15/06/2026
আরও একটি ফুটবল বিশ্বকাপ। এবং আবারও আলোচনায় 'স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার' সেই জাপানিজ সভ্যতা!
গত রাতে মাঠের লড়াইটা ছিলো দেখার মতো। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষ ২-২ সমতায় ম্যাচ শেষ করেছে জাপান!
কিন্তু ৯০ মিনিটের সেই টান টান উত্তেজনা আর উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই গ্যালারিতে দেখা গেলো ভিন্ন এক দৃশ্য। শেষের বাঁশি বাজার মিনিট দশেকের মধ্যেই জাপানি সমর্থকেরা তাদের উদযাপনের গতি থামিয়ে দিলেন। ব্যাগ থেকে বের করলেন নীল আর সাদা রঙের বড় বড় প্লাস্টিকের প্যাকেট। এরপর শুরু হলো সেই পুরোনো কর্মকান্ডকে ফিরিয়ে আনা।
হাজার হাজার মানুষের ফেলে যাওয়া চিপসের ঠোঙা, ওয়ানটাইম খাবারের ট্রে, কোমল পানীয়ের খালি কাপ- সব একটা একটা করে কুড়িয়ে ব্যাগে ভরতে লাগলেন তারা।
চোখের পলকে ডালাস স্টেডিয়ামের ওই অংশটা হয়ে গেলো একদম ঝকঝকে! বিশ্বকাপের গ্যালারিতে যেখানে খেলা শেষে আবর্জনার স্তূপ মাড়িয়ে বের হওয়াটাই অলিখিত নিয়ম, সেখানে জাপানিরা বরাবরই একটু আলাদা।
১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এই উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ- এতদিনেও তাদের এই অভ্যাস একটুও বদলায়নি। দল জিতুক কিংবা হারুক, গ্যালারির ময়লা পরিষ্কার করাটা তাদের কাছে কর্তব্যের মতো।
কারণটা লুকিয়ে আছে তাদের একটা চমৎকার প্রবাদে। "তাতসু তোরি এতো ও নিগোসাজু"। যার অর্থ, ‘পাখি যখন উড়ে যায়, সে তার পেছনের পানি ঘোলা করে দিয়ে যায় না।’ অর্থাৎ, কোনো স্থান আপনি যেভাবে পেয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই রেখে যান।
পাশ্চাত্য সভ্যতা বা আমরা হয়তো বলি, "এত টাকা দিয়ে টিকিট কেটে খেলা দেখতে এসে, কেন আমরা এই কাজটা করবো? এর জন্য তো আলাদা লোক রাখা আছেই!"
কিন্তু জাপানিদের ভাবনার জগৎটা আলাদা। সেখানে শিশুদের একদম প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শেখানো হয়, নিজের কাজ নিজে করতে হবে। জাপানের স্কুলে কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকে না। ছোটবেলা থেকে ক্লাসরুম বা করিডোর পরিষ্কার করার এই অভ্যাস বড় হয়ে তাদের রক্তের সঙ্গে মিশে যায়।
তাই হয়তো ব্যক্তিগত ও সামাজিক পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক সচেতনতা এবং নান্দনিক সংস্কৃতির জন্য- জাপানের জনগণ বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত।