01/11/2024
সেরা নারী ফুটবলার হয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক পেয়েছিল ঋতুপর্ণা। গতকাল একটা ভিডিওতে দেখলাম, ও যখন চেকটা বুঝে নিচ্ছিলো তখন একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করে, এই চেক দিয়ে কী করবেন?
ঋতুপর্ণা সরল উত্তর দেয়, আমার টিমমেটদের খাওয়াবো, আর বাকিগুলা যা থাকে তা দিয়ে আমার মায়ের জন্য কিছু জিনিস নিয়ে যাব।
সাংবাদিক আবার জানতে চায়, খুশি?
ঋতুপর্ণা এবার দুর্বার হাসিতে উত্তর দেয়, খুশি মানে, কে না খুশি হয়! টাকা পাইলে সবাই খুশি হয়।
তার এ পিওর এক্সপ্রেশন ও সিমপ্লিসিটি দেখে মুগ্ধ হয়েছি। একইসাথে এটাও ভাবলাম, এই অল্প টাকা মেয়েটার কাছে এত উচ্ছ্বাসের কারণ হলো কেন!
এই ফুটবলার মেয়েগুলোর বেতন কত জানেন?
A+ ক্যাটাগরিতে ১০ হাজার, A ক্যাটাগরিতে ৮ হাজার এবং B ক্যাটাগরিতে ৬ হাজার টাকা।
এই স্বল্প টাকা দিয়ে তাদের পরিবার চলার মতো? এক-দুই জন বাদে এরা প্রত্যকেই নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে খেলতে এসেছে। বেশিরভাগই পাহাড়ি। তাদের পাঠানো টাকায় চলে বাবা-মায়ের খরচ। এদের ঠিকমতো ঘরবাড়ি নাই। বাঁশের ভেড়া দিয়ে তৈরি দুচালা ঘর। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে ঘরের ভেতর। গতবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বেশ আলোচিত হয়েছিল সেরা গোলকিপার রুপনা চাকমাদের ঘর নিয়ে। দরজা-জানালা নাই, দুচালা জরাজীর্ণ ঘরে মা থাকেন। বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় ঘরের আশপাশ, ঘরের ভেতর মেঝেতে স্যাতস্যাতে অবস্থা হয়ে যায়।
তখন বলা হয়েছিল, রুপনাসহ সবার ঘরবাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে। বোনাস দেওয়া হবে। বেতন-ভাতা বাড়ানো হবে। কিন্তু দুই-তিন মাস যাওয়ার পর দেখা গেল আমাদের আলোচনার টেবিল থেকে ঋতুপর্ণা-রুপনারা সরে গেল। ব্যাস, বাফুফেও আগের মতো বৈষম্য চালিয়ে যেতে লাগল।
এই যে ক্ষুদ্র বেতন দেওয়া হয়, এটাও তাদেরকে ঠিকমতো মান্থলি দেওয়া হয় না। গত দুই-তিন মাস ধরে তাদের বেতন বকেয়া। কারো কারো আরও বেশি মাসের বেতন বকেয়া। পূর্বে ফিচার করার সুবাদে কয়েকজনের সাথে আমার যোগাযোগ আছে। আমি যখন জানতে চাইছি বেতন নিয়ে, দেখি সবাই নিরব। মানে তারা এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলে বিপদ ডেকে আনতে চান না।
বাফুফে সংশ্লিষ্টরা লজিক দিচ্ছেন, পূর্বে সালাউদ্দিন সাহেব দায়িত্ব থাকায় বেতন বকেয়া আর দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে তাদের কয়েক মাসের বেতন বকেয়া। এগুলো ঠিক হয়ে যাবে।
বাহ্ দারুণ লজিক! বাফুফেকে মাত্র আট-দশ হাজার টাকা বেতন দিতে দেশের টালমাটাল পরিস্থিতি ধর্না দিতে হচ্ছে। অথচ তারা সপ্তাহখানেক আগে বাফুফের নির্বাচনে ১২৮ ভোটের জন্য ৫০ লাখ টাকা খরচ করতে পেরেছিল। ফাইভ স্টার হোটেলে সভা এবং ভোটাভুটি করতে কাউন্সিলরদের হোটেল ভাড়া দিয়েছে ১১ লাখ টাকা। তাতে কোনো সমস্যা হয় নাই।
ঋতুপর্ণারা ভারত-পাকিস্তান-নেপালের মতো পরাশক্তির দেশগুলোকে হারিয়ে শিরোপা জিতবেন, আমাদের গর্বিত করবেন। আবার দেশে ফিরে ছাদ-খোলা বাসে গণসংবর্ধনা নেবেন; কিন্তু তাদের পরিবারের ভাগ্য আর বদলাবে না।
তাদের কাজই শিরোপা জেতা, আর আমাদের গর্বিত করা!
© Farid Uddin Rony