03/04/2023
*English & Bangla Pangram
প্যানগ্রাম বা শুক্তিবাক্য হল এমন একটি বাক্য যেখানে বর্ণমালার সবগুলো বর্ণ অন্তত একবার করে আছে। ফন্ট কিংবা কী-বোর্ড ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য প্যানগ্রাম ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ ইংরেজি "The quick brown fox jumps over the lazy dog" বাক্যটিতে ইংরেজি বর্ণমালার ২৬ টি বর্ণই কমপক্ষে একবার করে আছে। বাক্যটি কীবোর্ডে টাইপ করতে গেলে ইংরেজি বর্ণমালার প্রত্যেকটি বর্ণের বাটন প্রেস করতে হবে।
শাহিদুল হকের লেখা একটি শুক্তি ছড়াও রয়েছে-
ঘূর্ণিঝড়ে ঊষা বক্ষে ঈগল অনুঃ ছায়া ঐ
প্রৌঢ় ঋভু মঞ্চে উঠে ঔদার্য খোঁজে ওই।
ডিঙা ঢং তফাৎ আশা এ ধারটা থেকে হাসা।
১.”বিষণ্ণ ঔদাসীন্যে ঊষাবৌদি বাংলাভাষায় প্রচলিত নিখুঁত গল্পটি অর্ধেক বলতেই ঋতু ভুঁইঞা আর ঐন্দ্রিলা হৈহৈ করে উঠল-- ওঃ, থামো বুঝেছি বড্ডো পুরাণো ঢঙের গল্প-- মূঢ় আড়ম্বর ও আত্মশ্লাঘার ফল জীবনে বিঘ্ন ও বৃহৎ ক্ষতি-- এ নীতি যার না?”
২.”বর্ষামুখর দিন শেষে, ঊর্দ্ধপানে চেয়ে যখন আষাঢ়ে গল্প শোনাতে বসে ওসমান ভুঁইঞা, ঈষান কোণে তখন অন্ধকার মেঘের আড়ম্বর, সবুজে ঋদ্ধ বনভূমির নির্জনতা চিরে থেকে থেকে ঐরাবতের ডাক, মাটির উপর শুকনো পাতা ঝরে পড়ে ঔদাসীন্যে, এবং তারই ফাঁকে জমে থাকা ঢের পুরোনো গভীর দুঃখ হঠাৎ যেন বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে ধূসর জীবনে রঙধনু এনে দেয়।”
আন্তর্জাতিক বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক সংগৃহীত ও কিছুটা সংস্কারকৃত আরেকটি প্যানগ্রাম যা মূলত সাধুভাষায় রচিত—
মহারাজ ঊষাকালে বৃহৎ ঐরাবতে রাজপথের অর্ধেক প্রদক্ষিণ করতঃ হঠাত্ উক্তি করিলেন, “এই ঢোল পাখোয়াজ, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ঝংকার ও সৌরভ মন্দ্রিত আড়ম্বরপূর্ন রঙিন জীবনের ছত্রতলে যে বিষণ্ণ দারিদ্র তাহা কি ঈষৎ ঔদাসীন্য, অপ্রচলিত বৈদেশিক নীতি নাকি বারভুঁইঞার সহিত পুরাণো এবং আত্মঘাতী ডামাডোলের ফসল?”
৩৯টি বর্ণের একটি বাক্যে সবগুলো স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে /-কার/চিহ্ন-সহ অনুস্বর, বিসর্গ ও চন্দ্রবিন্দুর প্রয়োগ দেখিয়ে শাহিদুল একটি বাক্য রচনা করেছেন। বাক্যটি ‘শুবাচ লিটল ম্যাগ’ প্রথম সংখ্যায় (পৃষ্ঠা: ২৮) প্রকাশিত হয়েছে। বাক্যটি হলো :
ঊনিশে কার্তিক রাত্র সাড়ে আট ঘটিকায় ভৈরবনিবাসী ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণগ্রস্ত অভাবী দুঃস্থ পৌঢ় কৃষক এজাজ মিঞা হাতের কাছে ঔষধ থাকিতেও ঐ ঋণের ডরেই চোখে ঝাপসা দেখিয়া বুকের যন্ত্রণায় ঈষৎ কাঁপিয়া উঠিয়া উঠানে বিছানো ধূসর রঙের ফরাশের উপর ঢলিয়া পড়িলেন।
ক্ষুদ্র ঋণ
ঋণের ডরে প্রৌঢ় কৃষক
ঝাপসা দেখে চোখে
জাল ছড়ানো ঋণের ফাঁদে
না বুঝেই সব ঢোকে।
অবশেষে সব হারিয়ে
নিঃস্ব হয়ে ঘোরে
উপায়হীনের নেই যে কেহ
বাঁচবে তাকে ধরে।
ঔষধপথ্য জোটে না আর
পুলিশ এসে বান্ধে
ঈশান কোণে মেঘের ভয়ে
গরীব মিঞা কান্দে।
শেয়াল সংঘের ঐকতানে
ঠগের বাঁশি বাজে
রাঙা ঊষা আর ওঠে না
চাষার জগৎ মাঝে।
"অদ্য আষাঢ়ে ঊষায় ঈশাণ কোণে মেঘের ফাঁকে বিদ্যুৎচ্ছটার ঝলক ঠাওড়ে ঋষভ মিঞা ঔপল আখড়ায় ঐকতান ভাংগিয়া ডমরু ও এসরাজ সহযোগে দুঃখ উথলাইয়া ঢাকে ইমন ধুয়া বাঙময় করিলেন"
আকবর ঊষাকালে বৃহৎ ঐরাবতে দিল্লীর অর্ধেক প্রদক্ষিণ করতঃ হঠাৎ স্বগোতক্তি করিলেন, এই ঢোল পাখোয়াজ সঙ্গীত আর সৌরভমন্দ্রিত আড়ম্বরপূর্ণ রঙিন জীবনের ছত্রতলে যে বিষণ্ণ দারিদ্র তাহা কি মোগল সাম্রাজ্যের ঈষৎ ঔদাসীন্য, প্রচলিত বৈদেশিক নীতি নাকি বারোভুঁইঞার সহিত পুরানো এবং আত্মঘাতী যুদ্ধের ফসল?