08/03/2024
হঠাৎ করে বিদ্যুৎগতিতে বল ধেয়ে আসলো।
টিম সাউদি প্রস্তুত ছিলেন না। এমন পরিস্থিতির জন্য কে-ই বা তৈরি থাকে। পিচে যখন তারা এসেছিলেন, ওই প্রান্তের বোলারটা স্পিন বল করছে। এরপর ১৩৪ কি.মি. ঘণ্টা বেগে আসা বলটাকে সাউদি ঠেকাতে গেলেন। বল স্ট্যাম্প করে দিলো ছত্রখান। স্পিন বোলারের হাত থেকে অগ্নিবর্ষণ। আফ্রিদি এমনই অননুমেয়।
দিনশেষে খেলাটা কী, বিনোদনই তো! তিনি যেন মানুষের মোড়কে সেই বিনোদনেরই প্রতিরূপ। ব্যাট হাতে নেমে বলটাকে মাঠ ছাড়া করার নেশাটা ছিল আজন্মের। ম্যাচের পরিস্থিতি, প্রতিপক্ষের আক্রমণ কিংবা পিচের দশা - কোনোকিছুই তাঁকে ভাবাতো না। বলটাকে যে বাউন্ডারি ছাড়া করতে হবে। তিনি মাঠে নামলেই তাই দর্শকদের হুল্লোড়। মুহূর্তের মধ্যে ঝিমিয়ে যাওয়া ম্যাচটা চাংগা।
হাতটাও ভালো ঘোরাতে পারতেন।ক্যারিয়ারের শেষদিকে এসে বোলিং হয়ে গিয়েছিল মুখ্য। ক্যারিয়ারে পাঁচশ এর উপরে উইকেট নিয়েছেন৷ দশ হাজারের উপর রান করেছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়যাত্রায় ছিলেন নেতা। পাকিস্তানের ওয়ানডেতে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড (৭/১২) তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় ছয়কে ছাপিয়ে যেতে পারেনি কেউই। একসময়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক ছিলেন যখন, ওয়ানডেতে আড়াইশ রানই তখন মোটামুটি নিরাপদ সংগ্রহ ছিল।
তবুও পরিসংখ্যানে বাঁধা যাবে না তাঁকে। এই যে মোহময়তা অথবা অ্যাড্রেনালিনের ক্ষরণ। আগ্রাসী সৌন্দর্যের প্রেমে পড়া। দু'হাত উঁচিয়ে উইকেট উদযাপন। হাজারো বালক যার জন্য ক্রিকেটকেই ভালোবেসেছে। খেলার মনোস্তত্ব, পরিসংখ্যানের মারপ্যাঁচেও যিনি শেষদিন পর্যন্ত ছিলেন অনন্য। আফ্রিদি খেলেন তাঁর মনমতন। দিনশেষে খেলাটা কী, বিনোদনই তো!
জন্মদিনের শুভেচ্ছা "বুম বুম আফ্রিদি"!