21/08/2022
দেখতে দেখতেই দর্জায় কড়া নারছে বিশ্বকাপের সময় সূচি। এইতো আর মাত্র ৩ টি মাস পরেই শুরু হবে ফুটবলের সব থেকে বড় আসর বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা। আজকের লেখা মুলত ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল ব্রাজিলকে নিয়ে। মূলত ব্রাজিল বরাবরই ফেভারিট হিসেবেই টুর্নামেন্ট শুরু করে, এবার ও তার ব্যাতিক্রম নয়, তো কেমন হবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল.? তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করবো।
গোলকিপার পজিশন ঃ-
ব্রাজিলের গোলকিপার পজিশনের প্রধান দায়িত্বে থাকবেন লিভারপুলের গোলকিপার এলিসন বেকার।তিনি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলকিপার। ইতিহাসের প্রথম গোলকিপার হিসেবে তিনি ২০১৯ সালেই প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন গ্লাভস,চ্যাম্পিয়নস লিগের গোল্ডেন গ্লাভস,উয়েফা বেস্ট জিকে,ফিফা বেস্ট জিকে,লেভ ইয়াসিন এওয়ার্ডস সহ কোপা আমেরিকার সেরা জিকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি পজিশনিং সেন্সের কারনে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্যা উচ্চতায়।
তার ব্যাকআপে রয়েছেন এডারসন, ম্যানসিটির বিশ্বস্ত গোলকিপার। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই কিপারের সব থেকে বড় গুন হলো তার পাসিং এভিলিটি।তিনি গোল লাইন পাস,ফ্লাইং পাস,গ্রাউন্ড পাস,বা লং পাসে অসাধারণ।
এছাড়া ৩ নাম্বার গোলকিপার হিসেবে কাতারে থাকবেন ওয়েভারটন।তিনি পালমেইরাসের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটাচ্ছেন। তাই বলা যায় ব্রাজিলের গোলকিপার পজিশনে ওয়ার্ল্ডক্লাস প্লেয়ারে ভরপুর।
ডিফেন্ডার ঃ-
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ডিফেন্সের লিড দিবেন ৩৬ বছর বয়সী চেলসির থিয়াগো সিলভা।চেলসির হয়ে এই বয়সেও খেলে যাচ্ছেন দুর্দান্ত যা তার প্রতি ম্যাচেই লক্ষণীয়। এছাড়া রয়েছেন পিএসজির অধিনায়ক মার্কুইনহোস, রিয়াল মাদ্রিদের তরুন তারকা এডার মিলিতাও,ডাক পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ইতালিয়ান লিগের সেরা ডিফেন্ডার ব্রেমার।
তবে ব্রাজিলের সবথেকে বড় সমস্যা ফুলব্যাক পজিশন নিয়ে।ব্রাজিলে এর আগে কখনো ফুলব্যাকের অভাব পরেনি।তারা প্রতি বিশ্বকাপই খেলতে গেছে বিশ্বসেরা ফুলব্যাকদের নিয়ে।কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। এই পজিশনে ব্রাজিলের কোয়ালিটি প্লেয়ারের অভাব স্পষ্টই।
রাইটব্যাক পজিশনে দানি আলভেসের মতো লিজেন্ড থাকলেও বয়সের ভারে তার থেকে সেরা পারফরম্যান্স আশা করাটাও বোকামি। এছাড়া রয়েছে দ্যানিলো, এমারসন। এদের মাঝে এমারসন কিছুটা এগিয়ে আর দানিলো ডিফেন্সিভলি অনেক স্ট্রং হলেও অফেন্সিভলি তার থেকে কোন সাপোর্ট পাওয়া যাবে না,সে সাথে বল পায়ে দুর্বলতা তো আছেই! তবে জোর গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে মিলিতাও বা ফ্যাবিনহোকে রাইটব্যাকে খেলানো হবে। যদি এইটা বাস্তবায়ন হয় তাহলে রাইটব্যাক নিয়ে সমস্যা থাকবে না আশা করা যায়।
লেফটব্যাক পজিশনে আছেন আরানা,রেনান লোদি, সান্দ্রো এবং টেল্লেস। এদের মাঝে আরানা ওভারঅল ভালো হলেও বাকিদের নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী না।
মিডফিল্ডঃ-
ব্রাজিলের মাঝমাঠ যথেষ্ট ভালো আছে।কাতার বিশ্বকাপের জন্য রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো, লিভারপুলের ফ্যাবিনহো এছাড়া কৌতিনহো,ব্রুনো গুইমারেস,ফ্রেড,পাকুয়েতা থাকবেন। তবে এছাড়াও কোচের নজরে রয়েছে নিউক্যাসলের গত সিজনের সেরা প্লেয়ার জোয়েলিন্টন সহ ডগলাজ লুইজ,গার্সনরা।
তবে এতো এতো অপশন থাকার পরেও তিতে এখন পর্যন্ত সঠিক একটা একাদশ দাড় করাতে পারেননি এখন পর্যন্ত। তিতে মূলত খেলিয়ে থাকেন ক্যাসেমিরো, ফ্রেড এবং পাকুয়েতাকে কিন্তু তারা প্রেসের কারনে বল হারিয়ে ফেলে এবং বল পায়েও বেশ দুর্বল।এক সাথে ৩ জন নন-প্রেস রেজিট্যান্স প্লেয়ার মাঠে থাকাও অনেকটা বিপদজনক ব্রাজিলের জন্য। ফিজিকালিতে ফ্রেড ক্যাসা এগিয়ে থাকার কারনে অন্যদের তুলনায় বেশি বল উইন করলেও বল লুজ করে অনেক পরিমানে। আর বল লুজ করার কারনে ব্রাজিল ফ্রন্টলাইনে যথেষ্ট পরিমান বল সাপ্লাই দিতে পারেনা এবং গোলের সম্ভাবনাও কম হয়।
তবে ক্যাসেমিরোর সাথে ফ্যাবিনহো, ব্রুনো, কৌতিনহোরা থাকলে মাঝমাঠ পুরো কন্ট্রোলে নিয়ে নেয় ব্রাজিল। কারন ফ্যাবিনহো, ব্রুনো বল পায়ে অনেক ভালো এবং প্রেসের কারনে দুর্বল হয়না কখনো। এরকম প্রেস রেজিট্যান্স প্লেয়ার দলের জন্য আশির্বাদ স্বরুপ। এই কারনে এরা মাঠে থাকাকালীন প্রচুর পরিমাণে বল সাপ্লাই করতে পারে ফ্রন্টলাইনে এবং গোলের সুযোগও তৈরী হয় অনেক।
ফরোয়ার্ড লাইনঃ-
ফরোয়ার্ড লাইনই ব্রাজিলের শক্তির মুল যায়গা। লেফট উইংগার হিসেবে ব্রাজিলের হাতে রয়েছে গত দশকের অন্যতম সেরা প্লেয়ার নেইমার,গত চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল স্কোরার এবং সেরা তরুন প্লেয়ার ভিনসিয়াস জুনিয়র, আর্সেনালের ধারাবাহিক পার্ফমার মার্টিনেল্লি যারা যেকোনো মুহুর্তে একা হাতেই ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
স্ট্রাইকার হিসেবে আছেন আর্সেনালের গাব্রিয়েল জেসুস যিনি উড়ন্ত ফর্মে রয়েছেন,এছাড়া কুনহা,রিচার্লিসন,পেদ্রো,ফিরমিনোরা রয়েছেন। তবে ভিনসিয়াসের ফর্মকে ইউজ করার জন্য নেইমারকেও এই পজিশনের খেলানোর জোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
বিগত বছর গুলোতে রাইট উইংগারের অভাববোধ অনেক দেখা গেছে তবে এখন ব্রাজিলের রাইট উইংগার পজিশনে স্পিডি, স্কিলফুল একাধিক প্লেয়ার রয়েছেন।রাফিনহা,এন্থোনিও এবং মিঃ সুপার সাব রদ্রিগোরা প্রত্যেকেরই ক্ষমতা আছে মুহুর্তেই গেম চেঞ্জ করে দেওয়ার মতো।তাই এই পজিশন নিয়েও টেনশনের কারন নেই ব্রাজিলিয়ান ভক্তদের।
বিশ্বকাপ জেতার জন্য ব্রাজিলের এই টিমটি যথেষ্ট শক্তিশালী। তিতে যদি সঠিকভাবে সকল প্লেয়ারদের ব্যবহার করতে পারে তাহলে বিশ্বকাপ জয় খুব কঠিন হবে না। এই ৩ মাসেই আশা করি তিতে দলের দুর্বলতা নিয়ে কাজ করবে এবং সকল ভক্তদের আশা পুর্ন করবে।