23/07/2022
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ
একজন অনবদ্য ক্রিকেটার। অনেক হারা ম্যাচ জিতিয়ে গেছেন সাইলেন্ট ভাবে। এ কারণে উপাধি ও পেয়েছেন সাইলেন্ট কিলার। কারণ, সাইলেন্টলি প্রতিপক্ষকে কিলিং করার স্পর্ধা এবং সাহস তার ছিলো। শুধু ছিলোই না, করেও দেখিয়েছেন।উদাহরণ দিতে গেলে শুরুতেই চোখে ভাসে- নিদাহাস ট্রফির সেমিফাইনালে ইসুরু উদানার সাথে ব্যাটেলে ৬ মেরে ম্যাচ জেতানো। এছাড়াও সাকিব এর সাথে কার্ডিফে ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১৫ বিশ্বকাপের ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি। এগুলোই!!
মাশরাফির পর টিটুয়েন্টি অধিনায়ক এর দায়িত্ব পেয়েছেন।এতদিন দলে অবদান রাখলেও, বর্তমান সময়ে নিজেকে বানিয়েছেন দলের বোঝা। কি টিটুয়েন্টি বা কি ওয়ানডে! তার শুভাকাঙ্ক্ষী তার থেকে এখনো সেই ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি আশা করে। কিন্তু, তিনি বর্তমানে পারেন শুধু ব্যাক টু ব্যাক ডাক মারতে অথবা ব্যাক টু ব্যাক ডট বল খেলতে। আগে তিনি হারা ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়তেন, না জেতাতে পারলেও নিজের সবটুকু উজার করে দিতেন। আর, বর্তমানে ইজিলি জেতা ম্যাচ অনায়াসে হারিয়ে আসতে দ্বিধাবোধ করেননা। প্রতিপক্ষকে সাইলেন্ট কিলিং না করে, নিজের দলকেই কিলিং করে আসে।শেষ কবে নিজ নৈপুন্যে ম্যাচ জিতিয়েছেন তা মনে করতে হয়তো তার কয়েকদিন সময় লেগে যেতে পারে।
একজন ব্যাটারের যেকোনো ফরম্যাটে তার ফর্ম আপেক্ষিক। ওঠানামা করতেই থাকে সময় এর সাথে। এটি তর্কসাপেক্ষে বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলির ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। তবে, ফর্ম থাকুক বা না থাকুক, একজন আন্তর্জাতিক টিটুয়েন্টি ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হিসেবে শিশুসুলভ সিদ্ধান্ত নেওয়া বা আচরণ দেখানো মোটেও কাম্য নয়।
তিনি তার পিক টাইম পার করে এসেছেন। সামনের দিনগুলোতে সেই ১৫বিশ্বকাপের ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরির রিয়াদের ফিরে পাওয়ার আশা করা নেহাত বামন হয়ে চাঁদ এ হাত দেওয়ার মতো অবস্থা।
তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের যুক্তি- তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া যাবেনা কারণ-
১) ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করেছে
২) চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ম্যাচ জিতিয়েছে
৩) নিদাহাস ট্রফিতে ম্যাচ জিতিয়েছে
এ কারণে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া যাবেনা।
নিজের মাইন্ডসেট নিজে বানিয়ে রেখেছে- পৃথিবী উল্টাবে কিন্তু ম্যাচে ডানহাতি ব্যাটার থাকে ডান হাতি বোলার আনবেনা। বাহাতি ব্যাটার থাকলে বাহাতি বোলার আনবেনা।
৭০ সেঞ্চুরির মালিক বিরাট কোহলিকে যদি দল থেকে বাদ পড়ার কথা শুনতে হয়, তাহলে রিয়াদ কে তো নির্বাসনে পাঠানোর কথা ভাবা উচিত।
অভিমান দেখিয়ে লাস্ট টেস্টে ভালো খেলেও অবসর নিতে পারেন বুক ফুলিয়ে, অথচ দিনের পর দিন বাজে খেলে, শিশুসুলভ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ম্যাচ হারিয়ে টিটুয়েন্টি দলে থেকে অবসরের কথা কোনোদিনও ভাবেননা।
হয়তো রিয়াদ ক্যাপ্টেন থেকে চেঞ্জ হলেও, দলের ভাগ্য সেইম থাকবে। আগের মতোই হারবে অথবা নতুন ভাবে জিততেও পারে। হারুক-জিতুক যেটাই হোক, তবে রিয়াদ ক্যাপ্টেন থেকে চেঞ্জ হলে ম্যাচ চলাকালীন ডান হাতি ব্যাটার কে ডান হাতি স্পিনার এবং বাহাতি ব্যাটার কে বাহাতি স্পিনার অন্তত বল করতে পারবে! যা রিয়াদ ক্যাপ্টেন থাকাকালীন হয়তো ইহকালেও সম্ভব না।
ব্যাটসম্যান হিসেবে যেকোনো প্লেয়ারেরই খারাপ ফর্ম আসতেই পারে। রিয়াদ ও তার ব্যতিক্রম নয়। ক্যারিয়ারের অন্যতম বাজে সময় পার করছেন তিনি একাধিক ফরম্যাটে। দলের সবাই ভালো পারফর্ম করতে না পারলে আপনি ক্যাপ্টেন হিসাবে জিততেও পারবেন না এটাও সত্য। তবে, ম্যাচে জেতার জন্য আগ্রাসী সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া, স্রোতের বিপরীতে গিয়ে ভাবা- এগুলো একজন জয়পিপাসু ক্যাপ্টেন এর মধ্যে থাকা উচিত।
রিয়াদ যতটা না তার ফর্ম এর কারণে ট্রল বা হাসির পাত্র হচ্ছেন, তার চেয়ে বেশি হচ্ছেন ম্যাচ চলাকালীন তার শিশুশুলভ আচরণের কারণের জন্য। তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ- বিশ্বকাপে শ্রীলংকার সাথে এক ওভারে দুই উইকেট পাওয়ার পরও সাকিবকে আর বোলিং এ না আনা, শুধুমাত্র বাহাতি ব্যাটার থাকার কারণে। তবে, এটা শুধু একবার না, বহুবারই তিনি করেছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচে, বিশ্বকাপের আসর আপনার শিশুসুলভ আচরণের জায়গা না, এগুলো করতে চাইলে অন্তত পাড়ার ক্রিকেটে করবেন!
আর পুরোনো মাহমুদুল্লাহর প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা ছিলো, সেটি ভবিষ্যতে পেতে চাইলে এখনি সিদ্ধান্ত নিন। যে, ক্যাপ্টেন হিসেবে না হলেও অন্তত একজন ব্যাটার হিসেবে এখনো আপনি হারা ম্যাচ জেতাতে পারেন। আর যদি নাই বা পারেন, তাইলে সসম্মানে টেস্টের মতো সময় থাকতে বিদায় নিতে পারেন!
Cric-Cric