে থমকে যায়। বিস্ময় মুখটা আপনা আপনি হা হয়ে যায়। বুকের বা পাশের হৃদপিন্ডটা কয়েক সেকেন্ডর জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়। মেঘার চোখ ভিজে উঠে। সুপ্ত হৃদয়টা মুহুর্তে চুরমার হয়ে গেল। মেয়েটা কখনই কোনো ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়ায় নি। তার মত করে কাউকে মনে ধরে নি। কিন্তু আরাফকে দেখার পর থেকে তার কেন জানি ভালো লাগতে শুরু করে। এত গুলো মাসে আরাফের সাথে কথা বলে তার জন্য মনে ছোট্ট কুটিরে একটু একটু করে ভালো লাগা তৈরি হয়েছে। কিন্তু আজ সে আরাফের মুখ থেকে কি শুনলো এই সব। কার সাথে দেখা করতে সে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় ছিল। তাহলে কি উনি অন্য কাউকে পছন্দ করে, অন্য কাউকে ভা,ভালোবাসে। এটা হতে পারে না সে এই লোকটাকে পছন্দ করে তাহলে কি করে এই লোককে অন্য কোনো মেয়ের সাথে,, না, না এটা কিছুতে হতে পারে। ইমিডিয়েটলি এই লোকটার সাথে কথা বলতে হবে। তাকে জানতে হবে সবটা। মনের মাঝে হাজার ধিদা নিয়ে দুই পা এগিয়ে আসে ভেজা ঢোক গিলে রিনরিনে শ্বরে বলে,
_ মি. আরাফ।
"আরাফ কথায় এতটাই ব্যস্ত ছিল যে মেঘা কথাটুকুও শুনলো না। মেঘা আবারও ডাকলো কিন্তু আরাফ শুনলো না। এবার মেঘার মাথায় যেন হঠাৎ করেই আগুন ধরে গেল। আরাফ সবে মাএ উঠে দাঁড়িয়েছে ঠিক তখনি মেঘা ক্ষিপ্ত হয়ে পিচন থেকে দুই হাতে একটা ধাক্কা দেয় আরাফ কে। আকস্মিক ধাক্কা খেয়ে আরাফ দুই পা সরে যায়। রাগি চোখে তাকায় পিচনে
দিকে মেঘা কে আগুন চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখেও আরাফের মাঝে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না। আরাফ ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকে মেঘার দিকে। মেঘা নিজেকে দমিয়ে প্রশ্ন করে,
_ কে ওই মেয়েটা।
আরাফ কান থেকে ব্লুটুথ খুলে বলে,
_ হোয়াট হ্যপেন্ট? মিস মেঘা?
আরাফের কথা শুনে মেঘার রাগ আর অভীমানের পাল্লা যেন আরো ভারী হলো। চোখের অবাধ্য অশ্রু গুলো চোখ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে। বহু কষ্টে ঢোক গিলে কান্নাটুকু গিলে বলে,
_ আপনি কার সাথে দেখা করতে যাবেন।
মেঘার কথায় আরাফ ব্রু কুঁচকে বলে,
_আমি আপনাকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নাই।
এই কথা বলে আরাফ ওয়াটার বোতল হাতে নিয়ে ঢকঢক করে পানি খায়। মেঘা আরাফের উওর শুনে ব্যথিত হৃদয় নিয়ে তাকায় আরাফের দিকে। আরাফ তার সাথে এই ভাবে কথা বলছে। মেঘার চোখ বেয়ে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। কান্না মিশ্রিত কন্ঠে বলে,
_ আপনি আমার সাথে এই ভাবে কথা বলছেন কেন?
আরাফ পুরায় তোয়ালে হাতে নিয়ে শরীরের ঘাম মুছতে মুছতে আবারও বলে,
_আই হোপ, এরপর আমার থেকে নিজে দূরে দূরে থাকার চেষ্টা করবেন।
এই বলে আরাফ বাগান থেকে গেস্ট রুনের দিকে চলে যায়। পিচনে শুধু পরে রইলো এক জোড়া,বিস্ময়, অশ্রুশিক্ত আঁখি। মেঘার পুরো দুনিয়া এখন ঘুরছে। যে মানুষটার সাথে নিজের মনের অজান্তেই জুড়ে পেলেছে। সেই মানুষটাই তাকপ বুজিয়ে দিন কোনে কিছগ একতরফা হয় না। মেঘার চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্চে করছে। বুকের ভিতর তিব্র যন্ত্রণা নিয়ে সেখানেই হাঁটু ভেঙ্গে বসে পড়ে মেঘা।
---------------------
সব কিছু রেডি হয়েছে তো? একটা কালো শার্ট গায়ে জড়াতে জড়াতে কথাটা বললো এক মধ্যবয়স্ক লোক।
তাৎক্ষনাত দরজার সামনে থেকে একটা কড়কশ পুরুষের গলায় ভেসে এলো,
_ জি স্যার সব কিছু ওকে।
বয়স্ক লোকটা আয়নায় নিজের প্রতিবম্ভের দিকে তাকিয়ে বাঁকা ঠোঁটে হাসে। শরীরে পারফিউম লাগাতে লাগাতে পুনরায় বলে,
_ গাড়িতে ওয়েট করো আমি আসছি।
দরজার সামনের লোকটা ওকে স্যার বলে বেরিয়ে যায়। এইদিকে কালো ব্রেজার গায়ে জড়িয়ে, হাতে হ্যান্ডওয়াচ্ছ লাগিয়ে, হালকা পেকে যাওয়া চুল গুলো খুব সুন্দর করে জেল দিয়ে সেট করে আয়নায় নিজেকে দেখে। এত বয়স্ক লোক হয়েও নিজেকে এখনও স্ট্রোং রেখেছেন তিনি। আয়নার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে বলে,
_ আমার আসছি, শেখ পরিবারের প্রত্যেকের চোখের ঘুম কেড়ে নিতে আমি খুব শীগ্রই আসছি।
এই বলে একটা ডেবিল হাসি দিয়ে চোখে কালো চশমা পড়ে ফোন হাতে কাউকে ফোন করে। ওপাশ থেকে ফোন রিসিভ করলে লোকটা গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠে,
_ বি ডি তে পা রাখা মাএই ওদের বেড বডি যেন আমার চোখে সামনে দেখি "গট ইট"।
ফোন কেটে লোকটা হনহনিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে। পিচনে পেলে যায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঝড়ের পূর্বাভাস আর এক নিস্তব্ধ রুম। যার প্রতিটা দেওয়ালে দেওয়ালে জ্বল জ্বল করছে এক একটা ছবিতে রেড মার্ক করা প্রতিশোধের আগুন।
------------------
দুই দিন পর। বেলা তখন বিকেল চারটা। গৌধুলি বিকেলের সুর্যের আলোক রশ্নি জানালার ফাঁক দিয়ে মেঝেতে পড়ছে। পাখিতে গুনগুনও বলশ শুনা যাচ্চপ বাইরে। মনে হচ্চে বেলকনিতে এসে তারা আড্ডায় মশগুল হয়েছে। নিজের সুখ-দুঃখের কত কথা আদার প্রদান করছে নিজেদের ভাষায় কিচিরমিচির করে। মেহেরুন নেসার বেশ কয়েকদিন ধরে কোমরের হাঁড় গুলো ব্যথা করছে। বয়স হওয়ার সাথে সাথে এখন যেন ঔষুধেও কাজ করা বন্ধ করে দেয়েছে। কোমরে হাত দিয়ে সেই কখন থেকে আঁখিকে ডেকে যাচ্চেন তিনি। আঁখি একটা বাটিতে সরিষার তেল গরম করে আনে। দাদিকে ডাকতে দেখে দ্রুত তেলের বাটি নিয়ে রুমে ডুকে বলে,
_ এত চিল্লাচ্ছো কেন দাদি আসছি তো।
মেহেরুন নেসা ব্যথাতুর কন্ঠে বলে,
_ কি করবো বল। কোমরের ব্যথা যা বেড়েছে প্রাণ চলে যাচ্চে।
আঁখি তেলের বাটি রেখে খাটল উঠে বসতে বসতে বলে,
_ তা কোমর খানা কোথায় যাচ্চে শুনি। তা তো দেখি কই যাচ্চে।
এই বলে হাতের তালুতে তেল নিয়ে খুব যত্নসহকারে মালিশ করে দিচ্চে।
মেহেরুন নেসা চোখ বুজে আরাম নিচ্চে। তার নাতনিটার হাতে যাদু আছে বলতে হবে। যেদিনই তাকে তেল মালিশ করে দেয়, সেই দিন রাতেই একটু শান্তির ঘুম দিতে পারে। কিছুক্ষণ নিরবতা থেকে মেহেরুন নেসা বলেন,
_ হে রে আঁখি শান্ত কই গেল আজ দুদিন হলো দেখি না।
মেহেরুন নেসা মুখ ঘুরিয়ে বলে,
_ শান্ত না তোর জামাই। তাহলে তুই জানিস না এডা কেমন কথা।
আঁখি মুখ ঝামটে বলে,
_ হ্যাঁ কচুর জামাই আমার, বুজলা বুড়ি। ওই হাতি টা আমার জামাই না। শালা কিপ্টা একটা। থাকবো না আমি ও হাতিটার সাথে।
মেহেরুন নেসা চোখ রাঙ্গিয়ে বলে,
_ ক্যান থাকবি না কেন? কি করছে আমার নাতি তোরে!
আঁখি কাঁদো কাঁদো ফেস করে বলে,
_কি করেছে বলছো। কাল তোমার নাতিকে বললাম আমার পুচকা খেতে ইচ্চে করছে নিয়ে যেতে। শুনেছি বিয়ের পর জামাইরা নাকি বউকে যা চায় তাই এনে দেয়। অথচ ওই হাতিটাকে বলাম আমাকে পুচকা খেতে নিয়ে যেতে। সে মুখের উপর না বলে দিল। আর যখন আমি একাই যেতে বললাম আর সে তাতেও না করে দিল। তার উপর বলে কি আমি না বলা অব্দি বাড়ির বাইরে পা রাখলে ঢ্যাং ভেঙ্গে দিবে। এটা কোনো কথা। নিজে তো নিয়ে যাবে না তার টাকা কমে যাবে বলে। উল্টো আমাকেই বের হতে নিষেধ করে গেল।
আঁখির কথা শুনে মেহেরুন নেসা মৃদু হাসে। রসিকতা করে বলে,
_ পুচকা খেতে যেতে পারিস নি বলে ওর উপর রেগে আছিস। ঠিক আছে আমার নাতিকে বলবো তোকে আদর করে রাগ কমিয়ে দিতে।
আঁখি মুখে বিরক্তি নিয়ে রাগি চোখ তাকিয়ে বলে,
_ ছাড়ো তো তোমার আদর। তোমার মন চাইলে তুমি খাও। আমাকে কেন এই সব বলছো।
আঁখি কথা শুনে মেহেরুন নেসা হেসে পেললেন। দাদিকে হাসতে দেখে আঁখির গা পিত্তি জ্বলে উঠল। ধমক দিয়ে বলে,
_ চুপ করবে বুড়ি। এখন যে হাসছো এখন কোমর ব্যথা করছে না।
আঁখির কথায় তিনি আরো খিলখিল করে হাসতে শুরু করে।
-----------------
পরের দিন সকাল ১০। শহরের কোলাহল বেড়েছে অনেক আগে। সূর্যের আলো যত বেড়েছে ব্যস্ত শহরের মানুষ গুলোরও নিজ নিজ কাজের ব্যস্ততাও তত বেড়েছি। স্কুল,কলেজ প্রতিষ্ঠান গুলোতে যেমন শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের গুনগুন শুনা যাচ্চে তেমনি, অফিস, আদালতেরও বিড় বাড়ছে। তারপর রয়েছে হসপিটাল গুলোতে রুগীদের সংখ্যা। কেউ আই সিওর বেডে জীবনের সাথে যু্দ্ধ করছে তো কেউ আবার নতুন নতুন রোগের খবর শুনছে। কেউ হাসি মুখে বের হচ্চে তো কেউ আবার অন্য দিকে জীবনের সমীকরণ শেষ করে পরকালের বাসিন্দা লাশ হয়ে নিজ বাড়ি পিরছে।
শহরের ধুলোবালির পিচনে পেলে সিটি হসপিটালের সামনে এসে থামলো চার চাকার একটি দামি প্রাইভেটকার। সেখান থেকে বেরিয়ে এলো পিংক কালারের সেলোয়ার-কামিজ পরিহীতা রমনী ড. ফারজানা ইসলাম। আজ তার এই হসপিটালের নতুন সার্জারি ডক্টর হিশেবে জয়িন করার দিন। গত এক সপ্তাহ রেস্টে থাকার পর আজ থেকে শুরু করতে যাচ্চে আবারও নতুন মানুষদের সেবার দায়িত্ব ।
সাদা প্রেমের চশনাটা হাত দিয়ে ঠিক করে লম্বা একটা শ্বাস ছেড়ে এগিয়ে গেল হসপিটালের ভিতরে। হসপিটালের অটোমেটিক কাঁচের দরজাটা সরতেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হিমশীতল বাতাস তার স্পর্শে এল। ফারজানার চোখেমুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। এই ঘ্রাণটা তার খুব পরিচিত—অ্যান্টিসেপটিক লিকুইড আর ফিকে ভ্যানিলার মিশ্রণ। এই গন্ধটাই তাকে সব সময় এক ধরনের অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস দেয়।
রিসেপশন ডেস্কে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণীকে কিছু বলতেই তরুনিটি তাকে হাসিমুখে মাথা ঝোঁকাল। ফারজানা কেবিনের চাবি নিয়ে সরাসরি লিফটের দিকে পা বাড়াল। তার গন্তব্য এখন ডিরেক্টরের নিজের জন্য বরাদ্দক্রিত রুমে।
হঠাৎ করিডোরের মোড়ে আসতেই এক অপরিচিত পুরুষালি কণ্ঠস্বর ভেসে এল,
_"ড. ফারজানা এম এ রাইট?
ফারজানা থমকে দাঁড়াল। পেছনে ফিরে তাকাল সে। সামনে দাঁড়িয়ে আছে লম্বা, ফর্সা ও সুদর্শন এক পুরুষ। গায়ে সাদা এপ্রোন। গলায় থ্যাতোসক্রোপ ঝুলানো। দেখে মনে হচ্চে এই হসপিটালের ডক্টর হবে। ফারজানা ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে থেকে বলে,
_ ইয়েস? বাট আপনি?
ফারজারন প্রশ্ন সূচক দৃষ্টি দেখে পুরুষটি মুচকি হেসে হাত বাড়িয়ে দেয়ি বলে,
_ আই এম ড. আদনান শিকদার, এই হসপিটালের একজন দক্ষ কার্ডিওলোজিস্ট।
ফারজানা বাড়িয়ে দেওয়া হাতের দিকে এক পলক তাকিয়ে বলে,
_ আমাকে কিভাবে চিনেন ?
ফারজানা হাত না মিলাতে আদনান কিছুটা বিব্রত হয়। হাত সরিয়ে বলে,
_ আপনার বায়ও ডাটা আমি দেখেছি। আপনি যে এই হসপিটালে নতুন সার্জেন্ট হিশাব এসেছে সেটাও জানি।
আদনানের কথা ফারজানা ছোট করে উত্তর দিন,
_ ও...
আদনান দাঁড়িতে হাত ভুলিয়ে আরো একবার পা -থেকে মাথা অব্দি দেখে নিল ফারজানাকে। মনে মনে বলে,
_ মেয়েটা দেখতে মাশাল্লাহ। কোনো ভাবে যদি...
আদনানের ভাবনার মাঝে ফারজানা বলে উঠে,
_ আচ্চা মি. আদানান আমি তাহলে আসি বায়।
এই বলে ফারজানা নিজ রুমের দিকে পূনরায় হাঁটা ধরলো।
আদানান ফারজানার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে মাথা চুলকে নিচের ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,
_ খুব শীগ্রই আপনাকে নিজের করে নিচ্চি মেম ।
এইদিকে নির্ঝর সবে মাএ নিজের কেবিনে এসে বসেছে। আজ সকাল থেকে প্রচুর গরম পড়ছে। সূর্যের তেজ বেশ কড়া মনে হচ্চে বেশ রেগে আছে। অসহ্য গরমে এসিটা ফুল স্পিডে ছেড়ে দিয়েও নির্ঝরের অস্বস্তি কমছিল না। কপালের ঘামটা টিস্যু দিয়ে মুছে সে ঘড়ির দিকে তাকাল। একটা জটিল ওটি (OT) বিষয়ে সিনিয়র ডক্টরের সাথে আলোচনা করা জরুরি। নির্ঝর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চেয়ার ছেড়ে উঠল। গায়ের অ্যাপ্রনটা ঠিকঠাক করে নিয়ে সে করিডোর পেরিয়ে ডক্টর শাহিনের চেম্বারের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
চেম্বারের সামনে এসে দরজায় হালকা নক করে ভেতরে ঢুকতেই নির্ঝরের পায়ের গতি আচমকা থমকে গেল।
ভেতরে সিনিয়র ডক্টরের বদলে চেয়ারটিতে বসে আছে সেই পরিচিত মুখ। এই মুহূর্তে যাকে সে কোনো দিনও আশা করেনি। চড়া রোদের পর আচমকা আষাঢ়ের এক পশলা বৃষ্টির মতো নির্ঝরের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। আবারও সেই পরিচিত মুখ, চশমার আড়ালে থাকা সেই চেনা ভয়ংকর চোখ দুটো। কতদিন পর! যাকে সে এক প্রকার জোর করে ভুলে থেকেছে এতগুলো দিন। দীর্ঘ পাঁচ মাস পর আবার যে এই মুখটা দেখতে হবে কখনও ভাবিনি। পাষণ্ড হৃদয়ের মানুষটা সেইদিনের মত আবার থমকে দাঁড়ায়। নির্ঝর ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকে মানুষটার দিকে। মুখ দিয়ে অস্পষ্ট স্বরে আওরায়,
_ড.ফারজানা!
ফারজানাও তখন ফাইলপত্র দেখছিল। দরজার আওয়াজে মাথা তুলতেই তার চোখ গিয়ে পড়ল পরিচয় মুখানার ওপর। মুহূর্তের জন্য ফারজানার হাতের কলমটা স্তব্ধ হয়ে গেল। তার চেনা পৃথিবীটা যেন কয়েক সেকেন্ডের জন্য থমকে দাঁড়াল। এটা কি সে সত্যি দেখছে নাকি মানুষটাকে নিয়ে বেশি ভাবার কারণে হ্যালোসিয়েশন হচ্চে যেটা সব সময় হয়। ফারজানা বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়, এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার দিকে।
তার বুকের ভেতর এই মুহূর্তে তোলপাড় চলছে। নির্ঝরকে এই চেম্বারে এভাবে হুট করে দেখবে, সেটা সে কল্পনাও করেনি। এক লহমায় পুরনো কিছু স্মৃতি—কিছু অভিমান আর কিছু হারিয়ে যাওয়া ভালো লাগা—তার মনের কোণে ভিড় করে এলো। ফারজানা চাইল খুব নিজেকে স্বাভাবিক ভাবে রাখতে, কিন্তু তার কাঁপতে থাকা আঙুলগুলো তার ভেতরের অনুভূতির তীব্রতা জানান দিচ্ছে তার অস্থীরতা। সে কোনো মতে নিজের আবেগ লুকিয়ে ফাইলটা সোজা করে ধরার চেষ্টা করল, যাতে নির্ঝর তার ভেতরের ঝড়টা টের না পায়। শক্ত করে ফাইলটা চেপে ধরায় ফাইলটা মুচড়ে যাচ্চে। নির্ঝর দৃষ্টি এবার গিয়ে পড়লো ফারজানার হাতের উপর। ফাইলের অবস্থা দেখে তাৎক্ষণাত সে দৃষ্টি সরিয়ে চলে যেতে নিলে পিচন থেকে ভেসে আসে ফারজানার অস্থির কন্ঠশ্বর,
_ কেমন আছেন মিস্টার চৌধুরী?
মুহূর্তে থমকে যায় নির্ঝরের পা। ঘাড় ঘুরিয়ে ফারজানার দিকে তাকায়। মেয়েটাকে আগের থেকে একটু বেশি শুকনো লাগছে। মুখটাও কেমন ফ্যাকাশে তবে আগের মত আগ বাড়িয়ে কথা বলার অভ্যাসটা যায়নি। আচ্চা মেয়েটা এইখানে কি করছে। তার মানি কি নতুন যেই সার্জারী ডাক্তার আসার কথা ছিল এনিই সে।
"নির্ঝরকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে ফারজানার ভিতরের অস্থিরতা যেন আরো বেড়ে গেল। কেন এমন হয় তার এই লোকটার সামনে আসলে বারবার কেন তার নিজের উপর কন্ট্রোল হারিয়ে পেলতে চায়। কেন এই লোকটার চোখে চোখ রাখতে পারে না। কেন লোকটার ত্নীক্ষ দৃষ্টিতে তার দৃষ্টি এলোমেলো হয়ে যায়। লোকটা তো তার মনের অবস্থা বুঝে না তাহলে কেন এমন টা হয়। লোকটা তো তাকে সেইদিন পিরিয়ে দিয়েছিল তাহলে কেন এত অস্থিরতা। কেন সে কোলটার থেকে দূরে থেকেও ভালো থাকতে পারেনি। কিসের এত টান। ফারজানা এলোমেলো দৃষ্টি দেখে নির্ঝর চোখ সরিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে,
_আই এম ফাই।
এই বলে পুনরায় চলে যেতে নিলে ফারজানা আবারও অস্থির কন্ঠে বলে,
_ চলে যাচ্চেন যে! জানতে চাইবে না আমি এইখানে কেন!
নির্ঝর নিজের অবস্থানে থেকে দৃঢ় কন্ঠে বলে,
_জানার তেমন প্রয়োজন মনে করছি না।
এই কথা বলে নির্ঝর আর একটা সেকেন্ডও দাঁড়ালো না। গটগট পায়ে শব্দ করে দরজা ঠেলে বেরিয়ে গেল। ফারজানা ছলছল চোখে নির্ঝরের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। চোখ জোড়া বিষণ জ্বলে উঠল টলটম করে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। ধপ করে চেয়ারে বসে পড়ে। আবারও চোখের ভেজা চোখের পাতায় বেসে উঠে সেইদিনের বিবাদময় দৃশ্য।
(ফ্যাশব্যাক)
--------------------
চলবে......
মা- ছেলে 🤣🤣 #ফারজানা_আক্তার_জেবু #গল্পের_শহর〴official #উপন্যাসপ্রেমী #ভাইরালpageシ
#প্রেম_প্রেম_অনুভূতি #ফারজানা_আক্তার_জেবু #গল্পের_শহর〴official #উপন্যাসপ্রেমী #ভাইরালpageシ
#প্রেম_প্রেম_অনুভূতি
#ফারজানা_আক্তার_জেবু
#সমাপ্তপর্ব
-- ইশানির চুলের ক্লিপটা খুলে দেয় ঝরঝর করে ইশানির হাঁপ লম্বা চুলগুলো পিঠ ছড়িয়ে যায়,,
--- আহানাফ হাতের বক্সটা এগিয়ে দেয় ইশানির দিকে,,ইশানি হা করে তাকিয়ে থাকে আহানাফের দিকে,,আহানাফ চোখ দিয়ে ইশারা করে খুলে দেখতে,, বাক্সটা খুলে ইশানির চোখ কপালে,,,
আপনা আপনি মুখটা হা হয়ে যায়,,,
--- একটা চিকন চেন। সাথে লাভ আকৃতির একটা লকেট, লকেটের ভিতরে নীল ডায়মন্ড এর লাভ চিকচিক করছে। সাথে একটা লাভ আকৃতির ব্রেসলেট। একটা পিংঙ্কার রিং। সব গুলো নীল ডায়মন্ড দিয়ে তৈরি।
-- ইশানি অভাক হয়ে তাকায় আহানাফের দিকে অবিশ্বাস্য শ্বরে বলে,
_ এত সুন্দর এটা আমার।
আহানাফ হালকা হেসে বলে,
_ জি ম্যাডাম এটা আপনার।
বলে চেনটা হাতে নিয়ে পড়িয়ে দিতে লাগলো আহানাফ। চেন লাগানো শেষে ঘাড়ে একটা ছোট চুমু দেয়,ল মৃদু কেঁপে ওঠে ইশানি। তার পর এক এক করে বাকি দুইটাও পরিয়ে দেয় আহানাফ। তার পর সোজা করে দাঁড় করায়। পা থেকে মাথা অব্দি আপাদমস্তক দেখে বলে,
_মাশাল্লাহ আমার পাখিকে তো খুব সুন্দর লাগছে,,
ইশানি লজ্জায় মাথা নিচু করে পেলে। তা দেখে আহানাফ ঠোঁট কামড়ে হাসে আর হাস্কি স্বরে বলে, _ম্যাডামের মনে হয় লজ্জা ভাঙ্গাতে হবে, নাহ আমি আর ধৈর্য্য ধরতে পারচি না,বলেই ইশানিকে হেঁচকা টানে তার সাথে মিশে নেয়। ইশানি কিছু বুজার আগেই অধরে অধর ডুবিয়ে দেয় আহানাফ। হাত দিয়ে স্লাইড করতে থাকে উম্মুক্ত পেটে। পুরুষালীর বেপরোয়া স্পর্শের সাথে পেরে উঠতে না পেরে নিজেও সায় দেয় আহানাফের স্পর্শে,খামছে ধরে আহানাফের ঘাড়ের চুল।
--এতে আহানাফ যেন আরো উম্মাদ হয়ে উঠে। কোলে তুলে শুয়ে দেয় ইশানিকে ফুলে সজ্জিত খাটে। পাগলের মত চুমু দিতে থাকে ইশানির মুখে,ঠোঁটে,গলায়,ঘাড়ে,চুম্বন করতে করতে এক হাতে টেনে খুলে মেঝেতে পেলে দেয় ইশানির শাড়ি,ইশানি চোখ বন্ধ করে রেখেছে,আহানাফ ঠোঁট কামড়ে হেসে স্লো ভয়েজে বলে,,
you can handel me...ishapakhi...
বলে চোখ মেরে মুখ গুঁজে ইশানির ঘাড়ে,ছোট ছোট চুমুতে মেতে উঠে দু'জনে। ধীরে ধীরে আলিঙ্গন হয় দুইটি দেহ,ভালোবাসার অতলে তলিয়ে যায় দুইটি মন। আপছা অন্ধকারে ভারী নিশ্বাসে প্রতিধ্বনি হচ্ছে দেওয়ালের দেওয়ালে। সাথে কাটতে থাকে প্রহরের পর প্রহর।
-------------------------পরের দিন-----------------------
-খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গে ইশিকার। মস্তিষ্ক সজাগ হলেও ঘুমের জন্য চোখের পাতা খুলতে পারছে না।কোনো রকম পিটপিট করে চোখ খুলে। নড়াচড়া করতে চাইলে নিজের উপর ভারি কিছু অনুভব করে। চোখ নামিয়ে দেখে তার ছোট্ট শরীরের উপর ভার দিয়ে বুকে মাথা রেখে প্ররম শান্তিতে শুয়ে আছে নিশান। নিশানকে উদাম শরীরে তাকে এই ভাবে আষ্টে-পিষ্ঠে জড়িয়ে ধরে রাখতে দেখে ইশানি কিছুটা লজ্জা পায়। সাথে খুশিও হয়,সে তো এটাই চেয়ে ছিল।
ভালোবাসার মানুষটার থেকে একটু ভালোবাসা। একটু আদুরে স্পর্শ। নিজের প্রিয় মানুষের থেকে ভালোবাসা পাওয়া ছাড়া এই ইহ জগতে আর কি চাওয়ার আছে। সব কিছুর শেষে মুখে তৃপ্তি হাসি ফুটে উঠে ইশিকার।
--ইশিকা মাথাটা একটু নিচু করে একটা চুমু দেয় নিশানের কপালে। তরপর নড়েচড়ে উঠতে চাইলে নিশান ঘুমের ঘোরে আরে শক্ত করে চেপে ধরে ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে,,
-- নড়ো না সুইটহার্ট ঘুমাতে দাও।
ইশিকা আর কি করবে বাধ্য হয়ে স্ট্যাছুর মত শুয়ে থাকতে হলো।
------- সকাল ৯ টা ---------
ইশানি শাড়ি হাতে দাঁড়িয়ে আছে। কি ভাবে পড়বে বুজতে পারছে না। ইশানি শাড়ি পড়েতে পারে না। যত বার পড়ছে ইশিকা পড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখন কি ভাবে পড়বে সে, এখন তো ইশিকাও নেই। তাই মুখ কালো করে এলোমেলো শাড়ি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। তখনই ঘরে প্রশেব করে আহানাফ। ইশানি আহানাফ কে দেখে তাড়াতাড়ি করে শাড়ি বুকে জড়িয়ে নিয়ে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।
ইশানিকে এই ভাবে এলোমেলো শাড়ি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আহানাফ ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে, এগিয়ে আসেলে ইশানি দু পা পিছিয়ে উল্টো ঘুরে দাঁড়ায়।ইশানির এমন কান্ডে আহানাফ ঠোঁট টিপে হাসে জোর করে ইশানির বাহু চেপে ধরে তার দিকে ফিরায়। ইশানি লজ্জায় মাথা নিচু করে রাখে। কাল রাতের করা আহানাফের বেসামাল আর কন্ট্রোললেস আচারণে ইশানি নাজেহাল করে চেড়েছে। তাই এখন এই লোকটার সামনে আসতে বিষণ লজ্জা লজ্জা লাগছে। আহানাফ ইশানির থুতনিতে হাত দিয়ে মুখটা একটু উপরে তুলে।ইশানির চোখ বন্ধ করে নে। আহানাফ মৃদুহেসে বলে,,
_আপনার শরীরের সবকিছু আমার কাল রাতেই দেখা শেষ ' ইশাপাখি। তাহলে তুমি এত লজ্জা পাচ্ছো কেন,,?
"আহানাফের কথায় ইশানি যেন আরো বেশি লজ্জায় নুড়ে পড়ে। আহানাফের বুকে ধাক্কা দিয়ে সরাতে চাইলে আহানাফ তাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে দুষ্টুহেসে বলে,
Do I have to start the shame-breaking process again now,,,?
( আমাকে কি এখন আবার লজ্জা কাটানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
ইশানি যেন এবার লজ্জায় আহানাফের বুকে ডুকে যেতে ইচ্ছে করছে। এই অসভ্য লোকের সমানে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। আহানাফ ইশানিকে তার বুক থেকে উঠিয়ে বলে,
_কি হয়েছে,শাড়ি পড়তে পারো না।
ইশানি দুই পাশে মাথা দুলায়। আহানাফ মৃদু হেসে বলে,
_ তাতে কি হয়েছে আমি আছি না। আমি যেমন শাড়ি খুলতে পারি তেমন পড়াতেও পারি ম্যাডাম। সো আমি পড়িয়ে দিচ্ছি বলে শাড়িতে হাত দেয়।
ইশানি চোখ বড় বড় করে তাকায়।অভাক হয়ে বলে, _আপনি শাড়ি পড়াতে পারেন।
আহানাফ শাড়িটা নিয়ে পড়াতে লাগে আর বলে,
_হুম এ আর এমন কি।
শাড়িটা সুন্দর করে পড়িয়ে যেই কুচি গুলো কোমরে গুঁজে দিবে তখনই তার দৃষ্টি পড়য়ে ইশানির ফর্সা উম্মুক্ত পেটে। তা দেখে আহানাফ একটা ডোক গিলে। আহানাফের দৃষ্টি দেখে ইশানি আহানাফের হাত ধরে বলে আমাকে দেন আমি গুঁজে নিব।
_কিন্ত আহানাফ না দিয়ে দৃষ্টি পেটের পানে রেখে নিজে গুঁজে দেয়। ইশানির পেটে একটু হাত লাগতেই ইশানি কেমন কেঁপে উঠে। ইশানি চোখ আহানাফের দিকে পরতেই দেখে কেমন মাতাল চাহনি নিয়ে তাকিয়ে আছে সে। তা দেখে ইশানি দ্রুত শাড়ির আঁচল দিয়ে নিজেকে ডেকে নেয়।
-আহানাফ ইশানির কোমর ধরে তার একদম কাছে নিয়ে আসে।কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে,
- তুমি এত হট কেন 'ইশাপাখি, মনটা চাইতাছে এখন আবার খেয়ে পেলি।
বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষ করে সবাই ইশানির সাথে দেখা করে বাড়ি পিরে। নিশানের থেকে শুনেছে ইশিকা যে ইশানির কারণে তারা এক হতে পেরেছে। তাই ইশিকা ইশানিকে বুকে জড়িয়ে ধরে আবেগি গলায় বলে,
_তুই শুধু আমার বোন না, তুই আমার ব্রেষ্টফ্রেন্ড। সত্যি তোর তুলনা হয় না ইশানি। আমি তোর ঋণ কোনদিনও শোধ করতে পারব না।
ইশানি ইশিকার কথা মৃদু হেসে বলে,
_ঋণ শোধ করতে হবে না, তুই শুধু আমার ভাইটাকে ভালোবাসবি আর দেখে রাখবি। এতেই আমি খুশি।
তবে তারা বেশ কিছুক্ষণ কথা বলে, ইশানি আর তার শ্বশুরবাড়ির লোকদের থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি।
-------
দুইদিন পর রাত ১২ টা, ব্যেলকুনির রেলিং ধরে আকাশের পানে তাকিয়ে আছে ইশিকা। নিস্তব্ধ নিরব রাতে, বাইরের পরিবেশটা বিষণ মুগ্ধকর হয়। আজকের রাতটাও তেমন একটা রাত। বিশাল ডালার মত আকাশে হাজারও তারার মেলা,মৃদু স্নিগ্ধ বাতাস। একটা বড় মায়াভরা চাঁদের আলো পরিবেশটা উপভোগ করার মত। ইশিকার খোলা চুল গুলো,মৃদু বাতাসে উড়তে থাকে। সে আনমনে তাকিয়ে থাকে। নিশান হসপিটাল থেকে মাএ বাড়িতে আসে। একটা ওটি থাকায় নিশানের আজকে বাড়ি পিরতে দেরি হয়েছে।ইশিকা ও বিষয়টা জানে। নিশান রুমে ডুকতেই ফাঁকা রুম দেখে ব্রু কুঁচকে তাকায়। পরক্ষনে হাতের অ্যাপ্রোন টা খুলে খাটে রেখে এগিয়ে যায় ব্যেলকুনির দিকে। ইশিকাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পিছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। গলায় নাক ঘষে বলে,
_এত রাতে এই খানে কি করছো সুইটহার্ট।
ইশিকা একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলে,
_আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন আমি খাবার দিচ্চি।
নিশান ইশিকার কপালে একটা চুমু দিয়ে বলে,
_ঠিক আছে যাও,আমি ফ্রেশ হয়ে নিচে আসচি।
বেশ কিছুক্ষণ পর নিশান আর ইশিকা রুমে আসে।নিশান খাটে আদসোয়া হয়ে বসে আছে অপেক্ষা ইশিকার জন্য। ইশিকা ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে নিশানের পাশে বসতেই নিশান ইশিকাকে টেনে তার বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়। মাথা হাত দিয়ে বিলি কাটতে কাটতে বলে,
_কি হয়েছে সোনা আজ এত চুপচাপ কেন তুমি বলো তো আমায়।
ইশিকা বলে,
_ আমার কিছু ভালো লাগছে না।
নিশান ইশিকার মুখটা তার বুক থেকে সরিয়ে মাথাটা উচু করে বলে,
_কেন?
ইশিকা বাচ্চাদের মত ঠোঁট ফুলিয়ে বলে,
_জানি না,,
নিশান ইশিকার ফোলা ঠোঁটে চুমু দিয়ে বলে, _লংড্রাইভে যাবে?
ইশিকা চোখ বড় বড় করে বলে,
_এখন এত রাতে!
নিশান ইশিকার কপালের চুল গুলো সরিয়ে বলে,
_`হুমম ম্যাডাম এখন.. চলুন।
-- ইশিকা খুশি হয়ে নিশানের গালে টুপ করে একটা চুমু দিয়ে বলে,
_আমার বিষণ ইচ্ছে রাতে শহর দেখার। আজকের ওয়েদারটাও বিষণ সুন্দর।
নিশান ইশিকার বাচ্চা সুলভ আচারণ দেখে হেসে বলে,
_ তাড়াতাড়ি রেডি হয়ও নয়তো আমার মুড কিন্তু অন্য দিকে ঘুরে যাবে। তখন কিন্তু অন্য কিছু..... বাকি কথা বলার আগেই ইশিকা দ্রুত খাট থেকে নেমে রেডি হতে চলে যায়। কারণ এই লোকের মুড যে কোন লেভেলে যাওয়ার কথা বলছে সেটা ইশিকা ঠিকি বুজতে পারছে।
- একটা নদীর মাঝ দিয়ে যাওয়া ব্রিজের উপর গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নিশান আর ইশিকা। এই জোছনা রাতে বড় চাঁদের আলো পুরো ধরনিকে স্নিগ্ধ দেখাচ্ছ। মৃদুবাতাস দু'জন ভালোবাসার মানুষের শরীর স্পর্শ করে যাচ্ছে।
প্রিয় মানুষের কাঁদে মাথা রেখেই এই জোছনা রাত বিলাস করছে ইশিকা। নিশান ইশিকারর মাথায় চুমু দিয়ে বলে,
_"তোমাকে পেয়ে জীবনটা এত সুন্দর হবে আমি কখনো ভাবিনি ইশিকা। তুমি আমার হ্রদয়ের এক প্রাশন্তির চাদর। যে চাদরে মোড়ানো রয়েছে আমার সমস্ত ভালোবাসা। তুমি আমার জীবনের সেই অধ্যায়। যে অধ্যায় ছাড়া নিশান মাহমুদ নামক বইটা অপূর্ণ।
"ভালোবাসি ইশিকা,,বিষণ ভালোবাসি,,৷
-------------
★-- সারা জীবন নিজেদের প্রিয় মানুষের সাথে থাকতে চাইলে তার রুপ, গুন,আবদার,রাগ, অভিমান সব কিছু মেনে নিয়ে সুখে সংসার করতে হয়। তাহলে সকল ভালোবাস পূর্নতা পাওয়া যায়। এক সাথে সারাজীবন কাটানো যায়।
সমাপ্ত,,
আসসালামু আলাইকুম আশা করি আমার পাঠিকারা ভালো আছেন। আমার এই গল্পটা এইখানেই শেষ করলাম। গল্পটা কেমন হয়েছে আশা করি সবাই একটা করে রিভিউ দিয়ে যাবে। এই রকম আরো নতুন নতুন অনু গল্প পেতে চাইলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন
#প্রেম_প্রেম_অনুভূতি
#ফারজানা_আক্তার_জেবু
#পর্ব_৯
---- নিশানের ঠোঁটে হাসি রেখেই ইশিকার শাড়ি ভাজে হাত দেয়,অবাধ্য হাতের বিচর করতে থাকে ইশিকার নরম উম্মক্ত তুলতুলে পেটে। এর পর নাভিতে একটা গাড় চুমু আর সাথে লাভবার্ড দিয়ে শাড়ি খুলে মেঝেতে ছুঁয়ে পেলে।
তার পর ইশিকাকে ছেড়ে নিজের পান্জাবি খুলে পেলে। ইশিকা লজ্জায় সিটিয়ে যায়,পিচিয়ে যেতে নিলে,নিশান ইশিকার পা ধরে টেনে আরো কাছে নিয়ে গলায় মুখ গুজে, দাঁত দিয়ে চেপে ধরে ঘাড়ের কিছুটা অংশ ইশিকা মৃদু আর্তনাদ করে ৷ নিশান হাতের বাধন আরো দৃঢ় করে,,। ইশিকার ঘাড়ে নাক ঘষতে ঘষতে ,কন্ঠে মাদকতা ঢেলে বলে,,
,, আমি ছুঁয়ে দিলে একটু ব্যাথা পাবে
প্লিজ এই টুকু ব্যাথা সয্য করে নিও,,
Because I am not in myself, you have to control me...plz
একটা নিস্তব্ধ ঘর জুড়ে শুধু মৃদু আওয়াজে
মিউজিকে ভেসে আসে,,,
--- এলোমেলো হয়ে যায় মন
কেন আজ বুঝিনা,,,
---- দাবানল যেন ছড়াল,,
পার করে সীমানা,,
---- স্বপ্নের মত হানা দেয়,,
এ মনের কামনা,,
---- নিজেকে দেখি লাগে আজ
অচেনা,,, অচেনা,,,অচেনা.....
নিশান ইশিকার ঠোঁটের মাঝে ঠোঁট ডুবালো। গভীর থেকে গভীর হয় তাদের চুম্বুন। আস্তে আস্তে আলিঙ্গন হয় দুইটি দেহের। মত্ত হয় একে অপরের মাঝে।,ভালেবাসায় সংস্পর্শে বেপরোয়া হয়ে উঠে দুইটি হৃদয়,এইভাবে ভালোবাসার স্রোতে বয়ে চলেছে দিগন্তের অভাধ্য প্রহর ----।
————————
-- কোমরে দুই হাত দিয়ে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইশানি আহানাফের দিকে। আহানাফও ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বন্ধ দরজায় হেলান দিয়ে বুকে হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে আছে।
--- সেই দিনের পর থেকে ইশানি রাগ করে কথা বলেনি আহানাফের সাথে। আহানাফ ও লজ্জার কারণে যেতে পারেনি ওই বাড়িতে। তার পরেও ইশিকাকে ফোন করে নাম্বার নিয়েছিল ইশানির।কিন্তু ইশানি আহানাফের গলা শুনে সঙ্গে সঙ্গে কল কেটে দেয়। আহানাফ তারপরেও ইশানির সাথে কথা বলার জন্য ইশিকাকে কল করে। ইশিকা ইশানির কাছে ফোন নিয়ে গেলে ইশানি কথা বলবে না বলে দেয় তাই আহানাফও আর ঘাটায় না।
- পালিয়ে যাবে কোথায় পাখি। দিন শেষে আমার খাঁচায়ই বন্ধ করে নিব তোমায়। অপেক্ষা করছি শুধু।
ইশানি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে,
_ এটা কি করলেন আপনি?
আহানাফ না জানার মতে করে ব্রু কুঁচকে বলে, _কোনটা!"
ইশানির রাগ যেন আরো বাড়লো। দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
_আমাকে কেন বিয়ে করলেন?
আহানাফ সোজাসাপটা উত্তর,
_আদর করব তাই!
আহানাফের এমন কথা,ইশানি তব্দা খেয়ে যায়। দাঁত কটমট করে বলে,
_অসভ্য লোক একটা।
আহানাফ হেসে বলে উঠে,
_বউয়ের কাছে সভ্য হলে,,ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হবে কি করে।
--- আহানাফের একের পর এক লাগামহীন কথা ইশানি বিরক্ত হয়ে বলে,,খারাপ লোক একটা,
--- আহানাফ ঠোঁট টিপে হেসে বলে,,,বউ পাখি কাছে আসো,,তোমার ওই হট ঠোঁটে বিষণ চুমু খেতে ইচ্ছে করছে,,,
---আহানাফের কথায় ইশানি চোখ গরম করে তাকায়,, রেগে তেড়ে আসে আহানাফকে মারার জন্য,,
--- আহানাফ কৌশলে ইশানির হাত ধরে তাকে উল্টো ঘুরিয়ে পিছন থেকে দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে,,,
হাস্কি ভয়েজে বলে,,বা-বা আদর খেতে এত মরিয়ে যে বল্লাম আর সাথে সাথে ছুটে আসলে,,,
--- আহানাফ কথা শুনে ইশানি চটপট করতে লাগলো ছুটার জন্য,,আহানাফ আবার হাস্কি স্বরে বলে,, এই রকম নড়াচড়া করে আমাকে এন্টিমেন্ট হয়তে ইঙ্গিত করছো নাকি ইশাপাখি,,,
--- এমন কথায় এবার ইশানি কিছুটা লজ্জা পায়,,
- গলা কিছুটা নিচু করে বলে,,
- আপনাকে বিয়েটা ভাঙ্গতে বলেচি আমি,,, আর আপনি আমাকেই বিয়ে করে নিলেন,,,খারাপ লোক একটা,,
---- আহানাফ ইশানির ঘাড়ে নাক ঘঁসতে ঘঁসতে বলে,,,কি করবো বলো,,গিয়েছিলাম তো আমার খালাতো বোনকে দেখতে,,কে জানতো আমার বুজ মনটা তারই জেঠাতো বোনে ছোঁ মেরে নিয়ে নেবে,,বলে একটা কিস করে ইশানির কানের নরম লতিতে,,
-- কেঁপে ওঠে ইশানি,,এবার ছটপট নয় পুরো শরীর কাঁপছে,, আহানাফের শীতল অধরের স্পর্শে,,কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,, কি করছেন,,
-- আহানাফ আবারও নেশাক্ত কন্ঠে বলে,, বউকে আদর করছি,চুমু খাচ্ছি,,বলে শাড়ির ভাঁজ দিয়ে ইশানির চিকন উম্মক্ত কোমরে হাত দিয়ে স্লাইড করে,,
"আহানাফের বেসামাল হাতের স্পর্শ আর উম্মাদের মত শীতন ঠোঁটের চুমুতে ইশানি বেহাল অবস্থা,,আহনাফ কে বাঁধা দিয়ে বলে প্লিজ এখন না,, আমি প্রস্তু,,,,,,
-- বলার আগেই আহানাফ ঘোরে থেকে বলে,,,উহু কোনো বাঁধা মানচি না পাখি,,এমতে ২৭টা বছর সিঙ্গেল থেকেছু,,বেডের পাশে সুন্দরী বউ রেখে কি দেবদাস হয়ে সোয়া যায়,,বলে শাড়ির কুচিতে হাত রাখতেই ইশানি হাত ধরে পেলে বলে,, নামাজ পড়তে হবে তো,,,
- ইশানির কথায় আহানাফের ঘোর কাটে,,সত্যি সে ভুলে গিয়েছিল নামাজের কথা,,তার পরে ইশানির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে,, নামাজ শেষে তাই তো,,,
-- ইশানি লজ্জায় পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আহানাফে বুকে থাক্কা দিয়ে বলে, অসভ্য,নির্লজ্জ, লাগামহীন লোক একটা,,বলতে বলতে ওয়াশরুমে চলে যায়,,
--আহানাফ ঠোঁট কামড়ে হাসে,,, হাতের ঘড়ি খুলে রাখে,,একটুপর ইশানি বেরিয়ে এলে আহানাফ ও যা ওয়াশরুমে,,
-- তার পর দুজনে নামাজ শেষ করে,,,ইশানি ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে গহনা খুলতে থাকে, আহানাফ কাবাড থেকে একটা বক্স বের করে এনে,,ইশানির পিচে দাঁড়ায়,,
-- ইশানির চুলের ক্লিপটা খুলে দেয় ঝরঝর করে ইশানির হাঁপ লম্বা চুলগুলো পিঠ ছড়িয়ে যায়,,
-------------
চলবে......
যারা গল্প পড়ো তারা সবাই একটা করে কমেন্ট করে যাবে। তোমাদের রিভিউ অন্যদের পড়তে উৎসাহিত করে।
#প্রেমের_শিহরণ
#লেখিকা_ফারজানা_আক্তার_জেবু
#পর্ব_২৭
-- রাতের চটা পেরিয়ে পৃথিবীতে ভোর নামলো।উজ্জ্বল আলোয় স্নিগ্ধ পরিবেশ। কনকনে কুয়াশার শীত পেরিয়ে বসন্তের লকলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে কিছুদিন হলো। বসন্তের ভোরে বুক ভরা আনন্দ নিয়ে ভোর পাঁচটায় শিকদার বাড়ির কলিং বেলের ট্রিং ট্রিং শব্দে ভেসে আছে নিস্তব্ধ পুরো বাড়ি কাঁপিয়ে।
-- আয়াত তখন কিচেনে নিজের জন্য কপি করছিল।এতো ভোরে কলিং বেলের শব্দে ব্রু কুঁচকে তাকায়।
এত সকালে কে এলো আবার। হুট করে মনে পড়ে জয় ভাইয়া তো বাড়িতে নেই তার মানি উনি এসেছে।মুহূর্তে মনের ভিতর এক ঝাক প্রজাপতি উড়ে যায়।চোখে মুখে আনন্দের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে। একটা দিন পেরিয়ে গেছে মানুষটাকে না দেখতে পেরে বুকে ভিতর তীব্র হাহাকার বিরাজ করছে।
_ভাবনার মাঝে আবার কলিং বেলের শব্দ ভেসে আসে। দ্রুত গ্যাস অপ করে এলোমেলো ভাবে ছুঁটে যায় সদর দরজার কাছে।প্রিয় মানুষটাকে দেখার তৃষ্ণায় বুক ভোরে নিশ্বাস পেলে দরজা খুলতেই কয়েক জোড়া উৎসাহীত কন্ঠ ভেসে উঠে এক সাথে,
Surprise.......
--- সামনে থাকা মানুষ গুলোকে দেখে কয়েক সেকেন্ডরে জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় আয়াত। কাঁদবে নাকি হাসবে কিছুই বুজতে পারছে না। আয়াতের চোখের সামনে কাছের মানুষ গুলোকে এত বছর পর দেখে চোখে আনন্দে অশ্রু টলমল করতে থাকে। আয়াতের চোখের সামনে দাঁড়ায় আছে তার ছোট ফুপ্পি মারজ্জানা শিকদার আর তার দুই ছেলে-মেয়ে,স্নিগ্ধা ইসলাম ,স্নিগ্ধ ইসলাম আর লম্বা ফর্সা একটা ছেলে,আর আশ্চর্যের বিষয় হলো ইরান আর রিপাতকে তাদের সাথে দেখে সবার মুখে হাসি।
কাল রাত ১০ টা মারজ্জানাদের প্লাইট ছিল।
বাড়ির সবাই জানে। তাই রাত ৩ টা ইরান আর রিপাত গাড়ি নিয়ে তাদের এয়ারপোর্টে রিসিভ করে গিয়েছিল। আয়াত জানতো না আজ সকালে তার জন্য এত বড় একটা সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছিল।খুশিতে এক প্রকার টলমল চোখের পানি নিয়ে হামলে পড়ে মারজ্জানার বুকে ঢুকরে কেঁদে উঠে।
মারজ্জানাও কেঁদে দেয় আয়াতের কান্না দেখে। এত বছর পর নিজের ভাতিজিকে দেখে তিনি ও কাঁন্না আটকে রাখতে পারে নি। আয়াত বেশ কিছুটা সময় কান্না করে পাশ থেকে স্নিগ্ধ বলে উঠে,
- এই চিছকাঁদুনি এবার একটু থাম,নয়তো তোর চোখের পানির সুনামি আমাদের ভাসিয়ে আবার USA নিয়ে পেলবে।
স্নিগ্ধা তার ভাইয়ের হাতে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলে,
_দেখ ভাইয়া তুমি কিন্তু একদম ওকে চিছকাঁদুনি বলবে না।
ইরান গলা উঁচু করে বলে,
_তাহলে কি তোমাকে বলবে বিদেশি বিড়াল।
ইরানের কথায় স্নিগ্ধা চোখ রাঙ্গিয়ে তাকায়। তা দেখে ইরান অন্য দিকে তাকিয়ে মাথা চুলকায়। মারজ্জানা শিকদার আয়াতের মাথায় হাত বুলিয়ে আদুরে গলায় বলে,
_আর কাঁদিস মা। দেখ আমরা চলে এসেছি। তুই আমার কাছে একটা আবদার করেছিস আমি কি সেটা পেলতে পারি। দেখ তাইতো তোর এনগেজমেন্টের আগের দিনই চলে এসেছি। চল ভিতরে চল। এই বলে সবাই এক সাথে ড্রইং রুমে আসে। ইরান সবাইকে ডেকে আনে। একে একে সবাই উপস্থিত হয় সেখানে। সবার সাথে কৌশল বিনিময় করে মারজ্জানা আয়াতকে নিয়ে সোপায় বসে আয়াত এখনও কাঁদছে। সে এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না,তার ছোট ফুপ্পি সত্যি এসেছে।
মারজ্জানা ভাই -ভাবিদের সাথে কথা বলছে।
--তখনই যারা চোখ ঢলতে ঢলতে ড্রইং রুমে আসে। চোখের সামনে তার ছোট ফুপ্পিকে দেখে চোখ বড় বড় হয়ে যায়। হাতের চশমা টা পড়ে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে সবার দিকে। নিজে বিড়বিড় করে _এটা কি সত্যি,, নাকি হ্যালে সিয়েশন হচ্চে আমার।
যারার রিয়াকশন দেখে সবাই ঠোঁট টিপে হাসে।
ইরান যারার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। যারা ইরানকে বলে,
_ভাইয়া আমার হাতে একটা চিমটি কাটবে।
ইরান কোনো মতে হাসিটা চেপে বলে,,
_কেন রে,,
যারা বলে উঠে,
_ আরে দাও না..আমি না উল্টা পাল্টা কি সব দেখছি।
ইরান যারার হাতে জোরে একটা চিমটি কাটে, তাতেই যারা আআআ,,,বলে লাফিয়ে উঠে। হাত ঘসতে ঘসতে বলে,
_ উপপপপ,,,এত জোরে কেউ চিমটি কাটে!"
ইরান হাসতে হাসতে বলে,
_এবার সমানে তাকিয়ে দেখ,,উল্টা-পাল্টা দেখছিস নাকি ঠিক দেখছিস।
ইরানের কথায় তাৎক্ষনাত যারা দেখে, না সত্যি তার ছোট ফুপ্পি বসে আছে। ছোট ফুপ্পি বলে দৌড়ে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে মারজ্জানার কোলে। কারণ আয়াতের মত যারা সারাও জানতো না আজ তাদের ছোট ফুপ্পি আসবে। একটু পর ছারা আর রুসাও আসে। তাদেরও একই রিয়াকশন দেখে সবাই শব্দ করে হেসে উঠে। স্নিগ্ধা গিয়ে জড়িয়ে ধরে রুশা আর সারাকে। তিন বোন কৌশল বিনিময় করল। আসহাদুল শিকদার মারজ্জানাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
_তা সফিক এলো না কেন?
মারজ্জানা শিকদার বলেন,
_আসলে ভাইজান অফিসে কাজ কর্মের চাপ অনেক বেশি। আমিও চলে এসেছি তাই সফিকের উপর কাজের চাপটা একটু বেশিই পড়েছে। সব কিছু গুজিয়ে উঠতে পারেনি। তাই বলেছে একেবারে বিয়েতে আ্যটেন্ট করবে।
আসহাদুল শিকদার: ওহ আচ্চা।
মারজ্জানা এইদিক সেদিক তাকিয়ে জাহানারাকে বলে,
_মেজো ভাবি মেজে ভাইজান কোথায়?
জাহানারা: তোমার ভাই এখনও আসেনি ছোট আপা, বলেছে আজকে রাতে আসবে।
মারজ্জানা: ও আচ্ছা। জয় কোথায় ওকে দেখছি না।
রেহেরা একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলে,
_ও একটা কাজে শহরের বাইরে গেছে,কাল চলে আসবে। রেহেনা স্নিগ্ধদের সাথে আসা ছেলেটাকে দেখে বলে,
_তোমার নাম কি বাবা। তোমার সাথে তো পরিচয়ই হলো না।
ছেলেটা হালকা হেসে বলে,
_জি আমার নাম শুভ্রনীল চৌধুরী। আমি স্নিগ্ধদের সাথে একি প্লেটে থাকি।
রেহেনা: ও আচ্চা। তোমার বাড়িতে কে কে আছে বাবা।
বাড়ির কথা বলতে শুভ্রনীলের মন খারাপ হয়ে যায়। স্নিগ্ধের দিকে এক পলক তাকাতেই কিছু বলতে যাবে তার আগেই স্নিগ্ধ শুভ্রনীলের কাঁধে হাত রেখে বলে,, _এ হচ্ছে আমার বন্ধু + ভাই। আমি আর ও সেই কলেজ লাইফ থেকে এক সাথে পড়াশোনা করে এসেছি, আজ ডক্টর অব্দি আমাদের পথচলা মামি,ও একজন প্রফেশনাল হার্ট সার্জেন্ট।
মারজ্জানা পাশ থেকে বলে উঠে,
_ এই তোরা উপরে যা ফ্রেস হয়ে নে।
মায়ের কথা শুনে স্নিগ্ধ শুভ্রকে নিয়ে উপরে চলে যেতে লাগে। তাদের যাওয়ার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রুসা। বিশেষ করে শুভ্রনীলের দিকে।
দেখতে ছেলেটাকে বেশ হ্যান্ডসাম লাগচে আর সুর্দশন উপস। যেমন সিক্সফ্যাগ বডি। তেমনই হাইট,কালো শার্ট,কালো প্যান্ট,কালো ঘড়ি,কালো সু,পুরো বলিউড হিরো হিরো লাগছে, সব কিছু নিয়ে মেয়েদের ফিট খাওয়ার মত ড্যাসিং লুক।
-শুভ্রনীল রুসার পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় চোখাচোখি হয় দুজনের। রুসাকে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে শুভ্রনীল মৃদু ঠোঁট বাকিয়ে চলে যায়।
আর রুসা তো শুভ্রনীলের কড়া পারফিউমের ঘ্রাণে,মাতাল মাতাল অবস্থা। মারজ্জানা রেহেনা কে বলে,
_আসলে ভাবি ছেলেটা ভিষণ ভালো। আমাদের প্লেটেই থাকে,আমাদের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক। বিশেষ করে স্নিগ্ধ আর স্নিগ্ধার সাথে। গত দুই বছর আগে ছেলেটার বাবা মা গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা যায়। বাবা-মাকে হারিয়ে ছেলেটা বিষণ একা হয়ে যায়। বুকে আগলে নেওয়ার মত আর কেউ নেই। তাই তখন থেকেই ওকে আমি আমার আরেক ছেলে হিসেবে পরিচয় দি। ছেলেটা আগে অসুস্থি বোধ করলেও এখন আমাকে মা বলে ডাকে। ডাক্তারির পাশাপাশি নিজেদের কোম্পানি চালায়। ছেলেটার কথা শুনে সবাই আপসোস করে। রুসা শুনেতো অবাক। ইসস এত সুন্দর ছেলেটার কেউ নেই।
ফাহিমা বলে,
_ভালোই করেছিস মারজু দেখতে মনে হয় ছেলেটা খুব ভালো আর নম্র ভদ্র হবে। স্নিগ্ধা বলে উঠে,
_ ভালো কি খালামণি। আমার নীল ভাইয়া পৃথিবীর বেস্ট ভাই। আপন না হয়েও সব সময় আপন বোনের মত আমাকে দেখেছে, ভালোবেসে,যত্ন করেছে এবং কি,একবার আমার জন্য ভাইয়ার এক্সিডেন্ট ও হয়েছে,তখন আমার সে কি কান্না,,ভাইয়া আমার কান্না দেখে,নিজের ব্যাথা ভুলে আমাকে হাসানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে এক কথায় বলা যা,,"সি ইজ মাই বেস্ট ব্রাদার"
রেহেনা শিকদার বসা থেকে উঠে বলে,
_আচ্চা মারজু যা ফ্রেস হয়ে আয়। অনেক দখল গেছে তোদের উপর। স্নিগ্ধু যা মা ফ্রেশ হতে যা।
এক এক করে সবাই যে যার কাজে লেগে পড়েছে। রেহেনা,জাহানারা,আর আয়েশা কিচেনে নাস্তা তৈরি করতে গেছে সাথে ফাহিমা ও আছে। আসহাদুল শিকদার আর আকরাম শিকদার বাজারে গেছে বোন আর ভাগিনা ভাগনির জন্য বাজার করতে। তারাও এত বছর পর বোন কে দেখে বিষণ খুশ। স্নিগ্ধা রুসা, যারা,ছারা, আয়াতের সাথে তার রুমে গেছে।
"বিকেল বেলা সব মেয়ে কাজিনরা সাদে আড্ডা দিতে উঠে। সাদের মাঝ বরাবর বসে তারা বিভিন্ন টপিক নিয়ে কথা বলছে। তখনই সাদে উপস্থিত হয় ছেলে কাজিনরা। স্নিগ্ধ, শুভ্রনীল,রিপাত,আর ইরান। ইরান পিচন থেকে স্নিগ্ধার মাথা একটা টোকা দিয়ে বলে,
_কি বিদেশি বিলাই কিসের মিটিং করা হচ্চে শুনি।
স্নিগ্ধা মাথায় হাত দিয়ে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলে,
_ইরান ভাই তুমি আমাকে একদম বিদেশি বিলাই বলবে না।
স্নিগ্ধ বলে উঠে,
_ ঠিকি তো,ইরান তুই আমার বোন কে বিদেশি বিলাই বলিস কেন ও কি এত সুন্দর নাকি ছ্যাহ।
স্নিগ্ধের কথা শুনে স্নিগ্ধা ব্রু কুঁচকে বলে,
_ভাইয়া তুমি কি আমাকে অসুন্দর বললে না কি!
নীল বলে উঠে,
_ খবরদার স্নিগ্ধ তুই একদম আমার বোনটা কে অসুন্দর বলতে পারবি না। আমার বোন হচ্চি সবচেয়ে সুন্দরী। তাকে অসুন্দর বলা প্রশ্নি উঠে না।
শুভ্রনীলের কথায় স্নিগ্ধা তার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মুখ বাঁকিয়ে মেকি হাসে। স্নিগ্ধ যারার দিকে তাকিয়ে বলে,
_তবে এটা ঠিক, এখানে কিন্তু অনেকে আছে কানা তাদের আবার চোখের পাওয়ার কম থাকায়। চশমার পাওয়ার দিয়ে দেখতে হয়। বুজলি নীল আমার বোন কিন্তু আবার তেমন কানা না।
যারা বেশ বুজতে পারেছে এই লোকটা তাকে মিন করো কথা গুলো বলেছ। তাই আগুন মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে বলে,
- খবদার মিস্টা বিলাতী বাদর আমাকে একদম কানা বলবেন না।
যারার মুখে বিলাতী বাদর শুনে সবাই হাসতে হাসতে গড়াগড়ি করার মত অবস্থা। হাসির মাঝেই শুভ্রনীল আর রুসার চোখাচোখি হয়। রুসা কিছুটা লজ্জা পায়। নাজুক হেসে চোখ নামিয়ে নেয়। স্নিগ্ধকে নিয়ে সবাই হাসচে দেখে স্নিগ্ধ দাঁত কটমট করে যারাকে বলে,
_আমি বিলাতী বাদর তাই না। এবার দেখবে এই বিলাতী বাদর কিভাবে তোমাকে নাকে দাঁড়ি দিয়ে ঘুরায়। ইস্টুপিট পিচ্ছি।
বলে উঠে যেতে নিলে ইরান আর নীল হাত ধরে পেলে বলে,
_আরে ভাই এত হাইপার হচ্ছিস কেন বস এই খানে।
রুসা বলে উঠে,
_ ভাইরা চলো আমরা সবাই ট্রুথ আর ডেয়ার খেলি।
রিপাত বলে উঠে,
_ হ্যাঁ হ্যাঁ স্নিগ্ধ ভাই চলো আমরা ট্রুথ আর ডেয়ার খেলবো দেখি কে কাকে টপকাতে পারে।
স্নিগ্ধ কিছুটা ভাব নিয়ে বলে,
_হে,,, এই পিচ্চিরা নাকি হারাবে আমাকে ডক্টর স্নিগ্ধ ইসলাম কে,,
স্নিগ্ধ কথায় যারা রুসার কানে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে,
_দেখবে হারার ভয়ে সব সময় ট্রুথ নিয়ে বসে থাকবে।
স্নিগ্ধ ব্রু কুঁচকে বলে,,
_ এই লিটেল ইস্টুপিট কি বলছো তুমি?
যারা একটা মেকি হাসি দিয়ে বলে,
_নাথিং..
রিপাত সারাকে বলে,
_ এই সারা যাও তো একটা বোতল নিয়ে আসো।
সারা উঠতে উঠডে বলে,
_নিজে যেতে পারে না শুধু আমাকে বলে।
শুভ্রনীল সবার সাথে কথা বলছে তো আড় চোখে রুসার কে দেখছে। শুভ্রনীলের ভাবনায়,তার চোখে মেয়েটাকে একটু বেশি সুন্দর লাগছে। যেমন রুপে সচ্ছনীয়,তেমন লাজুকলতা মোহনীয়। শুভ্রনীল তাকাতেই রুসার যে লজ্জিত মুখ সেটা ইতি মধ্যে শুভ্রনীলের কাছে একটু বেশি ভালো লাগে।মেয়েটার প্রথম লজ্জিত মুখটা নীল সকালে দেখেছিল। যখন সে তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তখন নীলের কাছে ওর লজ্জিত মুখটা ভিষণ সোভনীয় লাগছিল। তাই তো লজ্জিত মুখটা এক পলক দেখার লোভে বারবার মেয়েটার দিকে তাকায়। মনে গহিন থেকে শব্দহীনে দুটো লাইন প্রকাশ কর,,
"তোমাকে এক পলক দেখার অজুহাতে,
হৃদয় প্রাঙ্গণে ইচ্ছেরা সদা আলোড়ন তুলে ।"
সবাই কথা বলছে, কিন্তু শুভ্রনীল রুসার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সাথে ঠোঁটে লেগে আছে সুক্ষু মৃদু হাসি। শুভ্রনীলকে এই ভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে রুসা তো পারছে না লজ্জায় সাদ থেকে লাফিয়ে পরতে। এই লেকটা এমন ভাবে তাকিয়ে আছে কেন। লজ্জায় লুকাতেও পারছে না।
এইদিকে যারা তার চশমার প্রেমের উপর দিয়ে বিষয়টা বেশ কিছুক্ষণ খেয়াল করছে। চশমাটা ঠিক করে আয়াতের কানে কানে বলে,
_দেখো আপু ওই শুভ্র ভাইয়াটা আমাদের রুসাকে কেমন করে দেখছে।
যারার কথায় আয়াতও বিষয়টার উপর নজরদ্বারী করতে শুরু করে। আজ সারা দিনের আনন্দের তাগিদে আয়াত নিজের প্রিয় মানুষটার কথা প্রায় ভুলেই গেছে বলা যায়।একটু পর ছারা একটা কাসের বোতল নিয়ে আসে। সবাই গোল হয়ে বসে সাদের মাঝ বরাবর, বোতলটা ঠিক সবার মাঝ খানে রেখে জোর করে ঘুরানো হলো। সবার দৃষ্টি ঘুরাতে থাকা নোতলটার দিকে। ঘুরে ঘুরে বোতলটা থেমে যায় রিফাতের দিকে। 'যারা চট করে উঠে বলে,,
_আমি ধরবো রিপাত ভাইয়াকে!
আয়াত সহ সবাই বলে ঠিক আছে তুই ধর তাহলে। যারা রিপাতের দিকে তাকিয়ে একটা শয়তানি হাসি দেয়।রিপাত যারা হাসি দেখে মনে মনে বলে,
_এরে শালীর বোন শালী এবার নির্ঘাত আমাকে ফাঁসিয়ে দেবে সবার সামনে।
যারা বলো,
_ রিফাত ভাই তুমি কি নিবে ট্রুথ ওর ডেয়ার।
রিফাত বলে,
_ উঠে ট্রুথ তো আমি জীবনেও নিব না। ডেয়ার নিলাম।
যারা বাঁকা হেসে মনে মনে বলে,
" তুমি যেটাই নাও ফেঁসে তে তুমি গেছোও চান্দু। যারা গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,
_তোমার ডেয়ার হচ্চল এখন সবার সমানে তোর পছন্দের মানুষকে প্রপোজ করতে হবে।মিথ্যে বলা যাবে না যে তোমার জিএপ নেই। আমি কিন্তু সব জানি। মিথ্যাে বললে বাজে ভাবে ফেঁসে যাবে বলে দিলাম। আমর কাছে কিন্তু প্রমাণ সহ আছে। "সো যা বলবে সবার সামনে সত্যি বলবে।
- যারার কথা শুনি রিপাতের চোখ কপালে। বিস্মিত চোখে তাকায় সারার দিকে। রিপাত নিজেও জানে না যারার কাছে প্রমাণ বলতে আসলে কি বুজাতে ছাইছে। রিপাতের তাকাতে দেখে,সারা ভয়ে শুকনো ঢোক গিলে। মনে মনে বলে,
_এই বেয়াদব মেয়েটাকে মন চায় ধাক্কা দিয়ে সাদ থেকে পেলে দিতে। এখন কি হবে, ওনি যদি ভাইয়াদের সামনে সত্যি সত্যি প্রপোজ করে দেয় ভেবেই সারার পুরো শরীর ভয়ে কাঁপতে শুরু করে।
স্নিগ্ধ রিপাতের কাঁদে হাত রেখে বলে,
_কিরে ভাই তোর আছে নাকি গার্লফ্রেন্ড,, কই দেখি প্রপোজ করে আমাদের কেও দেখার সুযোগ করে দে ভাই। ইরান বলে উঠে,
_ আরে রিপাত কর কর আমরাও একটু দেখি-
ইরানের মুখে এই কথা শুনে রিপাত তো আরো ভয় পেয়ে যায়। সত্যিটা বললে যদি ইরান রিয়াক্ট করে বসে। তার বোন বলে কথা। রিপাতের অবস্থা দেখে আয়াত খোঁচা দিয়ে বলে,
_কেমন বয়ফ্রেন্ড তুমি রিপাত ভাই,, নিজের গার্লফ্রেন্ডকে সবার সামনে প্রপোজ করতে পারছো না। - ইউ আর এ লুজার।
স্নিগ্ধা বলে উঠে,
_ ছিহ রিপাত ভাই তুমি এত ভীতু আমি তো জানতামই না। নিজের ভালোবাসাকে সবার সামনে প্রেজেন্ট করার সহস নেই। তোমাকে তো আমার ভাই বলতেও লজ্জা করছে।
স্নিগ্ধার কথা শুনে, ইরান,স্নিগ্ধ,আয়াত,যারা সবাই এক সাথে ট্রল করতে থাকে। সবার কথা বেচারা রিপাতের সোজা ইগোতে এসে লেগে যায়,বিস্পোরিত হয়ে বসা থেকে উঠে বলে,
_কে বলেছে আমি লুজার,আমার সাহস নেই, এক্ষুনি আমি প্রভু করে দিব..'আই এম নোট লুজার। বিস্ময় চোখে সারার দিকে তাকিয়ে বলে,
_ স্ট্যান্ড আপ, 'ছারাপাখি?
সঙ্গে সঙ্গে সবাই বিস্মিত চোখে তাকায় ছারার দিকে। চমকে উঠে সারা। হ্রদপিন্ড লাফাতে শুরু করে,,থরথর করে কাঁপছে পুরো শরীর,মনে হচ্ছে এই বুজি সে দম বন্ধ হয়ে মরে যাবে। যেই ভয়ে এতক্ষণ ছিটিয়ে ছিল সেটাই হলো। আদা পাগল লোকটা পারলো না নিজেকে ধরে রাখতে। এবার কি হবে। ইরান হতভম্ব হয়ে বলে,
_ রিফাত তুই আমার বোনের পিচনে কবে থেকে লাগলি?
রিফাত আমতা আমতা করে বলে,
_ আল্প কিছুদিন হলো।
ইরান বিস্ময় নিয়প বলে,
_ শালা তলে তলে এত কিছু। আর আমি টেরই পেলাম না।
রিপাত নিচু স্বরে বলে,
_ সরি ইরান বলার মত পরিস্থিতি ছিল না ভাই। তেরা বাধ্য করলি তাই, তারপর সারার দিতে তাকিয়ে কিছুটা ধমকের শ্বরে বলে,
_সারা বললাম না স্যান্ড আপ!
ধমকে শুনে মৃদু কাঁপে উঠে সারা। চোখ খিচে বন্ধ করে পেলে। বেচারি জান যায় যায় অবস্থা। ভয়ে ভয়ে তাকায় ইরানের দিকে। ইরান এখনও বিস্ময় চোখে তাকিয়ে আছে সারার দিকে। সারা শুকনো ঢোক গিয়ে চোখ সরিয়ল নেয়।
সারা উঠছে না দেখে, রিপাত গিয়ে সারার হাত ধরে টেনে দাঁড় করিয়ে দেয়। আরুষ্ঠো গলায় বলে,
_ সরি,'ছারাপাখি,আমি এখন তোমাকে সবার সামনে আনতে চাইনি কিন্তু তোমার ভাই-বোনেরা আমার ইগোতে হার্ট করেছে। তাই বাধ্য হয়ে আনতে হলো। তুমি চিন্তা করো না আমি সব সামলে নেব। শুধু তুমি আমার পাশে দেখো।
রিফাতের হাতে একটা রিং ছিল সেটা খুলে হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়ে ছারার সামনে। সবাই বিস্ময় হা করে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। "রিপাত সারা বাম হাত ধরে রিংটা তার দিকে এগিয়ে কন্ঠে আবেগ আর মাদকতা ঢেলে প্রেমময় কন্ঠে বলে,
-"আমার প্রেমের নদীতে ভেসে আসা এক অনাকাঙ্খিত জীবন্ত ফুল তুমি। তুমি ছাড়া জীবনটা কেমন কেটে জানি না,কিন্তু তুমি এই অসম্পূর্ণ জীবনে আসার পর প্রতিটা প্রহর তুমি বিহীন এই আমিটা অসম্পূর্ণ মনে হয়, তাই তোমার সঙ্গে আমার বাকিটা জীবন সম্পূর্ণ করতে চাই। .....Do you love me..?.....& will you Marrei me..SaraPakhi...
সারা ভয়ে ভয়ে সবার দিকে তাকায়। ইরান বাদে সবাই এক সাথে বলে উঠে, রাজি হয়ে যা সারা। তা শুনে সারা উপর নিচ মাথা নাড়ে। সাথে সাথে রিফাত তার রিং টা সারাকে পড়িয়ে দেয়। সবাই এই সাথে হাত তালি দিয়ে উঠে। এরপর আবার গেম শুরু করে সবাই। বেশ অনেকটা সময় তারা এই গেমটা খেলে। শেষ ম্যাচটা খেলতে বোতলটা গুরালে বোতলটা যারার দিকে পড়ে। স্নিগ্ধ একটা বাঁকা হাসি দেয়। তারপর বলে আমি জিজ্ঞেস করব ওকে।যারা কিছুটা ভাব নিয়ে বলে,
_ ঠিক আছে বলুন বিলাতি বাদর।
স্নিগ্ধ ঠোটে বাঁকা হাসি দিয়ে বলে,
_ ট্রুথ ওর ডেয়ার...
যারা: ডেয়ার....কিছু একটা ভেবে বলে,,না না,, ট্রুথ।
স্নিগ্ধ: হবে না আগে যেটা বলেচ সেটাই,, ডেয়ার মানি ডেয়ার... নো চেঞ্জ...
যারা একটা ঢোক গিয়ে বলে,
_ঠি,,ঠিক আছে,,,ডেয়ার...।
স্নিগ্ধ যারার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে বলে,
_তোমাকে পাঁচ মিনিট বা তার চেয়ে কম সময়ে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আমার জন্য একটা প্রেমের গান গাইতে হবে।
কথাটা শুনা মাএ চমকে উঠে যারা বিস্ফোরিত কন্ঠে বলে,
_ জীবনেও না,,আমি প্রেমের গান গাইবো তাও আবার আপনার মত বিলাতী বাদরের জন্য। "ইম্পসিবল "অন্য কিছু দিন।
স্নিগ্ধ: নেভার...তাৎক্ষণাত কিছু একটা মনে করে বলে আরেকটা অবশেন দেওয়া যায় '
''আদার ওয়াজ আই অ্যাম এ ভেরি কম্প্যাশনেট পার্সন"
যারা মুখ বাঁকিয়ে বলে,
_কি সেটা....
স্নিগ্ধ: আমাকে ৫ মিনিট জড়িয়ে ধরে থাকতে হবে এবার বলো অবশেন A ওর B...
বলে পিক করে হেসে দেয়।
বিস্পোরিত চোখে তাকায় যারা। রাগান্বিত কন্ঠে বলে,
_এই সব কোন ধরেন ফাজলামো,,আমি মানি না, এসব ফালতু ডেয়ার টপিক চেঞ্জ করুন।
সবাই এবার এক সাথে বলে উঠে,
_ না,,না,, আর চেঞ্জ করা যাবে না,, যা দিয়েছে তাই মানতে হবে। গেম ইজ গেম নো ইস্কউজ....
যারা এবার অগ্নি চোখে তাকায় স্নিগ্ধের দিকে। লোকটার মাথা তার চিবিয়ে খেতে ইচ্চে করছে। সুযোগ পেয়ে পায়দা লুটছে। অসভ্য, বাদর,লোক একটা। যারাকে তাকাতে দেখে স্নিগ্ধ 'ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বসে চমৎকার ভঙ্গিতে দুই ব্রু নাচায়। সবার জোরাজুরিতে এক প্রকার বাধ্য হবে গান টাই বেঁচে নিয়েছে যারা। কারণ সবার সামনে জড়িয়া ধরাটা বেমালাল হবে। তবে এর শোদ সে সুদে আসলে নিবে। যারা একটা ঢোক গিলে চশমাটা খুলে অগ্নি দৃষ্টি রাখে স্নিগ্ধ হ্যাসোজ্জ্ব্যল চোখের দিকে মুহুর্তে স্নিগ্ধের শীতন গভীর চোখের মাঝে তাকাতেই হঠাৎ যারার সব রাগ কেমন
এক রাশ মুগ্ধতায় ছড়িয়ে পড়ে মনের আঙ্গিনায়। বুকের ভিতর অদ্ভুত এক শিহরণের স্রোত বইতে শুরু করে। পেটে মধ্যে কেমন এক ঝাঁক প্রজাতি উড়ে যাচ্চে। মনের সব টুকু অনুভুতি মিলে মিশে এক করে, প্রমার্ত আবেগ গলায় ঢেলে গেয়ে উঠে,
Zara Zara Behekta Hain Mehekta Hain
Aaj To Mera Tan Badan
Main Pyaasi Hoon Mujhe
Bhar Le Apni Baahon Mein
Hai Meri Kasam Tujhko
Sanam Door Kahin Na Jaa
Yeh Doori Kehti Hain Paas Mere Aaja Re
স্নিগ্ধলর সম্পূর্ণ দৃষ্টিও মনোযোগ যারার চোখের মুগ্ধতায় ডুবে গেছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে স্নিগ্ধের মস্তিষ্ক গ্রাস করে নিয়েছে যারা কোমল চোখ জোড়া। স্নিগ্ধের স্থীর দৃষ্টির মাঝে তখনি আবারও ভেসে আসে যারার গানের সুর।
Yuhi Baras Baras Kaali Ghata Barse
Hum Yaar Bheeg Jaaye
Is Chaahat Ki Baarish Mein
Meri Khuyli Khuli Lato Ko Suljaaye
Tu Apni Ungliyon Se Main
To Hoon Isi Khwaayish Mein
Sardi Ki Raaton Mein Hum
Soye Rahe Ek Chaadar Mein
Hum Dono Tanha Ho Na
Koi Bhi Rahe Is Ghar Mein
Zara Zara Behekta Hain Mehekta Hain
Aaj To Mera Tan Badan
Main Pyaasi Hoon Mujhe
Bhar Le Apni Baahon Mein
Aaja Re Aa Re......
- কয়েক সেকেন্ড থমকে যায় স্নিগ্ধ। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে যারার কোমল শিথিল চোখ জোড়ার দিকে। নিজের ভিতর কিছু একটা অনুভব করার চেষ্টা করছে। টিপ টিপ করচে ২৭ বছরের এক যুবকের অবাঞ্চিত হৃদয়টা। এমন মোহনীয় গানের সুর। এমন ত্নীক্ষ্ণ শীতল চাহনি। যেন সব কিছু হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মত অনুভুতি। মন ভোলানো সুরের মায়ায়"।
যারা পুরো গানটা স্নিগ্ধের চোখের দিকে তাকিয়ে গেয়ে শেষ করতেই সবাই এক সাথে বলে উঠে।
_ ওওওওওওওওও হাউ রোমান্টিক....।
সাথে সাথে দুজের দৃষ্টি এলোমেলো হয়ে যায়। যারার হাত-পা অস্বাভাবিক ভাবে কাঁপছে। বুকের ভিতর ধুকপুক করছে। সে বুজতে পারছে না তার হঠাৎ এই লোকের চোখ দেখে এমন কেন হচ্ছে। এই লোকের চাহনি কেন তাকে এত অস্থির করে তুলছে। কেন তার ছোট্ট হৃদয় তোলপাড় চলছে। কেন তার কিশোরী মনে এক সমুদ্র শিহরণ বয়ে চলেছে। না আর এক মুহুর্তও এই লোকটার সামনে থাকা যাবে না। তাই কেউ কিছু বুজার আগে দ্রুত উঠে দৌড়ে সাদ থেকে নিচে নেমে যায় যারা।
--যারার এমন কান্ডে সবাই হতবাগ। স্নিগ্ধ যারার যাওয়ার পানে তাকিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে মৃদু মনে মনে বিড়বিড় করে,
- দেয়ার ওয়াজ সামথিং ইন হিজ আইস লিটেল গার্ল।
তার পর এক এক করে সবাই নিচে চলে যায়।
---------
চলবে.....
Maijdee Court
Be the first to know and let us send you an email when Farjana Akter jebu posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.