27/08/2026
যে মাঠ একদিন শান্তি দিয়েছিল, একদিন সেই মাঠই অনেক কিছু শিখিয়ে যায়...
অনেকে বলে, একসময় আমিও বলতাম— সারাদিনের মন খারাপ, ক্লান্তি আর হাজারো চিন্তা দূর হয়ে যায় ক্রিকেটের মাঠে। শুধু বলতাম না, মন থেকে বিশ্বাসও করতাম।
ক্রিকেট কখনো কখনো জীবনের সব সমস্যার ওষুধের মতো কাজ করে। আবার সময়ের পরিবর্তনে সেই ক্রিকেটই অনেক সাজানো সম্পর্ক, আবেগ আর স্মৃতিকে এলোমেলো করে দিতে পারে।
একসময় এমন মানুষও ছিল, যারা আপনাকে ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইত না। আপনার সিদ্ধান্তই ছিল তাদের সিদ্ধান্ত। প্রতিটি খেলায় আপনি ছিলেন দলের কেন্দ্রবিন্দু, প্রতিটি আয়োজনের পেছনে থাকত আপনার পরিশ্রম, আর সবাইকে একসঙ্গে রাখাই ছিল আপনার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
কিন্তু সময় বদলায়। একটা সময় আসে, যখন সেই মানুষগুলোই আপনাকে ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে দেয়। আপনার মূল্য কমে যায়, আপনার সিদ্ধান্তের গুরুত্ব থাকে না, এমনকি আপনার বিরোধিতাও শুরু হয়। তারা সবাই একসঙ্গে থাকে, একসঙ্গে এগিয়ে যায়— শুধু আপনাকে বাদ দিয়ে।
ক্রিকেটও ঠিক তেমনই। কখনো দেয়, আবার কখনো কেড়ে নেয়। তাই নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়— আমি যাদের জন্য এত কিছু করছি, তারা কি সত্যিই আমার প্রচেষ্টার মূল্য বুঝছে? আমি যেমন একসময় তাদের জন্য ভেবেছি, তারাও কি আমাকে নিয়ে একইভাবে ভাবে?
মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রত্যাশা না রাখাই হয়তো সবচেয়ে ভালো। কারণ প্রত্যাশা যত বেশি, হতাশার সম্ভাবনাও তত বেশি।
ঈশ্বরদী তথা বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ হওয়ার অনেক কারণ আছে। তাই সময়, বয়স ও নিজের সম্মানের কথা বিবেচনা করে কিছু জায়গা থেকে সরে দাঁড়িয়ে নিজের ক্যারিয়ার, পরিবার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা— হয়তো সেটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত।
কারণ জীবনে সব মাঠে জয়ী হওয়া যায় না, কিছু মাঠ ছেড়ে দিয়েও নিজের জন্য নতুন পথ তৈরি করতে হয়।
_রনি।