26/05/2021
হাই প্রোফাইল বিদেশী কোচ আনলেই কি সাফল্য পাওয়া সম্ভব? রাসেল ডোমিঙ্গোকে আমরা বি-গ্রেড,সি-গ্রেড কোচ বানিয়ে দিচ্ছি। আসলে তার দোষ কতটুকু?
শ্রীলঙ্কার কোচিং প্যানেল দেখেন👇
হেড কোচ = মিকি আর্থার (সাবেক সাউথ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার কোচ)
ব্যাটিং কোচ = গ্রান্ট ফ্লাওয়ার (সাবেক পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচ)
বোলিং কোচ = চামিন্দা ভাস (শ্রীলঙ্কার সর্বকালের অন্যতম সেরা বোলার)
হেড অব ডিরেক্টর = টম মুডি ( ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে যার সাফল্য ঈর্ষনীয়)
শুধু তাই নয়। এনাদের আগে বাংলাদেশ টিমে কাজ করে সাফল্য পাওয়া হাথুরুসিংহেকে হেড কোচ এবং সামারাবিরাকে ব্যাটিং কোচ করা হয়েছিলো।
শ্রীলঙ্কা টিমের প্লেয়ারদের খারাপ বলছি না। তাদের কাছে অভিজ্ঞ প্লেয়ার আছে (ম্যাথুস,চান্দিমাল,দিমুথ,লাকমাল), তাদের কাছে অনেক ইমার্জিং প্লেয়ারও আছে (আভিস্কা,ভানুকা,ওশাডা,হাসারাঙ্গা )। এর বাহিরে যারা আছে, গত ৫-৬ বছরে কখনও কখনও ভালো করেছে তাদের নিয়ে এবারের টিম সাজানো হয়েছে। আমরা শ্রীলঙ্কার এই মানসিকতাকে সাহসী হিসেবে দেখছি। কিন্তু পরিসংখ্যানে চোখ বুলালে চমকে উঠতে হয়। সর্বশেষ ৪৫০ দিনে তারা একটা ওয়ানডেও জেতে নি৷
বাংলাদেশে না হয় তারা সিনিয়রদের বসিয়ে টিম সাজিয়েছে,কিন্তু এরা কি একেবারেই অনভিজ্ঞ প্লেয়ার? এই মেন্ডিস,শানাকা,পেরেরা,উদানা গত কয়েকবছরে আমাদেরকে ইনডিভিজুয়ালি ভুগিয়েছে প্রচুর। হাই ক্লাস কোচিং প্যানেলকে সামনে রেখে তরুন প্লেয়ারদের নিয়ে তারা একটা বাজি ধরেছে। কিন্তু কোচিং করিয়েই যদি সাফল্য পাওয়া যেতো, কালকে ম্যাচ হারার পর সিনিয়রদের না থাকার দীর্ঘশ্বাস ফুটে উঠতো না অধিনায়ক পেরেরার কথায়।
এখন আসি, বাংলাদেশের বিষয়ে। কয়দিন আগে পাপন সাহেব বলেছেন,বর্তমান পরিস্থিতিতে হেড কোচ হিসেবে রাসেল ডোমিংগোর ভালো বিকল্প নেই। তার কথার সাথে একমত না হওয়ার কোনো কারন নেই, দ্বিমত করারও কি কিছু আছে? ট্যালেন্টেড বলে গত ৫-৬ বছরে যাদের অভিষেক হয়েছে,তারা যদি দায়িত্ব নিতে না শেখে কোচের দোষ দিয়ে কি করবেন? কালকে লিটনের খেলাই দেখেন,শুরুতে তামিম,সাকিব আউট হওয়ার পর রীতিমতো কাপছিলো। একটু পর হঠাৎই কনফিডেন্স ফিরে পেলো,তারপর হঠাৎই আজাইরা বলে আউট। মোসাদ্দেক,আফিফও তো ভালোই শুরু করেছিলো। তারা আউট হওয়াতে কি কোচের দোষ দিবেন?
আমাদের প্লেয়াররা ইংরেজি বোঝে কম,এরা কোচের সাথে কথা বলতে স্বচ্ছন্দ না। কোচ যখন ইংরেজিতে মোটিভেট করবে,এরা সেটাও বুঝবে না। কোনো কিছু ভুল হলে কোচের সাথে যে খোলামেলা আলোচনা করবে সেটার সাহসও নেই। আজকের অলরাউন্ডার সাকিব একদিনে তৈরি হয়নি। জেমি সিডন্স তাকে নিয়ে কাজ করেছে বলেই সাকিব ব্যাটসম্যান থেকে অলরাউন্ডার হয়েছে,একইভাবে হাথুরুসিংহে তামিমকে নিয়ে প্রচুর কাজ করেছেন,মুশফিকও ২০১১ থেকে অন্যরকম প্লেয়ার হয়ে গেছে। তারা যদি ইংরেজি না জানতো,এই পরিবর্তন কি সম্ভব হতো? আমাদের লিটন,সৌম্য,মিরাজ,মুস্তাফিজরা ইংরেজিতে কতটা অদক্ষ সেটা তাদের ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হলে কথাবার্তাতেই বোঝা যায় । আমি নিশ্চিত, ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ হলে তারা কোচদের থেকে আরো ভালো কিছু জানতে পারতো।
বিসিবির এই ছোটখাটো জিনিসের প্রতি নজর দেওয়া উচিত৷ খেলোয়াড়দের খেলার পাশাপাশি ইংরেজি বলা ও শেখানোর ব্যবস্থা করা উচিত,চাইলে দোভাষীও নিয়োগ করা যায়। আর একটা জিনিস,যতবারই আমাদের ক্রিকেটারদেরকে মনোবিদের সাথে কাজ করানো হয়েছে,প্রত্যেকবার ভালো রেজাল্ট এসেছে। আমার মনে আছে,শেষবার মনোবিদের সাথে কোর্স করার পর ইমরুল কায়েস ইংল্যান্ডের সাথে সেঞ্চুরি করেছিলো। বিসিবির উচিত আমাদের তরুন খেলোয়াড়দেরকে নিয়মিত মনোবিদের কোর্স করানো। এই লিটন,আফিফদের ট্যালেন্টের কমতি নেই। কিন্তু মাঠে নামলেই তাদের দেখে মনে হয় নার্ভাস,ব্যাট করতে ভয় পাচ্ছে,আত্নবিশ্বাস নেই। এই সমস্যাগুলো কোচ দূর করতে পারবেনা,মানসিক সমস্যা মানসিকভাবেই হ্যান্ডেল করতে হবে।
কোচিং প্যানেল একবারে দেশীদের ভরিয়ে রাখলেই যেমন উন্নত সাফল্য পাওয়া সম্ভব না (খালেদ মাহমুদের সময়টা যেমন ছিলো),তেমনি সব কোচ বিদেশ থেকেও এনে সর্বোচ্চ সাফল্য পাওয়া যাবে এধরনের ভাবনাটা অনুচিত৷ কোচিং প্যানেলে দেশী-বিদেশী মিশ্রণ থাকতে হবে,খেলোয়াড়দেরকে কোচের সাথে বেশি করে কথা বলতে হবে,নিজেদের দূর্বলতার জায়গা নিয়ে বারবার ঘন্টার পর ঘন্টা অনুশীলন করতে হবে,তাহলেই তরুনদের থেকে রেজাল্ট পাওয়া সম্ভব৷ এই মানসিকতার উন্নতি না হলে যতই তরুন প্লেয়ার দলে আনা হোক না কেন,একই গন্ডির ভিতর দল আটকে থাকবে। প্রমানটা শ্রীলঙ্কা টিম নিজেই। এখনই আমাদের সাবধান হওয়া জরুরি 🙂