26/04/2020
আশরাফুল নিজের বাড়িতে শচীন টেন্ডুলকার,হরভজন সিংকে আপ্যায়ন করেছিলেন!
মোহাম্মদ আশরাফুল
ছোটবেলা থেকেই শচীন টেন্ডুলকার আমার রোল মডেল ছিল। ১৯৯৮ সালে যখন আমি অনূর্ধ্ব-১৩ দলের হয়ে খেলি তখন আমার বন্ধু তাঁর পোস্টার আমাকে দিয়েছিল। আমি ছোটবেলা থেকেই উনার ভক্ত ছিলাম। অঙ্কুরে অনুশীলন করতাম ওয়াহেদ স্যারের ওখানে। উইলস কাপ ও এশিয়া কাপে যখন বল বয় ছিলাম। তখন ম্যাচ শুরুর আগে আমরা কিছুটা সময় পেতাম। ৯৮‘এর ঘটনা- নেটে বোলিং করার সময় তাঁকে কাছে পেলাম। ওই সময় তাঁর সঙ্গে ছবিও তুলেছি। ২০০৪ সালে শচীনের সাথে আবারও দেখা হয়,সেবার ভারত ব্যাটিং ছিল প্রতিপক্ষ। ওই সময় খেলা চলাকালে টিম হোটেলে শচীনের সঙ্গে দেখা করি। আমরা টিম হোটেলে ছিলাম। আগেও শচীনের সঙ্গে কথা হয়েছিল, কিন্তু সেবার হলো আরও অনেক কথা। বেশ কাছাকাছি গিয়ে কথা হলো। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ঢাকা টেস্টে করেছিলাম ৬০ রান। পরে চট্টগ্রাম টেস্টের আগে তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ মিলল। ভাষাগত সমস্যা হচ্ছিল,কিন্তু শচীনের সামনে যেতেই সেই সমস্যার সমাধান। ওই সময় আমি হিন্দি ও ইংরেজি ভালো পারতাম না। একাই তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। উনি নিজে থেকেই আমাকে বলল তুমি বাংলায় বলো। সব কথা ছিল খেলা নিয়ে। বললাম আমার খেলায় ধারাবাহিকতা থাকে না। বলেছিলেন প্রথমবার যতটা মনোযোগ থাকে পরেরটিতে ততটা থাকে না, ভালো করতে হলে সেটা করতে হবে। আর অন্য দল তোমার দুর্বলতা নিয়ে কাজ করে তাই তুমি ভালো কিছু করতে পারছো না। মন খুলে খেলতে বললেন। সেবারই ১৫৮ করলাম। অসাধারণ এক অনুভূতি ছিল। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এর হয়ে খেলা আমার জীবনের সেরা পাওয়া। ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় আইপিএল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেবার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এর হয়ে একটা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলাম। ওই ম্যাচের কথা আমার মনে আছে। রান করতে পারিনি। ২ রান করেছিলাম। আমি যখন উইকেটে যাই টেন্ডুলকার স্ট্রাইকে ছিল। আমার রোল মডেল শচীন টেন্ডুলকার। টেন্ডুলকারের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুমে ৪৫ দিন ছিলাম। এটা আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।আইপিএল এর পর বাংলাদেশ সফরে আসে ভারত। ওয়ানডে দলে ছিলেন না টেন্ডুলকার। পরে টেস্ট দলে যোগ দেন। একদিন হরভজন আমাকে বলল, তোমার বাড়িতে নিয়ে যাবে না? তখন আমি বললাম অবশ্যই। তারপর টেন্ডুলকার,হরভজনকে বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলাম।ওইদিন ছিল বৃহস্পতিবার। শচীনের জন্যই অপেক্ষা করছি। হরভজন ও শচীন ছাড়াও ছিল সাকিব, তামিম, জাভেদ ভাই ও ওয়াহিদ স্যার। ওটা অন্যরকম একটা মুহূর্ত ছিল। টেন্ডুলকার আমার বাড়িতে এসেছিল। শচীন,হরভজন পাতে ইলিশ তুলে দিয়েছিলাম। ওই মুহূর্ত ভোলার নয়। শচীন টেন্ডুলকার আমার বাড়িতে এসেছিল,এটা আমার সারাজীবন মনে থাকবে। উনি মানুষের সঙ্গে খুব সহজভাবে মিশে যান। যা যা রান্না করা হয়েছে সবই খেয়েছিলেন। উনার খাবারের দুটি ধরন আছে। একটা দিন সারাদিন একটি রুটি খেয়ে থাকেন। আর একদিন আছে যেদিন অন্যকিছুও খেয়ে থাকেন। ওই দিনটা ছিলো উনার সব কিছু খাবারের। ঠিক সময়ে আপ্যায়ন করতে পারায় আমি খুবই খুশি। এক কথায় বলতে গেলে ক্রিকেটার তো বটেই, মানুষ হিসেবেও অসাধারণ তিনি। খুব চমৎকার একজন মানুষ। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চান। আসলে ব্যক্তি হিসেবে উনি অন্য রকম। আমার সৌভাগ্য উনার সঙ্গে খেলতে পেরেছি।