14/06/2025
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চাকরির ভবিষ্যৎ!!
কোন ধরনের চাকরি ঝুঁকিতে এবং কোনটি নিরাপদ?
সাধারণত যেসব কাজে পুনরাবৃত্তিমূলক, নিয়মভিত্তিক ও সীমিত সৃজনশীলতার প্রয়োজন হয়, সেসব চাকরি এআই দ্বারা অটোমেশনের ঝুঁকিতে আছে। এর মধ্যে আছে ফ্যাক্টরি কর্মী, কল সেন্টার এজেন্ট, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, কিছু প্রশাসনিক কাজ, হিসাবরক্ষক প্রভৃতি ক্ষেত্র এবং ট্যাক্সি ড্রাইভারের জায়গায় আসবে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি।
অন্যদিকে যেসব কাজের জন্য উচ্চমানের সৃজনশীলতা, সহানুভূতি, জটিল সমস্যার সমাধান, কৌশলগত চিন্তাভাবনা এবং আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতার প্রয়োজন হয়, সেসব চাকরি এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। এর মধ্যে আছে—শিক্ষক, চিকিৎসক (বিশেষজ্ঞ ও মানবিক দিক), মনোবিজ্ঞানী, সৃজনশীল শিল্পী, লেখক, চিত্রশিল্পী, সংগীতজ্ঞ, গবেষক, ব্যবস্থাপক ও নেতৃত্বস্থানীয় পদ, উচ্চ পর্যায়ের বিক্রয় ও বিপণন, এআই ডেভেলপার ও প্রকৌশলী।
এআইয়ের এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং সুযোগগুলো কাজে লাগাতে আমাদের প্রস্তুত হতে হবে এবং সেই প্রস্তুতি নেওয়ার এখনই সময়। এসব প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সবার আগে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার জরুরি। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় জোর দিতে হবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে হবে, কারণ এসব ক্ষেত্র এআইয়ের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সব স্তরের শিক্ষার্থীদের এআই সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিতে হবে, যাতে তারা এর সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত থাকে এবং এআইয়ের যথাযথ ব্যবহার করতে পারে।
দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আজীবন শেখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সেইসঙ্গে কর্মজীবীদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আপস্কিলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সুপরিকল্পিত কর্মসংস্থান নীতি গ্রহণ করতে হবে সরকারকে। যেসব চাকরি ঝুঁকিতে আছে, সেগুলোর কর্মীদের নতুন দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিয়ে অন্য খাতে তাদের কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
বিশেষ করে উদ্ভাবন ও গবেষণার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য এআই গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং এআই-ভিত্তিক স্টার্টআপগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, তথ্য ও প্রযুক্তির সঙ্গে সমান তালে চলতে না পারলে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে টিকে থাকা কঠিন হবে।
এআইয়ের কারণে যারা চাকরি হারাতে পারেন, তাদের জন্য একটি শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা উচিত। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এবং ব্যক্তিপর্যায়ে সক্ষমদের নিয়ে এই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রস্তুতিহীন বিপদ মোকাবিলা করার চেয়ে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে বিপদ মোকাবিলা করা হাজার হাজার গুণ শ্রেয়। আবার এআইয়ের নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং এর অপব্যবহার রোধে নীতিমালা প্রণয়ন অপরিহার্য। এই নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
পরিশেষে বলতে চাই, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো কল্পবিজ্ঞান নয়, এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। এটি কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎকে আমূল পরিবর্তন করবে। এই পরিবর্তনকে ভয় না পেয়ে এটিকে সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। যদি আমরা সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ করি, তাহলে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে সক্ষম হব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের প্রতিযোগী নয়, বরং মানুষের সহযোগী হতে পারে, যদি আমরা প্রস্তুত থাকি।
্ধু