12/07/2024
।।
- ভাইজান কেমন আছেন? শরীর কেমন?
- কি ব্যাপার ভাইজান কথা বলছেন না কেন, শরীর কি বেশি খারাপ?
- না ভাইজান শরীর আগের মতোই আছে। শুধু মনের মইধ্যে খিদিবিদি ল্যাগ্যা আছে।
- ও ও ও… তাহলে তো আপনাকে এখন খিদিবিদির ডাক্তার দেখাতে হবে।
- ভাইজান মশকরা কইরেন না তো।
- আচ্ছা মশকরা করবো না। এখন বলেন মনের মধ্যে খিদিবিদি লাগার কারন কি।
- আর বুইলেন না ভাইজান, যেদিন থ্যাইক্যা হাসপাতালে ভর্তি হয়াছি সেই দিন থাইক্যা এমুন জ্বালায় আছি নাআআ……।
- কিসের জ্বালা …
- এই যে দেখেন, প্রতিদিন ইন্টারনী ডাক্তার গালা রুমে ঢুইক্যাই সবার আগে আমারই প্যাট টিপা শুরু কইরবে ।
এই রুমের মইধ্যে এত গুলান রুগী আছে অথচ অদের দিকে নজর নাই, আগে আমার প্যাটের দিকেই অদের নজর পড়ে।
- আসলে আপনার পেটটা একটু বেশিই উচু হয়ে আছে তো, এই জন্য আপনার দিকেই সবার বেশি নজর পড়ে।
- এতই যদি অদের প্যাট টিপ্যা দ্যাখার এত শখ, তাহেলে ত্যাল চর্বি খাইয়্যা অদের নিজেদের ভুরি বানায়্যা বাড়িতে বইস্যা মনের সুখে টিপুক। নিজের উপুর পরিক্ষ্যা কইর্যা আরও ভালো ডাক্তারি শিখতে পাইরবে।
- রোগীদের হাত, পা, পেট টিপে না দেখলে তো ভালো ডাক্তার হওয়া যাবে না।
- আবার ধরেন টিপতে টিপতে অনেক সুময় সুড়সুড়ড়ড়্র কইর্যা নিচের দিকে চল্যা যায়। এইখ্যানে মেয়েছেইল্যা গুলাও দাড়িয়্যা থাকে। বুলেন তো তখুন শরম লাগে না ……।
- হুম শরম তো লাগার কথাই।
- বড় ছাড়েরা যখুন টিপে তখুন কিছুই মুনে হয় না। কিন্তু য়্যারা আইস্যা এমুনভাবে টিপেএএএ …… কি বুইলবো ভাইজান।
আমার আবার সুড়সুড়ির ঝামেলা আছে। য়্যারা যখুন ডাইন দিকে গুতা দ্যায় আমার মাজাখান বাম দিকে সড়্যা যায়। আবার যখুন বাম দিকে গুতা দ্যায় মাজাখান ডাইন দিকে সড়্যা যায়।
হাসপাতালে ভর্তি হয়্যা কি যে নাচানাচির মইধ্যে আছি ভাইজান, কি আর বুইলবো।
- ওদেরকে বলবেন যে আপনার সুড়সুড়ি আছে।
- ক’জনকে আর বুইলবো ভাইজান, একদল যায় তো আরেক দল আসে, দলে দলে আইসতেই থাকে। সকাল থ্যাইক্যা দুপুর পর্যন্ত অহারে এই কাহিনীই চইলতে থাকে।
এখুন মুনের এমুন অবস্থা হয়্যাছে ভাইজান যে, কেহু প্যাট না টিপলেউ মুনে হইছে কেউ মুনে হয় প্যাট টিপছে। মাজাখাণ্ডাও হঠাৎ হঠাৎআপুন মুনেই এদিক ওদিক ন্যাচ্যা ব্যাড়ায়। কি যে জ্বালায় আছি ভাইজান। এই জন্যেই মুন মেজাজ খিদিবিদি হয়্যা আছে।
- হুমমম …… জটিল সমস্যা। দোয়া করি তারাতারি সুস্থ হয়ে যান। সুস্থ হলেই সুড়সুড়ি থেকে মুক্তি।
- জী ভাইজান মুন থ্যাক্যা দুয়া কইরবেন। আচ্ছা ভাইজান, আপনি কি এখুনও পড়াশুনা করেন?
- জী না, আমার পড়াশোনা আপাতত শেষ , তবে আরও পড়াশোনা করার ইচ্ছা আছে, সময় সুযোগ হলে করবো।
- আপনি কি নিয়্যা পড়াশুনা কর্যাছেন ভাইজান।
- জী… আমিও মেডিক্যাল সাইন্স নিয়েই পড়াশোনা করেছি।
- কি ব্যাপার… কি হল… । এই গরমের মধ্যে গায়ের উপর কম্বল টেনে দিলেন কেন?
- ভাইজান কিছু মনে কইরেন না। আপনি ইকটু দূরে হইট্যা বসেন তো যান …………
।।
আব্দুল হালিম
।।
(আলাপন স্থান - রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
ওয়ার্ড - ৪৪, বেড-G3, রোগীর নাম - ভুলে গেছি।)