11/09/2023
ইদানিং জিমচর্চা যেমন বাড়েছে, তেমন বাড়েছে জিম করা নিয়ে নানা প্রশ্ন আর ভুলভাল ধারণা। তাই এ বিষয়ে সবার মধ্যে একটা সুস্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার।
⭕ রোজ হাঁটি, ওজন কমাতে ও সুস্থ থাকতে এটাইতো সহজ উপায়, আবার জিম কেন?
→রোজ রোজ হাঁটলে কিংবা জগিং করলে 'কর্টিসল' নামক স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ হয়, পুরুষের ভাইটাল হরমোন টেস্টোস্টরন উৎপাদন কম হয়। পুরুষের জন্য টেস্টোস্টরন হরমোন কতোটা দরকারি আশাকরি বলে বোঝাতে হবে না।
তাছাড়া একই ব্যায়াম প্রতিদিন করলে বডিতে কোন কাজ করে না, কারণ শরীর এতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। ফলে বডি ডেভোলপ করে না।
>< সুতরাং রোজ অত হাঁটা মানে শরীরচর্চার উদ্দেশ্যই মাটি করে দেওয়া।
>< যেকোন শরীরচর্চা একটানা নয়, ছোট ছোট বিরতি দিয়ে করুন।
>< যদি হাঁটেন তাহলে তারও একটা তরিকা আছে। এক মিনিট জোড়ে এক মিনিট ধীরে এইভাবে হাঁটুন।
👣 আর হাঁটার মোট সময়ের অর্ধেক অন্যকোন ব্যায়াম করুন। ভালো ফল পাবেন।
⭕ খাওয়া কমিয়ে দিলেইতো হয়, জিম করার কী দরকার?
→পদ্ধতিটা একদম ভুল। যত কম খাবেন তত কমবে বিপাকের হার। তাছাড়া খাওয়া বন্ধ করা বা দিনে দু'বার খাওয়াটা সমাধান না। এতেকরে আপনি পুষ্টিহীণতায় ভুগবেন। ফলে আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে, চেহারা হয়ে পড়বে নিষ্প্রাণ এবং বিবর্ণ। পুষ্টিকর অথচ কম ক্যালরির উপযুক্ত খাবার আপনি খাচ্ছেন কিনা সেটাই হলো আসল কথা ।
>< অল্প অল্প করে দিনে ৫ বার খান। এতে শরীরের বাড়তি ক্যালরি ঝরবে।
সেইসাথে সাধ্যমতো ব্যায়াম।
⭕ ভূঁড়ি কমাতে রোজ সিট-আপ দেই, আবার জিমে যাওয়ার কী দরকার?
→সিট-আপ দিলে ভূঁড়ির ভেতরের মাংসপেশি শক্ত হয়। এটা মনে রাখা জরুরি যে, শুধুমাত্র একটি বিশেষ অঙ্গের ব্যায়াম করে সেই জায়গার ফ্যাট কমানো যায় না।
শরীরের কাজ করাতে শক্তি হিসাবে যখন ফ্যাট দরকার হয়, শরীর সেটা যে কোনও অংশ থেকে চেয়ে নেয়, খালি পেট থেকে নয়। আবার গোটা শরীরের ব্যায়াম করলে, অন্য জায়গার মতো ভূঁড়ির বাড়তি ফ্যাট
থেকেও শক্তি খরচ হয়।
🔘 তাই -
কার্ডিও এক্সারসাইজ
বডি ওয়েট এক্সারসাইজ
ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজ
ওয়েট লিফ্টিং সবই করতে হবে।
তবেই ভূঁড়ি কমবে, বডি শেইপে থাকবে।
⭕ জিম ছেড়ে দিলে কি মোটা হয়ে যাব ?
→না।
জিমে ওজন নিয়ে ব্যায়াম করলে পেশি আকারে বড় ও দৃঢ় হয়। আর শুয়ে বসে থাকলে পেশি শুকিয়ে ছোট হয়ে যায়।
মোটা-রোগা হওয়ার আসল কথা হলো সারাদিন খাবারের মাধ্যমে কতো ক্যালরি শরীরে নিচ্ছেন আর ব্যায়াম, অন্যকাজ বা নেহায়েত আপনার শরীর টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে কতটা খরচ হচ্ছে।
জিম করলে বাড়তি ক্যালরি খরচ হয়ে আপনার শরীর থেকে বাড়তি চর্বি ঝরতে সাহায্য করে। তাই জিম ছাড়লে আপনাকে বাড়তি ক্যালরির খাবার খাওয়া কমাতে হবে বা অন্যভাবে শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। আর শুধু জিম কেন, আপনি শারীরিক পরিশ্রমের কাজ না করলে এমনিতেই মোটা হবেন। তাই জিম ছেড়ে দিলে মোটা হয়ে যাবেন এটি ভুল ধারনা।
⭕ যোগাসনেই শরীরের ওজন কমানো যায়, কি দরকার জিম করার?
→কথাটা মোটেও ঠিক নয়। যোগাসন শরীরের নমনীয়তা বাড়ায়, গাঁটের ব্যথা কমায়, রোগমুক্ত করতে সাহায্য করে।
যোগাসনে খুব কম পরিমাণে ক্যালরি খরচ হয়। তাহলে ওজন কমবে কী করে?
⭕ যখন কাজের চাপে নিয়মিত শরীরচর্চা করা যাবে না, তখন মাঝে মধ্যে গিয়ে করে কোন লাভ হবে?
→নিজের ইচ্ছেটাই বড় কথা।
রোজ নাই বা করলেন সপ্তাহে অন্তত তিনদিন করুন। এতেও হার্ট ভালো থাকবে, ডায়াবেটিস হবে না, থাকবে না বাতব্যথা, কিংবা অ্যাজমা।
🔘সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন
আজীবন শেইপে থাকুন।🔘
তারিখ- ১৮.৮.২০১৮
Copyright
✍️ Written by -
সোহরাবরিপন
Fitness, Health & Nitration Coach
☝️বিশেষ দ্রষ্টব্য- কপি পেস্ট করবেন
না, ঝামেলায় পড়বেন না।☝️
________________________________
Repost