07/10/2025
Saleh Hasan Naqib
Vice Chancellor
Rajshahi University
কয়েক মিনিট আগে, এই বছরের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্ররা প্রতি বছর অক্টোবরের প্রথমদিকে এই ঘোষণার প্রতিক্ষায় থাকে।
এবছর বিজয়ী হয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জন ক্লার্ক। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মিশেল ডেভোরেট এবং প্রফেসর জন মার্টিনিস। এরা প্রত্যেকে কাজ করেছেন জোসেফশন সার্কিট। নিয়ে। এই সার্কিটের মূল কম্পোনেন্ট হচ্ছে একধরনের junction। দুদিকে দুটো সুপারকন্ডাক্টার, মাঝে একটা পাতলা ইন্সুলেটিং ব্যারিয়ার। এই জোসেফশন জাংশানে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। একপাশের সুপারকন্ডাক্টিং ইলেকট্রনগুলো (যাদের কুপার পেয়ার বলা হয়) কোন রকম রেসিস্ট্যান্স ছাড়াই ব্যারিয়ার টপকে অন্যপাশের সুপারকন্ডাক্টারে চলে যায়। এটা কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল টানেলিং।এই ঘটনাকে জোসেফশন এফেক্ট বলে। কেম্ব্রিজের প্রফেসর জোসেফশন এই প্রক্রিয়া আবিস্কার করেন এবং নোবেল পুরস্কার পান।
জন ক্লার্ক কিন্তু কেম্ব্রিজের ছাত্র ছিলেন। কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাভেন্ডিস ল্যাবে কাজ করেছেন। আমি যখন কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে, তখন জন ক্লার্কের লেকচারে অংশ নিয়েছি। তাকে Father of SQUID বলা হত। SQUID (Superconducting Quantum Interference Device)। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সুক্ষ্মতাসম্পন্ন ম্যাগনেটোমিটার। এই ডিভাইস ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম এফেক্ট প্রদর্শন করে। এর কারন হচ্ছে, কোটিকোটি কুপার পেয়ার একটা single quantam state-এ চলে যায়। এটাকে বলে ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম কন্ডেন্সেশন। বই কেতাবে যে লেখা থাকে কোয়ান্টাম এফেক্ট দেখতে হলে মাইক্রোস্কোপিক ডোমেইনে যেতে হবে, কথাটা আসলে ঠিক না। প্রকৃতিতে ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম এফেক্টের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে সুপারকন্ডাক্টিভিটি এবং জোসেফশন এফেক্ট।
কেম্ব্রিজ থাকতে অনেক সময় দিনের পর দিন SQUID ব্যবহার করেছি। টানেলিং আর ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম এফেক্ট খুব কাছ থেকে দেখা।
আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে শুনেছি, জন ক্লার্ক একদিন নোবেল পুরস্কার পাবেন। জন ক্লার্কের বয়স এখন ৮৩। বেটার লেইট দেন নেভার। বিজয়ীদের অভিনন্দন।