02/11/2023
কালো মায়াবতী
একটা মেয়ের সাথে নাকি আমার বিয়ের কথাবার্তা চলছে। ভদ্র পরিবার, মেয়ের শিক্ষাও ভালো। বিএসসি পাশ। বয়স একটু বেশী, ২২ বছর। মেয়েটা নাকি একটু কালো। তাই পাত্রপক্ষ আগে বাড়ে না। আমার চাচাজান সে মেয়েটিকেই আমার জন্য পছন্দ করলো।
মেয়েটিকে আমি দেখেছি ঢাকা থাকার সময়। মেয়ের মামা একটা ছবি ডাকের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন। আহামরি তেমন কিছু না মেয়েটা। একটু শ্যাম বর্ন। কিন্ত চিঠিতে তো লিখলো,মেয়েটি নাকি কালো।
আমি ছবির খামটা হাতে নিলাম। ইটালিয়ান হরফের স্টাইলে লিখা আছে,রঙ্গিলা স্টুডিও। ছবিটাতে আলাদা কাজ করা হয়েছে জানি। সে যাই হোক, আমার এতো কিছু না দেখলেও চলবে। তবে আমার নজর কেড়েছে মেয়েটির দু চোখ। চোখ যে এত সুন্দর হতে পারে, তা আমার জানা ছিলো না। যে দেখেছে মেয়েটির ও দুচোখ,সে কখনো ভুলতে পারবে না। আমি শিওর, এই চাপা মেয়েটার চোখের প্রেমে অনেকেই ডুব দিয়েছিলো। আমিও ডুবে গেলাম। এই মেয়েটির প্রেম সাগরে। মেয়েটিকে আমার চাই ই চাই।
গ্রামে ফিরে এলাম। দীর্ঘ বিশ বৎসর পর। কেনো এতোদিন আসিনি, সেটা আরেক ইতিহাস। ক্রমান্বয়ে বলবো।
আজ আমার বিয়ে। চাচা,কাজিন,এলাকার কয়েকজনকে নিয়ে আমি বিয়ে করতে গেলাম। রিক্সায় চড়ে।
রিক্সাটির নাম,ছাবেরা পরিবহনতার নিচে লিখা বিবাহের জন্য রিজার্ভ দেয়া হয়। আট মাইল দূর থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছে। গঞ্জ থেকে। গঞ্জের একমাত্র রিক্সা। বিবাহের সময় কাজে লাগে। আমরা মেয়েদের বাড়ি এসে গেছি। আমি সামনে এগুচ্ছি, চাচা বললো,রুমাল কই? নাকে মুখে রুমাল দাও। আমি বললাম, আনি নি তো। চাচা এমন করে তাকালো,যেনো মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেছে।
মেয়েদের কোনো আহামরি আয়োজন ছিলো না। এরা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের। আমাদের পরিবারও আগে এমন ছিলো। ছোটো বেলায় মা বাবাকে হারিয়েছি। ছোটো চাচার কাছে ছিলাম কিছুদিন। তারপর যে কোনো এক কারনে ঢাকা চলে যাই। বাকীটা ইতিহাস। আর আসিনি। এইবার এলাম,বিয়ে করতে। চাচার সাথে চিঠিতে যোগাযোগ হতো। যাই হোক, মেয়ের বাবা নাকি বিশ হাজার টাকা আর এক ভরি স্কর্ণ দেবেন।
আমার চাচা দেনমোহর ধার্য করেছেন ত্রিশ হাজার টাকা। এসবে আমার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। আমি মেয়েটিকে চাই। আর কিছু নয়।
বিয়ে করে বৌ নিয়ে আসলাম। চাচাতো ভাই বোনেরা সবাই খেপাচ্ছে আমাকে। কালীর জামাইবলে।
আমি এসব গায়ে মাখাচ্ছি না। আমি ডুবে আছি আমার স্বপ্নে। কখন কালো কাঁজল ডাগর ডাগর আঁখি দুটি দেখবো। কতটা মায়া সে চোখে নিয়ে আমার দিকে তাকাবে আমার বৌ? ইশ্.. আমার যে আর তর সইছে না গো....! কতক্ষন বসে ছিলাম জানিনা। ধ্যান ভাঙ্গলো পাশের ঘরের ভাবির কটুক্তি তে। কি ভাইসাব? খবর কি? বিবি ঘরে আইনা দেখি একেবারে ধ্যানে চইলা গেলা? হি হি হি.... যাও, যাও... অনেক রাইত হইছে। শুনো ভাইসাব, ঘর কিন্ত আন্ধার, মোম জ্বালাইয়া দিছি। মোমের আলোয় বিবিরে দেইখা আবার ভূত কইয়া চিল্লাইয়োনা। হি হি হি..
আমি কিছু বলিনি। শুধু হাঁসলাম। গুটি গুটি পায়ে রুমের দিকে এগুতে লাগলাম। খাটের কাছে পৌছে গেছি। মেয়েটি লম্বা ঘোমটা দিয়ে বসে আছে। আমি গলা খাঁকারি দিলাম। মেয়েটি নড়েচড়ে উঠলো। আমি বলতে লাগলাম, তোমার নাম কি? মেয়েটি আস্তে করে বললো, মাইমুনা আক্তার ইরিইরি কোনো নাম? বাবায় রাখছে, আমার কি দোষ? আমি আবার বললাম, শুনো ইরি, আমি তোমার বর। তুমি আমার বৌ। আমি জানি,এতক্ষন অনেক কথার তীক্ষ্ণ বান হজম করেছো। করতে তো হবেই, কারন তুমি কালো। কালো হয়ে জন্ম নেয়া যে আজন্ম পাপ। তবে তুমি এসব নিয়ে ভেবো না। তুমি শিক্ষিতা,রুচিশীল মেয়ে। এসব নিয়ে ভাবলে চলবে না। পৃথিবীর কে কি বললো না বললো,তাতে তোমার কি? আমি তোমার বর। আমি কি বলেছি সেটা তোমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারো কথায় কষ্ট পেয়ো না। লেগে থাকো,তুমিই পারবো।
কালো তো অনেকেই আছে। এটা পাপ নয়। বরং আশীর্বাদ। বেঁচে থেকো ঠিক ততদিন,যতদিন আমি ভালোবেসে যাবো তোমায়। তুমি আমার অর্ধাঙ্গিনী। মনে রেখো,তুমি আমি একই স্বত্ত্বা। ভয় এবং সংকোচ করো না। আমি তো আছি। কি? ভয় পাবে? নিজেকে ছোটো ভাববে? বলো?মেয়েটি কিছু বলছে না। হঠাৎ করে মনে হলো, ইরির দেহটা কেঁপে কেঁপে উঠছে। আরে,মেয়েটা তো কাঁদছে। আমি তার পাশে বসলাম।
তার দু বাহুতে ধরলাম। আলতো ঝাঁকুনি দিলাম। ইরির মাথার কাপড় সরে গেলো। ইরি আমার দিকে তাকিয়ে আছে, জল ছলছল চোখে টলমল। আমি ইরির চোখের দিকে তাকিয়ে আছি। আমার দৃষ্টি ফেরাতে পারিনা সে চোখ হতে। মনের মাঝে একটা কথা ধাক্কা দিচ্ছে, ওরে মায়া.... তুই এতো মায়া কেনো? এতোটা মায়াবতী কেনো? কি মায়া! কি মায়া! কি মায়া! মনের অজান্তে মুখ ফসকে বলে ফেললাম, মায়াবতী আমার..
সপ্তাহ্ খানেক হলো বিয়ে করেছি।ইরিদের বাড়ি ছিলাম দুদিন। ঢাকা ফেরার সময় হয়ে গেছে। ঢাকা ফেরার আগের দিন চাচীকে বললাম,ইরিকে আমি নিয়ে যাবো। চাচি বললো,নয়া বৌ। কদিন শ্বশুড় বাড়ি থাকুক। মাস দুয়েক পরে এসে নিয়া যাইস। আমি ইরিকে বললাম,কি হলো? যাবে নাকি থাকবে? ইরি বললো,কয়েকদিন থাকি এখানে আর বাবার বাড়ি, তারপর আপনে আইসেন। তখন যামু। আমি আর কিছু বললাম না। সেদিন রাতে আমি আর ইরি অনেক গল্প করেছি। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিলো। জোরে বজ্রপাতের শব্দে ইরি আমার বুকে মুখ লুকালো। কি হয়েছিলো সেদিন? পদ্মা বান ডেকেছিলো, ভাসিয়ে নিয়েছিলো সব।
আমি আর ইরি সেদিন বৃষ্টির শব্দে আর নদীর বানে ভেসেছিলাম। কুল কিনারা পাইনি সেদিন আমরা কেউ। সব ভেসে যাক,বান সব কেড়ে নিক। আমরা ডুবে থাকি ভালোবাসার নদীতে। ভাসতে থাকি প্রেমের বানে।
আমি চলে এলাম ঢাকা। সপ্তাহে দু তিনটা চিঠি আদান প্রদান হয়। মাসখানেক পর একদিন একটা চিঠিতে রক্তের ফোঁটা দেখলাম দু তিনটে। আমার মনটা কেমন জানি করতে লাগলো। কি হয়েছে আমার মায়াবতীর? সাথে সাথে আমি চিঠি লিখলাম। সারাদিন অস্থির ছিলাম। রাতেও ঘুমাতে পারিনি। কখন চিঠি আসবে আমার মায়াবতীর? চিঠিতে ব্লাড কেনো? তিনদিন পর চিঠি পেলাম। চিঠিতে ইরি লিখেছে, তার হাত কেটে গেছে। সেই ব্লাড। আমি যেনো চিন্তা না করি। আমার বুক থেকে পাথর নেমে গেলো। তবে মায়াবতীকে দেখার জন্য মনটা উসখুশ করতে লাগলো। একটু ফ্রী হলেই চলে যাবো গ্রামে। সাথে করে নিয়ে আসবো আমার মায়াবতীকে। মায়াবতী আমার, কালো মায়াবতী।
গ্রামে এলাম। আমার গ্রামটা কিন্ত অঁজপাড়াতে। আমার চাচী আমাকে দেখে এগিয়ে এলো। মায়াবতী আড়ালে লুকালো। আমি দেখতে পেলাম। আর মুঁচকি হাঁসলাম। খাবার দাবার কমপ্লিট করে রুমে গেলাম।
মায়াবতী মাথা নিচু করে আছে। আমি শুধু বললাম, তোমার নাকে এটা কিসের দাগ? ইরি চমকে উঠে নাকে হাত দিলো। বললো,কই? কিছু নেই তো। আমি হেঁসে উঠলাম। ইরি কপট রাগের ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকালো। আর আমি দেখতে লাগলাম, রাগলে মানুষ লাল হয়। কিন্ত ইরি তো কালো। লাল আর কালো মিলে তো বেগুনী হবার কথা। কিন্ত ইরিকে দেখতে মোটেও বেগুনী লাগছে না। আর বেগুনী যেহেতু লাগছে না, সেহেতু ইরি কালো নয়। আর এম্নিতেও ইরিকে সুন্দর লাগছে। আমি কিছুক্ষন পর বললাম, কি?
ভালোবাসো আমাকে? ইরি বললো,যাহ্.... বলেই দৌড়ে বাইরে গেলো। দরজার ওপার হতে বললো, দোকানে গেলে একটা সাবান আর স্নো এনো। বলেই পাশের ঘরে চলে গেলো। আমি শুধু মনে মনে বললাম,
বৃথা প্রয়াস। সাবান আর স্নো দিয়ে কি হবে? বন্যেরা বনে সুন্দর, আর ইরি চাপা কালো তে। যাই,মায়াবতীর জন্য সাবান আর স্নো নিয়ে আসি।
ইরিকে নিয়ে ঢাকা আসছি। পথে ইরির কত প্রশ্ন! ঢাকা কেমন? সেখানে গেলে থাকবো কোথায়? আমি কি কাজ করি? ঢাকাতে চলতে তো অনেক টাকা লাগে। রাস্তাতে এতো গাড়ি কেনো? এই বিল্ডিংগুলো কার?
এতো বড় বড়! আমি শুধু হাঁসি। বাচ্চাদের মতো প্রশ্ন। কে বলবে,এই মেয়েটা বিএসসি পাশ?! হি হি হি,,,,,,,
একসময় গাড়ি হতে নামলাম। একটা বিল্ডিংয়ের সামনে দাড়ালাম। ইরি হঠাৎ চিৎকার করে উঠলো,
ফারাবী,দেখো দেখো.. তোমার নাম। আমি তাকিয়ে দেখলাম। ইরি একটা নেমপ্লেটের দিকে আঙুল তুলে আছে। সেখানে লিখা,আল-ফারাবী প্লাজা ২আমি বললাম,চলো। একটু বাড়িটার ভেতর ঢুকি। ইরি বললো,চোর বলে মার দেবে। আমি ভেতরে যাচ্ছি, ইরি আমাকে অনুসরন করছে। বাসার দরজার কাছে আসতেই ইরি থেমে গেলো। সে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। যেখানে ইরির একটা ছবি অনেক বড় একটা ছবি ঝুলানো। আমি বললাম,কি হলো? আসো.... ইরি কিছুই বললো না। আমি ইরির দিকে এগিয়ে গেলাম। ইরি আমার দিকে তাকিয়ে আছে। সে দৃষ্টিতে অবাক বিস্ময়। একটু পর ইরি বললো, কে তুমি ফারাবী? কি কাজ করো তুমি? বলো,কে তুমি? আমি আলতো হাঁসলাম। আর ইরির কানে মুখ নিয়ে বললাম, আমি মায়াবতীর বর। ইরি কেঁদে উঠলো। আমি শুধু বলে উঠলাম,
আহারে....
আহারে....
আহারে....
রাতে আমি ম্যাগাজিন পড়ছি। ইরি আমার সামনে এসে বসলো। আমি ম্যাগাজিন হতে মুখ তুলে তাকালাম। ইরি আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কি কঠোর সে দৃষ্টি! ইরি আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছে কেনো? আমি আবার ম্যাগাজিনের দিকে মনোনিবেশ করলাম। কিছুক্ষন পর ইরি হঠাৎ ম্যাগাজিন টা টেনে ছুঁড়ে ফেলে দিলো। আমি বললাম,
- - কি হয়েছে ইরি?
- - কি হবার বাকী আছে ফারাবী?
- - মানে কি?
- - এ বাড়ি কার?
- - আমার।
- - এটার নাম আল-ফারাবী প্লাজা ২কেনো?
- - মানে?
- - মানে হলো এটা কি তোমার দুনম্বর বাড়ি?
- - হুম।
- - একনাম্বারটা কোথায়?
- - উত্তরা ৬ এ।
- - কি কাজ করো তুমি?
- - পরে বলবো।
- - এখন বলবে।
- - কি বলবো?
- - কি ককাজ করে দুটো বাড়ি বানিয়েছো?
- - পরে বলবো।
- - এখন বলো।
- - না বললে?
- - গ্রামে চলে যাবো আমি।
- - যাও,চলে যাও।
- - তোমার বলতে প্রবলেম কি?
- - সময় আসলে বলবো।
- - কখন হবে সময়?
পুলিশ এসে ধরে নিয়ে গেলে?
- - মানে?
- - আমার তো মনে হয় তুমি মাদক নয়তো চোরাকারবারি করো।
- - ইরি,মুখ সামলে কথা বলো।
শহরের সব বাড়ির মালিক কি মাদক ব্যাবসা করে?
- - তাদের বিজন্যাসের মূলধন ছিলো।
তোমার তো ছিলো না।
তুমি তো নিম্নবিত্তের সন্তান।
- - আজ উচ্চবিত্ত হলাম।
- - বিশ বৎসর কোথায় লুকিয়ে ছিলে?
- - এসব প্রশ্ন এখন করো না।
সময় হলে আমিই বলবো।
- - না,করবো।
- - রাত তো অনেক হলো ঘুমাও।
- - না,আমার প্রশ্নের জবাব চাই।
তোমার বিশ বৎসর লুকিয়ে থাকা, দুটো বাড়ি করা, বিজন্যাস করা,এসব রহস্য। তুমি রহস্য তৈরী করেছো। এর জট না খোলা অবধি আমি আর তোমার সাথে কথা বলবো না।
- - তো কি করবে?
- - গ্রামে চলে যাবো।
- - সত্যিই?
- - হ্যাঁ। তোমার ড্রাইভারকে বলো, আমাকে গ্রামে দিয়ে আসতে।
- - এখন?
পাগল হয়েছো? এতো রাতে গ্রামে যাওয়া নিরাপদ নয়।
- - আমি তো তোমার কাছেই নিরাপদ নই।
- - ইরি.....
- - আমার নাম উচ্চারন করো না। আমি গেলাম,বাই।
আমি পুরো পাথর হয়ে আছি। কি হলো এটা? আমি চোরাকারবারি? আসি মাদক ব্যাবসা করি? ইরি আমার কাছে নিরাপদ নয়? ইরি সত্যিই চলে গেছে? আমার মাথায় কিছু আসছে না। কি করবো আমি? আমি অতলে হারিয়ে যাচ্ছি। পায়ের নিচে মাটির নাগাল পাচ্ছি না। আমি তলিয়ে যাচ্ছি। কেউ তুলতে পারবেনা আমাকে। কি করে তুলবে? কে তুলবে? আমার মায়াবতী ছাড়া? ইরি আমাকে বুঝেনি। বোঝানোর সময়টুকুও দেয়নি। নিজের আপনজন যখন নিজেকে বোঝেনা, তখন যে নিজেকে কতটা অসহায় লাগে,
সেটা বিশ বৎসর আগে একবার আর আর দ্বিতীয়বারের মতো বুঝলাম। খুব ক্লান্ত লাগছে নিজেকে। বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। দু চোখে জলের ধারা। মায়ের মুখটা অস্পষ্ট ভেসে উঠছে চোখে সামনে।
মনে হচ্ছে, মা মাথায় হাত বুলাচ্ছে। আহ্, কি শান্তি। আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। আমি ঘুমের ঘোরে চলে গেছি। ঘুমের মাঝেই দেখতে পেলাম, আমি আর ইরি খালি পায়ে ঘাসের উপর হাঁটছি। ইরি হঠাৎ প্রজাপতির পেছনে ছুটতে লাগলো। আমিও তার পেছনে। প্রজাপতি ফুলে গিয়ে বসলো। ঘাসফুলের উপর।
ইরি হাত বাড়িয়ে আছে, কখন প্রজাপতি তার হাতে বসবে। আমি ঘাসের উপর বসে তা দেখছি। ইরি প্রজাপতি ছুঁয়ে দেবার অপেক্ষায়। আমি মনে মনে বলছি, প্রতীক্ষার প্রহর রে.... তুই আর কত দূর? শুনতে কি পাস না রে... হৃদয় ভাঙ্গার সুর?...
ঘুম হতে উঠলাম। ঘড়ির দিকে তাকাতেই আমার চোখ ছানাবড়া! দশটা বাজে?! আমার অফিস! কোনোরকম ফ্রেশ হয়ে অফিসে ছুটলাম। ভালো লাগলে লাইক ও শেয়ার কমেন্ট ফলো করবেন ধন্যবাদ।