18/05/2026
খুলনা বিভাগে অনুষ্ঠিত নতুন কুঁড়ির আঞ্চলিক দাবা প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ, নিন্দা ও ভবিষ্যতের জন্য গঠনমূলক প্রত্যাশা
গত ১৬ মে ২০২৬ অনুষ্ঠিত নতুন কুঁড়ির আঞ্চলিক দাবা প্রতিযোগিতা (খুলনা বিভাগ)-এ অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়, অভিভাবক, কোচ ও ম্যানেজারদের অভিজ্ঞতায় বেশ কিছু দৃশ্যমান অব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা ও প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়া সামনে এসেছে, যা আমাদের গভীরভাবে হতাশ করেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দাবাড়ুদের উৎসাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নতুন কুঁড়ির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার নির্বাচিত প্রতিভাবান ২ জন বালক ও ২ জন বালিকাসহ মোট ৪০ জন খেলোয়াড় অংশ নেয়, সেখানে আরও অধিকতর পেশাদার, পরিকল্পিত ও স্বচ্ছ আয়োজন প্রত্যাশিত ছিল।
আমাদের উদ্বেগের প্রধান বিষয়গুলো নিম্নরূপ—
১. প্রয়োজনীয় খেলার উপকরণের ঘাটতি
৪০ জন খেলোয়াড়ের জন্য অন্তত ২০টি দাবার বোর্ড, ঘুঁটি ও ঘড়ি প্রস্তুত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ১৪/১৫টি বোর্ড এবং মাত্র ৫টি দাবার ঘড়ি দিয়ে খেলা পরিচালনার চেষ্টা করা হয়, যা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং আয়োজনের প্রস্তুতির ঘাটতিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
২. সময়সূচির চরম ব্যত্যয়
খেলা শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ৯টা, কিন্তু বাস্তবে খেলা শুরু হয় প্রায় দুপুর ২টায়। আনুষ্ঠানিকতা বা অতিথিদের বক্তব্যের জন্য সীমিত সময়ের বিরতি রাখা যেত, কিন্তু দীর্ঘ বিলম্ব অংশগ্রহণকারীদের জন্য কষ্টকর ও অযৌক্তিক ছিল।
৩. খেলোয়াড় ও অভিভাবকদের জন্য ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব
খেলা শুরুর আগে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা ছিল না; এমনকি পানির মতো মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও অনুপস্থিত ছিল, যা একটি দায়িত্বশীল আয়োজনের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
৪. প্রতিযোগিতা পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন
নতুন কুঁড়ির নীতিমালা অনুযায়ী সুইস লীগ পদ্ধতিতে এবং বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন অনুমোদিত বিচারকের মাধ্যমে খেলা পরিচালনার কথা থাকলেও বাস্তবে একটি বিতর্কিত মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে খেলা পরিচালিত হয়েছে, যেখানে টাই-ব্রেকিং পদ্ধতিতে স্পষ্ট অসঙ্গতি ও ব্যর্থতা দেখা গেছে। এর ফলে ফলাফলের ন্যায্যতা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
৫. খেলোয়াড় বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব
বিশেষ করে খুলনা জেলার খেলোয়াড় নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি, যা স্বচ্ছতা ও জবাদিহিতার পরিপন্থী।
৬. দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে উদ্বেগ
যারা খেলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তাদের দাবা বিষয়ে সম্পৃক্ততা, কারিগরি জ্ঞান এবং সমন্বয় দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কোনো ম্যানেজার বা কোচকে সন্তুষ্ট করতে না পারা এবং রাউন্ডভিত্তিক সঠিক ফিকশ্চার ও ফলাফল ব্যাখ্যা দিতে অক্ষমতা একটি গুরুতর ব্যর্থতা।
আমরা বিশ্বাস করি, নতুন কুঁড়ি কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রতিভা গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই এমন অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আমরা এই সার্বিক ব্যবস্থাপনার গঠনমূলক নিন্দা জানাচ্ছি এবং দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করছি, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। শিশু-কিশোরদের আগ্রহ, অভিভাবকদের আস্থা এবং বাংলাদেশের দাবার সুস্থ বিকাশের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।