30/05/2026
এক সময় ব্রাজিল মানেই ছিল সাম্বা ফুটবল, ড্রিবল, ফ্লেয়ার, ম্যাজিক্যাল স্কিল আর ওপেন-প্লের ম্যাজিক। কিন্তু মডার্ন ফুটবল বদলে গেছে। এখন শুধু সুন্দর ফুটবল খেললেই হয় না ম্যাচ জিততে লাগে “মার্জিনাল গেইনস”। আর সেই জায়গাতেই সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে সেটপিস।
শুধু টেকনিক্যাল বা ট্যাকটিক্যাল কোচিং না, আনচেলত্তি বুঝেন ম্যাচের “ডিটেইলস” কত গুরুত্বপূর্ণ। রিয়াল মাদ্রিদে থাকাকালীন তিনি বহু বিগ ম্যাচ জিতেছেন কর্নার, সেকেন্ড বল আর রুটিন সেটপিসের মাধ্যমে। এখন সেই একই ফিলোসোফি গ্রাজুয়াল্লি ব্রাজিল ন্যাশনাল টিমেও প্রয়োগ করা হচ্ছে৷
আর এই বিপ্লবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম ফ্রাংকো মোরি।
তিনি মূলত সেটপিস স্ট্রাকচার, ব্লকিং মুভমেন্ট, রান প্যাটার্ন, জোনাল স্পেস এক্সপ্লয়েট এবং সেকেন্ড ফেজ এট্যাকে স্পেশালিষ্ট। মডার্ন ইউরোপিয়ান ফুটবলে যেভাবে সেটপিসকে আলাদা “ম্যাচ উইনিং ডিপার্টমেন্ট” হিসেবে দেখা হয় ব্রাজিলও এখন সেই পথেই হাঁটছে।
বড় টুর্নামেন্ট জিততে হলে লাগবে “স্ট্রাকচারড ডিটেইল”।
বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ ইউজুয়ালি খুব টাইট হয়। স্পেস কম থাকে। ওপেন-প্লেতে সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে যায়। এমন সিচুয়েশনে একটা কর্নার, একটা ফ্রি-কিক, কিংবা একটা রিবাউন্ড পুরো ম্যাচ পালটে দিতে পারে।বর্তমান ব্রাজিল টিমে রয়েছে বাঘা বাঘা পাওয়ার হেডার এবং সেটপিস টেকার৷ পাওয়ার হেডারদের মধ্যে আছে -
* বিগ গ্যাব্রিয়াল
* ট্যাঙ্ক ক্যাসিমিরো
* ব্রেমার
* ইবানেজ
* বুইড়া দানিলো
* মার্কু
* ইগোর থিয়াগো
সেটপিস ডেলিভারির জন্যে টেকনিক্যাল প্লেয়ার যেমন -
* নেইমার
* ব্রুনো
* পাকুয়েতা
* রাফা
* কুনহা
আমার মনে হয় ২৬ ওয়ার্ল্ড কাপে ব্রাজিলের আন্ডাররেটেড ওয়েপন হবে সেটপিস৷
সবাই ভিনির ড্রিবল দেখবে। রাফার ক্রিয়েটিভিটি দেখবে। নেইমারের ম্যাজিক নিয়ে কথা বলবে।কিন্তু বিগ ম্যাচে হয়তো ব্রাজিল কে বাচাবে একটা রিহার্সড কর্ণার৷
আনচেলত্তির ব্রাজিল হয়তো আবার “জোগা বোনিতো" খেলবে।কিন্তু এবার সেই সৌন্দর্যের সঙ্গে যোগ হবে ক্যালকুলেশন, স্ট্রাকচার এবং রুথলেস এফিসিয়েন্সি৷