17/05/2026
ছবির এই মানুষটার সাথে পরিচয় হয়েছিল আইডিয়াল পাম্পে তেল নেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে। প্রথম দেখাতেই চোখে পড়েছিল—পরনে রং উঠে যাওয়া একটা পুরোনো শার্ট, তাও দু-এক জায়গায় ছেঁড়া। বাইরে থেকে সাধারণ একজন মানুষ, কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে ছিল এক অসম লড়াইয়ের গল্প।
২০১৬ সাল থেকে তিনি বাইক ভাড়ায় চালান। প্রথমে নিজের এলাকায় চালাতেন, পরে জীবিকার তাগিদে চলে আসেন ঢাকায়। এখন কখনো উবার, কখনো পাঠাও, আবার কখনো খেপ—যা পান তাই চালান।
এই বাইকটা কেনার পেছনেও আছে সংগ্রামের ইতিহাস। বাবার কিছু গাছ বিক্রি করেছিলেন, কিছু টাকা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন, আর বাকি অংশ শোরুমের কিস্তিতে। অনেক কষ্ট আর পরিশ্রমের পর জীবনটা ধীরে ধীরে গুছিয়ে আসছিল। সংসার হয়েছে, বিয়ে করেছেন, একটা ছেলেও হয়েছে। কিছু ধার-দেনা ছিল, বাইকের কিস্তি ছিল, তবে সবই প্রায় শেষের দিকে। মনে মনে স্বপ্নও দেখেছিলেন—কিছু টাকা জমিয়ে একটা ছোট হোটেল দেবেন।
কিন্তু জীবন তো সবসময় মানুষের পরিকল্পনা মেনে চলে না।
এরই মধ্যে ঘরে আসে একটা মেয়ে সন্তান। মেয়েটা একটু বড় হওয়ার পর তারা খেয়াল করেন—সে ঠিকমতো শুনতে পারে না, বলতেও পারে না।
তারপর থেকেই শুরু হয় আরেক যুদ্ধ।
সারাদিন মেয়েকে নিয়ে এই হাসপাতাল, সেই হাসপাতাল—ডাক্তার, পরীক্ষা, চিকিৎসা। আর রাত হলেই আবার রাস্তায় নামা। যতক্ষণ শরীরে শক্তি থাকে, ততক্ষণ বাইক চালানো। এই সামান্য আয় দিয়ে চারজনের সংসার, চিকিৎসার খরচ—সবকিছু কি আর চালানো যায়? ফলে আবারও বাড়তে থাকে ধার-দেনার বোঝা।
প্রায় ৫ ঘণ্টা অপেক্ষার পর ৫০০ টাকার তেল নিয়ে সেদিন রাত প্রায় ১০টার দিকে আবার রাইড শুরু করলেন। বললেন, “আজ ১২টা–১টা পর্যন্ত চালিয়ে তারপর বাসায় যাবো।”
যেদিন তার সাথে কথা হয়েছিল, তার এক-দুই দিন আগেই তার মেয়ের মাথায় শ্রবণ যন্ত্র বসানো হয়েছিল। পুরো বিষয়টা সরকারি অনুদানে হলেও, তারপরও তার নিজের প্রায় ৪০–৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর সেই টাকাটাও ধার করা।
এটা কোনো গল্প না। এটা একজন বাবার বাস্তব জীবনের লড়াই। ❤️
এই বাইক উনি চালিয়েছেন প্রায় ৮ লক্ষ কিলোমিটার। আমি যখন ছবিটা তুলেছিলাম তখনো উনার সাথে কথা হয়নি।আমি জাস্ট লাইনে দাড়ানোর সময় এবং জায়গাটা মনে রাখার জন্য ছবিটা তুলেছিলাম।
এখন এই মানুষ টা কে যখন সরকার প্রতি বছরে ৫ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করবেন তখন উনার মনের অবস্থাটা কি হবে?আমার মনে হয় যারা এরকম রাইড শেয়ার করেন তারা সবাই জীবন সংগ্রামের সৈনিক। কারও মনে যদি সন্দেহ হয় বানিয়ে বলেছি তাহলে বাইকের নাম্বার দিয়ে উনার নাম্বার বের করে কথা বলতে পারেন।
লিখেছেন : আরিফ হাসান