10/07/2018
যেভাবে ২০৩০ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলতে পারে বাংলাদেশ
গায়েতা। ইতালির একটি ছোট্ট শহর। নিরিবিলি এ শহর ঘিরে আছে ফুল আর ফল, সঙ্গে তার চারপাশে সাগরের জলের স্পর্শ এবং কিছু পুরাতন ঐতিহ্য। যার আদলে তৈরি হয়েছে এক মনোরম পরিবেশ।
এক মানব বাসস্থান। সারাদিন ঘুরাঘুরি ও ছেলের টেনিস খেলার শেষে সাগর পাড়ে চলাফেরা সঙ্গে লবণাক্ত নীল জলে সাঁতরে বেড়িয়ে সত্যিই এক আনন্দদায়ক সময় কেটে যাচ্ছে ইতালির শহরতলী গায়েতায়।
প্রতিদিনকার সকালে আমার ছেলে টেনিস খেলোয়াড় জনাথনকে নিয়ে টেনিস কোটের দিকে যাওয়ার সময় সাগর পাড়ে কিশোর বয়সী ছেলেটাকে ফুটবল নিয়ে তার ব্যস্ততার এমন দৃশ্য দেখতে দেখতে যায়।
যখন ফিরছি তখনও তাকে ও তার সঙ্গে আরও বন্ধুর জটলা বল নিয়ে দৌড়াদৌড়িতে চোঁখ আটকে যায়! একদিন সন্ধায় সাগরে সাঁতার কেটে ফেরার পথে এগিয়ে গেলাম। তাদের সঙ্গে কথা হলো কিশোর বয়সী সেই ফুটবল নিয়ে সারাদিন সময় কাটানো ছেলেটার সাথে।
সে জানালো তার নাম লুকা। লুকার বয়স ১৪ বছর। সারাদিন ফুটবল খেলছে সাগরের পাড়ে মনের আনন্দে। নানা ধরনের টেকনিক স্কিলসের ওপর চলছে তার প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা।
যেন সেই 'লার্নিং ফর্ম লার্নার কনসেপ্ট' এর এক মনরম দৃশ্য। লুকা এবং তার বন্ধুরা স্বপ্ন দেখছে একদিন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার, তাই প্রতিদিন তারা সাগরের পাড়ে স্কুল শেষে ফুটবল খেলে।
লুকার এক বন্ধুকে এই শহরের সাগর পাড় থেকে এভাবে করেই খুঁজে পেয়েছিল ফুটবল জহূরীরা। এখন সে ইতালীর জাতীয় দলে খেলছে।
অনুশীলন ও অধ্যবসায় একটি মানুষকে নিখুঁত করে তোলে জানায় এই লুকা এবং তার বন্ধুরা। তারা তাদের স্বপ্নের সাথে এমন গতিতে ছুটে চলছে যেন স্বপ্ন আর স্বপ্ন থাকবে না, তা সত্যি হয়ে যাবে।
সে আশাবাদী যে তাদেরও কপাল খুলে যাবে। সাগরের পাড়ে, নদীর ধারে, রাস্তায় চলতে চলতে খেলতে খেলতে কবে একদিন শোনা যাবে এসব লুকা নামের একটি রত্নের নাম যা ছড়িয়ে পড়বে ফুটবল গ্যালারীজুড়ে এমনকি দেশ ও দেশান্তরে।
এমনটিই ঘটে এবং ঘটেও ছিল। সুইডেনের বিয়োন বোর্গ, স্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, আর্জেন্টিনার মেসি, স্পেনের রাউল, আরো কত নাম, যারা ভালোবেসেছিল তাদের হৃদয় দিয়ে এই খেলাকে এবং তাদের ধ্যানে, জ্ঞানে, মনে ও প্রাণে একটিই চিন্তা ছিল তা হল ফুটবল দিয়েই একদিন জয় করবে তারা বিশ্বকে সত্যি করবে বুণে চলা স্বপ্নকে।
পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন খুঁজলে একই শিক্ষা বা জলন্ত উদাহরণ দেখতে পাই। তা হলো বাবা-মা ছাড়া সেই রাখাল বালকটি ভালবাসার সেতু তৈরি করেছিলেন মহান স্রষ্টার সঙ্গে খুবই অল্প বয়সে।
শেষে হলেন তিনি সারা বিশ্বের এক অনুকরণীয় ব্যক্তি মুসলিম নেতা এবং মহান আল্লাহর প্রেরিত রাসুল।
পৃথিবীর যা চিরকল্যানকর তার সব কিছুর মূলে যাঁরা রয়েছেন তাদের কেউই রাজপরিবারের সন্তান ছিল না, তাঁরা সাধারণ পরিবারের সন্তান এবং তাঁরাই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে।
তাই আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশকে, বাংলার মানুষকে, তাঁরাও করতে পারবে অসম্ভবকে সম্ভব।
যে দেশের মানুষ নিজের সবকিছু বিক্রয় করে দেয় ৫.৫ কিলো মিটার জার্মানির পতাকা বানাতে, যে দেশের মানুষ আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের সমর্থনে মারামারি করে ১০ জন আহত হয় এবং এমনকি আর্জেন্টিনা দলের পরাজয়ের দুঃখে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতে পারে, সেই দেশ কেন বিশ্ব কাপ ফুটবল খেলায় নিজেদের দল পাঠানোর স্বপ্ন দেখতে পারবে না ।
আমরা প্রস্তাব করছি তৈরি হোক “FHFB- Footballer Hunt Foundation Bangladesh”। বেসরকারি উদ্যোগেই ১২ বছরের পরিকল্পনায় ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
তিন ভাগে করা যেতে পারে এই কর্মসূচি। প্রাথমিক বাছাই: ৬-৭ বৎসরের বালকের যাচাই বাছাই করা হবে সারা বাংলাদেশ থেকে। মোট ৩০ জনের মত এবং প্রতি বছর এভাবে কর্মসূচি অনুযায়ী এ ধরনের বিশেষায়িত শিক্ষা প্রশিক্ষণ স্পোর্টস একাডেমীতে নতুন প্রজন্মদের সুযোগ দিতে হবে।
৫-৮ বছরের মধ্যে দেখা যাবে বাংলাদেশ একটি সুন্দর দল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বাছাই করার অনেক পদ্ধতি রয়েছে যা সহজেই দেখা যেতে পারে বিশ্বের অন্য দেশ গুলো কি ভাবে তা করে থাকে।
প্রাথমিক বাছাইকৃত খেলোয়ারদের ক্যাডেট কলেজের মত করে প্রাথমিক শিক্ষার সাথে খেলাধুলার প্রতি বিশেষভাবে দক্ষ প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং দেশের এবং বিদেশি ফুটবল কোর্সদের সক্রিয় সাহায্য নিতে হবে।
সরকারের সাহায্য ছাড়াই পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশে এ ধরনের বিশেষায়িত শিক্ষা প্রশিক্ষণ স্পোর্টস একাডেমি গড়ে উঠেছে এবং বেসরকারিভাবে তা পরিচালনা হচ্ছে আশাপূর্ণ ফলাফলসহ যা বাংলাদেশেও সম্ভব হতে পারে।
মানুষ অনুশীলন করলে কিনা পারে আর যেখানে চারা থেকে পরিকল্পিতভাবে ট্রেনিং দেয় হবে, সেখানে বিশ্ব ফুটবল, টেনিস, ক্রিকেট,বাস্কেট খেলোয়াড় তৈরি হওয়া মনে হয় কঠিন হবে না।
বাংলাদেশে সার্কাসে দেখা যায় ছোট্ট বেলা থেকে ট্রেনিং নিয়ে কি অসাধারণ বিনোদনের মত কাজে তাদেরকে ব্যাবহার করা হয়।
আমাদের দেশের সন্তানেরা বিশ্বকাপ একবারে আনতে না পারলেও আমরা অংশ গ্রহণ করে আশে পাশের অনেক দেশের থেকেও ভাল করতে পারব এবং মাথা উঁচু করতে পারবো।
পারবো সোনার বাংলার পতাকাকে তুলে ধরতে সারা বিশ্বের মাঝে, যেন- বল বীর বল চির উন্নত মম শিড়...।
ফান্ড: দেশের মানুষের দ্বারা এই ফাউন্ডেশন চলবে। ফিফা বিশ্বকাপের সময় বিভিন্ন দেশের পতাকা কিনতে দেশের মানুষ যে টাকা খরচ করে সেই অর্থ এই ফাউন্ডেশনের জন্য দিলে নিজেদের জন্য একটা জায়গাসহ কমপ্লেক্স তৈরি করা সম্ভব হবে।
এছাড়াও কিছু ফল আসতে থাকলে দাতাদের থেকে ডোনেশন পাওয়া বা দেওয়ার মানুষের বা কোম্পানির অভাব হবে না বলে মনে করি।
শিক্ষা মানেই যে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা হতে হবে তা নয়, হতে পারে এ শিক্ষা বিনোদনের ওপর, স্পোর্টসের ওপর, মানব কল্যাণের ওপর। যা কিছু মানব জাতির জন্য কল্যানকর তা অবশ্যই সুশিক্ষা।'
চলছে বিশ্বকাপ ফুটবল, সারা পৃথিবীর চোখ পড়েছে রাশিয়ার ওপর। শেষ হলো কিছুদিন আগে রোলান্ড গারর্স গ্র্যান্ডস্লাম টেনিস, সত্বর শুরু হবে উইম্বেল্ডন, চলছে ভাল ক্রিকেট খেলা বাংলাদেশে।
তাই নতুন চিন্তা ধারার এক আগমন, তৈরি করবে নতুন চিন্তার উদয়। ভালো কাজে বা সুশিক্ষার জন্য ঝাপিয়ে পড়ার মত মানসিকতার থাকতে হবে। তা পেতে হলে বা দিতে হলে দরকার সকলের সমন্বয় ও সর্বজন নিবেদিত প্রচেষ্টা।
যেমন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পতাকা তৈরির প্রতিযোগিতা! ভাবছি এমনটি প্রতিযোগিতা কি হতে পারে না নিজের দেশকে নিয়ে? এসো হে বন্ধু শুধু বাংলা নয় সারা বিশ্বে এ পতাকা উড়াই। এমনটি প্রত্যাশা।
আর্টিকেল র্শট- গ্লামার স্পোর্টস।
সংগ্রহীত
লেখক- রহমান মৃধা