18/10/2026
অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে দেশের এমনিতেই খুব একটা ভালো না, বিজ্ঞাপনের বাজার একদমই ভালো না। আগে যে প্রতিষ্ঠান কোটি টাকা সাধতো, তারাই এখন ১০ লাখেও আসতে চাই না বিজ্ঞাপন দিতে।
এই যে গাড়িবুক ২৫ লক্ষ টাকা দিয়ে শুধু বাসের ব্রান্ডিং করাচ্ছে, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সত্যি বলতে এই অংকটাও ভালো অনেক। বিসিবির এটা ক্রেডিটই বলবো, এই পরিস্থিতিতে এই অর্থ আয় করা এইটুকু সেগমেন্টে।
এমন অবস্থায় ক্রিকেটে রেজাল্ট ধারাবাহিক না হলে সেটার ইমপ্যাক্ট পরে 'পজিটিভ দর্শক' তৈরী করতে। এই প্রভাব গিয়ে পড়ে বিসিবির রেভিনিউ এর উপরও। গ্যালারীতে দর্শকের চাপ, সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকদের ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা এগুলোর উপর ব্রান্ড ইমেজ আর রেভিনিউ নির্ভর করে।
অলরেডি দেশের মিডিয়ার বিজ্ঞাপন বাজারে রাজত্ব এখন রাজনীতির। আগে যেটা ক্রিকেটের দখলে ছিল বহুদিন।
লিটন মুস্তাফিজরা যে বেতন ভাতা, ম্যাচ ফি পাচ্ছেন, যেটুকুই সুবিধা পাচ্ছেন এটার উৎস কিন্তু সেই রেভিনিউ সিস্টেম।
বিসিবি যে গ্রোথ, সেটা যতটুকু হোক তার পিছনে জাতীয় দলের রেজাল্টের ভূমিকা থাকে অনেক।
২০১৫ এর দিকে যখন মাশরাফিরা নিয়মিত ঘরে জেতা শুরু করলো সেসময় অর্থনীতির দিক থেকেও বিসিবির মোড় ঘুরতে শুরু করেছিলো অনেক। মাঠে দর্শক হতো ফুল হাউস, টিকিটের দাম ধীরে ধীরে তিনগুণ হলেও সেটা নিয়ে কোন সমস্যাই হয়নি। বরং তীব্র চাহিদার কারনে কালো বাজারে ২০০ টাকার টিকিট ২ হাজারেও বিক্রি হয়েছিলো নিয়মিত। নিজ চোখে দেখা।
২০১৭,২০১৮,২০১৯ এর বিপিএল ছিল মারদাঙ্গা। এগুলোর পিছনেও জাতীয় দলের ধারাবাহিকতার প্রভাব ছিল। ক্রিকেটে এসব খুবই রিলেটেড।
বিসিবিতে হাজারটা সমস্যা থাকবে, হাজার রকম নেতিবাচক ব্যাপার থাকবে কিন্তু এর মধ্যেও জাতীয় দলের রেজাল্ট করে যেতে হবে। অন্তত ঘরের মাঠে বা নিউট্রাল ভেন্যুতে আপনি জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড এদের কাছে হারতে পারবেন না। এগুলো ইমপ্যাক্ট ফেলে অনেক।
জাতীয় দলে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত দরকার। রেজাল্ট আনা দরকার জরুরী। না হলে সবকিছু থমকে যাবে একটা সময়, যত পরিকল্পনা সব।