25/10/2012
কুরবানীর ঈদে করণীয় ও বর্জনীয়
১. ঈদের সালাত আদায় করা
দুই রাকাত ঈদের সালাত আদায় করা ওয়াজিব। কোন অবস্থায়ই ঈদের সালাত আদায়ে অলসতা করা যাবে না। শিশু-সন্তানদের ঈদের সালাতে নিয়ে যাওয়া ও ব্যবস্থা থাকলে মেয়েদের যেতে উৎসাহিত করা। মনে রাখতে হবে ঈদের সালাত ইসলামের একটি শিআ’র তথা মহান নিদর্শন। উমার রাদি আল্লাহু আনহু বলেন, জুম‘আর সালাত দু’ রাকাত, ঈদুল ফিতরের সালাত দু রাকাত, ঈদুল আযহার সালাত দু’ রাকাত ও সফর অবস্থায় সালাত হল দু’ রাকাত। [সুনান আননাসায়ি]
২. কুরবানী করা
ঈদের সালাত আদায় করার পর সামর্থবান ব্যক্তি কুরবানী করবে। কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে : ‘তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর ও পশু কুরবানী কর।’ [সূরা আলকাওসার : ২]। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি সামর্থ থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারে না আসে। [মুসনাদ আহমাদ, ইবন মাজাহ- ৩১২৩ হাদীসটি হাসান]
৩. ঈদের চাঁদ দেখার পর থেকে তাকবীর পাঠ করা
তাকবীর পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা হয়। ঈদুল আযহা এর অন্যতম করণীয় হচ্ছে এ দিনের তাকবীর। এ ঈদকে যেভাবে পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা হয়েছে সেভাবে এ দিনের তাকবীরকেও দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। ইবনে আবি শাইবা তার মুসান্নাফে [২/১৪১] বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদি আল্লাহু আনহু নিম্নোক্ত তাকবীরটি বলতেন, ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’।
৪. ত্র“টিমুক্ত পশু কুরবানী দেয়া
কুরবানীর পশু ত্র“টিমুক্ত হওয়া প্রয়োজন। আল-বারা ইব্ন আযেব রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন, তারপর বললেন, চার ধরনের পশু, যা দিয়ে কুরবানী জায়েয হবে না। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে পরিপূর্ণ হবে না—অন্ধ; যার অন্ধত্ব স্পষ্ট, রোগাক্রান্ত; যার রোগ স্পষ্ট, পঙ্গু; যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট এবং আহত; যার কোন অংগ ভেংগে গেছে। নাসায়ির বর্ণনায় ‘আহত’ শব্দের স্থলে ‘পাগল’ উল্লেখ আছে। [সুনান আততিরমিযি-১৫৪৬]
৫. আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে পশু উৎসর্গ করা :
আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে পশু উৎসর্গ করতে হবে। কেননা কুরআনে এসেছে, ‘বল, আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই উদ্দেশ্যে। তার কোন শরিক নাই এবং আমি এর জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম। [সূরা আনআম: ১৬২-১৬৩]
সালমান রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : এক ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে একটি মাছির কারণে। অন্য এক ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে একটি মাছির কারণে। এ কথা শুনার পর লোকেরা জিজ্ঞেস করল এটা কীভাবে হবে ? তিন বললেন : দু ব্যক্তি এক সম্প্রদায়ের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। সে সম্প্রদায়ের নিয়ম হল যে ব্যক্তি তাদের কাছ দিয়ে যাবে তাকে তাদের প্রতিমার উদ্দেশ্যে কিছু উৎসর্গ করতে হবে। সে সম্প্রদায়ের লোকেরা এ দুজনের একজনকে বলল : আমাদের এ প্রতিমার জন্য কিছু উৎসর্গ কর ! লোকটি উত্তর দিল আমার কাছে তো এমন কিছু নেই যা আমি এ প্রতিমার জন্য উৎসর্গ করতে পারি। তারা বলল একটি মাছি হলেও উৎসর্গ কর। সে একটি মাছি উৎসর্গ করল। তারা তাকে ছেড়ে দিল। ফলে সে জাহান্নামে যাবে। তারপর তারা দ্বিতীয় ব্যক্তিকে অনুরূপ কথা বলল। সে উত্তরে বলল আমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য কিছু উৎসর্গ করি না। তারা তাকে হত্যা করল। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করল। [ আবু নাঈম, মুসনাদ আহমাদ]
৬. আল্লাহর নামে নিজ হাতে কুরবানী দেয়া
যেমন হাদীসে এসেছে : জাবের রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত … একটি দুম্বা আনা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে যবেহ করলেন এবং বললেন ‘বিসমিল্লাহি ওয়াআল্লাহু আকবার, হে আল্লাহ! এটা আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের মাঝে যারা কুরবানী করতে পারেনি তাদের পক্ষ থেকে।
৭. ঈদের সালাত আদায় করার পর কুরবানী করা।
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : এ দিনটি আমরা শুরু করব সালাত দিয়ে। অতঃপর সালাত থেকে ফিরে আমরা কুরবানী করব। যে এমন আমল করবে সে আমাদের আদর্শ সঠিকভাবে অনুসরণ করল। আর যে এর পূর্বে যবেহ করল সে তার পরিবারবর্গের জন্য গোশতের ব্যবস্থা করল। কুরবানীর কিছু আদায় হলো না। [সহীহ আলবুখারী- ৯৬৫]
৮. কুরবানী ও আক্বীকা পৃথকভাবে দেয়া
কুরবানীর সাথে আক্বীকা না করে পৃথকভাবে করা। যেহেতু কুরবানীর উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যক্তির পক্ষ হতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা, পক্ষান্তরে আক্বীকার উদ্দেশ্য হচ্ছে নবজাতকের পক্ষ হতে ফিদিয়া হিসেবে আদায় করা। এছাড়াও এধরনের আমল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের আমল দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি।
৯. কুরবানীর গোস্ত নিজে খাওয়া ও অপরকে খাওয়ানো
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর গোশত সম্পর্কে বলেছেন, ‘তোমরা নিজেরা খাও ও অন্যকে আহার করাও এবং সংরক্ষণ কর’ [সহীহ বুখারী : ৫৫৬৯]।
১০. কুরবানীর গোস্ত গরীব ও অভাবীকে দেয়া
কুরবানীদাতা যথাসম্ভব কুরবানীর গোস্ত গরীব ও অভাবীকে দিবে। কেননা কুরআনে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, ‘অতঃপর তোমরা উহা হতে আহার কর এবং দুঃস্থ, অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।’ [সূরা আলহজ্জ-২৮]
১১. ঈদের দিনে খাবার গ্রহণ
ঈদুল আজহার দিন ঈদের সালাতের পূর্বে কিছু না খেয়ে সালাত আদায়ের পর কুরবানির গোশত খাওয়া সুন্নাত। বুরাইদা রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, ‘নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিনে না খেয়ে বের হতেন না, আর ঈদুল আজহার দিনে ঈদের সালাতের পূর্বে খেতেন না’ [সুনান আততিরমীযি : ৫৪৫]।
১২. আনন্দ প্রকাশ করা
ইসলাম এমন একটি জীবন ব্যবস্থা যেখানে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ রয়েছে। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদি আল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন : ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন আমার ঘরে আগমন করলেন, তখন আমার নিকট দুটি ছোট মেয়ে গান গাইতেছিল, বুয়াস যুদ্ধের বীরদের স্মরণে। তারা পেশাদার গায়িকা ছিল না। ইতোমধ্যে আবূ বকর রাদি আল্লাহু আনহু ঘরে প্রবেশ করে এই বলে আমাকে ধমকাতে লাগলেন যে, নবীজির ঘরে শয়তানের বাঁশি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা শুনে বললেন : মেয়ে দুটিকে গাইতে দাও হে আবূ বকর! প্রত্যেক জাতির ঈদ আছে, আর এটি আমাদের ঈদের দিন’ [সহীহ বুখারী : ৯৫২]।
১৩. পায়ে হেঁটে যাওয়া ও পথ বিপরীত করা
ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া এবং এক পথে যাওয়া ও অন্যপথে আসা সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত। আলী রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ‘সুন্নাত হল ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া’ [সুনান আততিরমিযী : ৫৩৩]। হাদীসে এসেছে, ‘নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিনে পথ বিপরীত করতেন’ [সহীহ বুখারী : ৯৮৬]।
১৪. আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর খোঁজ-খবর নেয়া
ঈদের সময় বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর নেয়া ও তাদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া ও প্রতিবেশীর হক আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়। আলকুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা ইবাদাত কর আল্লাহর, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার সাথে, নিকট আত্মীয়ের সাথে, ইয়াতীম, মিসকীন, প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাস-দাসীদের সাথে। নিশ্চয় আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদেরকে, যারা দাম্ভিক, অহঙ্কারী’ [সূরা নিসা : ৩৬]
১৫. দোয়া ও ইস্তেগফার করা
ঈদের দিনে আল্লাহ তা‘আলা অনেক বান্দাহকে মাপ করে দেন। মুয়ারিরক আলঈজলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ঈদের এই দিনে আল্লাহ তা‘আলা একদল লোককে এভাবে মাপ করে দিবেন, যেমনি তাদের মা তাদের নিষ্পাপ জন্ম দিয়েছিল। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তারা যেন এই দিনে মুসলিমদের জামায়াতে দোয়ায় অংশ গ্রহণ করে’ [লাতাইফুলমায়ারিফ]।
১৬. ঈদে শুভেচ্ছা বিনিময়ের ভাষা
ঈদে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানানো শরিয়ত অনুমোদিত একটি বিষয়। বিভিন্ন বাক্য দ্বারা এ শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়। যেমন : (ক) হাফেয ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, সাহাবায়ে কিরামগণ ঈদের দিন সাক্ষাৎকালে একে অপরকে বলতেন : ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিনকা’ অর্থ- আল্লাহ তা‘আলা আমাদের ও আপনার ভাল কাজগুলো কবুল করুন (খ) ‘ঈদ মুবারক’ ইনশা আল্লাহ (গ) ‘ঈদুকুম সাঈদ’ বলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়।
১৭. পরিবেশ সুন্দর রাখা
কুরবানীর পর ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। সেজন্য সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে কুরবানীদাতা পরিবেশ সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর রাখতে অবশ্যই ভূমিকা পালন করবেন।
কুরবানীর ঈদে বর্জনীয়
১. ঈদের দিন সিয়াম পালন করা
ঈদের দিন সিয়াম পালন করলে ঈদের কাজসমূহ যথাযথ পালন করা যাবে না। হাদীসে ঈদের দিন সিয়াম পালন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন’ [সহীহ মুসলিম : ২৭৩০]।
২. বিজাতীয় আচরণ প্রদর্শন
বিজাতীয় আচরণ মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। নারী-পুরুষ একে অপরের বেশ ধারণ, পোশাক-পরিচ্ছদে, চাল-চলনে, শুভেচ্ছা বিনিময়ে অমুসলিমদের অনুকরণে লিপ্ত হয়ে পড়েছে মুসলমানদের অনেকেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্যতা রাখবে সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে’ [আবূ দাউদ : ৪০৩৩]।
৩. গান-বাজনা করা, অশ্লীল সিনেমা ও নাটক দেখা
ঈদ উপলক্ষে বিশেষ নাটক, নারীদের খোলা-মেলা অবস্থায় রাস্তা-ঘাটে বের হওয়া সিনেমা ও বিভিন্ন গান বাজনা- যা ইসলাম অনুমোদন করে না, তা থেকে বিরত থাকতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘আমার উম্মতের মাঝে এমন একটা দল পাওয়া যাবে যারা ব্যভিচার, রেশমি পোশাক, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল (বৈধ) মনে করবে’ [সহীহ বুখারী : ৫৫৯০]।
৪. কুরবানীর গোশত নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ করা
মূলত কুরবানী করা হয়ে থাকে আল্লাহর জন্য। এর প্রকৃত উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি। গোশত খওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে কুরবানী করা যাবে না। তাই গোশত নিয়ে শরীকরা পরস্পর বাড়াবাড়ি করা গর্হিত ও কুরবানীর প্রকৃত উদ্দেশ্য পরিপন্থী কাজ।
৫. কুরবানীর পশুকে কষ্ট দেয়া
যবেহ করার সময় পশুকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আর যখন যবেহ করবে তখনও তা সুন্দরভাবে করবে। তোমাদের একজন যেন ছুরি ধারালো করে নেয় এবং যা যবেহ করা হবে তাকে যেন প্রশান্তি দেয়। [সহীহ মুসলিম-১৯৫৫]
৬. কুরবানীদাতার চুল ও নখ কাটা
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের মাঝে যে কুরবানী করার ইচ্ছে করে সে যেন যিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে’ [সহীহ মুসলিম-১৯৭৭]।
৭. ফরজ সালাত আদায়ে অলসতা করা
ঈদের আনন্দ ও কুরবানীর কাজে এমনভাবে উদাসীন থাকেন যে, ফরজ সালাত আদায়ে অলসতা করেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। আলকুরআনে বলা হয়েছে, ‘অতএব সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজেদের সালাতে অমনোযোগী’ [সূরা আলমাউন : ৪-৫]।
৮. কুরবানীর চামড়ার মূল্য নিয়ে প্রতারণা করা
বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যক্তি পর্যায়ে কুরবানীর চামড়ার মুল্য নিয়ে প্রতারনা বা কারসাজি করা হয়ে থাকে । এর মাধ্যমে মূলত গরীবের হক নষ্ট করা হয়। যা থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতারণা করে সে আমার উম্মাত নয়” [জামিউল আহাদিস : ২৩০৩৩] ।
৯.রিয়া বা লোক দেখানো,খ্যাতি অর্জনে কুরবানী করা
রিয়া বা লোক দেখানো কিংবা খ্যাতি অর্জনের জন্য কুরবানী করা যাবে না। কারণ, রিয়া হলো ছোট শিরক । কেননা হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি লোক দেখানো সালাত আদায় করল সে শিরক করল, যে ব্যক্তি লোক দেখানো সিয়াম পালন করল, সে শিরক করল। আর যে দান করল লোক দেখানোর জন্য সেও শিরক করল”। [মুসতাদরিক লিল হাকিম:৭৯৩৮]
আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে শরীয়াহ মোতাবেক কুরবানীর ঈদ পালন করার তাওফীক দিন। আমীন!
চেয়ারম্যান, তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন