Abahani Limited - আবাহনী ক্রীড়াচক্র
- Home
- Bangladesh
- Dhaka
- Abahani Limited - আবাহনী ক্রীড়াচক্র
Abahani Limited (Bengali: আবাহনী লিমিটেড), formerly known as Abahani Krira Chakra (Bengali: আবাহনী ক্রীড়াচক্র) is a sports club in Bangladesh.
(1)
Address
Abahani Limited, Satmasjid Road, Dhanmondi
Dhaka
1209
Website
Products
Football, Cricket and Hockey
Alerts
Be the first to know and let us send you an email when Abahani Limited - আবাহনী ক্রীড়াচক্র posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.
Category
আবাহনী লিমিটেড
ক্রীড়ামোদী জনতার কাছে অতি পরিচিত একটি নাম ‘আবাহনী’। আবাহনী আজ সারা বাংলায় বিশাল সমর্থকবেষ্টিত এক অসম্ভব জনপ্রিয় দল। বাংলাদেশের এমন কোনো জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে নীল-হলুদ জার্সির সমর্থক নেই। খুবই অল্প সময়ে আবাহনী এ অবস্খান সৃষ্টি করেছে। এটা সম্বভ হয়েছে তাদের মন্ত্রমুগ্ধ খেলা দিয়ে এবং অবশ্যই তা ফুটবল দিয়ে। যে কারণে আবাহনীকে বলা হয় বাংলাদেশের আধুনিক ফুটবলের ধারক। আধুনিক ফুটবলের ধারক আবাহনী তাই ফুটবল অঙ্গনে অন্যতম শক্তিশালী দল। দুই প্রধানের এক প্রধান। ক্রিকেট, হকিতেও আবাহনীর অবস্খান একই। আকাশ ছোয়া জনপ্রিয়তার অধিকারী আজকের আবাহনী সবার কাছে পরিচিত ‘আবাহনী লিমিটেড নামে’ তার আগে ছিল ‘আবাহনী ক্রীড়া চক্র’ নামে। তারও আগে ছিল ‘আবাহনী সমাজকল্যাণ সমিতি’ নামে। ফিরে যাওয়া যাক রূপান্তরিত আবাহনীর অতীতে।
আবাহনীর জন্ম সুদূর প্রসারী কোনো চিন্তা ভাবনা থেকে নয়। অবশ্য সৃষ্টি হওয়ার পর মুক্ত হয়েছে সুদূর প্রসারী চিন্তা-ভাবনা। যার ওপর ভিত্তি করে আজকের আবাহনী লিমিটেড। আবাহনীর সৃষ্টি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে। একটি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এবং সে আন্দোলনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে। আজ থেকে প্রায় ৩৬ বছর আগের কথা। ১৯৬৬ সাল। ধানমন্ডির ২২ নম্বর সড়কের পার্শ্ববর্তী খেলার মাঠটি (বর্তমান আবাহনী মাঠ) তৎকালীন সরকার গোপনে মূল নকশা ও পরিকল্পনায় নিভৃতভাবে বাসস্খানের জন্য বরাদ্দ দেয়ার উদ্যোগ নেয়। এরকম হঠকারী সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি এলাকার খেলা প্রিয় তরুণরা। প্রতিবাদ, মিছিল-মিটিং, বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে যারা এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলে তাদের সাথে যোগ দেয় ছাত্র আন্দোলনযুক্ত কলেজ পড়ুয়া ছেলেরাও। তাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কাছে শেষঅবধি কর্তৃপক্ষ নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। রক্ষা পেয়ে যাওয়া সেদিনের খেলার মাঠটি আজকের আবাহনী মাঠ হিসেবে পরিচিত।
এ বিজয় সবার মাঝে যে ঐক্য গড়ে তুলেছিল সে ঐক্য ধরে রাখতে সবার মাঝে একটি সংগঠন করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব হতে থাকে প্রচণ্ডভাবে। সে অনুভবের ফসলই চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ‘আবাহনী সমাজ কল্যাণ সমিতি’ নামে। সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া এ তিনটি বিভাগ নিয়ে কাজকর্ম চলতে থাকে আবাহনীর। শুরুতে মূলত মহল্লার অন্যান্য ছোটখাটো ক্লাবগুলোর মতো চলতে থাকে। পাকিস্তানী শাসকদের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আন্দোলন করে বিজয় লাভ করার বিষয়টি রাজনৈতিক নেতাদের নজর কাড়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে পরিচয় ছিল আন্দোলনকারীদের একজন হারুনুর রশীদের (পরবর্তীতে আবাহনীর ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, বর্তমানে পরিচালক)। ক্লাবটিকে তিনি সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। সাথে বঙ্গবন্ধুর ছেলে কামাল ও ংংংজামালকে ক্লাবের সাথে জড়িত করার কথা বলেন। খেলা পাগল কামালের উপস্খিতি এবং বঙ্গবন্ধুর পরামর্শে আবাহনী ক্লাবে নতুন করে প্রাণের ছোয়া লাগে। ক্লাবের কর্মকান্ড ক্রীড়ামুখী করার লক্ষ্যে শুরুতেই শেখ কামালের প্রস্তাব অনুযায়ী মরহুম তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। ব্যাপক সাড়া দিয়ে সাফল্যের সঙ্গেই টুর্নামেন্ট শেষ হয়। এরই মাঝে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। শেখ কামালসহ ক্লাবের সাতে জড়িত অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
স্বাধীনতার গৌরবজনক সাফল্যের পর আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করে আবাহনী। আগে থেকেই ক্রীড়াকেন্দ্রিক হয়ে যাওয়ায় শেখ কামাল শুধুমাত্র খেলাধুলাতেই বিচরণ করার পক্ষে প্রস্তাব দেন। সবাই এতে সম্মতি প্রদান করেন। ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় আবাহনী ক্রীড়া চক্র। কিন্তু ক্রীড়া চক্রে পরিণত হওয়া আবাহনী লীগে অংশ গ্রহণে এক বিরাট বাধার সম্মুখীন হয়। লীগে বা কোন টুর্নামেন্টে খেলতে হলে তৃতীয় বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসতে হয়। যার কোনটিতেই আবাহনীই ছিল না। কিন্তু শুরু থেকেই সাফল্য পেয়ে আসা আবাহনীর কাছে কোন বাধাই প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এমন সময় আবাহনীর সামনে চলে আসে একটি মোক্ষম সুযোগ। মোহাম্মদপুরের অবাঙালিদের ক্লাব ইকবাল স্পোর্টিং-এর অধিকাংশ কর্মকর্তাই তখন দেশ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকান্ড জড়িত থাকায় দলে যেসব কর্মকর্তা বাঙালি ছিলেন তাদের সহযোগিতায় ইকবাল স্পোর্টিং আবাহনী ক্রীড়া চক্রের সাথে একীভূত হয়ে যায় এবং ঢাকার ফুটবলের বড় আসরে প্রবেশ নিশ্চিত করে। একইভাবে সুযোগ আসে ক্রিকেট ও হকির ক্ষেত্রেও। ইস্পাহানি সম্প্রদায় তাদের ক্রিকেট ও হকি দলকে আবাহনীয় নামে পরিচালনার প্রস্তাব দিলে আবাহনীর কর্মকর্তারা তা গ্রহণ করেন। অত:পর শুরু হয় নতুন করে যাত্রা। হঠাৎ করে সেরা তিনটি খেলায় সুযোগ পেয়ে যাওয়ায় আবাহনীতে তখন আনন্দের ঢেউ। খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়। খেলোয়াড়রা যাতে খেলাধুলার পাশাপাশি আয় রোজগারের একটা নির্ভরতা খোঁজে পায় এবং পেশা হিসেবে নেয়ারও চিন্তা-ভাবনা করতে পারে সে জন্য ভাল সম্মানিরও ব্যবস্খা করা হয়। ফলে শুরুতেই আবাহনী তিনটি ক্ষেত্রেই দেশ সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং ফলাফলও পেয়ে যায়। ১৯৭৩ সালে ফুটবল লীগে রানার্সআপ হয় ও হকিতে লাভ করে তৃতীয় স্খান। ৭৪ সালে তিনটি খেলাতেই আবাহনী লীগ শিরোপা লাভ করে সবাইকে চমকে দেয়। তারপর আর আবাহনীকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এ তিনটি খেলায় আবাহনী সমানভাবে বিচরণ করে আসছে আজো।