20/08/2020
“বইন,ধৈর্য ধইরা সংসার কইরা খা! দাঁতে কামড় দিয়া থাক, মাইয়াগো কপাল এমনই! সোয়ামির বাড়িতে জায়গা না হইলে আমাগো তো আর যাওয়ার জায়গা নাই......!
স্বামীর কতৃক নির্যাতিত গৃহবধূকে পাশের বাড়ির আরেক বধূর এই সান্ত্বনা বাণী গ্রামের মানুষের কাছে অপরিচিত নয়!
স্বামীর হাতে আহত,রক্তাক্ত,চরিত্র নিয়ে মিথ্যা অপবাদ,এমনকি পা ভাঙ্গার পরেও উপায়ান্তর না থাকায় সেই স্বামীরই সংসার করছে এমন নারীকে দেখার সুযোগ আমার হয়েছে! শত কষ্ট সহ্য করে শুধু সন্তানের মুখ চেয়ে সংসার টেকানোর আমরণ চেষ্টা করে যাচ্ছে অসংখ্য নারী!
কর্মজীবী নারীরা এদিক থেকে একটু এগিয়ে। আর্থিক স্বাবলম্বিতা থাকায় চরম বা ঠুনকো কারণে ডিভোর্স দিয়ে স্বামী থেকে রেহাই পেলেও নতুন করে সংসার বাঁধা হয়না অনেকেরই!
ধরেই নিলাম রাষ্ট্র ডিভোর্সী বা বিধবাদের যথাযথ আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করছে। কিন্তু একজন নারী হিসেবে সে চায় ভালোবেসে কেউ তার হাতটা ধরুক,সারাদিনের পরিশ্রম শেষে রাতে মাথার নিচে দরদভরা একটা শক্ত বুক থাকুক, পূর্বের স্বামীর সন্তানকে কেউ পিতার মতো বুকে টেনে নিক কিংবা শেষ জীবনে কারও সেবার পরশে তার হৃদয় ছুঁয়ে যাক!
সরকার কি হাজার কোটি টাকা দিয়ে নারীর এই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারবে? যদিও বর্তমান বিশ্বে এমন সরকারব্যবস্থা আছে কিনা আমার জানা নেই!
এবার রাসূলের যুগের গল্প শুনুন! হাবীবা বিনতে সাহলের স্বামী সাবিত বিন কায়েস (রাঃ) এতটাই কুৎসিত ছিলেন যে হাবীবা সরাসরি রাসূলকে (সাঃ) বলেছেন “আমি যদি আল্লাহকে ভয় না করতাম তাহলে তার মুখে থুথু দিতাম!! ”। অতঃপর রাসূল তার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাবীবার তালাক কার্যকর করলেন! (ইবনে মাজাহঃ ২০৫৭)
চিন্তা করুন তিনি কিভাবে সামান্য কারণেই স্বামীকে ছাড়ার সাহস করলেন! কারণ সে সমাজে তাঁর পুনরায় বিয়ে খুবই সহজ ছিলো! তিনি ডিভোর্সি হলেও সমাজে তাকে বিয়ে করার মতো পুরুষের অভাব ছিলোনা! রাসূল (সাঃ) নিজেও বিধবা উম্মে সালামা(রাঃ) কে সন্তান সহ বিয়ে করেছিলেন। শুধু তাই নয় তার সন্তানের পিতার অভাবও পূরণ করেছিলেন ! সে যুগে বিধবা/ডিভোর্সী মুসলিম নারীকে সন্তান সহ বিয়ে করা সওয়াবের কাজ হিসেবে বিবেচিত হতো! আর নারীরাও অত্যাচার সহ্য করে বা অসুখী হয়ে কারও একক স্ত্রী হওয়ার চেয়ে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও সুপুরুষের ২য় স্ত্রী হতে পছন্দ করতেন! বর্তমান সমাজের মতো দ্বিতীয়বার বিয়ে না হওয়ার ভয়ে সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করতেন না! সেক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রী সতীনের প্রতি ঈর্ষান্বিত থাকলেও আরেকজন বিপদাপন্ন মুসলিম নারীর কথা ভেবে স্বামীকে ২য় বিয়ে করতে বাঁধা দিতেন না,কারণ তার স্বামী মারা/ডিভোর্স দিলে তারও একই অবস্থাই হতো!
সুতরাং পরোক্ষভাবে একাধিক বিবাহ প্রথা কমে যাওয়া, পুরুষদের বিধবা/ডিভোর্সী নারীদের (সন্তান সহ বা ছাড়া) বিবাহের প্রতি অনিহা, নারীদের কারও ২য় স্ত্রী হওয়ার প্রতি অনীহা ও প্রথম স্ত্রী কতৃক স্বামীকে একাধিক বিয়ে করতে বাধা দেয়া..... নারী নির্যাতন ও তাদের সামাজিক দুর্বলতার ‘অন্যতম’ কারণ!