22/06/2026
ছোটবেলা থেকে শুনে শুনে বড় হইছি, ফুটবল মানেই ব্রাজিল। আর্জেন্টিনা তো এই সেদিনের দল। কিন্তু আসল ইতিহাস কী বলে?
ইউরোপের বাইরে প্রথম ফুটবল ছড়িয়েছিল আর্জেন্টিনাতেই। প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনা। বিশ্ব ফুটবলের প্রথম গ্লোবাল সুপার স্টার আর্জেন্টিনার। প্রথম সুপার স্টার কোচও আর্জেন্টিনার।
আর্জেন্টিনায় প্রথম অফিশিয়াল ফুটবল ম্যাচ হয় ১৮৬৭ সালে।
আর্জেন্টিনার ফুটবল লিগ শুরু হয় ১৮৯১ সালে। ব্রিটেনের বাইরে প্রথম লিগ। আর্জেন্টিনার অন্তত তিন দশক পরে ফুটবল শুরু হয়েছিল ব্রাজিলে।
আর্জেন্টিনা প্রথম বিশ্বকাপেই হয়তো চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেত। ১৯৩০ ফাইনালের প্রথমার্ধে দারুণ খেলে এগিয়ে ছিল। সেই আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধে ৩ গোল কেন খেল, এ আর্জেন্টিনীয় ফুটবলের আরেক শোকগাথা। যেমন শোক হয়ে আছে ১৯৯০ বা ২০১৪-র ফাইনাল।
দুবারই জার্মানি জিতেছে মাত্র ১-০ ব্যবধানে। প্রথমবার ৮৬ মিনিটে পেনাল্টিতে গোল খেয়ে, পরেরবার তিনটা সহজ গোল মিস করে ১১৩ মিনিটে গোল খেয়ে শিরোপা হাতছাড়া।
পাঁচটা কেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে ছয়টা স্টার থাকা উচিত ছিল। এ জন্য আর্জেন্টিনাকে দোষ দেই।
সে যাই হোক, বলছিলাম ফুটবল ইতিহাসের কথা। যে ইতিহাসে আর্জেন্টিনা নাকি হতদরিদ্র। আর ব্রাজিল জমিদার!
বিশ্ব ফুটবলের প্রথম গ্লোবাল সুপারস্টার আর্জেন্টিনার আলফ্রেডো ডি স্টেফানো। রিয়াল দীর্ঘকাল তাদের ১০ নম্বর চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফিটা জিততে পারছিল না। যেটিকে তারা বলে লা দেসিমা।
রিয়ালের এই আগের ৯ ট্রফির ৫টি জিতিয়েছিলেন ডি স্টেফানো। রিয়াল তাদের সভাপতি বার্নাব্যুর নামে স্টেডিয়ামের নাম না দিলে নাম হতো ডি স্টেফানোর নামেই।
ক্লাব ফুটবলের প্রথম গ্লোবাল স্টার কোচের নাম হেলেনিও হেরেরা। আর্জেন্টিনার সর্বকালের সেরা ফুটবল-মস্তিষ্কের একজন।
হেরেরারই প্রথম দেখিয়ে দেন, ফুটবল আসলে কোচ-কেন্দ্রীক খেলা।
ইতালীয় ফুটবলের দর্শন কাতেনাচ্চিও তার দাঁড় করিয়ে দেওয়া। ইন্টার মিলানকে টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন লিগ জেতানো কোচ।
এগুলো নিয়ে বাংলাদেশে পত্রপত্রিকায় কখনো লেখালেখি দেখেছেন? বরং শুনেছেন, বোকার মতো আর্জেন্টিনাকে সাপোর্ট করে বাংলাদেশের মানুষ। এরা ফুটবলই বোঝে না।
আর্জেন্টিনার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে আড়াল করে রাখার গল্প আরেকদিন শোনাব।
আজ এটুকু গর্বের সাথে বলি, আর্জেন্টিনার সুবর্ণ অতীত আছে। গত তিন বিশ্বকাপের দুটির ফাইনাল খেলা আর্জেন্টিনার আছে সুফলা বর্তমান।