13/02/2026
অভিনন্দন প্রিয় তারেক রহমান, Tarique Rahman
দয়া করে এই লেখাটা পড়বেন।
আজ বাংলাদেশের যে অবস্থা, তা যেন মা–বাবাহীন একটি সন্তানের মতো—দিকহারা, অসহায়, আশ্রয়হীন। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে গভীর কষ্ট, আশা আর বিশ্বাস নিয়ে আপনাকে এই চিঠি লিখছি।
আমার জানামতে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার ব্যক্তিগত কোনো চাহিদা অপূর্ণ নেই। অর্থ, পরিচিতি, অবস্থান—সবই আপনার আছে। কিন্তু সময় খুবই অল্প। মানুষের গড় আয়ু যদি ৬০ বছর ধরা হয়, তাহলে ভাবার সময় আর খুব বেশি নেই। ইতিহাস কাউকে অনন্ত সময় দেয় না—ইতিহাস শুধু সিদ্ধান্তকে মনে রাখে।
আপনার প্রতি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা রেখেই একটি কথা বলছি—এবার দেশটা নিয়ে ভাবুন, সত্যিকার অর্থে ভাবুন।
আপনি যদি সঠিক থাকেন, যদি ন্যায়ের পথে দৃঢ় থাকেন—তাহলে আপনার পাশে কোনো দলীয় নেতাকর্মীর প্রয়োজন হবে না। বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণই হবে আপনার শক্তি, আপনার ঢাল, আপনার সৈনিক।
এই দেশে বিচার বিভাগ দুর্বল, আইন প্রশ্নবিদ্ধ, ঘুষ আর দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন—প্রায় সব সেক্টরই আক্রান্ত। দয়া করে এসব আপনি নিজ হাতে হ্যান্ডেল করুন। কাউকে দায়িত্ব দিয়ে দায় এড়িয়ে যাবেন না। দেশ একবারই বাঁচাতে হয়।
আমরা আর কোনো দেশের গোলামি দেখতে চাই না। আমরা দেখতে চাই—সারা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে বলা হোক, “তারেক রহমান নামের একজন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন।”
স্যার, অনুগ্রহ করে বাংলার জমিনে—
সকল প্রকার ক্রাইম বন্ধ করুন
দালাল সংস্কৃতি বন্ধ করুন
লবিং ও সিন্ডিকেট ভেঙে দিন
মামা–খালু–জামানা চিরতরে শেষ করুন
দেশটাকে সিঙ্গাপুর বানানোর স্বপ্ন দেখাতে হবে না—শুধু অপরাধ বন্ধ করতে পারলেই বাংলাদেশ আপনাআপনি দাঁড়িয়ে যাবে। মানুষ নিরাপত্তা চায়, ন্যায় চায়, সম্মান চায়।
একটা ব্যক্তিগত অনুরোধ রাখছি—সম্ভব হলে বেশি বেশি রাজনৈতিক তামিল সিনেমা দেখবেন। নেতৃত্ব, শাসন, নৈতিকতা আর জনতার সঙ্গে সংযোগ—এই জায়গাগুলো বুঝতে সেগুলো অনেক সময় গভীর বার্তা দেয়।
আমি মন থেকে বিশ্বাস করি—আপনিও হয়তো এই ভাবনাই নিয়ে দেশে ফিরেছেন যে, “আর কদিনই বা বাঁচবো, এই সময়টুকুতে দেশটাকে একটু গুছিয়ে যাই।”
স্যার, আপনি নিজেও জানেন—একটি দেশকে সত্যিকার অর্থে গড়ে তুলতে কী কী প্রয়োজন:
শক্ত ও স্বাধীন বিচার বিভাগ
আইনের শাসন
জিরো টলারেন্স দুর্নীতির বিরুদ্ধে
মেধার মূল্যায়ন
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অবসান
মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ও জবাবদিহিতা
এসব বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশ কোনো কল্পনার সিঙ্গাপুর হবে না—বাংলাদেশ হবে বাংলাদেশ, গর্ব করার মতো একটি দেশ।
এই লেখাটা কোনো দলের পক্ষ থেকে নয়।
এই লেখাটা একজন সন্তানের, যে তার মায়ের মতো দেশটাকে বাঁচতে দেখতে চায়।
আশা নয়—বিশ্বাস রাখতে চাই।
বিনীত
বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক